Categories
দেশ

নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন: তাই যোগীরাজ্য ছেড়ে কংগ্রেস শাসিত রাজস্থানে ডাঃ কাফিল খাঁন

নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন: তাই যোগীরাজ্য ছেড়ে কংগ্রেস শাসিত রাজস্থানে ডাঃ কাফিল খাঁন

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: অবশেষে ১ সেপ্টেম্বর জেল থেকে মুক্তি পেয়েছেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. কাফিল খান। ডা. কাফিল খানকে জাতীয় সুরক্ষা আইন বা এনএসএ তে গ্রেফতার করে মথুরা জেলে রাখা হয়েছিল। আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে বক্তৃতা দেওয়ায় তাকে উত্তরপ্রদেশ সরকারের রোষে পড়তে হয়।

দেশদ্রোহের অভিযোগ এনে এনএসএ আইনে গ্রেফতার করে মথুরা জেলে পাঠানো হয়। মঙ্গলবার এলাহাবাদ হাইকোর্ট এক রায়ে অবিলম্বে কাফিল খানকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এলাহাবাদ হাইকোর্ট সাফ জানিয়ে দেয়, কাফিল খানের বক্তৃতার মধ্যে কোনো দেশদ্রোহিতার গন্ধ খুঁজে পাওয়া যায়নি। বরং সম্প্রীতির কথা বলেছেন। কাফিল খান অবশেষে কোর্টের নির্দেশে মথুরা জেল থেকে মঙ্গলবার গভীর রাতেই মুক্তি পান।

মুক্তি পেয়েও নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন কাফিল খান। তার আশঙ্কা যোগী রাজ্যে থাকলে তাকে হত্যা করা হতে পারে। তিনি জেল থেকে মুক্তি পেয়ে এসটিএফ কে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছিলেন, ভাগ্য ভাল যে তাকে মথুরা জেলে নিয়ে যাওয়ার সময় এনকাউন্টারে মেরে ফেলা হয়নি। তিনি জানান, এর আগে তার পরিবারকে নিশানা করা হয়েছিল এবং তার ভাই আদিল খানকে যারা গুলি করে হত্যার চেষ্টার করেছিল তাদের বিরুদ্ধে যোগী সরকার কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। অভিযুক্তরা স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ডা. কাফিল খান সাংবাদিকদের বলেন, উত্তরপ্রদেশ সরকার অবাধ্য শিশুদের মতো। তাই উত্তরপ্রদেশ সরকার হয়তো অন্য কোনো মিথ্যা চক্রান্ত করে তাকে আবারও জেলে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। কাফিল খান আরো বলেছিলেন, রামায়ণে মহর্ষি বাল্মীকি বলেছিলেন, রাজার উচিত রাজধর্ম পালন করা। কিন্তু উত্তরপ্রদেশ সরকার রাজধর্ম পালন করছে না। তারা অবাধ্য শিশুর মতো আচরণ করছে।

তাই বৃহস্পতিবার রাজস্থনের জয়পুরে গিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে কাফিল খান সাংবাদিক সম্মেলন করে তার আশঙ্কার কথা বলেন। তিনি বলেন, উত্তরপ্রদেশে তিনি নিরাপত্তার অভাব বোধ করায় তিনি জয়পুরে চলে এসেছন। কংগ্রেস শাসিত রাজস্থান নিরাপদ মনে করায় তিনি এখন এখানেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

Categories
বিশ্ব

যারা মুহাম্মাদ (সাঃ)-কে অপমান করে তাদের কোন নৈতিকতা নেই: আইইউএমএস

যারা মুহাম্মাদ (সাঃ)-কে অপমান করে তাদের কোন নৈতিকতা নেই: আইইউএমএস

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: ফরাসী ম্যাগাজিন চার্লি হেবদো কর্তৃক আখেরী নবী হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিয়ে আপত্তিজনক ক্যারিকেচার(কার্টুন) পুনঃপ্রকাশের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিশ্বের আলেমদের শীর্ষস্থানীয় সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব মুসলিম স্কলারস ( আইইউএমএস)।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) আইইউএমএস এর মহাসচিব শায়েখ আলি আল – কারাদাঘী এক বিবৃতিতে বলেন, আখেরী নবী হজরত মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সদাচরণ ও ন্যায়বিচারের শিক্ষা দিয়ে গেছেন। যারা তাঁকে অপমান করে তাদের কোন নৈতিকতা ও আত্মসম্মান নেই।

