Categories
ইতিহাস ও ঐতিহ্য

১৯৬৫ এর ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে আজকের দিনে শহীদ হন মরোণোত্তর পরমবীর চক্র প্রাপ্ত হাবিলদার আব্দুল হামিদ

১৯৬৫ এর ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে আজকের দিনে শহীদ হন মরোণোত্তর পরমবীর চক্র প্রাপ্ত আব্দুল হামিদ

বঙ্গ রিপোর্ট ডিজিটাল ডেস্ক: কোম্পানী কোয়ার্টারমাস্টার হাবিলদার আব্দুল হামিদ, পিভিসি (১ জুলাই ১৯৩৩ – ১০ সেপ্টেম্বর ১৯৬৫), ছিলেন একজন ভারতীয় সেনা, যিনি ১৯৬৫ এর ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় তাঁর কর্মের জন্য মরণোত্তরভাবে ভারতের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান, পরমবীর চক্র পেয়েছিলেন।

হামিদ ১৯৫৪ সালের ডিসেম্বর মাসে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন এবং গ্রেনেডিয়ার্স রেজিমেন্টের ৪ র্থ ব্যাটালিয়নে নিযুক্ত হন। চীন-ভারত যুদ্ধের সময় তাঁর ব্যাটালিয়ন পিপলস লিবারেশন আর্মির বিরুদ্ধে নামকা চু যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল । ১৯৬৫- এর ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময়, ৪ র্থ গ্রেনেডিয়ার ব্যাটালিয়নকে খেম করণ – ভখিভিন্ড লাইনের চিমা গ্রামের আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ১৯৬৫ সালের ৯-১০ সেপ্টেম্বর আসাল উত্তর যুদ্ধে হামিদ ছয়টি পাকিস্তানি ট্যাঙ্ক ধ্বংস করেন এবং সপ্তম ট্যাঙ্ক এর সাথে লড়াইয়ে শহীদ হন।

হামিদ ১ লা জুলাই ১৯৩৩ সালে ইউনাইটেড প্রভিন্সেস ব্রিটিশ ভারতের গাজীপুর জেলার ধামপুর গ্রামে সাকিনা বেগম ও মোহাম্মদ উসমান (পেশায় একজন দর্জি) এবং ৪ ভাই ও গ্রামে ২ বোনের একটি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

১৯৫৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর গ্রেনেডিয়রস রেজিমেন্টে যোগ দিয়েছিলেন। পরে হামিদকে রেজিমেন্টের চতুর্থ ব্যাটালিয়নে (পূর্বে ১০৯ তম পদাতিক ) পোস্ট করা হয়, যেখানে তিনি তাঁর ক্যারিয়ারের বাকি সময়টুকু দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি আগ্রা, অমৃতসর, জম্মু ও কাশ্মীর, দিল্লি, নেফা এবং রামগড়ে ব্যাটালিয়নের সাথে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

১৯৬২- এর চীন-ভারত যুদ্ধের সময়, হামিদের ব্যাটালিয়নটি ব্রিগেডিয়ার জন ডালভির নেতৃত্বে পরিচালিত ৭ ম পদাতিক ব্রিগেডের অংশ ছিল এবং পিপলস লিবারেশন আর্মির বিরুদ্ধে নামকা চু যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল । চারদিকে ঘিরে, ব্যাটালিয়নটি পায়ে পায়ে পায়ে ভুটান এবং মিসামারিতে প্রবেশ করেছিল । দ্বিতীয় লেফটেন্যান্ট জিভিপি রাও যুদ্ধের সময়ে তাঁর কর্মের জন্য মরণোত্তরভাবে মহাবীর চক্র দ্বারা ভূষিত হয়েছিলেন; হামিদের সম্মাননা পুরস্কার প্রাপ্ত হওয়ার পূর্ব অবধি ভারতীয় স্বাধীনতার পর এটি ব্যাটালিয়ন দ্বারা প্রাপ্ত সর্বোচ্চ বীরত্বের পুরস্কার ছিল।

অপারেশন জিব্রাল্টারের ভূমিকা হিসাবে, পাকিস্তানের জম্মু ও কাশ্মীরকে অনুপ্রবেশ করার কৌশল এবং ভারতীয় শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু করার জন্য, পাকিস্তানি বাহিনী জম্মু ও কাশ্মীর সীমান্ত পেরিয়ে একাধিক আক্রমণ চালানোর চেষ্টা করেছিল। ১৯৬৫ সালের ৫ থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত, ভারতীয় সেনারা একটি ব্যাপক অনুপ্রবেশকে অনাবৃত করে। বন্দী নথি এবং বন্দিরা গেরিলা আক্রমণে কাশ্মীর দখল করার পাকিস্তানের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছিল; প্রায় ৩০,০০০ গেরিলা এই উদ্দেশ্যে পাকিস্তানীরা প্রশিক্ষণ দিয়েছিল। যে কারণে অজানা রয়ে গেছে, গেরিলা বাহিনী ছত্রভঙ্গ, ধ্বংস বা ধ্বংস হয়ে গেছে এবং এই পদক্ষেপ কখনও ঘটেনি গেরিলা ঘাঁটিগুলি নির্মূল করার প্রয়াসে ভারত হাজী ফির এবং ফির সাহেবা দখল করেছিল এবং পাকিস্তান একটি আক্রমণ চালিয়েছিল যা ছাম্ব এবং জুরিয়ানকে দখল করেছিল। অমৃতসরে ভারতীয় বিমানবাহিনীর ঘাঁটিগুলিতেও আক্রমণ করা হয়েছিল।

