Categories
দেশ

বিভিন্ন টিভি শোয়ে কোনও একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে উগ্র ভাবে টার্গেট করা হচ্ছে: সমালোচনা সুপ্রিম কোর্টের

বিভিন্ন টিভি শোয়ে কোনও একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে উগ্র ভাবে টার্গেট করা হচ্ছে: সমালোচনা সুপ্রিম কোর্টের

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: বিভিন্ন টিভি শোয়ে কোনও একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে প্রতারণামূলক ও উগ্র ভাবে টার্গেট করা হচ্ছে৷ এটা ঠিক নয়৷ মঙ্গলবার টিভি শো নিয়ে একটি মামলায় এ ভাবেই সমালোচনা করল সুপ্রিম কোর্ট৷

কোনও একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে আক্রমণ করার প্রবণতায় রীতিমতো উদ্বেগ প্রকাশ করল বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় ও বিচারপতি কেএম জোসেফের বেঞ্চ ৷ সম্প্রতি একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের শোয়ে সিভিল সার্ভিসে মুসলিমদের প্রবেশ নিয়ে একটি অনুষ্ঠানের কন্টেন্টের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হয়৷ সেই আবেদনের শুনানিতেই নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে টার্গেট করে ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় নানা শোয়ের তীব্র সমালোচনা করে সুপ্রিম কোর্ট৷

ওই শোয়ের এপিসোডগুলির সম্প্রচারে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট৷ শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, ‘একটি দেশের সুপ্রিম কোর্ট হিসেবে, আমরা কখনওই বলতে পারি না, মুসলমানরা সিভিল সার্ভিসে অনুপ্রবেশ করছে ৷ আমরা এ সব সহ্য করব না৷ কেউ বলতে পারবে না, সাংবাদিকের যা খুশি বলার স্বাধীনতা আছে ৷’

ফ্রি প্রেস, ফ্রি স্পিচের নামে স্ক্রুটিনি ছাড়াই কোনও প্রোগ্রাম চলবে, যেখানে কোনও একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে আঘাত করা হচ্ছে, এটা মেনে নেওয়া যায় না ৷ সংশ্লিষ্ট চ্যানেলের আইনজীবীকে সুপ্রিম কোর্ট সতর্ক করে, স্বাধীনতার অপব্যবহার না করতে ৷

শীর্ষ আদালতের মতে, ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রভাব দেশে অনেক বেশি৷ এই মাধ্যম চাইলে কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে টার্গেট দেশে অস্থির পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে৷ তাই কিছু মানদণ্ড বজায় রাখতেই হবে৷ প্রেস ফ্রিডমের নামে যা ইচ্ছে, তাই করা যাবে না ৷ এই মামলার পরবর্তী শুনানি ১৭ সেপ্টেম্বর ধার্য করেছে সর্বোচ্চ আদালত ৷

Categories
দেশ

যোগী সরকারের নতুন আইন: ওয়ারেন্ট অর্ডার ছাড়াই  যাকে তাকে তল্লাশি ও গ্রেফতার করতে পারবে পুলিশ

যোগী সরকারের নতুন আইন: ওয়ারেন্ট অর্ডার ছাড়াই  যাকে তাকে তল্লাশি ও গ্রেফতার করতে পারবে পুলিশ

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: বিরোধীদের একাংশ বলেন, উত্তরপ্রদেশের ত্রাস এখন গুণ্ডারা নয়, পুলিশ! তার কারণ হিসেবে একের পর এক এনকাউন্টার, কারণ ছাড়াই বিরোধীদের হেনস্থার মতো অভিযোগ উঠেছে আগেই। এবার পুলিশের জন্যে আরও ‘দরাজহস্ত’ হলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। পুলিশের জন্যে আর মাস তিনেকের মধ্যেই উত্তরপ্রদেশে নিয়োগ করা হবে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সেস ( এসএসএফ)। কী কাজ হবে এই বাহিনীর? জানা গিয়েছে, যে কোনও ব্যক্তিকে কোনওরকম ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেফতার করা, যে কোনও জায়গায় অনুমতি ছাড়াই তল্লাশি করার ক্ষমতা থাকবে এই বাহিনীর। গোটা পরিকল্পনাটাই মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের মস্তিষ্কপ্রসূত বলে খবর।

