Categories
রাজ্য

বাংলা যেন দ্বিতীয় পাকিস্তান: ফের বিতর্কিত মন্তব্য ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিংয়ের

বাংলা যেন দ্বিতীয় পাকিস্তান: ফের বিতর্কিত মন্তব্য ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিংয়ের

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: বাংলায় আইনশৃঙ্খলা বলে কিছুই নেই। বাংলা জুড়ে ঘরে-ঘরে মজুত রয়েছে বোমা, পিস্তল। যেন দ্বিতীয় পাকিস্তান।” দক্ষিণ ২৪ পরগণার বিষ্ণুপুরের রঘুদেবপুরে স্থানীয় বিজেপির মহিলা মোর্চার নেত্রী রাধারাণী নস্করের গুলিবিদ্ধ হওয়ার প্রতিবাদে মঙ্গলবার থানা ঘেরাও কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে একথা বলেন সাংসদ অর্জুন সিং।

মহিলা মোর্চার রাজ্য সভানেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল মুখ্যমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, “ধর্ষণ আর খুনের রাজনীতি করে ভয়ের আবহ যতই বাংলায় তৈরি করা হবে, বিজেপি ততই ২০২১-এর ভোটে সিংহাসনের দিকে এগিয়ে যাবে”। প্রসঙ্গত, গুলিচালানোর ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৬ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। যদিও মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবিতেই এদিন আন্দোলনে নামে বিজেপি। দীর্ঘক্ষণ অবরোধ করে রাখা হয় ১১৭ নম্বর জাতীয় সড়কও।

সোমবার সকালে নিজের বাড়িতেই গুলিবিদ্ধ হয়ে এখনও এসএসকেএম হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন বিষ্ণুপুর বিধানসভার চার নম্বর মণ্ডলের বিজেপির মহিলা মোর্চার কোষাধ্যক্ষ রাধারাণী নস্কর। এদিন, ধৃত ছ’জনকে আলিপুর আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাদের পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। এদিকে ঘটনায় মূল অভিযুক্ত পঞ্চানন নস্করের গ্রেপ্তারের দাবিতে এদিন বিষ্ণুপুর থানা ঘেরাও করে অবস্থান বিক্ষোভ করে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব।

 

Categories
দেশ

দীর্ঘ পাঁচ মাস পর মুসুল্লিদের জন্য খুলে গেল হায়দ্রাবাদের মক্কা মসজিদ ও শাহি মসজিদ

দীর্ঘ পাঁচ মাস পর মুসুল্লিদের জন্য খুলে গেল হায়দ্রাবাদের মক্কা মসজিদ ও শাহি মসজিদ

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: দীর্ঘ পাঁচ মাস পর খুলে দেওয়া হয়েছে হায়দ্রাবাদের ঐতিহাসিক মক্কা মসজিদ ও শাহি মসজিদ।

গত শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) হায়দ্রাবাদের চার মিনার সংলগ্ন মক্কা মসজিদ ও পাব্লিক গার্ডেনে অবস্থিত শাহি মসজিদ মুসল্লিদের জন্য খোলা হয়।

স্টেট ওয়াক্ফ বোর্ডের বৈঠকের পর তা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ফলে শহরের বড় ও ঐতিহাসিক মসজিদ দুটিতেই মুসল্লিরা নামাজ আদায়ের সুযোগ পায়।

সরকারের স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী মসজিদে প্রবেশের সময় সবার হাত ধৌত করা অত্যাবশ্যক। মসজিদের ভেতর মাত্র ৫০ জন মুসল্লি নামাজ আদায়ের অনুমতি পাবে। ২১ সেপ্টেম্বরের পর ১০০ জন মুসল্লি মসজিদের ভেতর নামাজের অনুমতি পাবে।

এ ছাড়া ১০ বছরের কম এবং ৬০ বছরের বেশি বয়সী কোনো ব্যক্তি নামাজে অংশ নিতে পারবে না।

সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া

Categories
দেশ

আনলক ৪-এ সেপ্টেম্বর থেকেই স্কুল খোলায় অনুমতি দিল কেন্দ্র

আনলক ৪-এ সেপ্টেম্বর থেকেই স্কুল খোলায় অনুমতি দিল কেন্দ্র

 

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: করোনা সংক্রমণ যখন দৈনিক ৯০ হাজারের গণ্ডী পেরিয়ে যাচ্ছে ঠিক তখনই স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত নিল মোদী সরকার। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে খুলছে স্কুল। নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ক্লাস হবে। কোনও রকম প্রার্থনা হবে না স্কুলে। মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক।

এছাড়া একাধিক বিধিনিষেধের মধ্যেই ক্লাস করতে হবে ছাত্রছাত্রীদের। সেই মার্চ মাস থেকে গোটা দেশে বন্ধ রয়েছে স্কুল কলেজ সহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

Categories
দেশ

অসমে বিজেপি সরকারের মাদ্রাসা বন্ধের সিদ্ধান্ত সংবিধান ও দেশের ঐতিহ্য বিরোধী: মতামত বুদ্ধিজীবীদের