পাল্টা আক্রমণে ভারত আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে অভিযান শুরু করে। চতুর্থ পদাতিক বিভাগের বিরুদ্ধে ইচোগিল খালের পূর্ব দিকে পাকিস্তানি অঞ্চল দখল করা এবং কাসুর – খেম করান অক্ষের পাশ দিয়ে একটি সম্ভাব্য আক্রমণ দমন করার অভিযোগ আনা হয়েছিল। খাল পৌঁছানোর পরে বিভাগটি পাকিস্তানি হামলার অপেক্ষায় ছিল। ৪ র্থ গ্রেনেডিয়ারস খেম করান এর উপর চীমা গ্রামে আগে একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানের সঙ্গে ন্যস্ত ছিল ভীখিউইন্ড লাইন।

৪ র্থ গ্রেনেডিয়ার্স ৭-৮ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে এসে পৌঁছেছিল এবং ৩-ফুট (০.৯১ মি) খনন করেছিল ভোরের মধ্যে খাঁজ। সাড়ে সাতটায় তারা কি পাকিস্তানি ট্যাঙ্কগুলির প্রথম হাম্বল শুনেছিল, যা দেড় ঘন্টা পরে রাস্তাটি স্তম্ভিত করেছিল। হামিদ তার ব্যাটালিয়নটি বিচ্ছিন্নভাবে গাড়িতে চালিত রিকললেস রাইফেল (আরসিএলআর) নেতৃত্বে ছিলেন। ব্যাটালিয়ন ৩০ ফুট (৯.১ মি) একটি ট্যাংক অবধি আগুন ৩০ ফুট (৯.১ মি) হামিদকে তার আরসিএল বন্দুক দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল এবং নিচের দুটি ট্যাঙ্কে থাকা পাকিস্তানি সেনারা পালিয়ে যায়। সাড়ে এগারোটায় ভারতীয়রা আর্টিলারি গোলাগুলির অভিজ্ঞতা অর্জন করে , এর পরে আরেকটি আর্মার আক্রমণ । হামিদ আরেকটি ট্যাঙ্ক ছুঁড়ে মারলেন, এবং নিচের ট্যাঙ্কগুলিতে থাকা পাকিস্তানি সেনারা আবার পালিয়ে গেল। দিন শেষে, একটি ইঞ্জিনিয়ারিং সংস্থা গ্রেনেডিয়ার্সের অবস্থানের চারপাশে কর্মচারী এবং অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক খনি স্থাপন করেছিল।

তাদের ব্যাটালিয়নে পাকিস্তানি সাবের জেটগুলি সকাল ৯ ০০ টা আক্রমণ করে ৯ সেপ্টেম্বর , কোন হতাহতের সাথে। পাকিস্তানীরা সাড়ে ৯ টা ৩০ মিনিট, ১১ টা ৩০ মিনিটে সাঁজোয়া আক্রমণ করেছিল সকাল এবং ২:৩০ অপরাহ্ন। সন্ধ্যা নাগাদ হামিদ চারটি ট্যাঙ্ক ছুঁড়ে ফেলেছিল। ব্যাটালিয়ন মোট ১৩ টি ট্যাঙ্ক ধ্বংস করে এবং অনেককে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। ভারতীয়রা শেরম্যান ট্যাঙ্কগুলির একটি স্কোয়াড্রন প্রত্যাহার করে নিয়েছিল, যা পাকিস্তানি প্যাটন ট্যাঙ্কগুলির বিরুদ্ধে অকার্যকর ছিল। সেঞ্চুরিয়ন ট্যাঙ্কগুলি ট্যাঙ্ক যুদ্ধের পক্ষে আরও উপযুক্ত অবস্থানে স্থাপনের জন্য প্রত্যাহার করা হয়েছিল। ফলস্বরূপ, ৪ র্থ গ্রেনেডিয়ার কেবল আরসিএল বন্দুক এবং মাইন দিয়েই বাকি ছিল।

১০ সেপ্টেম্বর প্রায় ৮:০০ এ তিনটি ট্যাঙ্কের প্রথম তরঙ্গ, একটি শীর্ষে এবং অন্য দুটি ২০০-গজ (১৮০ মি) দূরত্ব, পৌঁছেছে। হামিদ তার আরসিএল বন্দুক দিয়ে অন্য একটি ট্যাঙ্ক ছুঁড়ে মারল। পাকিস্তানিরা ৯ টা ০০ মিনিটে আর্টিলারি সহায়তায় বর্ধিত আক্রমণে আবার আক্রমণ করে , আর হামিদ অন্য একটি ট্যাঙ্ক ধ্বংস করে দিয়েছি। যেহেতু তার উন্মুক্ত জিপটি গোলাগুলির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, তাই তিনি অন্য অবস্থানে চলে গিয়েছিলেন এবং তাঁর লোকদের কভারে রাখার নির্দেশ দেন। হামিদ এবং পাকিস্তানের একটি ট্যাঙ্ক শীঘ্রই একে অপরকে দেখতে পেল। একা এবং নিজের অবস্থান পরিবর্তন করতে না পেরে তিনি ট্যাঙ্কটি লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে হত্যা করা হয়। ব্যাটালিয়ন পাকিস্তানিদের দ্বারা আরও আক্রমণকে দমন করেছিল এবং যুদ্ধটি ছিল সিদ্ধান্তের এক ভারতীয় বিজয়।

আসল উত্তর যুদ্ধে তাঁর কর্মের জন্য হামিদকে ১৯৬৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর পরমবীর চক্রের পুরষ্কার দেওয়া হয়।

