আজীবন অহিংসার প্রচারক জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা নিবেদন

আজীবন অহিংসার প্রচারক জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা নিবেদন

 

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর  জন্মবার্ষিকী আজ। দিনটি উপলক্ষে (২ অক্টোবর) সকাল থেকে মহাত্মা গান্ধীর সমাধিস্থল দিল্লির রাজঘাটে চলে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন পর্ব৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধীসহ রাজনৈতিক অঙ্গনের অনেকে সেখানে উপস্থিত হয়৷ গান্ধীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দেশজুড়ে নানা অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়৷

গান্ধীজু দেশে এবং বিদেশে মহাত্মা ও বাপু নামে পরিচিত। ২রা অক্টোবর তার জন্মদিন ভারতে গান্ধী জয়ন্তী হিসেবে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে পালিত হয়। ২০০৭ সালের ১৫ই জুন জাতিসংঘের সাধারণ সভায় ২রা অক্টোবর-কে আন্তর্জাতিক অহিংস দিবস হিসেবে ঘোষণা করা। জাতিসংঘের সকল সদস্য দেশ এ দিবস পালনে সম্মতি জ্ঞাপন করে।
মঙ্গলবার (২রা অক্টোবর) মহাত্মা গান্ধীর ১৫০ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সকালেই রাজঘাটে মহাত্মার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷

শ্রদ্ধা জানান সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধীও৷ গান্ধীর ১৫০তম জন্মজয়ন্তীকে মাথায় রেখে গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে ‘স্বচ্ছতাই সেবা অভিযান’-এর ডাক দেন মোদি৷ আজ মঙ্গলবার গান্ধীর জন্মদিনে সেই অভিযানেরও সমাপ্তি ঘোষণা করবেন তিনি৷

মহাত্মা গান্ধীর পারিবারিক নাম মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী। ১৮৬৯ সালে পোরবন্দরের হিন্দু মোধ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার পিতা করমচাঁদ গান্ধী ছিলেন পোরবন্দরের দেওয়ান। মা পুতলিবা করমচাঁদের চতুর্থ স্ত্রী ছিলেন। ধার্মিক মায়ের সঙ্গে এবং গুজরাতের জৈন প্রভাবিত পরিবেশে থেকে গান্ধী ছোটবেলা থেকেই জীবের প্রতি অহিংসা, নিরামিষ ভোজন, আত্মশুদ্ধির জন্য উপবাসে থাকা, বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী ও সম্প্রদায়ের পারস্পরিক সহিষ্ণুতা ইত্যাদি বিষয় শিখতে শুরু করেন।

১৮৮৩ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে মহাত্মা গান্ধী তার বাবা মায়ের পছন্দে কস্তুরবা মাখাঞ্জীকে (কাস্তুবাই নামেও পরিচিত ছিলেন) বিয়ে করেন। তাদের চার পুত্র সন্তান জন্মায় যাদের নাম হরিলাল গান্ধী, (জন্ম ১৮৮৮) মনিলাল গান্ধী , (জন্ম ১৮৯২) রামদাস গান্ধী (জন্ম ১৮৯৭) এবং দেবদাস গান্ধী (জন্ম ১৯০০) সালে। ১৮ বছর বয়সে ১৮৮৮ সালের ৪ঠা সেপ্টেম্বর ব্যারিস্টারি পড়ার জন্য ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনে যান মহাত্মা গান্ধী। একজন আইনজীবী হিসেবে, গান্ধী প্রথম তার অহিংস শান্তিপূর্ণ নাগরিক আন্দোলনের মতাদর্শ প্রয়োগ করেন দক্ষিণ আফ্রিকায়  নিপীড়িত ভারতীয় নাগরিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় ভারতীয়দের ভোটাধিকার ছিল না। এই অধিকার আদায়ের বিল উত্থাপনের জন্য তিনি আরও কিছুদিন দেশটিতে থেকে যান। বিলের উদ্দেশ্য সিদ্ধি না হলেও এই আন্দোলন সেদেশের ভারতীয়দেরকে অধিকার সচেতন করে তুলেছিল। ১৮৯৪ সালে গান্ধী নাটাল ইন্ডিয়ান কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেন।

এই সংগঠনের মাধ্যমে সেখানকার ভারতীয়দেরকে রাজনৈতিকভাবে সংঘবদ্ধ করেন। ১৮৯৭ সালের জানুয়ারিতে ভারতে এক সংক্ষিপ্ত সফর শেষে ফিরে আসার পর এক শ্বেতাঙ্গ মব তাকে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা করে। গান্ধী এই মব সদস্যদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করেননি। কারণ তার মতে, কারও ব্যক্তিগত ভুলের জন্য পুরো দলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়াকে তিনি সমর্থন করেন না।

১৯৪২ সালে ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটান গান্ধী। বিভিন্ন কারণে বেশ কয়েকবার দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ভারতে কারাবরণ করেন। মহাত্মা গান্ধী সমস্ত পরিস্থিতিতেই অহিংস মতবাদ এবং সত্যের ব্যাপারে অটল থেকেছেন। তার নিজের পরিধেয় কাপড় ছিল ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় ধুতি এবং শাল যা তিনি নিজেই চরকায় বুনতেন।