Categories
বিশ্ব

তুরস্কের সঙ্গে গোলমাল করতে আসবেন না: ফ্রান্সকে হুঁশিয়ারি এরদোগানের

তুরস্কের সঙ্গে গোলমাল করতে আসবেন না: ফ্রান্সকে হুঁশিয়ারি এরদোগানের

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান বলেছেন, তুরস্কের জনগণের সঙ্গে গোলমাল করতে আসবেন না। গতকাল (শনিবার) ইস্তাম্বুল শহর থেকে টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে এরদোগান একথা বলেন।

পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তেল-গ্যাসের অনুসন্ধান কার্যক্রম নিয়ে গ্রিসের সঙ্গে যখন তুরস্কের প্রচণ্ড সামরিক উত্তেজনা চলছে তখন তিনি এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করলেন। পূর্ব ভূমধ্যসাগরের দ্বন্দ্বের ঘটনায় গ্রিসের পক্ষ নিয়েছে ফ্রান্স।

শুধু তাই নয়, পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান এবং গ্রিসের সঙ্গে দ্বন্দ্বের ঘটনায় তুরস্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছেন ম্যাক্রন। এছাড়া ইউরোপীয় দেশগুলোকে তুরস্কের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এনিয়ে ন্যাটোভুক্ত দুই সদস্য দেশ তুরস্ক ও ফ্রান্সের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

পূর্ব ভূমধ্যসাগরের বিতর্কিত এলাকায় তুরস্ক তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম চালাচ্ছে। এজন্য তার গবেষণা ও অনুসন্ধান জাহাজ পাঠিয়েছে। অন্যদিকে, গ্রিস তুরস্কের জাহাজকে নজরদারি করার জন্য তার সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে।

Categories
দেশ

৩০ বছরে একা তিন কিমি খাল কেটে গ্রামে জল পৌঁছলেন বিহারের লঙ্গি ভুইঁঞা

৩০ বছরে একা তিন কিমি খাল কেটে গ্রামে জল পৌঁছলেন বিহারের লঙ্গি ভুইঁঞা

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: এ যেন এক দশরথ মাঝির গল্প। তবে মিল আছে। এই ঘটনাও ঘটেছে বিহারে। একা হাতে একটা আস্ত খাল খুঁড়ে ফেলেছেন লাথুয়া এলাকার কোঠিওয়ালা গ্রামের মানুষ লঙ্গি ভুইঁঞা। তিনি একার চেষ্টায় গত ৩০ বছর ধরে খাল খুঁড়ে চলেছেন। তাঁদের গ্রাম পাহাড়ের কোলে। মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায়।

বর্ষাকালে পাহাড় বেয়ে যে জল আসে, সেই জন্য যাতে গাঁয়ের কাজে লাগানো যায় সেই কারণেই দীর্ঘদিন আগে থেকেই নিজের মন শক্ত করে নিয়েছিলেন তিনি। লঙ্গি বলছেন, প্রথম থেকে কেউ আমাকে এই কাজে উৎসাহ দেয়নি। বরং সবাই যখন রুটিরুজির তাগিদে বেরিয়েছেন, তখন আমি গিয়েছি খাল কাটতে। প্রথমে লোকে পাগল বলেছে, কেউ বিশ্বাস করতে পারেনি যে এমনও আমি করতে পারব। তবে তিরিশ বছর ধরে টানা চেষ্টা করার পর কাজ শেষ হয়েছে।

