উত্তরপ্রদেশে ১১৫ টি মুসলিম অধ্যুষিত আসন! রাজনৈতিক অবস্থানের রদবদল

উত্তরপ্রদেশে ১১৫ টি মুসলিম অধ্যুষিত আসন! রাজনৈতিক অবস্থানের রদবদল

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: নির্বাচনের আর মাত্র একমাস বাকি। রাজ্যটিতে সাত দফায় বিধানসভা নির্বাচন শুরু হবে ১০ ফেব্রুয়ারি, শেষ হবে ৭ মার্চ। ফল ঘোষণা হবে ১০ মার্চ। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই সব দলকেই তাদের সমীকরণ অনুযায়ী জনসমর্থন জোগাড় করতে দেখা যাচ্ছে।

গতবার অর্থাৎ ২০১৭ সালের আগে, বিজেপি মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক ভাঙতে পারেনি। মুসলিম ভোট স্বাধীনতার পরে দীর্ঘকাল কংগ্রেসের সাথে ছিল, পরে বেশিরভাগ সময়ে সমাজবাদী পার্টি (এসপি) এবং কিছু বহুজন সমাজ পার্টি বা বিএসপি’র সঙ্গে ছিল। কিন্তু ২০১৭ সালে বিজেপি ওই ভোট ব্যাঙ্ক ভাঙতে সমর্থ হয় এবং এরফলে তারা ৮৫টি মুসলিম নির্ণায়ক আসনে জিতেছিল।

পরিসংখ্যান কী বলছে?

২০১৭ সালে বিজেপি কীভাবে এই সমীকরণ ভেঙেছে, তা জানতে একটু পিছনে যেতে হবে। ২০১২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে, অখিলেশ যাদব সমাজবাদী পার্টির কমান্ড গ্রহণ শুরু করেছিলেন। তৎকালীন নির্বাচনে, সমাজবাদী পার্টি মুসলিম অধ্যুষিত ১১৫টি আসনের মধ্যে ৬৫টি আসনে জিতেছিল। দ্বিতীয় স্থানে ছিল বিজেপি, যার ঝুলিতে ছিল ২২টি আসন। এরপরে ছিল বিএসপি ও কংগ্রেস। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নির্বাচনে বিজেপি মুসলিম ভোটের একত্রীকরণ ঠেকাতে পারেনি, যার ফলে সমাজবাদী পার্টির আসনের গ্রাফ বেড়ে যায় এবং তারা ক্ষমতায় পৌঁছায়।

২০১৭ সালের নির্বাচনে যা ঘটেছিল

সমাজবাদী পার্টির ‘এম-ওয়াই’ সমীকরণ অর্থাৎ মুসলিম-যাদব জোট না ভেঙে বিজেপি উত্তর প্রদেশে ক্ষমতায় যেতে পারেনি। এই নির্বাচনে, বিজেপি যেখানে হিন্দুত্ববাদী চেহারার কারণে হিন্দু ভোটব্যাঙ্ককে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছিল, সেখানে মুসলিম ভোটেও ফাটল ধরাতে দেখা গিয়েছিল। পশ্চিম উত্তর প্রদেশের দিকে দেখলে বোঝা যাবে, সেখানে ২০১৭ সালের আগে বিজেপির উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ছিল না। ২০১৭ সালে মুজাফফরনগর দাঙ্গার পরে, গত নির্বাচন থেকে এখানে ভোটব্যাঙ্কের সমীকরণ বদলে গেছে।

আগে যেখানে জাঠরা রাষ্ট্রীয় লোকদলের পক্ষে যেতেন, আর মুসলিম ভোট সমাজবাদী পার্টি-বহুজন সমাজ পার্টিতে যেতো। সেখানে ওই দাঙ্গার পরে মাত্র দু’টি সমীকরণ দাঁড়িয়ে যায়, একটি হিন্দু এবং অন্যটি মুসলিম। হিন্দু ভোট, যার মধ্যে জাঠদের পাশাপাশি যাদব সম্প্রদায়ের, তা বিজেপির পক্ষে পড়েছিল। অন্যদিকে, মুসলিম ভোটব্যাঙ্কে বিভক্তি দেখা যায়। এই ভোটব্যাঙ্ক বিভক্ত ছিল সমাজবাদী পার্টি, বহুজন সমাজ পার্টি, কংগ্রেস এবং লোকদলের পাশাপাশি কিছু নির্দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে। সেজন্য ২০১৭ সালের নির্বাচনে এখান থেকে মাত্র তিনজন মুসলিম প্রার্থী জিতেছিলেন।

কিন্তু ২০১২ সালের নির্বাচনে ১১ জন মুসলিম প্রার্থী এখান থেকে জিতেছিলেন। অর্থাৎ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনেও বিজেপি ঢুকতে পেরেছিল। যদিও গতবার বলা হয়েছিল যে কিছু মুসলিম ভোট বিজেপির দিকেও সরে গিয়েছিল, সেজন্য দলটি প্রচুর আসন লাভ করেছিল।

এ বারের নির্বাচনে সমীকরণ

এ বারের নির্বাচনেও মুসলিম ভোটব্যাঙ্কের দিকে নজর রয়েছে সব দলেরই। এই নির্বাচনে বিএসপি দায়সারাভাবে লড়াই করছে বলে মনে হচ্ছে, সেখানে সমাজবাদী পার্টি এবং কংগ্রেস পুরো দৃঢ়তার সাথে লড়াই করছে বলে মনে করা হচ্ছে। যদি কেবল সমাজবাদী পার্টি এবং কংগ্রেস ময়দানে থাকত, তাহলে সম্ভবত মুসলিম ভোট এতটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ত না। কিন্তু এবার এমআইএম (মিম) প্রধান ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এমপি, যিনি নিজেকে মুসলিম নেতা হিসেবে উপস্থাপন করছেন, তিনিও নির্বাচনী ময়দানে নেমেছেন।

ওয়াইসি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তার দল ১০০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এটা স্পষ্ট যে এই ১০০টি আসন মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাতেই হবে। এরফলে, ওয়াইসির ‘মিম’ দলে মুসলিম ভোট গেলে এতে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে সমাজবাদী পার্টি ও কংগ্রেস। কারণ, মুসলিম ভোটে একটি বড় ফাটল ধরবে বলে মনে করা হচ্ছে এবং এরফলে সমীকরণ অনুসারে বিজেপি আবারও লাভবান হবে। যদি মুসলিম ভোট ব্যাঙ্কে ফাটল না ধরে এবং তারা সরাসরি যে কোনও দলের সাথে যায়, তাহলে বিজেপির বড় ক্ষতি হতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ওয়াইসির দল যেখানেই লড়াই করবে, সেখানে মেরুকরণ হতে পারে এবং এরফলে সরাসরি বিজেপির লাভ হবে এবং সমাজবাদী পার্টি বা কংগ্রেসের ক্ষতি হবে। ওয়াইসিকে অবমূল্যায়ন করা সমাজবাদী পার্টি এবং কংগ্রেস উভয়ের জন্যই একটি বড় ভুল প্রমাণিত হতে পারে। কারণ ওয়াইসি বিহার বিধানসভা নির্বাচনে তার শক্তি দেখিয়েছেন, যেখানে তিনি বিহারের সীমাঞ্চলে প্রার্থী দিয়ে ৫ আসনে জয় ছিনিয়ে নেয়।
প্রতিবেদন: পার্সটুডে