Categories
দেশ

দেশের মূল সমস্যা থেকে ভুলিয়ে দিতে এক শ্রেণীর মিডিয়া ও সরকার রিয়া সুশান্ত নিয়ে মেতে আছে: দিল্লির উপ মুখ্যমন্ত্রী

দেশের মূল সমস্যা থেকে ভুলিয়ে দিতে এক শ্রেণীর মিডিয়া ও সরকার রিয়া সুশান্ত নিয়ে মেতে আছে: দিল্লির উপ মুখ্যমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: দেশের আসল সমস্যাগুলোর দিক থেকে চোখ ফেরাতেই কি এত বেশি করে রিয়া ও তাঁর পরিবারকে আক্রমণ করা হচ্ছে?‌ প্রশ্ন তুললেন দিল্লির উপমুখ্যমন্ত্রী মণিশ শিশোদিয়া। রবিবার তিনি টুইট কেন্দ্রীয় সরকারকে ব্যঙ্গ করে টুইট করলেন, ‘‌চীন ভারতের ভূখণ্ড ছেড়ে চলে গিয়েছে, অর্থনীতি ৫ ট্রিলিয়নে পৌঁছেছে, কোটি কোটি কর্মসংস্থান হয়ে গিয়েছে, কৃষক ও ব্যবসায়ীরা প্রত্যেকেই লাভের মুখ দেখছেন, স্বচ্ছ ভারত, ডিজিটাল ইন্ডিয়ার প্রকল্প সাফল্য পেয়েছে।

দেশে কেবল একটিই সমস্যা এখন– রিয়ার পুরো পরিবারকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। কেন্দ্রীয় সরকার ও মিডিয়া ২৪ ঘণ্টা সেই প্রচেষ্টাতেই রয়েছে। খুব তাড়াতাড়িই.‌.‌.‌’‌ যেভাবে জুন মাস থেকে রিয়া চক্রবর্তীর পরিবারের দিকে পবন্দুকের মতো ক্যামেরা তাক করা রয়েছে, তা আদপে অস্বস্তিকর। অনেক বিশিষ্টজন, অনেক সাংবাদিক মিডিয়া ট্রায়ালের এই উদাহরণ দেখে লজ্জিত ও ক্ষুব্ধ। এদিকে চাপা পড়ে যাচ্ছে দেসের অনেক গুরুতর সমস্যাগুলো। আজ সেদিকেই মানুষের চোখ ফেরানোর চেষ্টা করলেন শিশোদিয়া।

দুই মাদক পাচারকারী করণ অরোরা, আব্বাস লাখানির থেকে ৫৯ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার হয়েছিল। সেই সুবাদেই মামলায় হস্তক্ষেপ করে এনসিবি। ওই দুই মাদক পাচারকারীর সঙ্গে যোগ থাকায় রিয়ার ভাই শৌভিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে শুক্রবার। আজ তাঁর মুখোমুখি বসিয়ে রিয়াকে জেরা করছে এনসিবি। শৌভিককে আগামী ৯ তারিখ পর্যন্ত নিজেদের হেপাজতে নিয়েছে এনসিবি।

ছেলে শৌভিকের গ্রেপ্তারির জন্য ক্ষুব্ধ তাঁদের বাবা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইন্দ্রজিত চক্রবর্তী দেশবাসীকে কটাক্ষ করে বিবৃতি দিয়েছেন, ‘অভিনন্দন ভারত‌, আপনারা আমার ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছ, আমি নিশ্চিত এর পরের তালিকায় আমার মেয়ে রয়েছে। আমি জানি না তারপর কে। কার্যত একটা মধ্যবিত্ত পরিবারকে ধ্বংস করে ফেললেন। কিন্তু অবশ্যই, সুবিচারের জন্য সব কিছুই ন্যায়সঙ্গত।’‌

Categories
দেশ

দেশের অর্থনৈতিক দূরাবস্থার জন্য ভগবানকে দায়ী করা হিন্দুত্বের অপমান: নির্মলাকে আক্রমণ শিব সেনার

দেশের অর্থনৈতিক দূরাবস্থার জন্য ভগবানকে দায়ী করা হিন্দুত্বের অপমান: নির্মলাকে আক্রমণ শিব সেনার

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: দেশের অর্থনীতির বেহাল দশার জন্য কয়েকদিন আগেই করোনা মহামারিকে দায়ী করেছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। ভগবানের তৈরি করা এই বিপর্যয়ের জন্যই ভারতের অর্থনৈতিক  অগ্রগতি থমকে গিয়েছে বলেও মন্তব্য করেছিলেন।

এরপরই দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়। সমালোচনা করেছিলেন অর্থমন্ত্রীর স্বামী পরকলা প্রভাকর। এবার দেশের অর্থনীতির বেহাল দশার জন্য ভগবানকে দায়ী করার ঘটনা হিন্দুত্বের অপমান বলেই তোপ দাগল মহারাষ্ট্রের শাসকদল শিব সেনা। নিজেদের দলীয় মুখপত্র সামনায় ভগবানকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার জন্য তীব্র আক্রমণ করল নির্মলা সীতারমণকে।