অসমে বিজেপি সরকারের মাদ্রাসা বন্ধের সিদ্ধান্ত সংবিধান ও দেশের ঐতিহ্য বিরোধী: মতামত বুদ্ধিজীবীদের

 

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: অসমে নভেম্বর মাস থেকে উঠে যাবে সরকারি মাদ্রাসা বিধানসভায় ঘোষণা দিয়েছেন সে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি বলেন শিক্ষা হবে ধর্মনিরপেক্ষ! সরকারি খরচে কোন অবস্থাতেই আরবি ভাষার শিক্ষাদান করা হবে না।

অসম সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন মুসলিম নেতৃত্ব বলছেন, সংবিধানের ৩০ এ ধারা অনুযায়ী সংখ্যালঘুরা নিজেদের পছন্দমত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়তে পারবে এবং সরকার তাতে সহযোগিতা করবে।

জামায়াতে ইসলামী হিন্দের পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সভাপতি মাওলানা আব্দুর রফিক বলেন, অসম সরকার মাদ্রাসার বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা অসমের ঐতিহ্য বিরোধী। অসমে প্রায় ১১ হাজার মাদ্রাসা আছে তার মধ্যে প্রায় হাজারখানেক সরকারি মাদ্রাসা আছে। মাদ্রাসা ব্রিটিশ জামানা থেকে আছে। মাদ্রাসা অর্থ বিদ্যালয়। সংখ্যালঘু মুসলিমরা যাতে কৃষ্টি সংস্কৃতি বজায় রেখে শিক্ষার্জন করতে পারে তার জন্য মাদ্রাসা। মাদ্রাসা বন্ধ করে দিলে হাজার হাজার যে জমি মুসলিমরা দান করেছে তার কী হবে? তাছাড়া মাদ্রাসায় শুধু মুসলিমরা পড়াশোনা করে না, অমুসলিমরাও পড়াশোনা করে। সংখ্যালঘু প্রান্তিক মানুষদের শিক্ষার সুযোগ করে দিতে অসম সরকারকে মাদ্রাসার পরিকাঠামোর উন্নতি করতে হবে।

সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের রাজ্য সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন,’সাংবিধানিক অধিকার মোতাবেক দেশের বিভিন্ন রাজ্যে সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা মাদ্রাসা চলছে। অসম সরকার যে পদ্ধতিতে মাদ্রাসা তুলে দিতে চাইছেন, সেটা সাংবিধানিক বিধির পরিপন্থী। ধর্মনিরপেক্ষ দেশে কোনো সরকার এভাবে সংবিধানকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে পারেনা।

জমিয়তে আহলে হাদিসের রাজ্য সম্পাদক আলমগীর সরদারের মন্তব্য,’অসম সরকারের মাদ্রাসা শিক্ষা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও সংবিধান বিরোধী। নানা ভাষা নানা মতের ভারতবর্ষকে আজ গৈরিকীকরণের অপচেষ্টায় মেতে উঠেছে বর্তমান সরকার। যার ফলে দেশ আজ বহুমুখী সমস্যার সম্মুখীন। দেশে হাজারো সমস্যা থাকা সত্ত্বেও বেছে নেওয়া হয়েছে বিশেষ এক সম্প্রদায়কে, বিভিন্ন ঘটনায় তাদেরকে বলির পাঠা করা হচ্ছে, তারই একটি অংশ হিসেবে আসামে মাদ্রাসা শিক্ষাকে বন্ধ করা। বর্তমান মাদ্রাসাগুলিতে আধুনিক শিক্ষার সাথে সাথে নামমাত্র ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া হয়। বর্তমান সরকার সেটাও চাইছে না। আমরা সরকারের কাছে মাদ্রাসা শিক্ষা যাতে বন্ধ না হয় তার অনুরোধ জানাই।

যাদবপুর ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আব্দুল মতিন বলেন,’ভারতের সংবিধানে মাদ্রাসা ও সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠান স্থাপন করার কথা বলা আছে। তাই অসম সরকারের এই প্রস্তাব সংবিধান ও দেশের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ বিরোধী।

Categories
দেশ

সিঁড়িতেই বসে আদালতের কাজ করে বৃদ্ধার পেনশন চালু: নেটপাড়ার আলোচনায় আইএএস আব্দুল আজীম

সিঁড়িতেই বসে আদালতের কাজ করে বৃদ্ধার পেনশন চালু: নেটপাড়ার আলোচনায় আইএএস আব্দুল আজীম

 

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: ডিস্ট্রিক্টট ম্যাজিস্ট্রেট ( D.M ) সাহেব নিজের দপ্তরে পৌঁছানোর জন্য সবেমাত্র গাড়ি থেকে নেমে সিঁড়িতে পা দিয়েছেন, দেখলেন সেই সিঁড়িতে একজন বৃদ্ধা হাতজোড় করে বসে আছেন। সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠার মতো ক্ষমতা নেই তাঁর। D.M. সাহেব থমকে দাঁড়িয়ে যান। সমাদরে কিছু জিগ্যেস করেন। বৃদ্ধার কাছে কোনোও আপডেট ছিল না।