শায়েখ কারাদাঘী বলেন, মুসলমানরা তাদের মতো খারাপ নয়। মুসলমানরা সদাচরণে বিশ্বাসী এবং সমস্ত ধর্মবিশ্বাসকে সম্মান করতে জানে। আসলে চার্লি হেবদো ম্যাগাজিন বা এর পরিচালনাকারীদের হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রকৃত মর্যাদা ও সম্মান সম্পর্কে কোন ধারণাই নেই।

তিনি আরও বলেন, এ ম্যাগাজিনটি পূণরায় তার সমাজের প্রকৃত ও ঘৃন্য নৈতিক অবস্থান প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি ধর্মনিরপেক্ষতা, মানবাধিকার এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

উল্লেখ্য, তীব্র সমালোচনা ও নিন্দা সত্ত্বেও এ ফরাসী পত্রিকাটি ২০০৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত বেশ কয়েকবার ইসলাম ও
মহানবী হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অপমান করে কার্টুন প্রকাশ করেছে।

Categories
দেশ

তাড়ি খেলেই সারবে ক্যানসার! তেলেঙ্গানার মন্ত্রীর মন্তব্য ঘিরে হাসাহাসি নেটদুনিয়ায়

তাড়ি খেলেই সারবে ক্যানসার! তেলেঙ্গানার মন্ত্রীর মন্তব্য ঘিরে হাসাহাসি নেটদুনিয়ায়

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: তার তাড়িপ্রীতি সর্বজনবিদিত। তাই বলে তাড়ির ‘গুণকীর্তন’ করতে গিয়ে তিনি যে এমন মন্তব্য করতে পারেন তা কেউ স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি। যা নিয়ে অনেকেই কটাক্ষ করে বলছেন যে তেলেঙ্গানার মন্ত্রীমশাই যা মন্তব্য করেছেন তা নিয়ে অক্সফোর্ডের গবেষণা করা উচিত। ক্যানসারের ওষুধ এখন আবিষ্কার হয়নি।

দেশ-বিদেশের তাবড় বিজ্ঞানীর নিরলস গবেষণা করে চলেছেন। এই পরিস্থিতিতে তেলেঙ্গানার মন্ত্রীর মুখ লাগামহীন। বলে বসলেন তাড়ি খেলে ক্যানসার সেরে যায়। তাই বলে মাঝেমধ্যে খেলে হবে না ,নিয়মিত সময় ধরে তাড়ি পান করতে হবে। তবেই মিলবে ক্যানসার থেকে মুক্তি। লকডাউনের সময় কেন্দ্রীয় সরকার যখন মদ বিক্রি বন্ধ করেছিল তখন তিনি তাড়িকে মদের বিকল্প হিসাবে বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। শুধু তাই নয় আরও এককম এগিয়ে তিনি লকডাউনে রাজ্যের সব জায়গায় মদের বদলে তাড়ি বিক্রির আবদার করেছিলেন।

মে মাসে তাঁর সেই বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তিনি তেলেঙ্গানার আবগারি মন্ত্রী ভি শ্রীনিবাস গৌড়। এবার তিনি বললেন, তাড়ি খেলে ক্যানসার সহ ১৫টি রোগ সেরে যেতে পারে! এজন্য তাড়ি পান করতে হবে নিয়মিত। তাঁর এই ‘পরামর্শ’ ভাইরাল হতে দেরি হয়নি। এক স্বাধীনতা সংগ্রামীর আবক্ষ মূর্তি উন্মোচনে গিয়ে তিনি জনগণের উদ্দেশে তাড়ি পানের উপকারিতা নিয়ে ভাষণ দেন। তেলেঙ্গানার জনগাঁও জেলার রঘুনাথপল্লি ব্লকের মণ্ডলাগুদেম গ্রামে স্বাধীনতা আন্দোলনকারী সারওয়াই পাপান্নার মূর্তি উন্মোচনের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন গৌড়।