জানা গিয়েছে, রাজ্যের নানা আদালত, সরকারি অফিস, ধর্মীয় স্থান, মেট্রো, এয়ারপোর্ট-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় মোতায়েন থাকবেন এসএসএফ জওয়ানরা। উত্তরপ্রদেশের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব ( স্বরাষ্ট্র) অবনীশ কুমার আওয়াস্থি জানিয়েছেন, পুলিশের এই বিশেষ বাহিনীর হাতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকবে। এলাহাবাদ হাইকোর্টের একটি রায়ের সাহায্যেই এই বিশেষ বাহিনী প্রস্তুত করা হচ্ছে।

উত্তরপ্রদেশের বিধানসভায় এই সংক্রান্ত বিলও পাশ হয়ে গিয়েছে। রাজ্যের ডিজিপিকে ১৫ দিনের মধ্যে সমস্ত বিষয়ে কার্যকর করতে রিপোর্ট তৈরির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। প্রথমে পাঁচ ব্যাটেলিয়নের এক-একটিতে ১৯১৩ জন করে পুলিশ থাকবেন। প্রথম ধাপে প্রায় দশ হাজার জওয়ান নিয়োগ করা হবে। এর জন্যে খরচ পড়বে ১৭৪৭ কোটি টাকা।

যদিও বিরোধীরা বলছেন, এমনিতেই পুলিশকে ব্যবহার করে নিজের খেয়ালখুশি মতো কাজ চালাচ্ছেন যোগী আদিত্যনাথ। এই পরিস্থিতিতে বিপুল ক্ষমতা দিয়ে নতুন বাহিনী তৈরি হলে কোনও কিছুতেই আর বাঁধ থাকবে না। সম্প্রতি সরকারি পরিসংখ্যানেই উঠে এসেছে ক্ষমতায় আসার পর থেকে যোগীর রাজে উত্তরপ্রদেশে মোট ৬২০০টি এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটেছে। আর তাতে মৃত্যু হয়েছে মোট ১২৪ জনের!

অবশ্য সরকারি হিসেবে এক্ষেত্রে পরিসংখ্যানকে ইতিবাচক করেই দেখানো হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, ৬২০০টি এনকাউন্টারে ১৪ হাজারের বেশি অপরাধী গ্রেফতার হয়েছে। শুধু তাই নয়, ২৩০০ অপরাধী ও প্রায় ৯০০ পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। বিকাশ দুবের এনকাউন্টারের পর উত্তরপ্রদেশের এডিজি স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, দুষ্কৃতী দমনে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হয়েছে। কাউকে ছাড়া হবে না। সেই সূত্রেই জানা যায়, রাজ্যের প্রতিটি জেলার দুষ্কৃতীদের জন্যে আলাদা তালিকা তৈরি করা হয়েছে। যাঁদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ‘অপারেশন ক্লিন’ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে খবর।

Categories
রাজ্য

যে পাড়ার লোক ভোট দেয়নি, সেখানে উন্নয়ন হবে না, সদর্পে ঘোষণা অনুব্রত মণ্ডলের

যে পাড়ার লোক ভোট দেয়নি, সেখানে উন্নয়ন হবে না, সদর্পে ঘোষণা অনুব্রত মণ্ডলের

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: ফের বেলাগাম অনুব্রত মণ্ডল৷ এবার সরাসরি ভোট না দিলে উন্নয়ন হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিলেন বীরভূমের দাপুটে তৃণমূল নেতা৷

আজ খয়রাশোলে কর্মীসভায় অংশ নিয়েছিলেন অনুব্রত মণ্ডল৷ সেখানে বুধ ভিত্তিক ফলাফল জানতে চান তিনি৷ এক নেতাকে দাঁড় করিয়ে অনুব্রত মণ্ডল জানতে চান, কোন পাড়ায় ভোট পায়নি তৃণমূল? অনুব্রতর এহেন প্রশ্নের শুনে কিছুটা থতমত খেয়ে যান তৃণমূল কর্মী৷ কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে জানিয়ে দেন গ্রামের নাম৷ এরপর মঞ্চ থেকে মাইক হাতে অনুব্রত মণ্ডল ঘোষণা, যে পাড়ার লোক ভোট দেয়নি, সেখানে কাজ বন্ধ রাখ৷ দেখি বিজেপি কাজ করে দেয় কিনা৷

নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গীতে অনুব্রত বলেন, ‘‘যে পাড়া থেকে ভোট আসেনি, সেই পাড়ায় কাজ পুরোপুরি বন্ধ রাখ৷ ওখানে আমরা কোন কাজ করব না৷ দেখি বিজেপি কাজ করে দেয় কি না৷ উন্নয়ন করবে বিজেপি? আমি কি অন্যায় বলছি? দেখি কোন বিজেপি নেতা উন্নয়ন করে দেয়৷’’ এরপর অনুব্রত মণ্ডলের মন্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাজ করেননি? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উন্নয়ন করেনি? তাহলে কেন ভোট এল না কেন?’’

যদিও এর আগে নিজের কেন্দ্রে উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছিলেন অনুব্রত মণ্ডল৷ এলাকায় বেহাল রাস্তা নির্মাণের দাবি তুলেছিলেন এক স্থানীয় তৃণমূল নেতা৷ ভরা মঞ্চে উন্নয়নের দাবি জানানো তৃণমূল নেতাকে কার্যত অপদস্থ করে ছেড়েছিলেন অনুব্রত৷ এর পর একাধিক কর্মী সভায় উন্নয়নসংক্রান্ত প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় ‘রাস্তায় উন্নয়ন’ দাঁড় করিয়ে রাখা অনুব্রত মণ্ডলকে৷ এবার আর প্রশ্ন নয়, বরং সরাসরি তৃণমূলকে ভোট না দিলে উন্নয়ন বন্ধ করার হুমকি দিয়ে বসলেন তৃণমূলের এই দাপুটে নেতা, যার ওপরে রয়েছে তৃণমূলের অগাধ আস্থা৷

ভোট না দিলে উন্নয়ন হবে না, অনুব্রত মণ্ডলের এহেন মন্তব্য ঘিরে নতুন করে তৈরি হয়েছে বিতর্ক৷ গণতান্ত্রিক দেশে ভোট না পেলে উন্নয়ন আদৌ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া যায় কি না তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে৷ অনুব্রত এহেন হুমকির বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই মুখ খুলেছে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব৷

কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্প নিজেদের নামে চালানোর চেষ্টা করছে তৃণমূল৷ তৃণমূল সরকার বিগত ৯ বছরে তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পালন করেনি৷ এখন কেন্দ্রের প্রকল্প রাজ্য নিজের নামে চালিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ তুলেছে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব৷

Categories
রাজ্য

পঞ্চায়েত নির্বাচনে জোর জবরদস্তির জন্য লোকসভা নির্বাচনে খারাপ ফল হয়েছিল : তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ

পঞ্চায়েত নির্বাচনে জোর জবরদস্তির জন্য লোকসভা নির্বাচনে খারাপ ফল হয়েছিল : তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: বিধানসভা নির্বাচনের আগে শাসকদলের অন্দরের ক্ষত সারাতে প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ তথা দলের কোচবিহার জেলা সভাপতি পার্থপ্রতিম রায় একসভায় বললেন ‘‌পঞ্চায়েত নির্বাচনে অনেক জায়গায় জোর জবরদস্তি করে ভোট নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে, তার ফল ভোগ করতে হয়েছে লোকসভায়। পার্থ প্রতিমের কথায় পঞ্চায়েত নির্বাচনে শাসকদলের এই জোরজবরদস্তি ভালোভাবে নেননি ভোটাররা এর জন্যই লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির দিকে ঝুকে ছিল।

দুই বছর আগে ২০১৮–র পঞ্চায়েত নির্বাচনে একপ্রকার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৩৪ শতাংশ আসনে জয় লাভ করেছিল তৃণমূল। কিন্তু বাংলার বুকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের পিছনে উঠে আসে এক হিংসাত্মক ছবি।

রাজ্যের বিভিন্ন পঞ্চায়েত এলাকায় হিংসা, খুনোখুনি, বোমাবাজির অভিযোগ ওঠে শাসকদলের বিরুদ্ধে। এতদিন শাসকদলের এই সমস্ত অবিচারের বিরুদ্ধে মুখ খুলতেন শুধুমাত্র বিরোধীরাই। তবে এবার আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলের এই খারাপ দিক তুলে ধরলেন খোদ দলের প্রাক্তন সাংসদ‌ই।

Categories
দেশ

ভারতের ৩৮ হাজার বর্গকিমি চিনের দখলে, জটিলতা বাড়ছে সীমান্তে: সংসদে স্বীকার রাজনাথের

ভারতের ৩৮ হাজার বর্গকিমি চিনের দখলে, জটিলতা বাড়ছে সীমান্তে: সংসদে স্বীকার রাজনাথের

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: ভারতের ৩৮,০০০ স্কোয়ার কিলোমিটার এলাকা দখল করেছে চিন। সংসদে এমনই দািব করলেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। বেজিং কিছুতেই কাস্টমারি লাইন মানতে চাইছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। ১৯৬০ সাল থেকে সীমান্তে এই অবস্থান নিয়ে রয়েছে লালফৌজ।

সংসদে লাদাখ পরিস্থিতি জানাতে গিয়ে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং জানিয়েছেন ভারতের ৩৮,০০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা দখল করে রয়েছে চিন। তারমধ্যে ৫০০০ কিলোমিটার জম্মু ও কাশ্মীরের এলাকা পাকিস্তানের দখলে রয়েছে। আবার অরুণাচল প্রদেশেও জমি দখল করে রেখেছে বেজিং।

১৯৬০ সালে ভারতের সঙ্গে সীমান্ত চুক্তি মানতে রাজি নয় বেজিং। তখন থেকেই তারা মনে করে সীমান্তে কাস্টমারি লাইন আলাদা। মোদী সরকার অত্যন্ত স্থিরতার সঙ্গে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করছে। চিনের সঙ্গে আলোচনার পথে সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন রাজনাথ সিং।

লাদাখে পরিস্থিতি যাই হোক সব কিছুর জন্য ভারতীয় সেনা প্রস্তুত রয়েছে বলে দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী। লাদাখে সীমান্ত সমস্যা এখনও অমীমাংসিত হয়ে রয়েছে। ভারত আলোচনার পথেই শান্তি স্থাপনের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে চিন বারবার সীমান্তে আগ্রাসন চালাচ্ছে।

লাদাখ সীমান্তে প্যাংগং সো হ্রদের দক্ষিণ তীরে লালফৌজ সেনা তৎপরতা শুরু করেছে। সেখানে শক্তি বৃদ্ধি করছে লালফৌজ। তবে ভারতীয় জওয়ানরাও সেটা মেনে নেবে না বলে জানিয়েছেন রাজনাথ।

Categories
দেশ

কংগ্রেসকে ক্ষমতাচ্যুত করতে “আপ” এর জন্ম দেয় আরএসএস: ভূষণের স্বীকারোক্তিকে হাতিয়ার রাহুলের

কংগ্রেসকে ক্ষমতাচ্যুত করতে “আপ” এর জন্ম দেয় আরএসএস: ভূষণের স্বীকারোক্তিকে হাতিয়ার রাহুলের

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: আন্না হাজারের দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনের নেপথ্যে যে আরএসএসের হাত ছিল, সেটা কয়েক দিন আগে স্বীকার করে নিয়েছেন প্রশান্ত ভূষণ। এবার সেই স্বীকারোক্তিকে কাজে লাগিয়ে আম আদমি পার্টির বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন যে গণতন্ত্রকে ভুলুন্ঠিত করার জন্যই ও ইউপিএকে ক্ষমতাচ্যূত করার জন্য়ই আন্না আন্দোলন হয়েছিল।

রাহুল বলেন যেটা তারা জানতেন, সেটা এখন স্বীকার করছেন আপের এক প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। বর্তমানে সোনিয়ার চিকিৎসার জন্য আমেরিকাতে আছেন রাহুল। সেখান থেকেই টুইটারে কামান দাগছেন তিনি বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে। এবার কিছুটা পিছিয়ে গিয়ে ইউপিএ-র পতনের পুরো দায়টি চাপিয়ে দিলেন আন্না আন্দোলনের ওপর।

কয়েক দিন আগে প্রশান্ত ভূষণ বলেন যে তাঁর একটা বড় আক্ষেপ হচ্ছে এটা বুঝতে না পারা যে আন্না আন্দোলনের রাশ কার্যত বিজেপি-আরএসএসের হাতে আছে। তাঁঁরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করলেও বিজেপি-আরএসএস সেটি তাদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে কাজে লাগায় বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন।

ভূষণ বলেন যে আন্না এটা জানতেন না। কেজরি জানত বলেই তাঁর মনে হয়। ভূষণের আরেকটি আক্ষেপ হচ্ছে তিনি কেজরিওয়ালের স্বরূপ বুঝতে পারেননি। তাঁর কথায়, যখন বুঝেছি, অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে, যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গিয়েছে। প্রশান্ত ভূষণ ও যোগেন্দ্র যাদবকে দল বিরোধী কার্যকলাপের জন্য বহিষ্কার করে আম আদমি পার্টি।

২০০৯ এ দ্বিতীয় বার ইউপিএ সরকার আসার পর প্রথম বড় ধাক্কা তারা খায় ইন্ডিয়া এগেন্সট করাপশন আন্দোলনের সময়। সেই শুরু, এখনও সেভাবে নিজেদের ঘর গুছিয়ে উঠতে পারেনি কংগ্রেস। স্বভাবতই তার রাগটা এবার এসে পড়ল আপের ওপর।

Categories
রাজ্য

ভাতা নয়, চাকরি চাই! মুখ্যমন্ত্রীর তৈরি যুবশ্রীদের বিদ্রোহ রাজপথে

ভাতা নয়, চাকরি চাই! মুখ্যমন্ত্রীর তৈরি যুবশ্রীদের বিদ্রোহ রাজপথে

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: যুবশ্রীদের দেড় হাজার টাকা বেকারভাতা দেওয়ার ঘোষণার পর তাদের একবছরের মধ্যে চাকরি দেওয়া হবে। এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তৃণমূল সরকার। কিন্তু সাত বছর কেটে গেলেও বেকারদের অধিকাংশই চাকরিহীন। তাই “ভাতা নয় চাকরি চাই” এই দাবিতে মঙ্গলবার বালুরঘাট শহরে মিছিল ও ডেপুটেশন কর্মসূচির অল বেঙ্গল ইয়ুথ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন।

তারা জানিয়েছেন রাজ্য সরকার যুবশ্রী ভাতা প্রদান করবার পর থেকে দীর্ঘ সাত বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত রাজ্য সরকার এই সমস্ত যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারেনি। সংগঠনের পক্ষ থেকে সদস্যরা বালুরঘাট বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে মিছিল করে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার জেলাশাসকের অফিসের সামনে এসে জেলাশাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।

তাদের দাবি বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা রাখা হচ্ছে না। শুধুমাত্র দেড়হাজার টাকা ভাতা ছাড়া তাদের হাতে কিছুই নেই। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বিভিন্ন সভায় দাবি করেন রাজ্যে চল্লিশ শতাংশ কর্মসংস্থান হয়ে গেছে, তাই যদি হবে তাহলে রাজ্যের যুবকরা এখনও বেকার কেন?

তারা বারবার বিষয়টি নিয়ে লোকাল কাউন্সিলর থেকে বিধায়ক এবং সাংসদের কাছে দরবার করেছেন কিন্তু কোনও সুরাহা হয়নি কেউ তাদের চাকরির ব্যবস্থা করে দিতে পারেননি। শুধুমাত্র কয়েকটা টাকা ভাতা নিয়ে বেকার জীবনযাপন করতে পারছেন না তাঁরা। তাদের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল তা পূরণের দাবি করেছেন এই সংগঠনের সদস্যরা।

তাদের দাবি যুবশ্রীদের চাকরি দেওয়ার পর পরবর্তী পর্যায়ে এমপ্লয়মেন্ট ব্যাঙ্কের মাধ্যমে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি মিলেছিল। কিন্তু সে কথা কথাই রয়ে গেছে। যেখানে এমপ্লয়মেন্ট ব্যাঙ্ক থেকে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার এমনকি শিক্ষক নিয়োগের কথা বলা হয় সেখানে একটিও চাকরি ব্যাঙ্ক থেকে হয়নি।