D.M. সাহেব বৃদ্ধার পাশে সেই সিঁড়িতেই বসে পড়লেন। D.M. সাহেব বসে গেছেন অর্থাৎ আদালত সেখানেই বসে গেছে। আদালত সেজে উঠলো, আদালতের কাজকর্ম শুরু করে দেওয়া হলো।

অভিযোগকারী বৃদ্ধার পেনশন দুই বছর ধরে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। ম্যাজিসেট্রট সাহেব কাগজ চাইলেন। বৃদ্ধা এক একটি করে সমস্ত কাগজ দিলেন। আর সঙ্গে দিলেন দপ্তরের অফিসার বাবুদের কাছে করা আবেদনের নথিপত্র।

ম্যাজিসেট্রট সাহেব দেখলেন বৃদ্ধার সমস্ত কাগজপত্র ঠিকঠাক আছে। বৃদ্ধাকে আশ্বস্ত করে বললেন তিনি যেন এখানেই থাকেন, তার পেনশন আজ থেকেই শুরু করা হবে।

ম্যাজিসেট্রট সাহেব সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের শীঘ্রই উপস্থিত হওয়ার আদেশ প্রদান করলেন।

সেই সিঁড়িতে বসা আদালতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকেরা উপস্থিত হলেন। আর বৃদ্ধার পেনশন তৎকাল প্রক্রিয়ায় শুরু করা হলো।

এর সঙ্গে সঙ্গে আদালতের কাজ শেষ কারা হলো। ডিএম সাহেবের নাম – আব্দুল আজীম, IAS। রাজ্য – তেলেঙ্গানা। জেলা – ভুপলপল্লী ।স্থান – জেলাশাসকের কার্যালয়।

Categories
দেশ

টুইট করে সময় কাটানো অভিনেত্রীর জন্য ওয়াই প্লাস নিরাপত্তা দেওয়া সরকারী অর্থের অপচয়: কেন্দ্র সরকারকে আক্রমণ মহুয়ার

টুইট করে সময় কাটানো অভিনেত্রীর জন্য ওয়াই প্লাস নিরাপত্তা দেওয়া সরকারী অর্থের অপচয়: কেন্দ্র সরকারকে আক্রমণ মহুয়ার

 

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউতকে ওয়াই প্লাস নিরাপত্তা দেওয়ার বিরোধিতায় এ বার সরব হলেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। ‘টুইট করে সময় কাটানো’ বলিউড তারকাদের ওয়াই প্লাস নিরাপত্তা দিয়ে খামোকা অর্থের অপচয় করা হচ্ছে কেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উদ্দেশে এই প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন তিনি।

কঙ্গনাকে নিরাপত্তা দেওয়া নিয়ে সোমবার দিনভর তর্ক বিতর্কের সাক্ষী থেকে থেকেছে টুইটার। রাতে তা নিয়ে সরব হন মহুয়া মৈত্রও। তিনি লেখেন, ‘‘ভারতে প্রতি এক লক্ষ জনসংখ্যায় ১৩৮ জন পুলিশ রয়েছেন। সাধারণ মানুষকে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্বের ৭১টি দেশের মধ্যে নীচের দিক থেকে ভারত পঞ্চম স্থানে রয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চাই, এর চেয়ে ভাল কোনও কাজে কি সরকারি অর্থ ব্যবহার করা যেত না?’’

সুশান্ত সিংহ রাজপুতের মৃত্যুকে হাতিয়ার করে গত দু’মাস ধরে বলিউডের প্রথম সারির অভিনেতা, পরিচালক এবং প্রযোজকদের লাগাতার আক্রমণ করে আসছেন কঙ্গনা। তদন্তে মুম্বই পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে আসছেন তিনি। তার মধ্যেই সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের শিবসেনা-এনসিপি এবং কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগতে শুরু করেন তিনি। মহারাষ্ট্রের বর্তমান সরকারের আমলে মুম্বই পাক অধিকৃত কাশ্মীরে পরিণত হয়েছে, সেখানে থাকতে ভয় পাচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন কঙ্গনা।

তা নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই শিবসেনা ও এনসিপি নেতৃত্বের সঙ্গে বাগযুদ্ধ চলছে কঙ্গনার। কঙ্গনার মুম্বইয়ে থাকা উচিত নয় বলে পাল্টা মন্তব্য করেছেন এনসিপি নেতা অনিল দেশমুখ। কঙ্গনাকে অকৃতজ্ঞ বলে কটাক্ষ করেছেন শিবসেনার সঞ্জয় রাউতও।

সেই পরিস্থিতিতে হিমাচল প্রদেশের বাড়ি থেকে মুম্বইয়ে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন বলে সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন কঙ্গনা। তার পরই তাঁকে ওয়াই প্লাস নিরাপত্তা দেওয়ার কথা ঘোষণা করে কেন্দ্র, যার আওতায় সর্বক্ষণ কঙ্গনার নিরাপত্তায় থাকবেন সিআরপি জওয়ানরা। এক জন ব্যক্তিগত নিরাপত্তা অফিসার-সহ ১১ জন সশস্ত্র পুলিশ ও কম্যান্ডো তাঁকে ঘিরে থাকবেন।