সেখানেই তিনি প্রকাশ্য মঞ্চে বলেন যে‘তাড়ি এখন আর শুধুমাত্র গরিব মানুষের পানীয় নয় , মার্সিডিজ চড়া লোকজনও এখন তাড়ির খোঁজ করছে। কারণ তাড়ির গুণাগুণ সম্পর্কে লোকে এখন জানতে পেরেছে। তেলেঙ্গানা সরকার গাছ থেকে তাড়ি সংগ্রহের পেশায় আরও বেশি সংখ্যক মানুষকে নিয়োগ করার ব্যাপারে ভাবনা-চিন্তা শুরু করেছে বলেও তিনি জানান। নিয়মিত তাড়ি পান করতে পারলে ক্যানসার-সহ ১৫টি রোগ সেরে যেতে পারে।’ মন্ত্রীর আরও দাবি যে তাড়ি পান করলে কিডনিতে পাথর জমতে পারে না।

এমনকী মধুমেহ, কোষ্ঠকাঠিন্য রয়েছে এমন রোগীদের নিয়মিত তাড়ি খাওয়া উচিত। তাড়িতে থাকা আয়রন ও পটাশিয়াম মানুষের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে বলেও দাবি করেছিলেন তিনি। যদিও মন্ত্রীর এই মন্তব্য নিয়ে শুরু হয়েছে মশকরা। কেউ কেউ বলছেন মন্ত্রী বোধহয় তাড়ি খেয়েই অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। না হলে কেউ এভাবে কোনও স্বাধীনতা সংগ্রামীর মূর্তি উন্মোচনে গিয়ে তাঁর সংগ্রামী আন্দোলনের কথা স্মরণ করার পরিবর্তে তাড়ির গুণগান করতে পারেন?

Categories
রাজ্য

অধীর চৌধুরী হোক প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি: সোনিয়া গান্ধীকে চিঠি আব্দুল মান্নানের

অধীর চৌধুরী হোক প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি: সোনিয়া গান্ধীকে চিঠি আব্দুল মান্নানের

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: অধীর চৌধুরীকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি করার অনুরোধ জানিয়ে এবার সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীকে চিঠি লিখলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান।৩০ জুলাই সোমেন মিত্রের মৃত্যুর পর থেকে রাজ্যে শূন্য হয়ে পড়ে রয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির পদ। ইতিমধ্যে অনেকেই সেই পদের দাবিদার হতে চাইলেও লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা ‌অধীর চৌধুরীকেই পরবর্তী প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি হিসেবে দেখতে চান মান্নান। ‌

চিঠিতে মান্নান পশ্চিমবঙ্গে দলের সাংগঠনিক সমস্যার দিকে নজর দিতে অনুরোধ জানিয়েছেন সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীকে। পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান ওই চিঠিতে লিখেছেন, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্রের মৃত্যুর এক মাস হয়ে গিয়েছে, এখনও শূন্য সেই পদে কাউকে নিয়োগ করা হয়নি।

২০২১–এর শুরুতেই বিধানসভা নির্বাচন। এ অবস্থায় দ্রুত প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি নিয়োগ করা প্রয়োজন। আবদুল মান্নান চিঠিতে অনুরোধ জানিয়েছেন, এমন কাউকে এই পদে নিয়োজিত করা হোক যাঁর জনপ্রিয়তা রয়েছে। একথা ঠিক জনপ্রিয়তায় এই মুহূর্তে বঙ্গ কংগ্রেসে অধীরের তুল্য কেউ নেই।

Categories
দেশ

সিজারের বিল মেটাতে পারেনি দলিত দম্পতি: সদ্যোজাত সন্তানকে বিক্রি করে দিল উত্তরপ্রদেশের হাসপাতাল!

সিজারের বিল মেটাতে পারেনি দলিত দম্পতি: সদ্যোজাত সন্তানকে বিক্রি করে দিল উত্তরপ্রদেশের হাসপাতাল!