কিন্তু কেন এই দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন তিনি। বলছেন, বর্ষাকালে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হলেও গ‌্রামে সরাসরি জল আসার কোনও সুযোগ এতদিন ছিল না। এবার এই খাল‌ কেটে দেওয়ায় পাহাড়ি নদী থেকে সরাসরি জল আসবে গ্রামে। গয়া জেলা থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে কোঠিওয়ালা গ্রাম ঘেরা জঙ্গল আর পাহাড়ে। সেখানেই সবার চোখের আড়ালে এমন অসম্ভব কাজ করে ফেলেছেন এক বৃদ্ধ। খুঁড়েছেন তিন কিলোমিটার লম্বা খাল। স্থানীয় এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, গত ৩০ বছর ধরে একক দক্ষতায় ওই খাল কাটার কাজ করছেন ওই বৃদ্ধ। আজ খাল কাটা হয়ে যাওয়াতে শেষ পর্যন্ত সাভ হবে সাধারণ মানুষের, এই গ্রামের। জলের সমস্যা মিটবে। কৃষিজমিতে জল আসবে।

Categories
দেশ

দিল্লি হিংসার ঘটনায় সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে নাম বাদ গেল সীতারাম ইয়েচুরি, যোগেন্দ্র যাদব, জয়তী ঘোষের

দিল্লি হিংসার ঘটনায় সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে নাম বাদ গেল সীতারাম ইয়েচুরি, যোগেন্দ্র যাদব, জয়তী ঘোষের

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: দিল্লি হিংসার ঘটনায় ইয়েচুরির নাম নেই সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে। সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে অভিযুক্ত নয় জয়তী ঘোষও। অভিযুক্ত হিসাবে নাম নেই যোগেন্দ্র যাদবেরও। এমনই দাবি দিল্লি পুলিশের। খবর এএনআই সূত্রে। দিল্লি হিংসায় উস্কানির অভিযোগে দায়ের করা হয় চার্জশিট‌ গোটা ব্যাপারটি এখনও বিচারাধীন। জানালো দিল্লি পুলিশ।

 

Categories
দেশ

সিএএ-র বিরুদ্ধে চলা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে দিল্লি হিংসায় জুড়ে দেওয়া রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র: ইয়েচুরি

সিএএ-র বিরুদ্ধে চলা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে দিল্লি হিংসায় জুড়ে দেওয়া রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র: ইয়েচুরি

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: সিএএ-র বিরুদ্ধে চলা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের সঙ্গে দিল্লি হিংসাকে জুড়ে দেওয়া রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, এর থেকেই বোঝা যায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের ইশারায় কাজ করছে দিল্লি পুলিশ, বললেন সীতারাম ইয়েচুরি ।

উত্তর-পূর্ব দিল্লির সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের মামলায় দিল্লি পুলিশের চার্জশিটে এ বার সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি, স্বরাজ অভিযানের নেতা যোগেন্দ্র যাদব এবং শিক্ষাবিদ জয়তী ঘোষ ও অপূর্বানন্দের নাম।

দিল্লি পুলিশের এই চার্জশিটের পিছনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের হাত রয়েছে বলে মনে করছেন ইয়েচুরি। সিপিএম নেতা বলেন, “দিল্লি পুলিশ কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে কাজ করে। পুলিশের এই অবৈধ কাজকর্ম থেকে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের চরিত্র স্পষ্ট। ওঁরা বিরোধীদের প্রশ্ন, বিক্ষোভকে ভয় পান। সিএএ-র মতো বিভাজনকারী আইনের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকার দেশের সংবিধান দিয়েছে। আমরা জরুরি অবস্থা হঠিয়েছিলাম। এই জরুরি অবস্থারও মোকাবিলা করব।”

কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ বলেন, “যাঁদের চার্জশিটে নাম রয়েছে, তাঁদের পাশে রয়েছি। এখন যে সব প্রতারকেরা ক্ষমতায় রয়েছেন, তাঁদের থেকে এঁরা অনেক বেশি দেশভক্ত।”

Categories
বিশ্ব

ইসরাইলকে সমর্থন! সরকারের বাঁধা উপেক্ষা করে বাহরাইন জুড়ে বিক্ষোভ: পুড়ল ইসরাইলি পতাকা

ইসরাইলকে সমর্থন! সরকারের বাঁধা উপেক্ষা করে বাহরাইন জুড়ে বিক্ষোভ: পুড়ল ইসরাইলি পতাকা