এই প্রথম বলিউডের কোনও তারকা ওয়াই প্লাস নিরাপত্তা পেলেন। এই মুহূর্তে দেশের প্রধান বিচারপতি এসএ বোবডে এবং কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী ওয়াই প্লাস নিরাপত্তা পান। তাঁদের সঙ্গে এ বার এক সারিতে উঠে এলেন কঙ্গনা। কিন্তু বিজেপি-ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত কঙ্গনাকে আলাদা করে নিরাপত্তা দেওয়া নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে কেন্দ্র।

Categories
বিশ্ব

রোহিঙ্গা মুসলিমদের দেখামাত্র গুলির নির্দেশ ছিল : আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমার সৈনিকের স্বীকারোক্তি

রোহিঙ্গা মুসলিমদের দেখামাত্র গুলির নির্দেশ ছিল : আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমার সৈনিকের স্বীকারোক্তি

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: ২০১৭ সালে রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর ক্লিয়ারেন্স অপারেশনের সময়ে সৈনিকদের প্রতি নির্দেশ ছিল, ‘যাকে দেখবে তাকে গুলি করবে’।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর গণহত্যা ও নির্যাতন চালানোর বিষয়ে স্বীকারোক্তি দেওয়ার সময় মিয়ানমারের দুজন সৈনিক একথা বলেছে।আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ফরটিফাই রাইটস মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে স্বীকারোক্তি দেওয়া দুই সৈনিক হলো মিও উইন তুন (৩৩) এবং জ নায়েং তুন (৩০)।
আদালতে তারা ২০১৭ সালে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর ক্লিয়ারেন্স অপারেশনের সময়ে নারী, শিশুসহ নিরীহ মানুষদের হত্যা, গণকবরে মাটি চাপা দেওয়া, ধর্ষণসহ অন্যান্য অপরাধের কথা স্বীকার করে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই স্বীকারোক্তির ফলে ধারণা করা হচ্ছে, ওই দুই সৈনিক কোর্টের কাছে নিজেদের দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে ভবিষ্যতে মামলায় কাজ করবে। আইসিসির বিভিন্ন ধরনের সাক্ষী সুরক্ষার (উইটনেস প্রটেকশন) নিয়ম আছে এবং তার অধীনে এ ধরনের সাক্ষীদের সব ধরনের সুরক্ষা দেওয়া হয়।

ওই সৈনিকরা ১৯ জন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেছে যারা সরাসরি এ ধরনের নৃশংসতা করেছে। এছাড়া ছয় জন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা এসবের নির্দেশ দিয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। উল্লেখ্য, আইসিসি’তে রোহিঙ্গা মুসলিম গণহত্যা বিষয়ক অপরাধের তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে।

Categories
দেশ

দেশে স্বাক্ষরতার হারে শীর্ষস্থানে কেরল: সর্বনিম্নে অন্ধ্রপ্রদেশ

দেশে স্বাক্ষরতার হারে শীর্ষস্থানে কেরল: সর্বনিম্নে অন্ধ্রপ্রদেশ

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: ৯৬.২ শতাংশ স্বাক্ষরতার হার নিয়ে ভারতবর্ষের সবচেয়ে স্বাক্ষর রাষ্ট্রের তালিকার শীর্ষস্থানটি ধরে রাখল কেরল। ৬৬.৪ শতাংশ স্বাক্ষরতার হার নিয়ে তালিকার সবচেয়ে তলায় রয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশ । রাজ্যভিত্তিক স্বাক্ষরতা সংক্রান্ত এই রিপোর্টটি সমীক্ষার পর তৈরি করেছে জাতীয় পরিসংখ্যান দফতর বা এনএসও।

২০১৭ সালের জুলাই থেকে জুনের ২০১৮ পর্যন্ত সমীক্ষা চালানো হয়েছে দেশজুড়ে। এই সমীক্ষা চালানো হয়েছে দেশের সব রাজ্যের সাত বছর ও তার বেশি বয়সের পড়ুয়াদের ওপর। রিপোর্ট থেকে জানা গেছে যে কেরলের পর রাজধানী দিল্লির স্বাক্ষরতার হার (৮৮.৭ শতাংশ) সবচেয়ে ভালো। এরপরই রয়েছে উত্তরাখন্ড (৮৭.৬ শতাংশ), হিমাচল প্রদেশ (৮৬.৬ শতাংশ) এবং অসম (৮৫.৯ শতাংশ।) স্বাক্ষরতার হারের তালিকার তলার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রাজস্থান (৬৯.৭ শতাংশ)।