রবিবার সামনায় প্রকাশিত সম্পাদকীয়তে দলের মুখপত্র ও রাজ্যসভা সাংসদ সঞ্জয় রাউত কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর মন্তব্য কোন ধরনের হিন্দুত্বের পরিচয় তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। দেশের অর্থনীতির বেহাল দশা নিয়ে কোনও মন্তব্য না করার জন্য সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিরও।

ওই প্রতিবেদনে তিনি লিখেছেন, ‘ভারতের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির জন্য কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ ভগবানকে দায়ী করেছেন। তাঁর এই মন্তব্য আসলে হিন্দুত্বকেই অপমান করেছে। দেশের অর্থনীতির বেহাল দশার জন্য যদি ভগবানকে অপরাধী বলা হয় তাহলে কোনও আদালত তার শুনানি হবে? নোটবন্দি থেকে লকডাউন, দেশের অর্থনীতি পুরোপুরি পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে গিয়েছে। কিন্তু, উনি ভগবানের ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছেন। এটা কোন ধরনের হিন্দুত্ব।’

প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, কিছুদিন আগেই আমাদের দেশ অর্থনৈতিক সুপার পাওয়ারেপরিণত হচ্ছে বলে দাবি করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু, বর্তমানে তিনি এ বিষয়ে কোনও মন্তব্যই করছেন না।

করোনা মহামারির আগে থেকেই দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়েছিল। তখনও তিনি এবিষয়ে চুপ ছিলেন। এখনও তাঁর সরকারের অর্থমন্ত্রী ভগবানের ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছেন। করোনা মহামারি ও বেহাল অর্থনীতি যদি ভগবানের ইচ্ছার উপরে নির্ভরশীল হয় তাহলে সরকার আর সেনাবাহিনীর কী দরকার আছে? ভগবানই সবকিছু বুঝে নেবেন?’

Categories
দেশ

যোগীরাজ উত্তরপ্রদেশ যেন গুন্ডারাজ! এবার তিন বারের বিধায়ককে পিটিয়ে খুন

যোগীরাজ উত্তরপ্রদেশ যেন গুন্ডারাজ! এবার তিন বারের বিধায়ককে পিটিয়ে খুন

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: জমি বিবাদকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ। যোগী রাজ্যের লখিমপুর খেরিতে প্রাক্তন সমাজবাদী বিধায়ককে পিটিয়ে মেরে ফেলার অভিযোগ উঠল দুই ব্যক্তি ও তার দলবলের বিরুদ্ধে।

রবিবার ওই ঘটনা ঘটে লখিমপুর খেরির ত্রিকোলিয়া বাস স্ট্যান্ডের কাছে। সেখানে একটি জমি নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই বিবাদ চলছিল এলাকার সমীর গুপ্তা ও রাধেশ্যাম গুপ্তা নামে দুই ব্যক্তির সঙ্গে। এনিয়ে মামলাও হয়েছে।

রবিবার ওই জমির দখল নিতে আসেন সমীর ও রাধেশ্যাম। বাধা দিতে যান প্রাক্তন সপা বিধায়ক নির্বেন্দ্র কুমার মিশ্র(৭৫) ও তাঁর ছেলে সঞ্জীব মিশ্র। অভিযোগ, তখনই সমীর ও রাধেশ্য়ামের দলবল লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে বাবা ও ছেলেকে। ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন দুজন।

আহত দুজনকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে নির্বেন্দ্র মিশ্রকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিত্সকরা। অন্যদিকে, সঞ্জীবের অবস্থা সংকটজনক। ঘটনার পর সপা সমর্থকরা ত্রিকোলিয়া বাসস্ঠান্ডে প্রবল বিক্ষোভ দেখান। রাস্তা আটকে ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানান।

১৯৮৯ ও ১৯৯১ সালে পরপর দুবার নির্দল হিসেবে নিগাসন আসন থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন নির্বেন্দ্র। ১৯৯৩ সালে সমাজবাদী পার্টির টিকিটে তৃতীয়বার বিধায়ক হন তিনি। নির্বেন্দ্রর পরিবারের দাবি, হামলাকারীদের মদত দিচ্ছে পুলিস। এনিয়ে লখিমপুরের এক পুলিস আধিকারিক বলেন, একটি জমি নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বিবাদ চলছিল। রবিবার সেই ঝামেলার মধ্যে পড়ে যান নির্বেন্দ্র। সামান্য ধাক্কাধাক্কিতে তিনি মাটিতে পড়ে যান। হাসপাতালে নিয়ে গেল তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। তাঁর দেহে আঘাতের কোনও চিহ্ন নেই।

Categories
বিশ্ব

পবিত্র কুরআনে চুমু খেয়ে সুইডেনে কুরআন অবমাননার প্রতিবাদ সুইডিশ নারীর

পবিত্র কুরআনে চুমু খেয়ে সুইডেনে কুরআন অবমাননার প্রতিবাদ সুইডিশ নারীর

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: ফেসবুক ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায় সুইডেনের মালমো শহরে সংঘটিত কোরআন পোড়ানোর প্রতিবাদে এক নারী কোরআনে চুমু খাচ্ছেন। আর বলছেন, ‘আমি মালমো শহরের মুসলিমদের সঙ্গে একত্বতা ঘোষণা করছি।’