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: ইহুদীবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের সঙ্গে বাহরাইনের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিরুদ্ধে দেশটির জনগণ সরকারের বাঁধা উপেক্ষা করে ব্যাপক বিক্ষোভ করছেন। ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য তারা বাহরাইন সরকারের কঠোর নিন্দা জানিয়েছে এবং ইসরাইলের পতাকায় আগুন দিয়েছেন।

তেল আবিবের দখলদার সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তি করার পর বাহরাইনের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের বিক্ষোভ সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার।

কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বাহরাইনের প্রধান বিরোধী জোট আল-ওয়েফাক রাজধানী মানামা এবং আরো কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে এবং তার ছবি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে পোস্ট করেছে।

গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর মধ্যস্থতায় ইহুদীবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ঘোষণা দিয়েছে বাহারাইন সরকার। এর প্রায় এক মাস আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে ইসরাইলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তি হয়। ওই চুক্তিতেও মধ্যস্থতা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

Categories
দেশ

১০০ দিনের কাজের মূল “কর্মযোগী” মনমোহন সিং মন্ত্রীসভার সদস্য ডঃ রঘুবংশ প্রসাদ সিংহ প্রয়াত

১০০ দিনের কাজের মূল “কর্মযোগী” মনমোহন সিং মন্ত্রীসভার সদস্য ডঃ রঘুবংশ প্রসাদ সিংহ প্রয়াত

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট:রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি)-র হাত ছেড়েছিলেন দিন তিনেক আগে। বিহারে ভোটের মুখে লালুপ্রসাদ যাদবের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সঙ্গী রঘুবংশ প্রসাদ সিংহের দলত্যাগ উস্কে দিয়েছিল নানা রাজনৈতিক সমীকরণের জল্পনা। কিন্তু রবিবার সকালে এমসে মৃত্যু হল সেই রঘুবংশের।মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪।

কিছু দিন আগে করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন রঘুবংশ। তা থেকে সেরে উঠলেও তাঁর কিছু শারীরিক সমস্যা রয়ে গিয়েছিল। এমস হাসপাতালে ভর্তিও ছিলেন তিনি। হাসপাতাল থেকেই লালুপ্রসাদকে চিঠি লিখে দল ছাড়ার কথা জানান রঘুবংশ। লেখেন, ‘‘জননায়ক কর্পূরি ঠাকুরের মৃত্যুর পর থেকে দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে আপনার সঙ্গে আছি। কিন্তু আর নয়।’’ আরও জানান, ‘‘বিহারের সাধারণ মানুষ ছাড়াও দলের নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে অনেক ভালবাসা পেয়েছি। আমায় ক্ষমা করবেন।’’

২০০৪ সালে UPA সরকার গঠিত হয়েছে। গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকটি পড়েছে লালু প্রসাদ যাদবের “রাষ্ট্রীয় জনতা দল”-এর ভাগ্যে। যা ভারতের রাজনীতিতে সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া রাজ্য বিহারের “যাদব – গোয়ালাদের দল” নামেই পরিচিত। .. সেই দলের এক ভূমিহার নেতা, যাঁকে দেখলে গ্রাম্য বিহারের গোপালনকারীর চেয়ে বেশি কিছু লাগতো না, সেই তিনিই বদলে দিলেন গ্রাম্য ভারতের মানচিত্র।

মুখে ভোজপুরী বুলি, চেহারায় অবিন্যস্ততা , কিন্তু কাজের টেবিলে তিনি দেখিয়ে দিয়েছিলেন কেন বিহারের জাতপাতের কর্দমের মধ্যে পদ্ম ফোঁটে।

তিনি যে একজন গণিতশাস্ত্রের অধ্যাপক, গণিতশাস্ত্রে ডক্টরেট, লালুপ্রসাদ যাদব যে তাঁকে বেছে কিছু ভুল করেন নি, তা ২০০৪-২০০৯ “মহাত্মা গান্ধী রাষ্ট্রীয় গ্রামীণ রোজগার গ্যারান্টি অধিনিয়ম” (MNREGA) বা “১০০ দিনের কাজ” খাতায় কলমে করে দেখিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন ডঃ রঘুবংশ প্রসাদ সিংহ। বদলে দিয়েছিলেন গ্রামীণ ভারতের রোজগারের চিত্রটি। ..