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: সিজারের  খরচ ৩০ হাজার। ওষুধের ৫ হাজার। এত টাকা আসবে কোথা থেকে! তাই হাসপাতালের বিল মেটাতে পারেনি দুঃস্থ দলিত দম্পতি। তাই সদ্যোজাত পুত্র সন্তানকে ১ লক্ষ টাকায় বিক্রি করে দিল হাসপাতাল। চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে আগ্রার জেপি হাসপাতালের বিরুদ্ধে।

ঘটনার কথা জানাজানি হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হাসপাতাল সিল করে দিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য দফতর। দাবি, তল্লাশির সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রেজিস্ট্রেশন-সহ কোনও বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। পাশাপাশি, হাসপাতালে কোনও চিকিৎসক এবং মেডিক্যাল স্টাফেরও দেখা মেলেনি।  এমনকি কোনও রোগীরও দেখা মেলেনি।

TOI-র রিপোর্ট অনুযায়ী, জেলা স্বাস্থ্য দফতর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে একটি নোটিশ ইস্যু করেছে। সেখানে আধিকারিকদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চিফ মেডিক্যাল অফিসারের সামনে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, জেপি হাসপাতালের বিরুদ্ধে ৩৭০ ধারায় মামলা রুজু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

আগ্রার CMO চিকিৎসক আরসি পাণ্ডে বলেন, “জেলা প্রশাসনের তরফে পাওয়া অর্ডারের ভিত্তিতে ট্রান্স যমুনা এলাকার জেপি হাসপাতালে তল্লাশি চালানো হয়। রেজিস্ট্রেশন-সহ কোনও বৈধ পাওয়া যায়নি। চিকিৎসক, নার্স, প্যারা মেডিক্যাল স্টাফ বা হাসপাতালের কোনও কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। নোটিশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সমস্ত কাগজ নিয়ে তাঁরা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হাজিরা দেন।”

এ দিকে, আগ্রা জেলা প্রশাসন মেহেতাব বাগের শম্ভুনগরের বাসিন্দা ওই দলিত দম্পতির সঙ্গে দেখা করেন। তাঁরা সন্তানকে ফিরে পাওয়ার কাতর আর্জি জানিয়েছেন।

প্রতীকী ছবি

Categories
দেশ

২০১৯ সালেই ৪২৪৮০ জন কৃষক ও দিনমজুর আত্মহত্যা করেছে: NCRB এর রিপোর্টে বিপাকে মোদি সরকার

২০১৯ সালেই ৪২৪৮০ জন কৃষক ও দিনমজুর আত্মহত্যা করেছে: NCRB এর রিপোর্টে বিপাকে মোদি সরকার

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: করোনা পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা প্রায় তলানিতে। আর এই পরিস্থিিতকে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন বলেছেন, ‘অ্যাক্ট অফ গড’। কিন্তু কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী যাই বলুন না কেন, ২০১৯ সালে যখন করোনার কোনও থাবাই ছিলই না, তখনও দেশের কৃষক ও দিনমজুরদের দুরাবস্থা আরও একেবার কেন্দ্রের দিশাহীনতারই প্রমাণ দিচ্ছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের।

ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরো (NCRB)-র পরিসংখ্যান বলছেন, শুধুমাত্র ২০১৯ সালেই ৪২৪৮০ জন কৃষক ও দিনমজুর আত্মহত্যা করেছে। ২০১৮ সালের তুলনায় আত্মহত্যার ঘটনা বেড়েছে ৬ শতাংশ। তবে, ২০১৮ সালের তুলনায় গত বছরে কৃষকদের আত্মহত্যার ঘটনা কিছুটা কম। যদিও দিনমজুরের আত্মহত্যার ঘটনা বেড়েছে ৮ শতাংশ।

কংগ্রেস অবশ্য চলতি বছরের হিসেব তুলে ধরে বিঁধেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। কংগ্রেস মুখপাত্র রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা বলেছেন, ‘ভারতে প্রতিদিন ৩৮ জন বেকার ও ১১৬ জন কৃষক আত্মহত্যা করছেন, আপনি এর মধ্যে শান্তিতে ঘুমোন কী করে?’ দেশের কৃষক, দিনমজুর ও বেকারদের আত্মহত্যার কারণ হিসেবে দেশের কোমর ভাঙা অর্থনীতিকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন অর্থনীতিবিদরাও।

এনসিআরবি (NCRB)-র তথ্য বলছে, ২০১৮ সালে ১০ হাজার ৩৫৭ কৃষক আত্মহত্যা করেছিলেন। সেখানে গত বছর ১০ হাজার ২৮১ জন কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। দুবছরের মধ্যে তফাৎ সামান্যই। অপরদিকে, ২০১৮ সালে ৩০,১৩২ দিন মজুর আত্মহত্যা করেছিলেন। সেখানে ২০১৯-এ সংখ্যাটা বেড়ে হয়েছে ৩২,৫৫৯।