ফেসবুক পেজে বলা হয়, ওই নারী বলছে, ‘আমি জানি না বইটি কি সম্পর্কে। কিন্তু মানবতা ও অনুকম্পার জন্য আমি তোমাদের সঙ্গে একাত্বতা ঘোষণা করছি। বইটি যেহেতু তোমাদের কাছে গুরুত্বের, তাই আমার কাছেও তা গুরুত্বপূর্ণ। বইটি চুমু দিয়ে আমি গর্বিত।’

সুইডিশ নারী আরো বলেন, ‘ডেনিশ ব্যক্তি সুইডেনে যা করেছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট নই।’

সুইডেনের পত্রিকা নারীটির ছবি প্রকাশ করলে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবার দৃষ্টি কাড়ে।

গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সুইডেনের মালমো শহরে কট্টরপন্থী ডেনিশ দল হার্ড লাইনের তিন সদস্য কুরআন পুড়িয়ে অবমাননা করেন।

সূত্র : আল মুজতামা।

Categories
দেশ

দেশের গরীব মানুষের হাতে নগদ অর্থ দিক সরকার, নাহলে দেশের অর্থনীতি অন্ধকার সুড়ঙ্গের মধ্যে তলিয়ে যাবে : চিদম্বরম

দেশের গরীব মানুষের হাতে নগদ অর্থ দিক সরকার, নাহলে দেশের অর্থনীতি অন্ধকার সুড়ঙ্গের মধ্যে তলিয়ে যাবে : চিদম্বরম

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: অর্থনীতিকে বৃদ্ধির পথে ফেরাতে দেশের সবথেকে গরিব পঞ্চাশ শতাংশ পরিবারের হাতে নগদ দেওয়ার পরামর্শ দিলেন কংগ্রেস নেতা এবং প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম৷ একই সঙ্গে তাঁর পরামর্শ, জিএসটি বাবদ রাজ্যের বকেয়াও মেটাক কেন্দ্র৷ সবমিলিয়ে মানুষের হাতে নগদের জোগান দিয়ে বাজারে চাহিদা বাড়ানোর সরকারকে ধার করার পরামর্শ দিয়েছেন চিদম্বরম৷ কী ভাবে দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা যায়, সরকারকে সেই সংক্রান্ত পরামর্শ দিতে ট্যুইট করে একাধিক প্রস্তাব দিয়েছেন প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী৷

সোজা কথায় চিদম্বরমের পরামর্শ, অর্থনীতিতে গতি আনতে গেলেন মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এবং বাজারে চাহিদা বাড়াতে হবে৷ এই সূত্রেই তাঁর পরামর্শ, দেশের সবথেকে গরিব পঞ্চাশ শতাংশ পরিবারের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলিতে সরাসরি টাকা পাঠাক সরকার৷ একই সঙ্গে তাঁর পরামর্শ, মজুরি দেওয়ার জন্য নগদের বদলে সরকারের কাছে মজুত করে রাখা খাদ্যশস্য ব্যবহার করা হোক৷ পরিকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় বাড়ানো হোক৷ পাশাপাশি ব্যাঙ্কগুলির ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা বাড়াতে তাদের পুঁজির জোগান দেওয়ার জন্যও সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন চিদম্বরম৷

ট্যুইটারে কংগ্রেস নেতা লিখেছেন, ‘এই সমস্ত পরামর্শের বাস্তবায়নের জন্য অর্থের প্রয়োজন৷ তাই কোনওরকম দ্বিধা না রেখে ঋণ নেওয়া হোক৷’ অর্থনীতিকে দিশা দেখানোর জন্য সরকারকে দৃঢ় পদক্ষেপ করার দাবি জানিয়ে আসছেন চিদম্বরম৷ তাঁর দাবি, প্রতিশ্রুতি মতো কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যগুলিকে জিএসটি বাবদ পাওনা মিটিয়ে দিক৷

সতর্ক করে চিদম্বরম বলেছেন, অবিলম্বে সরকার পদক্ষেপ না করলে ‘অন্ধকার সুড়ঙ্গের মধ্যে তলিয়ে যাবে দেশের অর্থনীতি৷’ প্রাক্তন অর্থমন্ত্রীর অভিযোগ, অর্থনীতির সমস্ত ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য পতন ঘটেছে৷ কিন্তু তা ঠেকানোর জন্য সরকারের নির্লিপ্ত ভূমিকা এবং কোনও পদক্ষেপ না করাটাই লজ্জাজনক৷

Categories
রাজ্য

মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগে বঞ্চিত অসহায় চাকরিপ্রার্থীরা সাংসদ অধীর চৌধুরীর সমীপে

মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগে বঞ্চিত অসহায় চাকরিপ্রার্থীরা সাংসদ অধীর চৌধুরীর সমীপে

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: রাজ্যের মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন পাশ করে বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীরা আজ বহরমপুর জেলা কংগ্রেসের কার্যালয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা তথা বহরমপুরের দাপুটে সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরির সাথে দেখা করলেন। দীর্ঘ ছয় সাত বছরের বঞ্চনার যন্ত্রণার কথা তুলে ধরলেন তাঁর কাছে। বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীরা লিখিত ডেপুটেশন ও মাদ্রাসার কেশ হিস্টোরি সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরির হাতে তুলে দেন।

দীর্ঘ ৭ বছর আগে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে রাজ্যের ৬১৪ টি মাদ্রাসায় ৩১৮৩ টি সীটে শিক্ষক নিয়োগের জন্য ষষ্ঠ এস এল এস টি বিজ্ঞপ্তি জারি হয়। ২০১৪ সালে লিখিত সম্পন্ন হলেও ২০১৬ এর সেপ্টেম্বর মাসে লিখিত পরীক্ষার ফলাফল ঘোষিত হয়। ৮৮০০০ হাজার পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৭০৬ জন লিখিত পরীক্ষায় পাশ করেন। ২০১৭ এর নভেম্বর-ডিসেম্বর নাগাদ প্রায় ৩২০০ জন ভাইভা-পারসোনালিটি টেস্টে উপস্থিত হন।

তারপর আইনি জটিলতার কারনে নিয়োগ আরো পিছিয়ে যায়। ২০১৮ সালের জুন জুলাই মাসে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে। মাত্র ১৫০০ সীট ফিল আপ করে কমিশন নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করে দেয়। অবশিষ্ট সীট গুলিতে উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীদের কোনোপ্রকার ওয়েটিং লিস্টে না রেখে তাদের চাকরি থেকে বঞ্চিত করেন। তারপর অনেক ইতিহাস। মাদ্রাসার শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় লিখিত পরীক্ষা পাশ করে ও ইন্টারভিউ দিয়ে তারা বঞ্চিত।

পর্যাপ্ত ভ্যাকান্সি রয়েছে, উপরন্তু গেজেট মোতাবেক লিখিত পরীক্ষার ফলাফলের আগের দিন পর্যন্ত ভ্যাকান্সি আপডেট হয়ে নিয়োগ হবার কথা। সেক্ষেত্রে মাদ্রাসার ভ্যাকান্সি বেড়ে গিয়ে দাঁড়ায় প্রায় ৭০০০ এর অধিক। কিন্তু কমিশন বরং ভ্যাকান্সি কমিয়ে মাত্র ১৫০০ এর আশেপাশে রেকোমেন্ডেড করে। বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থী তারপর থেকে আন্দোলন মিছিল মিটিং করে চলেছেন। সরকার পক্ষ বিরোধীপক্ষ সর্বত্র ডেপুটেশন জমা দিয়েছেন।

সরকারি নেতামন্ত্রী আমলারা প্রায়শ আস্বস্ত করলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। গতবছর চাকরিপ্রার্থীরা কলকাতার প্রেসক্লাবের সামনে অনশনে বসেছিলেন। কমিশন তাদের দাবী মানা তো দূরের কথা, ভোর রাতে ফজরের নামাজের সময় অনশনকারীদের উপর পুলিশ ও গুন্ডাবাহিনী দিয়ে হামলা চালায়, অনশন ভেঙে দেন। তারপর এই অসহায় চাকরিপ্রার্থীরা আইনের লড়াই শুরু করে৷ ষষ্ঠ এস এল এস টিতে যে সমস্ত মাদ্রাসা শিক্ষক পায়নি তারাও হাইকোর্টের কাছে শিক্ষকের জন্য আপীল করে। কমিশন ডিভিশন বেঞ্চে যায়। এমনকি সুপ্রিমকোর্ট পর্যন্ত মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগের আদেশ দিলেও কমিশন আদেশ অমান্য করে।

আনুমানিক শ পাঁচেক বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে অবশিষ্ট ১৯০ জন চাকরিপ্রার্থী চাঁদা তুলে হাইকোর্টে মামলা রুজু করে। মহামান্য হাইকোর্ট চাকরিপ্রার্থীদের ‘কনসিডার’ অর্ডায় দেয়, এমনকি আগামী ৬ সপ্তাহের মধ্যে নিয়োগ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। তবুও কমিশনের চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ তাদের চাকরি দিতে পারব না, যা করার করে নিন বলে জানিয়ে দেন।

সম্প্রতি হাওড়ার পাঁচপাড়া হাইমাদ্রাসায় মাদ্রাসার শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি প্রকাশ্যে এসেছে। ২০১৮ সালে উক্ত মাদ্রাসায় দুজন শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগ হয়েছেন। যারা কোনো পরীক্ষা দেননি। জানা গেছে, উক্ত মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি ও তাদের মদত দাতা কমিশন মিলেমিশে জাল রেকোমেন্ডেশন বানিয়ে নিয়োগ করেছে। তারা আজ দুবছর যাবত মাসিক ৫০০০০ টাকা করে বেতন তুলছেন। ঘটনাটি সবার সামনে আসার পরেও উক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা কিংবা তাদের সাথে যারা জড়িত তারা এখনো কেউ গ্রেপ্তার হননি। রাজ্য সরকার এখনো মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে। সরকারের এই ভূমিকা নিয়ে খুব সহজেই বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীরা এমনকি বুদ্ধিজীবী মহল আঙুল তুলতে শুরু করেছেন।

এহেন পরিস্থিতিতে একগুচ্ছ দাবীদাওয়া নিয়ে তারা আজ বহরমপুর জেলা কংগ্রেসের কার্যালয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা তথা বহরমপুরের দাপুটে সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরির সাথে দেখা করলেন। ইতিপূর্বে অধীরের বক্তব্যে মাদ্রাসার বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীদের প্রসঙ্গ কমবেশি দেখা গেছে। এদিন অসহায় চাকরিপ্রার্থীদের দীর্ঘদিন ধরে এই বঞ্চনার বিরুদ্ধে সরকারের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীদের আস্বস্ত করেন, যতদূর সম্ভব আমি করবো। কেন্দ্রের কাছে জানাবো।’ তিনি চাকরিপ্রার্থীদের ২০২১ এর বিধানসভার আগে আরো জোরদার আন্দোলন কর্মসূচি করার পরামর্শ দেন।

বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীদের অনুরোধ, তারা যোগ্য চাকরিপ্রার্থী, লিখিত পরীক্ষায় পাশ করেছে, ইন্টারভিউ দিয়েও কেন তাদের কমিশন নিয়োগ দিচ্ছে না? আর এত বছর পেরিয়ে যাবার পর রাজ্যের মাদ্রাসামন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী কেন কিছু বলছেন না? কেন নীরব নিঃস্তব্ধ? কেন বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীদের কান্না তাঁর কানে পৌছাচ্ছে না! আমরা আজ অসহায়ভাবে জীবনযাপন করছি। আমাদের অনেকের বয়স চল্লিশ পরিয়ে গেছে। তবে আমরা আমাদের অধিকার ছিনিয়ে নেব। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আমাদের দাবী সবসময়, আমাদের বঞ্চনার অবস্থা থেকে মুক্ত করুন। আশানুরূপ ফল না পেলে আমরা এ মাসেই কলকাতার রাজপথে নামব। মহামিছিলের প্রস্তুতি চলছে।

Categories
দেশ

দীর্ঘ ১৮ বছর পর গুজরাত দাঙ্গায় ক্ষতিপূরণের মামলা থেকে নরেন্দ্র মোদীর নাম বাদ দিয়ে দিল আদালত

দীর্ঘ ১৮ বছর পর গুজরাত দাঙ্গায় ক্ষতিপূরণের মামলা থেকে নরেন্দ্র মোদীর নাম বাদ দিয়ে দিল আদালত

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: ২০০২ সালে গুজরাত দাঙ্গার ঘটনায় ক্ষতিপূরণ চেয়ে একটি মামলা হয় নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে। ১৮ বছর বাদে অবশেষে সেই তালিকা থেকে বাদ গেল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নাম। শনিবার আদালতে মামলা থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে কোন প্রমান ছাড়াই ওই মামলা হয় বলে দাবি আদালতের।

এক ব্রিটিশ পরিবার ২৩ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়েছিলেন। তাঁদের পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয় গুজরাত দাঙ্গায়। ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয় তার ভিত্তিতেই। সেইসময় গুজরাতে মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন মোদী। তাই এই মামলায় তাঁর কাছে টাকা চাওয়া হয়।

এদিন আদালতের সিভিল জাজ এসকে গাধভী বলেন, মোদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনতে গেলে তার জন্য যথেষ্ট প্রমাণ দরকার। মোদীর নাম সরিয়ে দেওয়ার জন্য ওই মামলাকারীদের দাবিতে কোনও প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে ১৮ বছর পর এসে এই মামলা থেকে নরেন্দ্র মোদীর নাম বাদ পড়াই প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। সত্যি যদি নরেন্দ্র মোদী এই মামলার সঙ্গে যুক্ত নন তাহলে এত বছর লাগলো কেন? না কি কৌশল অবলম্বন করতেই এত দিন সময় পার করা হয়েছে।

ব্রিটিশ নাগরিক ইমরান ও শিরিন দাউদ ২০০৪ সালে একটি স্যুট ফাইল করেন। সেখানে মোদী সহ ১৩ জনের নাম ছিল। এর আগে গোধরা পরবর্তী গুজরাত দাঙ্গায় মোদীকে ক্লিনচিট দেয় নানাবতী কমিশন।

গোধরা কাণ্ডের প্রায় ১৭ বছর পর ২০১৯-এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই দাঙ্গার সঙ্গে কোনওভাবেই জড়িত নয় বলে ক্লিনচিটে উল্লেখ করে বিচারপতি জি.টি নানাবতী এবং অক্ষয় মেহতার কমিশন।

Categories
বিশ্ব

এবার চীনে প্রতিনিয়ত উইঘুর মুসলিম গণহত্যার তদন্ত করবে ব্রিটিশ ট্রাইব্যুনাল

এবার চীনে প্রতিনিয়ত উইঘুর মুসলিম গণহত্যার তদন্ত করবে ব্রিটিশ ট্রাইব্যুনাল

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: প্রতিনিয়ত চীনের উইঘুরে বসবাসরত প্রায় এক কোটি ২৬ লাখ মুসলমানের ওপর অমানবিকভাবে নির্যাতন ও নিপীড়ন চালানো হচ্ছে। মুসলিমদের সংখ্যা কমানোর জন্য মুসলিম নারীদের জোরপূর্বক গর্ভপাত করানো, জোরপূর্বক জন্মনিয়ন্ত্রণের ওষুধ খাওয়ানো, পবিত্র কোরআন নিষিদ্ধ করা, ধর্মান্তরিত করা, নারীদের ধর্ষণ, বন্দিশিবিরে আটকে রেখে নির্যাতন করা ইত্যাদি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে চীন সরকার প্রতিনিয়ত সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার লঙ্ঘন করে যাচ্ছে।