রাজস্থানের ওপরে রয়েছে বিহার (৭০.৯ শতাংশ) তার ওপরে তেলেঙ্গানা (৭২.৮ শতাংশ)– উত্তর প্রদেশ (৭৩ শতাংশ)– মধ্যপ্রদেশ (৭৩.৭ শতাংশ)। তবে পশ্চিমবঙ্গ রয়েছে মাঝামাঝির কিছু নিচে। বাংলায় স্বাক্ষরতার হার (৭৬.২৬ শতাংশ)। হিসাব করে দেখা গেছে দেশের সব রাজ্যে গড়ে স্বাক্ষরতার হার ৭৭.৭ শতাংশ। শহরে স্বাক্ষরতার হার (৮৭.৭ শতাংশ) অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে স্বাক্ষরতার হার শহরের তুলনায় একটু কম (৭৩.৫ শতাংশ)।

রাষ্ট্রীয়স্তরে মহিলার (৭০.৩) থেকে পুরুষদেরই (৮৪.৭) স্বাক্ষরতার হার তুলনামূলক বেশি। কেরলে পুরুষদের স্বাক্ষরতার হার ৯৭.৪ শতাংশ, যেখানে মহিলাদের স্বাক্ষরতার হার ৯৫.২ শতাংশ। দিল্লিতেও পুরুষরা শিক্ষার দিক থেকে এগিয়ে মহিলাদের থেকে। শিক্ষার দিক থেকে যে রাজ্যগুলোর অবস্থা খারাপ সেখানেও মহিলাদের থেকে এগিয়ে পুরুষরা। অন্ধ্রপ্রদেশে পুরুষদের স্বাক্ষরতার হার ৭৩.৪ শতাংশ যেখানে মহিলা স্বাক্ষরতার হার ৫৯.৫ শতাংশ।

রাজস্থান ও বিহারের মতো রাজ্যেও মহিলাদের থেকে স্বাক্ষরতার ভিত্তিতে এগিয়ে রয়েছে পুরুষরা। এই সমীক্ষাটি চালানো হয়েছে দুটি পর্যায়ে। প্রথম ভাগে দেশের বিভিন্ন রাজ্যের গ্রামগুলির অন্তত ৬৪ হাজার ৫১৯টি ঘরে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছেন সরকারি আধিকারিকরা। আর শহরাঞ্চলের ৬,১৮৮টি ব্লকের ৪৯ হাজার ২৩৮টি বাড়ির শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য নিয়ে জাতীয় পরিসংখ্যান দফতর রিপোর্ট প্রকাশ করেছে।

Categories
বিশ্ব

মহানবী (সাঃ) কে অবমাননা করে ক্ষমার অযোগ্য পাপ করেছে ফরাসি ম্যাগাজিন : আয়াতুল্লাহ খামেনি

মহানবী (সাঃ) কে অবমাননা করে ক্ষমার অযোগ্য পাপ করেছে ফরাসি ম্যাগাজিন : আয়াতুল্লাহ খামেনি

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট:মানবতার মুক্তির দূত হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবমাননার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি।

তিনি আজ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অবমাননা করে ক্ষমার অযোগ্য মহাপাপ করেছে ফরাসি পত্রিকা। তাদের এই পদক্ষেপের মধ্যদিয়ে ইসলাম ধর্ম ও মুসলিম জাতির সঙ্গে পাশ্চাত্যের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর হিংসা-বিদ্বেষের বিষয়টি আবারও স্পষ্ট হয়েছে।

আয়াতুল্লাহ খামেনি আরও বলেন, বাক স্বাধীনতার অজুহাত দেখিয়ে ফ্রান্সের কোনো কোনো রাজনীতিবিদ এই মহা অপরাধের নিন্দা পর্যন্ত জানাননি। তাদের এই অজুহাত অগ্রহণযোগ্য ও ভুল। এর মাধ্যমে তারা মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।

তিনি বলেন, ইহুদিবাদী গোষ্ঠী ও সাম্রাজ্যবাদী সরকারগুলোর ইসলাম বিরোধী কঠোর নীতির কারণে মাঝে মধ্যেই এ ধরণের বিদ্বেষী ঘটনা ঘটছে। পশ্চিম এশিয়াকে নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদীদের অশুভ পরিকল্পনা থেকে এই অঞ্চলের বিভিন্ন জাতি ও সরকারগুলোর দৃষ্টিকে ভিন্ন দিকে সরিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেও এই সময়টাকে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অবমাননার জন্য বেছে নেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি জানান।

সম্প্রতি মানবতার মুক্তির দূত হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিয়ে আবারও ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন প্রকাশ করেছে বিতর্কিত ফরাসি ম্যাগাজিন শার্লি এবদো। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিয়ে ২০১৫ সালের কার্টুনগুলোই আবার প্রকাশ করেছে তারা।

Categories
ইতিহাস ও ঐতিহ্য

ইতিহাসের আলোকে ‘গনতন্ত্রের মানসপুত্র’ হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী: জন্মদিনে শ্রদ্ধা নিবেদন

ইতিহাসের আলোকে ‘গনতন্ত্রের মানসপুত্র’ হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী: জন্মদিনে শ্রদ্ধা নিবেদন