এতটাই তাঁর উপরে শ্রদ্ধাশীল ছিলেন ডঃ মনমোহন সিংহ কে তাঁকে “স্যার” হিসাবে সম্বোধন করতেন। ..

নির্বাচনী পাটিগণিতের বাইরে বেরিয়েও যে উন্নয়নের একটি “গণিত” আছে, সেটি কোনোদিন বিস্মৃত হন নি রঘুবংশ। ..

গ্রামীণ ভারতের দারিদ্র্য নিরসনে তাঁর অশেষ প্রচেষ্টার স্বীকৃতিই দিয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি, “২০০৪-২০১৪ UPA সরকারের সময়ে ভারতের গ্রামীণ দারিদ্র্য ব্যাপক হারে কমেছে ”

এবং এই সাফল্যের পেছনে ডঃ মনমোহন সিংহ ছাড়াও কৃতিত্ব ছিল যে “বিহারী মাস্টারমশাই”-এর, সেই “স্যার” আজ প্রয়াত।

Categories
দেশ

দিল্লি পুলিস আরএসএসের সহযোগী হিসাবে কাজ করছে: বিস্ফোরক অধীর চৌধুরী

দিল্লি পুলিস আরএসএসের সহযোগী হিসাবে কাজ করছে: বিস্ফোরক অধীর চৌধুরী

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: ফেব্রুয়ারির দিল্লি হিংসায় ষড়যন্ত্রকারী হিসাবে নাম উঠেছে সিপিআইএম জেনারেল সেক্রেটারি সীতারাম ইয়েচুরির। দিল্লি পুলিস যে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট জমা দিয়েছে তাতে সীতারাম ইয়েচুরি ছাড়াও নাম রয়েছে স্বরাজ পার্টি প্রধান যোগেন্দ্র যাদব, অর্থনীতিবিদ জয়তী ঘোষ, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অপূর্বানন্দ ও চলচিত্র পরিচালক রাহুল রায়ের।

চার্জশিটে সীতারাম ইয়েচুরির নাম উল্লেখ করায় দিল্লি পুলিস ও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছিলেন সূর্যকান্ত মিশ্র। তিনি দাবি করেছিলেন, ফেব্রুয়ারি মাসে দিল্লি হিংসার তদন্তের নামে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নিয়ন্ত্রণাধীন দিল্লি পুলিশ সম্পূর্ণ সাজানো মামলা দায়ের করেছে। আর এবার সোচ্চার হলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরি।

তিনি এদিন বলেছেন, ”দিল্লি পুলিস আসলে আরএসএসের উইং হিসাবে কাজ করছে। স্বৈরাচারি মনোভাব দেখাচ্ছে সরকার। কারও কিছু বলার অধিকার নেই। সবাইকে চুপ করে মুখ বুজে থাকতে হবে। সরকার প্রতিটি কেন্দ্রীয় সংস্থাকে সক্রিয়ভাবে কাজে লাগাচ্ছে। আজ সীতারাম ইয়েচুরিকে ফাঁসানো হয়েছে।

কাল আমাদের মধ্যে যে কাউকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হতে পারে। সরকার বিরোধীদের টুঁটি চিপে ধরতে চাইছে আসলে। সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই মিথ্যে মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এটা নোংরা রাজনীতি ছাড়া আর কিছু নয়।”

Categories
রাজ্য

রাজ্যের পুলিশ মেরুদণ্ডহীন, উর্দি ছেড়ে সবজি বিক্রি করুক: ফের বিতর্কে দিলীপ ঘোষ

রাজ্যের পুলিশ মেরুদণ্ডহীন, উর্দি ছেড়ে সবজি বিক্রি করুক: ফের বিতর্কে দিলীপ ঘোষ

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: ফের পুলিশের কাজের সমালোচনা করতে গিয়ে বেফাঁস মন্তব্য বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের । শনিবার এক জনসভায় তাঁর মন্তব্য, ”পুলিশের মেরুদণ্ড নেই। তারা তৃণমূলের ক্যাডার হিসেবে কাজ করছে। ওসি , আইসি-দের উচিত নিজেদের পদ ছেড়ে সবজি বিক্রি করা।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তো বটেই, বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে আইনরক্ষকদের মধ্যেও।

আগেও বহুবার পুলিশকে ‘তৃণমূলের ক্যাডার’ বলে আক্রমণের পথে হেঁটেছেন দিলীপ ঘোষ-সহ রাজ্য বিজেপির অন্যান্য নেতারা। পুলিশের কাজ নিয়ে প্রায় সবসময়েই সমালোচনা শোনা যায় গেরুয়া শিবিরে। তবে শনিবার বিজেপি রাজ্য সভাপতির কটাক্ষের ভাষা একেবারেই নজিরবিহীন বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। অফিসার পদমর্যাদার পুলিশদের প্রতি তাঁর পরামর্শ, উর্দি ছেড়ে, পদ ছেড়ে সবজি বিক্রি করা উচিত! রাজ্য বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের আমলে পুলিশ শুধুই শাসকদলের হয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। বিরোধীদের জন্য কোনও সক্রিয়তা দেখা যায় না উর্দিধারীদের। সেখান থেকেই দিলীপ ঘোষের এই নজিরবিহীন আক্রমণ বলে মনে করা হচ্ছে।

পুলিশকে শুধুই সবজি বিক্রি করার মতো কটাক্ষেই বিঁধলেন না দিলীপ ঘোষ। তাঁর আরও আক্রমণ, মেরুদণ্ডহীন পুলিশের আইসি, ওসি। শাসকদলের হয়ে কাজ করার যে অভিযোগ বারবার পুলিশের বিরুদ্ধে উঠেছে, তাতেই আরও শান দিতে দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য বলে মনে করা হচ্ছে। তবে উলটোদিকেও প্রশ্ন উঠছে। পুলিশকে সবজি বিক্রির পরামর্শ দিয়ে কি বিজেপি রাজ্য সভাপতি পক্ষান্তরে সবজি বিক্রেতাদেরও অপমান করে বসলেন না? তাঁর এই মন্তব্যের পর পুলিশ মহলে ফের বিরূপ প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। ক্ষুব্ধ বহু পুলিশ অফিসার। যদিও এখনও তৃণমূলের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Categories
দেশ

কৃষক আন্দোলনে লাঠিপেটা: দেশজুড়ে প্রবল সমালোচনায় অবশেষে কৃষকদের সঙ্গে আলোচনায় বসছে হরিয়ানার বিজেপি সরকার

কৃষক আন্দোলনে লাঠিপেটা: দেশজুড়ে প্রবল সমালোচনায় অবশেষে কৃষকদের সঙ্গে আলোচনায় বসছে হরিয়ানার বিজেপি সরকার

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: কৃষক আন্দোলনের সামনে মাথানত করল হরিয়ানার বিজেপি–জেজেপি সরকার। বৃহস্পতিবার হরিয়ানার কুরুক্ষেত্রে কৃষক মিছিলে পুলিশের লাঠি চালানোর ঘটনার পর গোটা দেশজুড়ে মনোহরলাল খাট্টার সরকারের সমালোচনা শুরু হয়। শেষমেশ বাধ্য হয়েই কৃষক সংগঠনগুলির সঙ্গে আলোচনায় বসবে রাজ্যের বিজেপি সরকার। শুধু বিরোধী দল কংগ্রেস বা আপ নয়, বিজেপির অন্দরেই পুলিশের লাঠিচার্য ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

হরিয়ানায বিজেপির রাজ্য সভাপতি ওপি ধনকড় তিন সদস্যের একটি কমিটি তৈরি করেছেন। কমিটিতে রয়েছেন হিসার সাংসদ ব্রিজেন্দ্র সিং, ভিওয়ানি–মহেন্দ্রগড়ের সাংসদ ধরমবীর সিং এবং কুরুক্ষেত্রের সাংসদ নাইব সাইনি। কৃষক সংগঠনগুলির সঙ্গে কথাবার্তা চালাবে এই কমিটি। উল্লেখ্য, একসময়ে দলের কৃষক সংগঠনের প্রেসিডেন্ট ছিলেন ওপি ধনকড়। এদিন শনিবার হরিয়ানার রোহতাক এবং কার্নালে দুটি বৈঠক এবং রবিবার পাঁচকুলায় একটি বৈঠক হওয়ার কথা।

কৃষি সংক্রান্ত কেন্দ্রের তিনটি অধ্যাদেশ প্রত্যাহারের দাবি গত বৃহস্পতিবার রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল হরিয়ানার কুরুক্ষেত্র। কেন্দ্রের অত্যাবশ্যক পণ্য আইন সংশোধন সংক্রান্ত অধ্যাদেশ, কৃষিপণ্য লেনদেন এবং বাণিজ্য উন্নয়নে অধ্যাদেশ এবং কৃষিপণ্যের দাম নিশ্চিত করতে ব্যবসায়িক সংস্থার সঙ্গে চুক্তিতে কৃষকদের স্বার্থরক্ষায় অধ্যাদেশের বিরুদ্ধে পথে নেমেছিলেন ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়ন সহ বেশ কয়েকটি কৃষক সংগঠন।

কৃষকদের বক্তব্য, ওই তিনটি অধ্যাদেশই ‘‌কৃষক–বিরোধী’‌। মিছিল আটকে দেওয়া হলে সংঘর্ষ বাঁধে হরিয়ানা পুলিশ এবং কৃষকদের মধ্যে। পুলিশের আঘাতে অনেকে আহত হন। কৃষক সংগঠন এবং বিরোধী দলের একাধিক নেতাকে ওই গ্রেপ্তার করা হলেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। কৃষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তাঁরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করায় সংঘর্ষ বেঁধেছিল। জাতীয় সড়কও অবরোধ করেন তাঁরা।

চার ঘন্টা অবরোধের পর অবশেষে মিছিল ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় পুলিশ। কৃষকদের পিপলি মান্ডি পর্যন্ত যেতে দেওয়া হয়। ‘‌কৃষকদের ওপর হামলা’‌র প্রতিবাদে টুইট করেন কংগ্রেস নেতা রণদীপ সূর্যেওয়ালা। ‌কৃষকদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা হয়েছে, অভিযোগ তুলেছেন কৃষক নেতা অক্ষয় হাতিয়া। অধ্যাদেশ প্রত্যাহার করে কৃষকদের দাবি না মেনে নেওয়া হলে দেশজুড়ে আরও বড় আন্দোলনে নামবে কৃষক সংগঠনগুলি, হুঙ্কার তোলে ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়ন।

Categories
দেশ

দেশের ২৪ টি হাইকোর্টে শুধু রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি মামলা আছে: তথ্য প্রকাশ সুপ্রিম কোর্টের

দেশের ২৪ টি হাইকোর্টে শুধু রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি মামলা আছে: তথ্য প্রকাশ সুপ্রিম কোর্টের

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: গোটা দেশের ২৪টি হাইকোর্টে বর্তমান এবং প্রাক্তন বিধায়ক ও সাংসদদের বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে চার হাজার ফৌজদারি মামলা জমে রয়েছে৷ যে তথ্য দেখে বিস্ময় প্রকাশ করতে বাধ্য হল সুপ্রিম কোর্ট৷ রাজনীতিবিদরা প্রভাব খাটিয়েই যে তাঁদের বিরুদ্ধে অধিকাংশ মামলার তদন্ত এবং বিচারপ্রক্রিয়া আটকে রেখেছেন, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছে শীর্ষ আদালত৷ রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ নিয়ে দায়ের হওয়া একটি মামলার শুনানি চলাকালীনই এই মন্তব্য করে সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির বেঞ্চ৷