এখানেই শেষ নয়, পরিসংখ্যান বলছে, গত এক বছরে দেশের মোট আত্মহত্যাকারীর ৭.৪ শতাংশই দেশের কৃষকরা। জানা গিয়েছে, কৃষি ক্ষেত্রে মোট আত্মঘাতীর মধ্যে চাষির সংখ্যা ৫৯৫৭ জন। ৪৩২৪ জন হলেন খেতমজুর। আর আত্মহত্যার ক্ষেত্রে মহিলাদের থেকে অনেক এগিয়ে রয়েছেন পুরুষদের সংখ্যা। ২০১৯ সালে ৫৫৬৩ পুরুষ কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। মহিলা কৃষকের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা হল ৩৯৪ জন। অপরদিকে, খেতমজুরদের মধ্যেও পুরুষ ও মহিলাদের মধ্যে যথেষ্টই ফারাক রয়েছে।

খেতমজুরদের মধ্যে ৩,৭৪৯ জন পুরুষ আত্মহত্যা করেছেন আর ৫৭৫ জন মহিলা। কৃষি ক্ষেত্রে আত্মহত্যার নিরিখে শীর্ষ রয়েছে মহারাষ্ট্র, কর্নাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলঙ্গানা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, পশ্চিমবঙ্গে কোনো কৃষক আত্মহত্যা করেননি বলেই উল্লেখ করেছে এনসিআরবি।

Categories
দেশ

প্রধানমন্ত্রীর কেন্দ্র বারাণসীতে অনাহারে ৩৫০ মাঝি পরিবার: পাশে দাঁড়িয়ে সমস্ত দায়িত্ব নিলেন সোনু সুদ

প্রধানমন্ত্রীর কেন্দ্র বারাণসীতে অনাহারে ৩৫০ মাঝি পরিবার: পাশে দাঁড়িয়ে সমস্ত দায়িত্ব নিলেন সোনু সুদ

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: দেশজোড়া করোনা সঙ্কটের সময়ে বারবারই দেশের পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছেন তিনি। আর তাতেই রিল লাইফ থেকে বেরিয়ে অভিনেতা সোনু সুদ হয়ে উঠেছেন বাস্তব জীবনের হিরো। বিগত কয়েক মাসে পরিয়ায়ী শ্রমিক, সেলাই মিলে কাজ করা মহিলা থেকে ইডলি বিক্রেতা, সবাইকে নিজের উদ্যোগে, নিজের খরচে তাঁদের রাজ্যে ফেরানোর মত বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন সোনু। এবার খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্বাচনী ক্ষেত্র বারাণসীতে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন তিনি।

বারাণসীর ঘাটে পর্যটকদের নিয়ে নৌকা পারাপার করে রোজগার করতেন প্রায় ৩৫০টি মাঝি পরিবারের লোকজন। কিন্তু করোনা সংক্রমণের জন্য পর্যটকদের উপস্থিতি নেই। দীর্ঘদিন বন্ধ বারাণসী ঘাট। তার ওপর প্রবল বর্ষণের জন্য গঙ্গার রূপ এখন ভয়ঙ্কর। তাই অনাহারে দিন কাটছে ওই সকল মাঝি পরিবারের। এগিয়ে আসেনি স্থানীয় সাংসদ মোদী থেকে শুরু করে রাজ্যের যোগী সরকার। এই পরিস্থিতিতে তাঁদের দুর্দশার খবর পেতেই দেরী না করে ওই ৩৫০ মাঝি পরিবারের সমস্ত দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিলেন সোনু।

বারাণসীর এক সমাজকর্মী সোশ্যাল মিডিয়ায় সোনুর কাছে সাহায্যের প্রার্থনা করেন। আর তারপরেই সোনু আশ্বাস দিয়েছেন, ওই মাঝি পরিবারের সদস্যদের আর খিদে পেটে ঘুমোতে হবে না। প্রত্যেক সদস্যের তালিকা চেয়ে পাঠিয়েছেন সোনু। তাদের আর্থিক সাহায্য থেকে শুরু করে রেশনের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন সোনু। এই ঘটনার কথা সামনে আসতেই অস্বস্তিতে পড়েছে স্থানীয় প্রশাসন। যে কাজ নেতাদের করা উচিৎ, তাঁরা তা না করার ফলেই এগিয়ে আসতে হয়েছে সোনুকে, এমনটাই বলছে নেটিজেনদের অনেকে।