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী (জন্ম: সেপ্টেম্বর ৮, ১৮৯২ – মৃত্যু: ডিসেম্বর ৫, ১৯৬৩) বিখ্যাত বাঙ্গালী রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী ছিলেন। যুক্তফ্রন্ট গঠনের মূলনেতাদের মধ্যে অন্যতম। গণতান্ত্রিক রীতি ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন, তাই সুধী সমাজ কর্তৃক ‘গণতন্ত্রের মানসপুত্র’ বলে আখ্যায়িত হন।

পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুরের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে তার জন্ম। তিনি ছিলেন বিচারপতি স্যার জাহিদ সোহরাওয়ার্দির কনিষ্ঠ সন্তান। জাহিদ সোহরাওয়ার্দি কলকাতা হাইকোর্টের একজন খ্যাতনামা বিচারক ছিলেন। মা ছিলেন নামকরা উর্দু সাহিত্যিক খুজাস্তা আখতার বানু। আখতার বানুর ভ্রাতা স্যার হাসান সোহরাওয়ার্দী ছিলেন তার মাতুল। তার পরিবারের সদস্যবর্গ তৎকালীন ভারতবর্ষের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের প্রথা অনুসারে উর্দু ভাষা ব্যবহার করতেন। কিন্তু সোহরাওয়ার্দি নিজ উদ্যোগে বাংলা ভাষা শিখেন এবং বাংলার চর্চা করেন। কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষাজীবন শুরু করার পর যোগ দেন সেইন্ট জ্যাভিয়ার্স কলেজে। সেখান থেকে বিজ্ঞান বিষয়ে তিনি স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন। এরপর তিনি তার মায়ের অনুরোধে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হতে আরবি ভাষা এবং সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। ১৯১৩ সালে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি বিজ্ঞান বিষয়ে সম্মানসহ স্নাতক অর্জন করেন। এছাড়া এখানে তিনি আইন বিষয়েও পড়াশোনা করেন এবং বিসিএল ডিগ্রী অর্জন করেন। ১৯১৮ সালে গ্রে’স ইন হতে বার এট ল ডিগ্রী অর্জন করেন। এরপর ১৯২১ সালে কলকাতায় ফিরে এসে আইন পেশায় নিয়োজিত হন।

১৯২০ সালে তিনি বেগম নেয়াজ ফাতেমাকে বিয়ে করেন। বেগম নেয়াজ ফাতেমা ছিলেন তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্যার আবদুর রহিমের কন্যা।

প্রথমে তিনি যোগ দেন চিত্তরঞ্জন দাসের স্বরাজ পার্টিতে। এটি তখন মূলত ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস দলের অভ্যন্তরে একটি গ্রুপ ছিল। ১৯২৩ এর বেঙ্গল প্যাক্ট স্বাক্ষরে তার যথেষ্ট ভূমিকা ছিল। ১৯২৪ সালে তিনি কলকাতা পৌরসভার ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হন। মেয়র ছিলেন চিত্তরঞ্জন দাস। ১৯২৭ সালে সোহরাওয়ার্দী পদত্যাগ করেন। ১৯২৮ সালে সর্বভারতীয় খিলাফত সম্মেলন এবং সর্বভারতীয় মুসলিম সম্মেলন অনুষ্ঠানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। মুসলমানদের মধ্যে তার ব্যাপক রাজনৈতিক প্রভাব থাকলেও ১৯৩৬ সাল পর্যন্ত মুসলিম লীগের সাথে তিনি জড়িত হননি। ১৯৩৬ সালের শুরুর দিকে তিনি ইন্ডিপেন্ডেন্ট মুসলিম পার্টি নামক দল গঠন করেন। ১৯৩৬ এর শেষের দিকে এই দলটি বাংলা প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সাথে একীভূত হয়। এই সুবাদে তিনি বেঙ্গল প্রভিন্সিয়াল মুসলিম লীগ তথা বিপিএমএল এর সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন। ১৯৪৩ সালের শেষ দিক পর্যন্ত এই পদে ছিলেন। ১৯৪৩ সালে শ্যমা-হক মন্ত্রীসভার পদত্যাগের পরে গঠিত খাজা নাজিমুদ্দিনের মন্ত্রীসভায় তিনি একজন প্রভাবশালী সদস্য ছিলেন। খাজা নাজিমুদ্দিনের মন্ত্রীসভায় তিনি শ্রমমন্ত্রী, পৌর সরবরাহ মন্ত্রী ইত্যাদি দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪৬ এর নির্বাচনে বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের বিপুল বিজয়ে তিনি এবং আবুল হাশিম মূল কৃতিত্বের দাবিদার ছিলেন।১৯৪৬ সালে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পাকিস্তান আন্দোলনে তিনি ব্যাপক সমর্থন প্রদান করেন।পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ১৯৪৬ সালে তিনি পাকিস্তান আন্দোলনের প্রতি তার সমর্থন এবং সহযোগিতা প্রদান করেন। স্বাধীন ভারতবর্ষের ব্যাপারে কেবিনেট মিশন প্ল্যানের বিরুদ্ধে জিন্নাহ ১৯৪৬ সালের আগস্ট ১৬ তারিখে প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবসের ডাক দেন। বাংলায় সোহরাওয়ার্দির প্ররোচনায় এই দিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। মুসলমানদের জন্য আলাদা বাসভূমি পাকিস্তানের দাবিতে এই দিন মুসলমানরা বিক্ষোভ করলে কলকাতায় ব্যাপক হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা বেঁধে যায়। পূর্ব বাংলার নোয়াখালীতে এইদিন বিপুল ধ্বংসযজ্ঞ চলে। সোওহরাওয়ার্দী এসময় তার নীরব ভূমিকার জন্য হিন্দুদের নিকট ব্যাপক সমালোচিত হন। তার উদ্যোগে ১৯৪৬ সালে দিল্লী সম্মেলনে মুসলিম লীগের আইনপ্রণেতাদের নিকট লাহোর প্রস্তাবের একটি বিতর্কিত সংশোধনী পেশ করা হয়। এই সংশোধনীতে অখণ্ড স্বাধীন বাংলার প্রস্তাবনা ছিল। কিন্তু কলকাতায় হিন্দু মুসলমান দাঙ্গায় তার বিতর্কিত ভূমিকার কারণে হিন্দুদের নিকট তার গ্রহণযোগ্যতা কমে যায়। ফলে শরৎচন্দ্র বসু ছাড়া কংগ্রেসের আর কোন নেতা তার অখণ্ড বাংলার ধারণার সাথে একমত ছিলেন না।১৯৪৭ সালে তিনি বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে যান। তবে পদত্যাগের পর তিনি সাথে সাথে পাকিস্তান না গিয়ে কলকাতায় থেকে যান। এসময় কলকাতার মুসলমানদের সাথে হিন্দুদের পুনরায় বিরোধের সম্ভাবনায় তিনি মহাত্মা গান্ধীর সাহায্য চান। মহাত্মা গান্ধী এসময় তিনি যৌথ ভূমিকার শর্তে সোহরাওয়ার্দীর হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা প্রশমনের ডাকে সাড়া দেন। উল্লেখ্য যে সোহরাওয়ার্দি ৪৭ এর দেশভাগের সাথে সাথে পাকিস্তানে চলে যাননি।[৪] ১৯৪৯ সালে তৎকালীন ভারত সরকার তার উপর ক্রমবর্ধমান করের বোঝা চাপালে তিনি ভারত ত্যাগ করে পাকিস্তান চলে যেতে বাধ্য হন।