উইঘুর মুসলমানদের বিরুদ্ধে চীন সরকারের করা নির্যাতন গণহত্যা বা মানবতাবিরোধী অপরাধ কি না তা খতিয়ে দেখতে লন্ডনে একটি স্বাধীন ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হচ্ছে। ট্রাইব্যুনাল আগামী বছরের বেশ কয়েকটি দিনের শুনানিতে নতুন প্রমাণ এবং সাক্ষ্য প্রকাশ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। চীনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার সর্বশেষ প্রচেষ্টা মূলত এটিই।

চীনের জবাবদিহিতা নিশ্চিতে স্বাধীন ট্রাইব্যুনালের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ব্যারিস্টার জিওফ্রে নাইস। এর আগে তিনি বলকান যুদ্ধ নিয়ে স্লোবোদান মিলোসেভিচের বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করেছিলেন। তিনি আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতেও কাজ করেছেন। তিনিই ওয়ার্ল্ড উইঘুর কংগ্রেসকে উইঘুর জনগণের বিরুদ্ধে ‘নৃশংসতা ও সম্ভাব্য গণহত্যা’ তদন্ত করতে বলেছিলেন।

নাইস বলেন, সম্ভাব্য গণহত্যার বিষয়ে চীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। এমন প্রশ্ন তাদের জিজ্ঞাসা করা উচিত এবং তাদের উত্তর দেওয়া উচিত। তবে এ ধরনের দাবি কখনো জনসমক্ষে আইনিভাবে যাচাই-বাছাই করা হয়নি।

স্বাধীন ট্রাইব্যুনাল গঠনের আয়োজকরা প্রমাণ সংগ্রহের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। আগামী কয়েক মাস ধরে বিদেশে নির্বাসিত উইঘুরদের কাছ থেকে প্রচুর তথ্য পাওয়ার প্রত্যাশা করছে। প্রমাণগুলোর মধ্যে জিনজিয়াংয়ের বন্দিশিবিরে জড়িত বেশ কয়েকজন সবেক নিরাপত্তারক্ষীর সাক্ষ্যও থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ঘটনা নিয়ে লন্ডনে অবস্থিত চীনা দূতাবাসকে মন্তব্য করার জন্য এপির পক্ষ থেকে ই-মেইল করা হলেও কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

এদিকে সম্প্রতি লন্ডনে জাতিসংঘের কার্যালয়ের সামনে চীনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ করেছেন তিব্বতি ও উইঘুর সম্প্রদায়ের সদস্যরা। তিব্বত ও পূর্ব তুর্কিস্তানে চীনের ‘মানবতাবিরোধী জঘন্যতম অপরাধ’-এর নবম বার্ষিকী উপলক্ষে এই বিক্ষোভ করা হয়।

গত ২৯ আগস্ট যুক্তরাজ্যের তিব্বতি কমিউনিটি, ওয়ার্ল্ড উইঘুর কংগ্রেস (ডাব্লিউইউসি) এবং গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর তিব্বত ও নির্যাতিত সংখ্যালঘুর (জিএটিপিএম) নেতৃত্বে এই প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীদের হাতে ‘তিব্বত ও পূর্ব তুর্কিস্তানের বন্ধুত্ব দীর্ঘজীবী হোক’, ‘উইঘুর মানুষদের বাঁচান’, ‘অভ্যন্তরীণ ক্যাম্পগুলোকে না বলুন’ ইত্যাদি স্লোগানসংবলিত ব্যানার দেখা যায়।

গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর তিব্বত ও জিএটিপিএমের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিসিপি) ১৯তম পলিটব্যুরোর সদস্য চেন কোয়াঙ্গুও পার্টির দ্বিতীয় পদের জন্য বিবেচিত হচ্ছেন। আর তিনি হলেন তিব্বত ও পূর্ব তুর্কিস্তান শাসন করা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে নির্মম চীনা নেতা।’

তিব্বতের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের পার্টির সেক্রেটারি ছিলেন চেন কোয়াঙ্গুও। জিনজিয়াংয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় গত মাসে মার্কিন কর্তৃক নিষিদ্ধ চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কর্মকর্তাদের একজন তিনি। ১৯৭৮ সালের দিকে চীনের গাওকাও পরীক্ষা (স্নাতক স্তরের প্রায় সব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য এই পরীক্ষা দিতে হয়) আবার শুরু হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি।

বিক্ষোভে ওয়ার্ল্ড উইঘুর কংগ্রেসের পরিচালক রহিমা মাহমুত বলেন, ‘আমরা সবাই যেন একত্রিত হই, এবং আমাদের প্রতিবাদটা জানাই।’ রহিমা আরো যোগ করেন, ওয়ার্ল্ড উইঘুর কংগ্রেস শিগগিরই উইঘুর গণহত্যা বন্ধের প্রচার শুরু করবে।

সূত্র : নিউ ইয়র্ক টাইমস।

Categories
ইতিহাস ও ঐতিহ্য

বাংলা জাতীয়তাবাদের অন্যতম জনক শরৎচন্দ্র বসুর জন্মদিনে শ্রদ্ধা নিবেদন

বাংলা জাতীয়তাবাদের অন্যতম জনক শরৎচন্দ্র বসুর জন্মদিনে শ্রদ্ধা নিবেদন

বঙ্গ রিপোর্ট ডিজিটাল ডেস্ক: জানকীনাথ বসুর পুত্র ও সুভাষচন্দ্র বসুর মেজ দাদা শরৎচন্দ্র বসু জন্মগ্রহণ করেন ১৮৮৯ সালের ৬ই সেপ্টেম্বরে। শরৎচন্দ্র বসু ছিলেন খ্যাতনামা আইনজীবী, বলিষ্ঠ রাজনীতিবিদ এবং ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের এক বিশিষ্ট নেতা। কলকাতা বি‌শ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ. ও আইন পাশ করে কিছুদিন ওকালতি করেন। পরবর্তীকালে তিনি ইংল্যান্ডে যান ব্যারিস্টারি পড়তে। ১৯১৮ সালে দেশে ফিরে আসেন ব্যারিস্টারি পাশ করে।
দেশে ফিরে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনৈতিক জীবনিদর্শনে আসেন। শুরু করেন নিঃস্বার্থভাবে দেশসেবার কাজ। দেশকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ হলেন। এর ফলে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বহুবার তাঁকে জেল-জুলুমের অত্যাচার সহ্য করতে হয়।

রাজনৈতিক জীবনে তিনি কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য, নিখিল ভারত রাষ্ট্রীয় মহাসভার সদস্য, কেন্দ্রীয় আইনসভার বিরোধী দলের নেতা, এবং স্বাধীন ভারতের মন্ত্রী পরিষদের এক বিশিষ্ট সদস্য ছিলেন। তিনি স্বাধীন ভারতের এক উপনির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা সদস্য পদের জন্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের বিরোধিতা করার পাশাপাশি ১৯৪৭ সালে বাংলাকে এক স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রয়াসে উনি সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি পরবর্তীকালে সোস্যালিসট রিপাবলিকান পার্টির প্রতিষ্ঠা করেন।
১৯৩৬ সালে তিনি বেঙ্গল কংগ্ৰেসের সভাপতি হন। ১৯৩৬ থেকে ১৯৪৪ সাল অবধি উনি কংগ্ৰেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য ছিলেন।

একজন দেশপ্রেমিক বাঙালি হিসেবে শরৎচন্দ্র বসু বঙ্গভঙ্গের ঘোর বিরোধী ছিলেন। তিনি সমাজ ও ভাষার ভিত্তিতে গঠিত ও শাসিত সমাজতান্ত্রিক রাজ্যের সমন্বয়ে একটি অখন্ড ভারতবর্ষ গঠনের পক্ষে ছিলেন। তৎকালীন বাংলার প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সাথে এই বিষয়ে তাঁর চিন্তাধারার অনেক মিল ছিল। উভয় নেতা পরবর্তীকালে এক হয়ে এক অখন্ড বাংলা গড়ার সংকল্প নিয়ে এক হয়ে কাজ করেন।

বাংলা ভাগ বা অখন্ড বাংলা – কোনটা ঠিক সেই বিষয়ে আজ যাব না। তবে উনার প্রস্তাব তৎকালীন দিল্লীর কংগ্ৰেসের শীর্ষ নেতৃত্ব যে খারিজ করে দেয় তা বলাই বাহুল্য। তাঁর দূরদৃষ্টিসম্পন্ন চিন্তাধারার ফসল তুলতে যে তৎকালীন কংগ্ৰেস নেতৃত্ব যে সম্পূর্ণ ব্যর্থ তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়-দের মত কিছু কতিপয় মানুষ যারা বঙ্গভঙ্গের হয়ে সওয়াল করেছিলেন , তারা এই বঙ্গভঙ্গের ঘটনাটিকে অতি প্রয়োজনীয় এবং এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখিয়ে নিজেদের ভাগে কৃতিত্ব আনতে চান। কিন্তু তৎকালীন কংগ্ৰেস পার্টির আমলে শ্যামাপ্রসাদ এর মত ব্যক্তিত্বের প্রভাব ছিল নিতান্তই নগন্য। বাংলা ভাগ আটকাতে শরৎচন্দ্র বসুর ভূমিকা নিঃসন্দেহে উল্লেখযোগ্য ছিল কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে উনার মতামতকে কোনো ভাবে আমল না দিয়ে শেষ অবধি বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্তই গৃহীত হল। শরৎচন্দ্র বসু মনে প্রাণে একজন দেশপ্রেমিক ও সমাজতান্ত্রিক ছিলেন। উনি স্বপ্ন দেখতেন এক অখন্ড বাংলার যার রাজনীতিতে বাংলার ভূমি সন্তানদের এক অগ্ৰণী ভূমিকা থাকবে। উনি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে স্বাধীন বাংলার সংবিধান রচনার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। উনি বলেছিলেন যে সংবিধান সমিতির ৩০ জন সদস্যের মধ্যে ১৬জন মুসলমান এবং ১৪জন হিন্দু থাকবেন। মন্ত্রিত্বে হিন্দু এবং মুসলমান সমসংখ্যক থাকবেন আর স্বাধীন অখন্ড বাংলার প্রধানমন্ত্রী হবেন একজন মুসলিম আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হবেন একজন হিন্দু।
কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাঁর সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন হল না।

শরৎচন্দ্র বসু প্রকৃত অর্থেই ছিলেন এক দেশপ্রেমিক। তিনি চেয়েছিলেন বাঙালি যেন কোনোভাবেই তাঁর স্বতন্ত্রতা না হারায়, কখনও হিন্দি সাম্রাজ্যবাদী শক্তির দাপটে যেন পিছনের সারিতে না চলে যায়। তাঁর দূরদৃষ্টির মাধ্যমে তিনি বাঙালি জীবনের বঙ্গভঙ্গের যন্ত্রণা অনেক আগেই বুঝতে পেরেছিলেন। কিন্তু সুকৌশলে তাঁকে উপেক্ষা করে , তাঁর মতামতকে ধর্তব্যের মধ্যে না রেখে হিন্দীভাষীদের মুখপাত্র তৎকালীন কংগ্ৰেস সরকার যে সিদ্ধান্ত নিল তা পরবর্তীকালে বাঙালিদের জীবনে নিয়ে এল এক চরম দুর্দশা। আজও শরৎচন্দ্র বসুর নামে একটি রাস্তা এক মূর্তি এবং নেতাজি বিষয়ক কিছু গ্ৰন্থে তাঁর উল্লেখ ছাড়া তেমন উল্লেখযোগ্য কিছু নেই। বাংলার এই দেশপ্রেমিক কৃতি সন্তানের প্রতি রইল আন্তরিক শ্রদ্ধা , ভালাবাসা এবং তাঁর দূরদর্শিতার প্রতি সম্মান।
আজ তাঁর ১৩২তম জন্মবার্ষিকীতে তাঁকে জানাই আমাদের সশ্রদ্ধ প্রণাম। ”

কলমে : ঐক্যযোদ্ধা শ্রী সৌম্য চৌধুরী ,
সদস্য ,
‘ঐক্য বাংলা’ সংগঠন

Categories
দেশ

এই পরিস্থিতিতে রাজনাথের চীনের সঙ্গে বৈঠক ভুল পদক্ষেপ: ওয়েসির সুরে মন্তব্য বিজেপি সাংসদ সুব্রামনিয়াম স্বামীর

এই পরিস্থিতিতে রাজনাথের চীনের সঙ্গে বৈঠক ভুল পদক্ষেপ: ওয়েসির সুরে মন্তব্য বিজেপি সাংসদ সুব্রামনিয়াম স্বামীর

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: লাদাখে ভারত-চিন সীমান্তে চরম উত্তেজনার মধ্যেই রাশিয়া সফরে গিয়ে চিনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। যা যা নিয়ে গত কালই সমালোচনা করেছেন সাাংসদ আসাদুদ্দিন ওয়াইসি আজ একই সুরে সুর মিলিয়ে সমালোচনা করলেন বিজেপি সাংসদ সুব্রামনিয়াম স্বামী।

সূত্র মারফত পাওয়া খবরে জানা যায়, প্রায় কুড়ি মিনিট ধরে চলেছিল এই হাইভোল্টেজ বৈঠক। এমনকী রাজনাথ সিং যেই হোটেলে ছিলেন সেখানে এসে নিজের থেকে বৈঠক করে চিনের প্রতিনিধিরা। তবে এমন উত্তেজনাপূর্ণ সময়ে এই এই বৈঠকে যোগ দেওয়া কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের একটি বিরাট ভুল পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিজেপি সাংসদ সুব্রহ্মণ্যম স্বামী।

চৈনিক প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের সিদ্ধান্ত বড় ভুল ছিল। এবং রাজনাথ সিংয়ের উচিত ছিল এই বৈঠকের জন্য রাজি না হওয়া, এমনটাই মনে করছেন বিজেপি সাংসদ। একটি টুইট করে তিনি লিখেছেন, আমাদের ভালোর জন্য চিনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করার সিদ্ধান্ত রাজনাথ সিং না-ও নিলে পারতেন। সে যতই তার সাক্ষাৎ করার ইচ্ছে থাকুক না কেন। এই ক্ষেত্রে একটা সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন ছিল। আমার ব্যক্তিগত মতামত হল, চৈনিক প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করা একটা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল।

শুধু তাই নয়, আগামী সময়ে চিনা বিদেশ মন্ত্রীর সঙ্গে হতে চলা বৈঠক বাতিল করারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সুব্রহ্মণ্যম স্বামী লিখেছেন, আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে চলা চৈনিক প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর সঙ্গে হতে চলা বৈঠকের প্রস্তাব বাতিল করে দেয়া উচিত ভারতের। এই ধরনের বৈঠক করার কোন মানে হয় না। কারণ ভারত চায় চিন যেন আমাদের ভূখন্ড কব্জা না করে। অন্যদিকে চিন কোনও ভাবেই ওই এলাকাগুলি ভারতের বলে মানবে না। তাই তারা নিজেদের অবস্থান বদল করবে না। ফলে এই ধরনের বৈঠক করার কোন মানে হয় না।