বিচারপতি এন ভি রামানা, বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি ঋষিকেশ রায়ের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, প্রাক্তন ও বর্তমান বিধায়ক বা সাংসদদের মতো আইন প্রণেতাদের বিরুদ্ধে চলতে থাকা ৪৪৪২টি মামলার মধ্যে এমন ১৭৪টি মামলা রয়েছে যার অভিযোগ প্রমাণিত হলে যাবজ্জীবন জেলের শাস্তি হতে পারে৷ আবার ৩৫২টি মামলার ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টই বিচার প্রক্রিয়ার উপরই স্থগিতাদেশ জারি করেছে৷ দেশের মোট ২৪টি হাইকোর্টের তথ্য খতিয়ে দেখেই এই পরিসংখ্যান হাতে পেয়েছন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা৷

শুধু পশ্চিমবঙ্গ এবং পাঞ্জাবেই রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে এমন কিছু মামলা এখনও চলছে, যেগুলি ১৯৮১ বা ১৯৮৩ সালে শুরু হয়েছিল৷ আবার উত্তরপ্রদেশ এবং বিহারের ক্ষেত্রে ১৯৯১ সাল থেকে শুরু হওয়া মামলা এখনও চলছে৷

বিজেপি নেতা এবং আইনজীবী অশ্বিনী কুমার উপাধ্যায়ের দায়ের করা মামলাতেই এই তথ্যগুলি উঠে এসেছে৷ সাজাপ্রাপ্ত রাজনীতিবিদদের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার উপর আজীবন নিষেধাজ্ঞা জারির দাবি জানিয়ে মামলা করেছেন তিনি৷ বর্তমান সাজাপ্রাপ্ত রাজনীতিবিদরা ৬ বছর নির্বাচনে লড়তে পারেন না৷ আবেদন খতিয়ে দেখার পর শীর্ষ আদালত দেশের ২৪টি হাইকোর্ট থেকে বর্তমান ও প্রাক্তন সমস্ত বিধায়ক এবং সাংসদদের বিরুদ্ধে চলতে থাকা সব ফৌজদারি মামলার তথ্য চেয়ে পাঠিয়েছিল৷ এর পাশাপাশি রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে আর্থিক তছরূপ, দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার মতো যে মামলাগুলি চলছে, তারও বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট৷ যদিও সেই তথ্যও এখনও হাইকোর্টগুলির তরফে সুপ্রিম কোর্টে জমা পড়েনি৷

এই মামলায় আদালতের পরামর্শদাতা হিসেবে সিনিয়র আইনজীবী বিজয় হনসারিয়াকে দায়িত্ব দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট৷তাঁর কাছেই এই সমস্ত তথ্য জমা পড়ার কথা৷ হাইকোর্টগুলির থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শীর্ষ আদালতকে তিনি প্রস্তাব দিয়েছেন, বিধায়ক এবং সাংসদদের বিরুদ্ধে জমে থাকা ফৌজদারি মামলাগুলির দ্রুত শুনানির জন্য প্রতিটি জেলায় বিশেষ আদালত তৈরি করা হোক৷

প্রয়োজনে সরকারি কৌঁসুলি নিয়োগ থেকে সাক্ষীদের নিরাপত্তা দেওয়ার বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি৷ সংশ্লিষ্ট হাইকোর্টের নজরদারিতেই বিশেষ আদালতের বিচার প্রক্রিয়া চলতে পারে বলে প্রস্তাব দিয়েছেন বিজয় হনসারিয়া৷ তাঁর এই প্রস্তাবগুলি খতিয়ে দেখে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর পরবর্তী শুনানিতে নিজেদের মতামত জানাবে শীর্ষ আদালত৷