১৯৪৭ এর আগস্টে পাকিস্তানের স্বাধীনতার পরে মুসলিম লীগের রক্ষণশীল নেতারা খাজা নাজিমুদ্দিনের নেতৃত্বে শক্তিশালী হয়ে উঠেন। এর আগে ১৯৪৭ সালের ৫ই আগস্ট খাজা নাজিমুদ্দিন জিন্নাহর পরোক্ষ সমর্থনে মুসলিম লীগের সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হন। এরপর থেকে পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক মুসলিম লীগের প্রগতিশীল নেতারা কোণঠাসা হয়ে পড়েন। খাজা নাজিমুদ্দিন পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হবার পর বেশ কয়েকবার সোহরাওয়ার্দীকে “ভারতীয় এজেন্ট” এবং “পাকিস্তানের শত্রু” হিসেবে অভিহিত করেন। সোহরাওয়ার্দীকে পাকিস্তানের আইনসভার সদস্য পদ থেকে অপসারিত করা হয়। তার অনুসারী রা অনেকে ১৯৪৮ এর শুরুর দিকে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র লীগ এবং ১৯৪৯ এর জুনে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠনের সাথে জড়িত ছিলেন। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশেমের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের একাংশের সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার টিকাটুলীর কেএম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’ প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে ধর্মনিরপেক্ষতার চর্চা এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংগঠনটির নাম থেকে পরে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠালগ্নে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সভাপতি হন আবদুল হামিদ খান ভাসানী, সহ-সভাপতি হন আতাউর রহমান খান, শাখাওয়াত হোসেন ও আলী আহমদ। টাঙ্গাইলের শামসুল হক সাধারণ সম্পাদক এবং শেখ মুজিবুর রহমান, খন্দকার মোশতাক আহমদ ও এ কে রফিকুল হোসেনকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কোষাধ্যক্ষ হন ইয়ার মোহাম্মদ খান।

কারাগারে অন্তরীণ থাকা অবস্থাতেই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান মুজিব। অন্যদিকে, পুরো পাকিস্তানের ক্ষেত্রে সংগঠনটির নাম রাখা হয় নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগ। এর সভাপতি হন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। ২৪ বছরের পাকিস্তান শাসনামলে আওয়ামী লীগ আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বে দু’বছর প্রদেশে ক্ষমতাসীন ছিল এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে কেন্দ্রে ১৩ মাস কোয়ালিশন সরকারের অংশীদার ছিল। ১৯৫৩ সালে তিনি একে ফজলুল হক এবং মাওলানা ভাসানীর সাথে একত্রে যুক্তফ্রন্ট গঠন করেন। ১৯৫৪ সালে অনুষ্ঠিতব্য পূর্ববঙ্গ ব্যবস্থাপক সভার নির্বাচন উপলক্ষে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগকে পরাভূত করার জন্য আওয়ামী মুসলিম লীগের উদ্যোগে এই যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।