Categories
দেশ

নভেম্বরের মধ্যে অসমের সব সরকারি মাদ্রাসা ও টোল বন্ধ করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা

নভেম্বরের মধ্যে অসমের সব সরকারি মাদ্রাসা ও টোল বন্ধ করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: শিক্ষা হবে ধর্মনিরপেক্ষ! সরকারি খরচে কোন অবস্থাতেই আরবি ভাষার শিক্ষাদান করা হবে না। পূর্বেই এই কথা ঘোষণা করেছিলেন অসমের শিক্ষামন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।

বিধানসভায় সেই প্রসঙ্গ উত্থাপন করে তিনি জানিয়েছেন, আগামি নভেম্বর মাসের ভিতর বন্ধ করে দেয়া হবে রাজ্যের সব সরকারি মাদ্রাসা এবং সংস্কৃত টোল।

ইতিমধ্যে এ বিষয়ে সরকারি সন্দর্ভে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। এবং নভেম্বর মাস থেকে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে সমস্ত সরকারি মাদ্রাসা এবং সংস্কৃত টোল।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “রাজ্য সরকার ধর্মনিরপেক্ষ সত্তা হওয়ায় এটি ধর্মীয় শিক্ষায় নিয়োজিত সংস্থাকে অর্থায়ন করতে পারে না”।

বিধানসভায় তিনি বলেছেন, “সরকারি টোল হোক বা সরকারি মাদ্রাসাই হোক, আগামি নভেম্বরের ভিতর আমরা সরকারি মাদ্রাসাগুলোকে বন্ধ করতে চলেছি। মাদ্রাসা আর অসমে প্রাদেশীকরণ হবে না। এখন আর আরবী শিক্ষক নিযুক্তি সম্ভব নয়। বেসরকারি মাদ্রাসাগুলো যেভাবে চলছে, চলতে থাকুক, সেখানে আমাদের হস্তক্ষেপ করার কিছুই নেই। কিন্তু সরকার নিরপেক্ষ শিক্ষা দেবে। এই কথাগুলো আমরা আগেই বলেছি। আমরা আধুনিক শিক্ষার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি”।

হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন, ‘ধর্ম, ধর্মগ্রন্থ, সংস্কৃত ও আরবির মতো ভাষা শিশুদের শেখানো কোনো ধর্মনিরপেক্ষ সরকারের কাজ নয়।

এবার প্রশ্ন উঠছে, যারা মাদ্রাসায় শিক্ষাদান করে আসছিলেন বছর বছর ধরে, সেই শিক্ষকদের কী হবে? ড০ শর্মা জানিয়েছেন, সেই শিক্ষকদের কাছেরই হাইস্কুলে সংলগ্ন করা হবে, সেখানেই উক্ত শিক্ষকরা শিক্ষাদান করবেন। কিন্তু সরকারি খরচে কোন মাদ্রাসা চলবে না। এর আগেও ড০ শর্মা ক্যাবিনেটে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছিলেন।

তিনি আরো বলেন, আমি হিন্দু, হিন্দু ধর্মের শিক্ষা গ্রহণ করা উচিৎ। আমি ইসলাম, ইসলামের শিক্ষা নেয়া উচিৎ। এর জন্যে ব্যক্তিগত পর্যায় রয়েছে। সরকারি পর্যায়ে শিক্ষা বা প্রচেষ্টা সেখানে থাকতে পারে না”।

এর আগেও কঠোর ভাবে তিনি জানিয়ে দিয়েছিলেন, সব সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত মাদ্রাসা আর সংস্কৃত টোল বন্ধ করে দিয়ে সেগুলিকে হাইস্কুলে পরিণত করা হবে ।

‘আসামের বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার ২০১৭ সালে মাদ্রাসা ও সংস্কৃত টোল বোর্ড তুলে দিয়ে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধিভুক্ত করেছিল; এখন তারা সেগুলোকে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। ’