হামিদ ভারতের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মাননা পেয়েছিলেন, তবে অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয় সেনা জেনারেল ইয়ান কার্ডোজো লিখেছেন যে পুরষ্কারের প্রশংসাপত্র তাঁকে যে পরিমাণ ট্যাঙ্ক ধ্বংস করেছিল তার পুরো কৃতিত্ব দেয়নি। যদিও ব্যাটালিয়ন এবং রেজিমেন্টাল অ্যাকাউন্টে সাতটি ট্যাঙ্ক দাবি করা হয়েছে, তবে এটি স্পষ্ট নয় যে সপ্তম ট্যাংক হামিদ দ্বারা ধ্বংস করা হয়েছিল। পরের দিন ১০ সেপ্টেম্বরে হামিদ যে দুটি পাকিস্তানি ট্যাঙ্ক ধ্বংস করেছিলেন, তার উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছিল, তার আগের দিন অন্য চারটি ট্যাঙ্ক ধ্বংস করার পরে; তিনি সপ্তম লড়াইয়ের সময় নিহত হন। হামিদের মৃত্যুর সংবাদটি নয়াদিল্লির সেনা সদর দফতরে প্রেরণ করা হয়েছিল এবং পুরষ্কার মরণোত্তর হয়ে ওঠে, কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাকে সেপ্টেম্বর ৯ এ ধ্বংস হওয়া চারটি ট্যাঙ্কের সাথে কৃতিত্ব দিতে ব্যর্থ হয়।

হামিদের স্মরণে একটি ₹৩ স্ট্যাম্পটি ২৮ শে জানুয়ারী, ২০০০ সালে ইন্ডিয়া পোস্ট দ্বারা বীরত্বের জন্য পুরষ্কার প্রাপ্তদের সম্মানিত পাঁচটি স্ট্যাম্পের একটি অংশ হিসাবে জারি করা হয়েছিল। স্ট্যাম্পটিতে হামিদের আবক্ষ মূর্তি এবং একটি জীপ, রিকয়েলহীন রাইফেল সহ একটি চিত্র রয়েছে।

হামিদের স্ত্রী রসুলন বিবি ২০০৮ সালে লখনউতে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাটেলের সাথে তাঁর গ্রামে একটি সামরিক নিয়োগ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করার, দুল্লাপুরে হামিদের বাড়িটিকে একটি স্মৃতিসৌধে রূপান্তর করার, জাতীয় স্তরে তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী পালনের এবং তার নাতি-নাতনিদের সহায়তার অনুরোধের সাথে সাক্ষাত করেছিলেন। সরকারী কর্মসংস্থান প্রতি বছর, ৯ সেপ্টেম্বর আবদুল হামিদের স্মরণে আসল উত্তার গ্রামে বড় বড় ক্রীড়া ও সংস্কৃতি মেলার আয়োজন করা হয় হামিদের নিজের বাড়ি ধামুপুরে স্মৃতিসৌধটি যা ভেঙে পড়েছিল তা ২০১১ সালে পতাকা দ্বারা সংস্কার করা হয়েছিল। অনার ফাউন্ডেশনের তাঁর মৃত্যুর ৪৬ তম বার্ষিকীর জন্য সংস্কারের মধ্যে হামিদের একটি নতুন মূর্তি, গেটস এবং সীমানা মেরামত ও চিত্রকর্ম এবং বাগানের উন্নতি অন্তর্ভুক্ত ছিল। ফ্ল্যাগস অফ অনার প্রতিষ্ঠাতা ভারতের সংসদ সদস্য রাজীব চন্দ্রশেখর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, হামিদের মৃত্যুর ৫২ তম বার্ষিকীতে তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত গাজীপুর জেলায় একটি স্মৃতিসৌধ উদ্বোধন করেন।

পরমবীর চক্র গ্রহীতার জীবন নিয়ে ১৯৮৮ সালের টিভি সিরিজ পরমবীর চক্রের দশম পর্ব, ১০ সেপ্টেম্বর ১৯৬৫ সালে হামিদের ক্রিয়াকে টেলিভিশনে চিত্রায়িত করা হয়েছিল। হামিদ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন নাসিরউদ্দিন শাহ, এবং পর্বটি পরিচালনা করেছিলেন চেতন আনন্দ ।

আসল উত্তরের যুদ্ধ – দ্বিতীয় বৃহত্তম যুদ্ধের পর থেকে বৃহত্তম ট্যাঙ্কের যুদ্ধ (২০১৮) একটি টিভি ডকুমেন্টারি যা ডিসকভারি চ্যানেলে সিরিজ, মিশন ও যুদ্ধসমূহ দ্বারা বীরের কাছে প্রদর্শিত হয়েছিল।

যুদ্ধের ঘটনা ও তাঁর মৃত্যুর বিবরণ দিয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনী কর্তৃক সিকিউএমএইচ আবদুল হামিদের গল্প প্রকাশিত হয়েছে।

উইকিপিডিয়া

Categories
দেশ

সুস্থ থাকতে প্রতিদিন গোমুত্র পান করেন অক্ষয় কুমার, ট্রোলের শিকার নেট দুনিয়ায়

নিউজ ডেস্ক, বঙ্গ রিপোর্টঃ মোদিভক্ত’র তকমা অনেকদিন আগেই জুটেছে তাঁর কপালে। বিজেপিপন্থী হিসেবেও একাধিকবার অক্ষয় কুমারের নাম উঠে এসেছে। এবার গোমূত্র পান করার কথা বলে যেন আরও বিপাকে পড়লেন অক্ষয় কুমার (Akshay Kumar)। এক ইনস্টাগ্রাম চ্যাটে বিয়ার গ্রিলস আর হুমা কুরেশির সঙ্গে কথা প্রসঙ্গেই অক্ষয় বলে ফেলেছেন যে, তিনি রোজ গোমূত্র পান করতেন। আর সেই ভিডিও ভাইরাল হতেই নেটদুনিয়ায় নিস্তার নেই তাঁর! অগণিত নেটজনতা আবারও মোদি ভক্তির প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন।

বিয়ার গ্রিলসকে (Bear Grylls) জানিয়েছেন, আয়ুর্বেদের কারণেই গোমূত্র পান করতে তাঁর কখনও অসুবিধে হয়নি। একটা সময়ে রোজ খেতেন। আর এই কথাতেই হতবাক হয়ে গিয়েছেন নেটিজেনরা। মার্শাল আর্ট, শরীর চর্চা করার কথা বললেও এর আগে তো কখনও তিনি শরীর ঠিক রাখতে গোমূত্র পান করার কথা বলেননি? প্রশ্ন তুলেছেন নেটজনতার একাংশ।

উল্লেখ্য, ‘ইনটু দ্য ওয়ার্ল্ড উইথ বিয়ার গ্রিলস’-এ (Into The Wild With Bear Grylls) অক্ষয় কুমারকে দেখা যাবে গ্রিলসের সঙ্গে বন্য অভিযানে। দিন কয়েক যার ঝলক প্রকাশ্যে এসেছে। সেই শোয়েই অক্ষয়ের সঙ্গে হাতির মল দেওয়া চা খাওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছিল দিন কয়েক আগে। সেই সুবাদেই সংশ্লিষ্ট ইনস্টাগ্রাম চ্যাটে এবার গোমূত্র পান করার কথা স্বীকার করলেন অভিনেতা। আর অভিনেতার এমন কথা শুনে তো হতবাক হুমা কুরেশি (Huma Qureshi)।

মোদি সরকার তোষণ করে কিংবা মোদিকে তৈলমর্দন করে শীর্ষে ওঠার চেষ্টা করছেন অক্ষয়, এমন কটূক্তিও শুনতে হয়ছে তাঁকে। এবার গৌমূত্র পান করার কথা বলতেই ফের রে-রে করে উঠলেন নেটজনতার একাংশ

Categories
বিশ্ব

মহানবী (স.)-কে অবমাননার প্রতিবাদে ইরানজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রতিবাদ

মহানবী (স.)-কে অবমাননার প্রতিবাদে ইরানজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রতিবাদ

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হজরত মুহাম্মাদ (স.)-কে অবমাননার প্রতিবাদে আজ (বৃহস্পতিবার) ইরানজুড়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

ফার্স প্রদেশের শিরাজ শহরের প্রতিবাদ সমাবেশে বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নিয়েছেন।

প্রধান সমাবেশে ফার্স প্রদেশের গভর্নর ও শহরের প্রধান জুমার নামাজের ইমামসহ শীর্ষ কর্মকর্তারাও অংশ নেন। এ সময় তারা ফ্রান্স, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী ইসরাইলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

তাদের প্রায় সবার হাতে ছিল নানা ধরণের পোস্টার ও প্ল্যাকার্ড। কোনো কোনো পোস্টার ও প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘হে রাসূল (স.) আপনাকে ভালোবাসি, আপনার জন্য জীবন দিতেও প্রস্তুত আছি’। বিক্ষোভ সমাবেশে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক নারীও ছিলেন।

ইরানের অন্যান্য শহরেও একই ধরণের বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। গত কয়েক দিন ধরেই মহানবী (স.)-কে অবমাননার বিরুদ্ধে ইরানে ব্যাপক প্রতিবাদ হচ্ছে।

গতকাল রাজধানী তেহরানে ফ্রান্সের দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ করেছেন অসংখ্য মানুষ। তারা অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে ফ্রান্স সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। ফরাসি দূতাবাস ঘেরাও করে তারা ইসলামবিদ্বেষীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং বিশ্বনবী (স.)’র প্রতি নিজেদের ভালোবাসা প্রকাশ করেন।

এছাড়া গতকাল মাশহাদ ও কোমেও বিক্ষোভ হয়েছে। মাশহাদ শহরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে একদল মানুষ শহরে সমবেত হন এবং ফরাসি ম্যাগাজিন শার্লি এবদোতে মহানবী (স.)-কে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশের নিন্দা জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় তারা এ ধরণের পদক্ষেপ বন্ধে জোরালো পদক্ষেপের আহ্বান জানান এবং বিশ্বের সব মুসলমানকে সোচ্চার হতে বলেন।

একই ধরণের বিক্ষোভ সমাবেশ হয় ইরানের কোম নগরীতে। সেখানে ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাত্র-ছাত্রীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। এ সময় তাদের হাতে শোভা পাচ্ছিল বিভিন্ন পোস্টার ও প্ল্যাকার্ড। কোনো কোনো প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল- ‘ আমি মুহাম্মাদ (স.)-কে ভালোবাসি’।

ইরানের ইসলামি তাবলিগাত সংস্থার সমন্বয় বিষয়ক পরিষদের উপ-প্রধান নুসরাতুল্লাহ লুতফি বলেছেন, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ উজমা খামেনেয়ী ফরাসি ম্যাগাজিনের ন্যক্কারজনক পদক্ষেপের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দেওয়ার পর দেশের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ ও সংস্থা বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে।

মানুষ সরকারের নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্ক পরে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এই সমাবেশে যোগ দিচ্ছেন বলে তিনি জানান।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মঙ্গলবার বলেছেন, মহানবী (স.)-কে অবমাননা করে ক্ষমার অযোগ্য মহাপাপ করেছে ফরাসি ম্যাগাজিন।

সম্প্রতি সর্বশেষ নবী ও রাসূল হজরত মুহাম্মাদ (স.)-কে নিয়ে আবারও ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন প্রকাশ করেছে বিতর্কিত ফরাসি ম্যাগাজিন শার্লি এবদো। হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে নিয়ে ২০১৫ সালের কার্টুনগুলোই আবার প্রকাশ করেছে তারা।

সূত্র- পার্সটুডে

Categories
বিশ্ব

সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের নামে পৌনে ৪ কোটি মানুষকে ঘরহারা করেছে আমেরিকা

সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের নামে পৌনে ৪ কোটি মানুষকে ঘরহারা করেছে আমেরিকা

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট; বিশ্বব্যাপী তথাকথিত সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী যুদ্ধের নামে কমপক্ষে ৩ কোটি ৭০ লাখ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করেছে আমেরিকা। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকার উপর কথিত সন্ত্রাসী হামলার অজুহাতে মার্কিন সরকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী যুদ্ধের নামে সামরিক আগ্রাসন চালিয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) আমেরিকার ব্রাউন ইউনিভার্সিটি থেকে প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০১ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত আমেরিকা অন্তত আটটি যুদ্ধ শুরু করেছে অথবা অংশ নিয়েছে এবং তাতে অন্তত তিন কোটি ৭০ লাখ মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। আমেরিকার এই আটটি যুদ্ধই ছিল আটটি মুসলিম প্রধান দেশের বিরুদ্ধে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ বাদে ১৯০০ সালের পর থেকে যেকোনও যুদ্ধ বা বিপর্যয়ের কারণে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের চেয়ে এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যা।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, বেশিরভাগ মানুষ মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলি থেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। বাস্তুচ্যুত হওয়া শীর্ষ দেশগুলির মধ্যে রয়েছে আফগানিস্তান (৫.৩ মিলিয়ন), ইরাক (৯.২ মিলিয়ন), পাকিস্তান (৩.৭ মিলিয়ন), ইয়েমেন (৪.৪ মিলিয়ন), সোমালিয়া (৪.২ মিলিয়ন), ফিলিপাইন (১.৭ মিলিয়ন), লিবিয়া (১.২ মিলিয়ন) এবং সিরিয়া ( ৭.১ মিলিয়ন)।

এছাড়াও বুর্কিনা ফাসো, ক্যামেরুন, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, চাদ, গণতান্ত্রিক কঙ্গো, মালি, নাইজার, সৌদি আরব এবং তিউনিসিয়ার বাসিন্দাদের জোর করে বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে।

গবেষণা প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, মোটামুটি ধারণা থেকে এই সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে তবে প্রকৃত সংখ্যা চার কোটি ৮০ লাখ থেকে পাঁচ কোাটি ৯০ লাখ হতে পারে।

Categories
বিশ্ব

ইসরায়েল-আমিরাতের কূটনৈতিক সম্পর্ক ও চুক্তি হারাম: ফতোয়া বিশ্ব মুসলিম ওলামা সংঘের

ইসরায়েল-আমিরাতের কূটনৈতিক সম্পর্ক ও চুক্তি হারাম: ফতোয়া বিশ্ব মুসলিম ওলামা সংঘের

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: ইহুদিবাদী রাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের চুক্তি ও কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনকে হারাম ফতোয়া দিয়েছে কাতারভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব মুসলিম স্কলারস বা বিশ্ব মুসলিম ওলামা সংঘ।

মুসলমানদের প্রথম কেবলা মসজিদুল আকসা, আল কুদস (জেরুজালেম নগরী) ও ফিলিস্তিনের বিশাল অঞ্চল দখলকারী ইসরাইলের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের চুক্তি ও সম্পর্ক স্থাপনকে নিষিদ্ধ ও হারাম ফতোয়া দিয়েছে বিশ্ব মুসলিম ওলামা সংঘের ২০০ আলেম।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের নতুন এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিশ্বের মুসলিম স্কলারদের নিয়ে গঠিত সর্ববৃহৎ সংগঠন ‘ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব মুসলিম স্কলারস’ বা বিশ্ব মুসলিম ওলামা সংঘ।

গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) কাতারের রাজধানী দোহায় সংগঠনটির প্রধান কার্যালয়ে ইসরাইল-আমিরাত চুক্তি সম্পর্কিত পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ বৈঠকে বিশ্বের প্রভাবশালী ২০০ আলেম ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করেন। এ বৈঠক থেকে এ চুক্তিকে হারাম ঘোষণা দেয়া হয়।

বিশ্ব মুসলিম ওলামা সংঘের এ ফতোয়ায় বলা হয়, ‌ইসরাইলের সঙ্গে তথাকথিত এ শান্তিচুক্তি ও কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের বিষয়টি শরিয়তের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ এবং অকার্যকর বলে সাব্যস্ত হবে। তা ছাড়া এটি বড় অপরাধ, সর্বশক্তিমান আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সঙ্গে খেয়ানত এবং ফিলিস্তিনের ভূমি-জনগণ ও মুসলিম উম্মাহর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এটি শুধু রাজনৈতিক ইস্যু নয়, বরং এটি ঐতিহাসিক পবিত্র আল-আকসা মসজিদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ও জড়িত। ঐতিহাসিক জেরুজালেম নগরীতে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদ পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনার পরে মুসলমানদের জন্য তৃতীয় পবিত্রতম স্থান।

দখলদার ইয়াহুদি রাষ্ট্র ইসরাইল, ধীরে ধীরে ফিলিস্তিনিদের উপর আগ্রাসন ও দখল চালিয়ে আসছে। বেশিরভাগ ফিলিস্তিন ভুখণ্ড দখল করে রেখেছে বলেও এ বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

Categories
বিশ্ব

মুনাফার লোভে বিদ্বেষ ছড়াতে সাহায্য করছে ফেসবুক: অভিযোগ তুলে চাকরি ছাড়লেন ইঞ্জিনিয়ার

মুনাফার লোভে বিদ্বেষ ছড়াতে সাহায্য করছে ফেসবুক: অভিযোগ তুলে চাকরি ছাড়লেন ইঞ্জিনিয়ার

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: সংস্থার মুনাফা বাড়াতে গিয়ে বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে ফেসবুক । এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করে মার্ক জুকারবার্গের সংস্থা ছাড়লেন ইঞ্জিনিয়ার অশোক চান্দওয়ানে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত ওই ইঞ্জিনিয়ারের অভিযোগে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। যদিও অভিযোগ উড়িয়ে ফেসবুকের দাবি, “আমরা বিদ্বেষ ছড়িয়ে মুনাফা করি না। বিদ্বেষমূলক পোস্ট এড়াতে আমরা সমস্ত সতর্কমূলক পদক্ষেপ করছি”।

স্থানীয় সময় অনুযায়ী মঙ্গলবার সকালে ফেসবুকের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার অশোক চান্দওয়ানে ১৩০০ শব্দের পদত্যাগপত্র জমা করেন। তাতে সংস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। কোথায় কোথায় কীভাবে বিদ্বেষমূলক পোস্টকে ফেসবুক প্রশয় দিয়েছে, তাও স্পষ্ট করে পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন তিনি। এক্ষেত্রে আলাদাভাবে মায়ানমার ও কেনোশিয়ার অশান্তির কথা উল্লেখ করেছেন অশোক। বলেছেন, কেনশিয়ায় একদল উগ্রপন্থী বন্দুক নিয়ে বিক্ষোভ দেখানোর উসকানি দেয়।

সেই পোস্টগুলি সরায়নি ফেবসুক। এমনকী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘লুঠপাট শুরু হলেই, গুলি চালানো শুরু হবে’, এই মন্তব্যের কথাও পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেছেন অশোক। তিনি জানিয়েছেন, “আমি এমন সংস্থার হয়ে আর কাজ করতে পারব না, যাঁরা মার্কিব যুক্তরাষ্ট্র-সহ গোটা বিশ্বে বিদ্বেষ ছড়িয়ে মুনাফা করে।”

এরপরই তড়িঘড়িয়ে ফেসবুকের মুখপাত্র Liz Bourgeois জানান,”আমরা বিদ্বেষ ছড়িয়ে মুনাফা করি না। প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করি ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে। নির্দিষ্ট সময় অন্তর নিজেদের নীতির পর্যালোচনা করে থাকি।”

তাঁর আরও দাবি, ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রে কোনও বিদ্বেষমূলক পোস্ট নিয়ে অ্য ব্যবহারকারীরা রিপোর্ট করার আগেই আমরা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়ে ফেলি।” কিন্তু ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে যখন ফেসবুকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, সেই সময় সেই সংস্থারই এক কর্মীর এই অভিযোগ তুলে পদত্যাগ নিসন্দেহে চাঞ্চল্য ছড়াবে। পাশাপাশি ফেসবুকের উপরও চাপ বাড়াবে।

Categories
রাজ্য

ধর্মীয় বিভেদকারীদের মুখে চপেটাঘাত: কবরস্থান বানাতে জমি দান হিন্দু ব্রাহ্মণের

ধর্মীয় বিভেদকারীদের মুখে চপেটাঘাত মেরে কবরস্থান বানাতে জমি দান হিন্দু ব্রাহ্মণের

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’, ক্লিশে সেই শব্দটা অভিধান থেকে বেরিয়ে সজীব হয়ে গেল। দেশের নানা কোণে যখন ধর্ম-বর্গে অসহিষ্ণুতার নমুনা বারবার শিরোনাম তখনই মুসলিমদের কবরস্থানের জন্য জমি দান করলেন হিন্দু ব্রাহ্মণ পরিবারের সদস্য, পূর্ব বর্ধমানের পালিতের অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী কালীকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়। তাঁর এই কাজে গর্বিত গ্রামবাসীরা।

৮৮ বছর বয়সি প্রবীণ কালীকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি বর্ধমান এক ব্লকের তালিত গ্রামে। স্ত্রী গত হয়েছেন। চার ছেলের সংসারে থাকেন কালীকৃষ্ণবাবু। ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছেন গ্রামের মুসলিম পরিবারের কেউ মারা গেলে শেষকৃত্যের জন্য যেতে হয় পাশের গ্রামে। পরবর্তী সময়ে গ্রামেই যাতে সেই কাজ সম্পন্ন করা যায় তা নিশ্চিত করতে জমি দানের মনস্থির করেছিলেন কালীকৃষ্ণ বাবু। সেইমতো গ্রামের সংখ্যালঘু পরিবারের বাসিন্দাদের কবরস্থান তৈরি করতে জমি দান করেছেন তিনি।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রামের ডাঙ্গাপাড়া এলাকার বাসিন্দা কালীকৃষ্ণ বাবুর সাধ পুকুরের পাশে বেশ কিছুটা জমি রয়েছে। সেই জমি থেকেই কবরস্থান তৈরির জন্য জমি দান করেছেন তিনি। সংবাদমাধ্যমকে কালীকৃষ্ণ বাবু জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকেই সংখ্যালঘু বাসিন্দাদের সৎকারের কষ্ট দেখে আসছিলাম। বিশেষত বর্ষাকালে খুবই কষ্ট হয়।তাই মনে মনে কবরস্থান তৈরির জন্য জমি দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তা বাস্তবায়িত করতে পেরে ভাল লাগছে। ইতিমধ্যেই সেই জমি সরকারি নথিতে কবরস্থান বলে চিহ্নিত হয়েছে। কবরস্থান সংলগ্ন এলাকায় নমাজ পড়ার ব্যবস্থা হয়েছে। শুধু তাই নয়, নমাজ পড়ার জায়গা সুন্দর করে বাঁধানো হয়েছে।

গ্রামবাসীরা বলছেন, এর আগেও রাস্তা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় জমি দান করেছিলেন কালীকৃষ্ণ বাবু। গ্রামের সংখ্যালঘু বাসিন্দারা বলছেন, সৎকার করতে খুবই অসুবিধার মধ্যে পড়তে হতো। কালীকৃষ্ণবাবু যে উপকার করলেন তা চিরকাল মনে রাখবেন এই গ্রামের বাসিন্দারা। এই গ্রামে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে যে কোনো ভেদাভেদ নাই তা কালীকৃষ্ণবাবুর এই কাজেই স্পষ্ট। এই গ্রামে হিন্দু মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ মিলেমিশে থাকেন। এর মাধ্যমে হিন্দু মুসলিমের এই সম্প্রীতি আরও মজবুত হল।

Categories
বিশ্ব

রোহিঙ্গা গণহত্যার দায়ে মায়ানমারের সু চি-কে মানবাধিকার পুরস্কার অনুষ্ঠানে সাসপেন্ড করল ইউরোপীয় পার্লামেন্ট

রোহিঙ্গা গণহত্যার দায়ে মায়ানমারের সু চি-কে মানবাধিকার পুরস্কার অনুষ্ঠানে সাসপেন্ড করল ইউরোপীয় পার্লামেন্ট

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: ইউরোপীয় পার্লামেন্টে মানবাধিকার পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে আর আমন্ত্রণ জানানো হবে না মায়ানমারের নেত্রী আং সান সু চি-কে৷ রোহিঙ্গা গণহত্যার ঘটনায় সু কি-কে সাসপেন্ড করলেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সাংসদরা৷ বৃহস্পতিবার তাঁরা জানান, রোহিঙ্গা গণহত্যার প্রতিবাদে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷

১৯৯০ সালে এই ইউরোপীয় পার্লামেন্টই আং সান সু চি-কে মানবাধিকার পুরস্কারে ভূষিত করেছিল৷ মায়ানমারে সেনা শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় তাঁকে দীর্ঘ দিন রাজনৈতিক বন্দি রাখা হয়েছিল৷ সু কি বর্তমানে মায়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর৷

যেহেতু ১৯৯০ সালে তিনি শাখারভ পুরস্কার পেয়েছিলেন, তাই পুরস্কারজয়ী হিসেবে প্রতিবারই তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয় অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিতের সঙ্গে৷ ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা একটি বিবৃতিতে জানিয়েছেন, মায়ানমারে রোহিঙ্গাদের উপর চলা অপরাধ নীরবে মেনে নেওয়া ও পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থতার জন্যই এই সিদ্ধান্ত৷

২০১৫ সালে অর্ধ শতক ধরে চলা সেনা শাসনের সমাপ্তি হয় মায়ানমারে৷ বিপুল ভোটে জিতে ক্ষমতায় বসেন আং সান সু চি৷ ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত মায়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের গুলি করে হত্যা করা হয়৷ গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হয়৷

এরপর ২০১৭ সালের অগাস্টে ফের রাতারাতি রোহিঙ্গা গণহত্যা শুরু হয় মায়ানমারে৷ প্রাণের ভয়ে রোহিঙ্গারা পালাতে থাকে বাংলাদেশে৷ সেই ঘটনায় আং সান সু চি-র বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে গণহত্যার মামলা দায়ের করা হয়৷১৯৯১ সালে তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন৷ সেটিও নিয়ে নেওয়ারও দাবি ওঠে৷

Categories
রাজ্য

একুশের ভোটে বিজেপি ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে বামেদের সঙ্গে জোট বেঁধে লড়বে কংগ্রেস: ইঙ্গিত অধীর চৌধুরীর

একুশের ভোটে বিজেপি ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে বামেদের সঙ্গে জোট বেঁধে লড়বে কংগ্রেস: ইঙ্গিত অধীর চৌধুরীর

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: একা কংগ্রেস নয় একুশের ভোটে তৃণমূল-বিজেপি শক্তির বিরুদ্ধে বামেদের সঙ্গে জোট বেঁধে লড়তে চায় কংগ্রেস। গত বিধানসভা নির্বাচনের ফর্মুলাতেই সম্মতি গিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। একুশের ভোটের লড়াইয়ে বাম কংগ্রেস ঐক্য মজবুত করতে দায়িত্ব ভাগ করে দিয়েছেন তিনি। জোটে কথা এগোনোর জন্য আবদুল মান্নানকে দায়িত্ব দিয়েছেন তিনি।

একুশের বিধানসভা ভোটের আগে ফের একবার মাথাচাড়া দিেত শুরু করেছে বাম কংগ্রেস ঐক্য। গত বিধানসভা ভোটেও বাম কংগ্রেস হাত মিলিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছিল। সেই জোটের পথ সুগম করেছিলেন অধীর নিজেই। ফের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পদের দায়িত্ব পাওয়ার পর একুশের ভোটে পুরনো ফর্মুলাতে হাঁটারই ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

একসময়ের প্রবল প্রতিপক্ষ সেই কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিয়েই বামেরা মমতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছিলেন। কিন্তু সেই সমীকরণ উল্টো ফল করেছে ফোটারদের মধ্যে এমনই দাবি করে গত বিধানসভা ভোটের পর কংগ্রেসের সঙ্গে যৌথ আন্দোলন জারি রাখতে চায়নি বামেরা। সোমেন মিত্র প্রদেশ সভাপতি পদের দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই জোট নতুন করে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন। এই নিয়ে বিমান বসুদের সঙ্গে আলোচনাতেও বসেছিলেন তিনি। সোমন মিত্রের মৃত্যুর পর কী হবে জোেটর ভবিষ্যৎ এই নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। শেষে অধীরের মন্তব্যে নতুন করে বাম কংগ্রেস ঐক্যের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বামেদের সঙ্গে জোটের পথ সুগম করার জন্য আবদুল মান্নানকে দায়িত্ব দিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। আবদুল মান্নানের সঙ্গে সুজনদের সুসম্পর্ক রয়েছে। সেই সুসম্পর্ককে কাজে লাগিয়েই জোটের কথা বামেদের সঙ্গে এগোটে চাইছেন অধীর। এই কাজে আবদুল মান্নানকে সহযোগিতা করবেন প্রদীপ ভট্টাচার্য, নেপাল মাহাত, মনোজ চক্রবর্তী এবং ঋজু বসু।

প্রদেশ সভাপতি পদে দায়িত্ব নেওয়ার পরেই বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে অধীর চৌধুরী। একুশের বিধানসভা ভোট। এই ভোটে আবারও একবার প্রদেশ সভাপতি পদে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে তাঁকে। তাই দলবদলি নেতাদের ফের ফিরে আসার বার্তা দিয়েছেন অধীর। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য গত বিধানসভা ভোটের পর এবং লোকসভা ভোটের আগে একাধিক কংগ্রেস নেতা দল বদলেছেন। বিশেষ করে গনিখান পরিবারে বড় ভাঙন দেখা দিয়েছে। মৌসমের মত হাইভোল্টেজ কংগ্রেস নেত্রী দল বদলে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন।

Categories
দেশ

দীর্ঘ পাঁচ মাস পর দর্শকদের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে তাজমহল: টিকিট অনলাইনে, থাকছে কিছু বিধিনিষেধ

দীর্ঘ পাঁচ মাস পর দর্শকদের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে তাজমহল: টিকিট অনলাইনে, থাকছে কিছু বিধিনিষেধ

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: মহামারির কারণে পাঁচ মাসেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর অবশেষে খুলে দেয়া হচ্ছে দেশের অন্যতম পর্যটন স্থান তাজমহল। তবে টিকিট বুকিং দিতে হবে শুধু অনলাইনেই। আর প্রতিদিন সপ্তমাশ্চর্য তাজমহল দেখতে পাবেন ৫ হাজার দর্শণার্থী। তাজমহল রক্ষণাবেক্ষণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বুধবার এ তথ্য জানিয়েছেন।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক অনলাইন প্রতিবেদন অনুযায়ী ভারতের প্রত্মতাত্তিক বিভাগের আগ্রা অঞ্চলের মহাপরিদর্শক বসন্ত স্বর্ণকর জানিয়েছেন আগামী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে নির্দিষ্ট সংখ্যক দর্শণার্থীর জন্য তাজমহল খুলে দেয়া হবে। প্রসঙ্গত, ভারতে করোনার প্রাদুর্ভাব শুরুর পর গত ১৭ মার্চ থেকে তাজমহল বন্ধ।

এ দিন থেকে খুলে দেয়া হচ্ছে আগ্রা ফোর্টও। তবে নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে দর্শক সংখ্যা। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগ্রা ফোর্টে প্রতিদিন ২ হাজার ৫০০ জন যেতে পারবেন। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে দিল্লির সিকান্দ্রা, ফতেহপুর সিক্রি এবং এতমউদ্দৌল্লাসহ ছোট ছোট স্মৃতিসৌধ খুলে দেয়া হলেও তাজমহল আগ্রা ফোর্ট বন্ধ ছিল।

প্রত্মতাত্তিক বিভাগের আগ্রা অঞ্চলের মহাপরিদর্শক বসন্ত স্বর্ণকর জানিয়েছেন, ২১ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে তাজমহুল খুলে গেলে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ববিধি রক্ষা ও হাত জীবাণুমুক্ত করার মতো স্বাস্থ্যবিধিগুলো মেনে চলতে হবে। কাউন্টার খুলবে না। দর্শণার্থীদের টিকিট কাটতে হবে অনলাইনে।

টিকিট বিক্রি হবে সর্বভারতীয় প্রত্মতাত্তিক বিভাগের মোবাইল অ্যাপে। শুক্র ও রবিবার বন্ধ থাকবে তাজমহল। আর আগ্রা ফোর্ট বন্ধ থাকবে রবিবার। ভারতের প্রত্মতাত্তিক বিভাগের দেয়া হিসাব অনুযায়ী প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশিসহ তাজমহল দর্শন করেন ৭০ থেকে ৮০ লাখ পর্যটক। আগ্রা ফোর্টে ৩০ লাখ।