আওয়ামী মুসলিম লীগ ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর কৃষক শ্রমিক পার্টি, পাকিস্তান গণতন্ত্রী দল ও পাকিস্তান খেলাফত পার্টির সঙ্গে মিলে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে। এই যুক্তফ্রন্টের নেতা ছিলেন – ১) মওলানা ভাসানী, ২) একে ফজলুল হক ও ৩) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। এই যুক্তফ্রন্ট ২১ দফার একটি নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করে। ওই ইশতেহারের মধ্যে প্রধান দাবি ছিল – ১) লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ববঙ্গকে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রদান করা, বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করা, ২১শে ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ও সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা, ভাষা শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে শহীদ মিনার নির্মাণ করা ইত্যাদি।

১৯৫৪ সালের মার্চের আট থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তান পরিষদের নির্বাচনে ২৩৭টি মুসলিম আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন পায়। এরমধ্যে ১৪৩টি পেয়েছিল আওয়ামী মুসলিম লীগ।

১৯৫৪ সালের নির্বাচনে মওলানা ভাসানী, আবুল কাশেম ফজলুল হক ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কর্তৃক গঠিত যুক্তফ্রন্ট অভূতপূর্ব জয়লাভ করে। ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ সম্পূর্ণরূপে পরাভূত হয়। তারা শুধু ৯টি আসন লাভ করে। ১৯৫৫ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ ‘মুসলিম’ শব্দটি বর্জন করে অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। এরপর মোহাম্মদ আলী বগুড়ার মন্ত্রিসভায় সোহরাওয়ার্দি আইনমন্ত্রী নিযুক্ত হন। তিনি ডিসেম্বর ২০, ১৯৫৪ হতে আগস্ট, ১৯৫৫ পর্যন্ত এ পদে ছিলেন। আগস্ট ১১, ১৯৫৫ হতে সেপ্টেম্বর ১, ১৯৫৬ পর্যন্ত তিনি পাকিস্তান আইনসভায় বিরোধী দলীয় নেতা ছিলেন। ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান প্রণয়নে তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।

এছাড়া তিনি সেপ্টেম্বর ১২, ১৯৫৬ থেকে অক্টোবর ১১, ১৯৫৭ পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৫৬ সালে চৌধুরী মোহাম্মদ আলির পদত্যাগের পর তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হন। পররাষ্ট্র বিষয়ে পাকিস্তানের যুক্তরাষ্ট্রপন্থী মনোভাবের ব্যাপারে তাকে অগ্রদূত হিসেবে অভিহিত করা হয়। ১৯৫৬ সালে সংখ্যা-সাম্যের ভিত্তিতে একটি শাসনতন্ত্র গৃহীত হয়। উর্দুর সঙ্গে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকার করে নেয়া হয়। কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের ১৩ জন এমএনএ থাকা সত্ত্বেও রিপাকলিকান পার্টির সহযোগিতায় হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী প্রধানমন্ত্রী হন। প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যেকার অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণে তিনি পদক্ষেপ নেন। কিন্তু তার এই পদক্ষেপ ব্যাপক রাজনৈতিক বিরোধিতার জন্ম দেয়। পূর্ব পাকিস্তানের মতো পশ্চিম পাকিস্তানেও এক ইউনিট ধারণা প্রচলনের তার চেষ্টা পশ্চিম পাকিস্তানী রাজনীতিবিদদের কারণে নস্যাৎ হয়ে যায়। এরপর ১৯৫৮ সালে ইস্কান্দার মীর্জা পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারী করেন। আগস্ট,১৯৫৯ হতে ইলেক্টিভ বডি ডিসকোয়ালিফিকেশান অর্ডার অনুসারে তাকে পাকিস্তানের রাজনীতিতে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। পাকিস্তান নিরাপত্তা আইনে রাষ্ট্রবিরোধী কাজের অপরাধ দেখিয়ে তাকে জানুয়ারি ৩০, ১৯৬২ তে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং করাচি সেন্ট্রাল জেলে অন্তরীণ করা হয়। আগস্ট ১৯, ১৯৬২ সালে তিনি মুক্তি পান। অক্টোবর, ১৯৬২ তে তিনি আইয়ুববিরোধী আন্দোলনের উদ্দেশ্যে ন্যাশনাল ডেমোক্রাটিক ফ্রন্ট (এন ডি এফ ) গঠন করেন।

স্বাস্থ্যগত কারণে ১৯৬৩ সালে দেশের বাইরে যান এবং লেবাননের রাজধানী বৈরুতে অবস্থানকালে ডিসেম্বর, ১৯৬৩ তে তিনি মারা যান। তার মৃত্যু অনেকের কাছে রহস্যমণ্ডিত।

উইকিপিডিয়া