সরকারি মাদ্রাসা বন্ধে বিজেপি সরকারের এ সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করছেন অনেকেই। মুসলিমবিদ্বেষী মানসিকতা থেকেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেই মনে করছেন অনেকে।

কিন্তু হিমন্ত বিশ্ব এও বলে দিয়েছেন, যে যেমন সমালোচনাই করুন না কেন, এটি চূড়ান্ত যে মাদ্রাসা আর প্রাদেশীকরণ করা হবে না। এবং সরকারি মাদ্রাসা এবং সংস্কৃত টোল বন্ধ করা হবে।

Categories
দেশ

দিল্লির JNU-র হোস্টেলের ভিতরেই পড়ুয়াকে বেধড়ক মার: অভিযুক্ত বিজেপির ছাত্র সংগঠন ABVP

দিল্লির JNU-র হোস্টেলের ভিতরেই পড়ুয়াকে বেধড়ক মার: অভিযুক্ত বিজেপির ছাত্র সংগঠন ABVP

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: ছাত্র নিগ্রহে উত্তপ্ত দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ)। বুধবার এক স্নাতকোত্তর পড়ুয়াকে হোস্টেলের মধ্যেই মারধরের অভিযোগ উঠল। কাঠগড়ায় ফের অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)।

বিবেক পাণ্ডে নামে এক পড়ুয়া অভিযোগ করেন, গতকাল রাতে তাঁর ঘরেতে ঢুকে পড়ে এক দল পড়ুয়া। তাঁকে বেধড়ক মারা হয়। এরা সবাই এবিভিপি-র বলে দাবি বিবেকের। হোস্টেল ওয়ার্ডেনের অফিসে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর জন্যই তাঁকে মারধর করে বলে জানান বিবেক। তবে, বিবেকের দাবি এমন কোনও অভিযোগ করেননি তিনি। অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্ট’স অ্যাসোসিয়েশন (এআইএসএ)-র সক্রিয় কর্মী বলে পরিচিত বিবেক পাণ্ডে।

আয়সার প্রেসিডেন্ট এন সাই বালাজি জানান, ওই পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে পুলিসে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে। এবিভিপি-র তরফে এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়। এবিভিপি দিল্লির কার্যনির্বাহী সদস্য সুজিত শর্মা জানান, সোশ্য়াল মিডিয়া থেকেই এই খবর আমরা জানতে পারি। আয়সা এবং এসএফআইয়ের সদস্যরা বরাবরই অশান্তি করে রাজনীতি করার চেষ্টা করে। এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে এবিভিপি-র কোনও সদস্য যুক্ত নয়। রেজিস্ট্রারের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের গোড়ায় জেএনইউ-র ক্যাম্পাসে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় একদল মুখোশধারী দুষ্কৃতী। এই সংঘর্ষে আহত হন শিক্ষিকা-সহ একাধিক ছাত্র-ছাত্রী। মাথা ফাটে জেএনইউএসইউ প্রেসিডেন্ট ঐশী ঘোষের। এই ঘটনায় কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয় এবিভিপি-কে। সে সময় এনআরসি বিরোধী আবহে নয়া মাত্রা যোগ করে জেএনইউ কাণ্ড।

Categories
বিশ্ব

জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গড়তে চায় কাতার

জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গড়তে চায় কাতার

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গড়তে বদ্ধপরিকর কাতার সরকার। এক্ষেত্রে ইহুদীবাদী ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাত নিরসনে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানও আশা করছে দেশটি।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইহুদী জামাতা ও সিনিয়র উপদেষ্টা জারেড কুশনারের সঙ্গে বৈঠকে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এ কথা জানিয়েছেন।

১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর দখল করা ফিলিস্তিনের পশ্চিমতীর, গাজা ও পূর্ব জেরুজালেমের সব এলাকা থেকে ইসরাইলি দখল অপসারণ এবং সেখানে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন কাতারের আমির।

দোহায় অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে তিনি বলেন, দখলকৃত অঞ্চলগুলোতে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলে ইসরাইলের সাথে তার দেশ সম্পর্ক্য স্বাভাবিক করতে সম্মত হবে। তবে এ প্রস্তাব বাস্তবায়নে ইসরাইল কোনো উদ্যোগই নেয়নি।

২০০২ সালে গৃহীত আরব শান্তি উদ্যোগের প্রতি এখনও কাতার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি।