আনিস খুনের ২০দিন! সিট তদন্তে মমতার ১৫ দিনের সময় মোদীর ৫০ দিনের মতো হবেনা তো

আনিস খুনের ২০দিন! সিট তদন্তে মমতার ১৫ দিনের সময় মোদীর ৫০ দিনের মতো হবেনা তো

কলমে- মহঃ নুরুদ্দিন শাহ

আজও আমাদের দেশের আম জনতার কানে বাজছে ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর দেওয়া প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সেই ভাষণ- “৫০দিন, স্রেফ ৫০ দিন। হামকো দিজিয়ে।” আমজনতাও ভেবেছিল দেশের জন্য দেশের নিরাপত্তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর এতোটুকু দাবি তো মানতেই হয়। তারা ব্যাংকের লাইনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে হা পিত্যেস করেছে তবুও প্রধানমন্ত্রীকে ৫০ দিনের সময় দিতে কসুর করেনি।

সেদিন বিনয়ের অবতার হয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, যদি কালো টাকা উদ্ধার করার জন্য আমাকে এই সময়টা দেওয়া হয় তাহলে শুধু কালো টাকা উদ্ধার হবে না বরং সন্ত্রাসবাদের শিকড় চিরকালের জন্য কেটে দেওয়া সম্ভব হবে। প্রধানমন্ত্রীর আবেদন ছিল, যদি এই সময়ের মধ্যে তিনি কথা রাখতে না পারেন তাহলে রাস্তার চৌমাথায় দাঁড়িয়ে জনগণ তাকে যা সাজা দেবেন তিনি তা মাথা পেতে নেবেন। এমন আবেগ দীপ্ত ঘোষণার পর কার মন নরম না হয়?

দেশবাসী চরম ত্যাগ স্বীকার করেও প্রধানমন্ত্রীকে সময় দিতে রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু তারপর যা ঘটেছে তা সবই ইতিহাস। প্রধানমন্ত্রীর ৫০ দিন আজও শেষ হয়নি। ব্যাংকের কালোটাকা ফিরে আসেনি। গরিব ভারতীয়দের ব্যাংকের একাউন্টে ১৫ লাখ করে জমা পড়েনি। সন্ত্রাসবাদের শিকড় কাটা তো দূরের কথা দেশে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ আগের মতোই অব্যাহত আছে।

আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র আনিস খান পুলিশবেশি অজ্ঞাত পরিচয় আততায়ীর হাতে নিহত হন ১৮ফেব্রুয়ারি-২০২২। তার নিজ বাড়িতে গভীর রাতে পুলিশের পোশাক পরিধান করে কয়েকজন প্রবেশ করে রাত একটার সময়। বন্দুকের নল দিয়ে আটকে রাখে তার পিতা সালেম খানকে। কিছুক্ষণ পর তিনতলার ছাদ থেকে আনিসের মৃতদেহ পড়তে দেখা যায়। ২২ বছরের তরতাজা মেধাবী একজন ছাত্রের এইরকম মৃত্যুকে কেউ মেনে নিতে পারেনি। শাসক-বিরোধী সব রাজনৈতিক দল এই পরিকল্পিত খুনের প্রতিবাদে রাস্তায় নামে। উত্তাল হয়ে ওঠে কলকাতার রাজপথ।

আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজ্যের প্রায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আনিস হত্যার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি ওঠে। দাবি ওঠে অপরাধীদের শাস্তির। আনিসের পরিবার সিবিআই তদন্তের দাবি জানান। চাপে পড়ে মমতা ব্যানার্জি সিটের হাতে এই হত্যার তদন্ত ভার তুলে দেন। দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই আমতা থানার একজন হোমগার্ড কাশীনাথ বেরা ও সিভিক পুলিশ প্রীতম ভট্টাচার্যকে আটক করে। আমতা থানার ওসিকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটিতে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

কিন্তু সরকারের এই তৎপরতায় আশ্বস্ত হতে পারেনি প্রতিবাদী ছাত্ররা। দিক-দিগন্ত থেকে আওয়াজ ওঠে আনিস খানের অপরাধীদেরকে আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাই সুবিচারের দাবি আরো জোরদার হয়। অবশেষে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মাঠে নামেন । তিনি অনুরোধ করেন পুলিশ যখন কাজ শুরু করেছে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্ত কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তখন তাদেরকে সময় দেওয়া উচিত। উত্তাল ছাত্র আন্দোলন কিছুটা নরম হয়। তারা অপেক্ষা করতে থাকে ১৫ দিনের।

ইতিমধ্যে আদালতের অনুমতি ক্রমে
আনিস খানের দেহ কবর থেকে তুলে পুনরায় ময়নাতদন্ত করা হয়। সেখানেও ছিল পুলিশের নানা রকম টালবাহানা। দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের রিপোর্টে কী পাওয়া গিয়েছে তা এখনো জানা যায়নি। তদন্তকারি দল আজ আদালতে কী পেশ করেন সেটাই দেখার। মাঝ থেকে শাসক দলের রাজনৈতিক নেতারা নানান রকম কথা বলতে শুরু করে। সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। মানুষের মনে হতে থাকে কোনো না কোনোভাবে সরকার আনিস খানের খুনীদেরকে আড়াল করতে চাচ্ছে। ইতিমধ্যে ঘোষিত ১৫ দিনের সময় পার হয়ে গেছে। এখনো কোন অপরাধীকে ধরা হয়নি। তাই নতুন করে জনমনে প্রশ্ন দানা বাঁধছে যে নোট বন্দির সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেওয়া প্রতিশ্রুতির মত মমতা ব্যানার্জীর ঘোষিত সিটের প্রতিশ্রুতিও কথার কথায় পরিণত হবেনা তো!