এই সদস্যদের দাবি দক্ষিণ দিনাজপুরে প্রায় ৩২০০ যুবশ্রী ভাতাপ্রাপক রয়েছেন। তিন দফা দাবিতে এদিন জেলাশাসকের কাছে তারা স্মারকলিপি জমা দেন। অবিলম্বে তারা চাকরি না পেলে কলকাতায় এসে অনশন ধরণায় বসার হুমকিও দিয়েছে।

Categories
দেশ

চৌকিদার নরেন্দ্র মোদীর শেষ ৪ বছরে ৩৮ জন ব্যাংক জালিয়াত দেশ ছেড়েছে: সংসদে স্বীকারোক্তি কেন্দ্রের

চৌকিদার নরেন্দ্র মোদীর শেষ ৪ বছরে ৩৮ জন ব্যাংক জালিয়াত দেশ ছেড়েছে: সংসদে স্বীকারোক্তি কেন্দ্রের

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেকে ‘চৌকিদার’ বলে দাবি করেন। অথচ তাঁর রাজত্বেই একের পর এক ব্যাংক জালিয়াত হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি করে দেশ ছেড়ে পালাচ্ছে। না, বিরোধীরা নয়। সংসদে দাঁড়িয়ে এই স্বীকারোক্তি করেছেন খোদ কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর। এক সাংসদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানিয়েছেন, একজন বা দু’জন নয়, ২০১৫ সাল থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশ ছেড়েছে মোট ৩৮ জন ব্যাংক জালিয়াত।

সাংসদের প্রশ্নের উত্তরে অনুরাগ ঠাকুর জানান, ২০১৫ সালের জানুয়ারির পর এমন ৩৮ জন শিল্পপতি ভারত ছেড়েছেন যাদের বিরুদ্ধে ব্যাংক জালিয়াতির (Bank Fraud) তদন্ত করছে সিবিআই। এই ৩৮ জন ঠিক কত টাকার দুর্নীতি করেছেন, সেটা জনসমক্ষে আনেনি কেন্দ্র। তবে সংখ্যাটা যে বিপুল হবে তাতে কোনও সংশয় নেই। কারণ, ২০১৫ সালের পর যারা ভারত ছেড়েছে তাঁদের মধ্যে বিজয় মালিয়া, মেহুল চোকসি, নীরব মোদিদেরও নাম আছে।

যারা কিনা হাজার হাজার কোটি টাকার জালিয়াতিতে অভিযুক্ত। চিন্তার বিষয় হল, গত বছরও সংসদে একই প্রশ্ন করা হয়েছিল সরকারকে। তৎকালীন অর্থ প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০১৮ সাল পর্যন্ত মোট ২৭ জন ঋণখেলাপি দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। অর্থাৎ ২০১৮ থেকে ২০১৯ এই একবছরে ভারত ছেড়েছে আরও ১১ জন জালিয়াত।

তবে কেন্দ্রের দাবি, তাঁরা চুপ করে বসে নেই। অনুরাগ ঠাকুর জানিয়েছেন, এই পলাতক শিল্পপতিদের বিরুদ্ধে সমস্তরকম আইনি পদক্ষেপ করা হচ্ছে সরকারের তরফে। ইতিমধ্যেই, এদের মধ্যে ২০ জনকে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরা যে যে দেশে আছে সেইসব দেশকে এদের প্রত্যর্পণের জন্য অনুরোধ করেছে মোদি সরকার। ইন্টারপুলের কাছে মোট ১৪ জনের বিরুদ্ধে রেড কর্নার নোটিস জারি করার অনুরোধও করেছে ভারত। ১১ জনের বিরুদ্ধে প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্টের অধীনে তদন্ত শুরু হয়েছে। কিন্তু এত কিছুর পরও তো এদের দেশে ফেরানো গেল না, কটাক্ষ বিরোধীদের।

Categories
দেশ

লকডাউনে কত পরিযায়ী শ্রমিক মারা গিয়েছেন,কত কাজ হারিয়েছেন— সরকারের কাছে কোন তথ্য নেই: জানাল কেন্দ্র

লকডাউনে কত পরিযায়ী শ্রমিক মারা গিয়েছেন,কত কাজ হারিয়েছেন— সরকারের কাছে কোন তথ্য নেই: জানাল কেন্দ্র

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: লকডাউনে কাজ খুইয়ে বাড়ির পথ ধরা কত জন পরিযায়ী শ্রমিক রাস্তাতেই মারা গিয়েছেন, কাজ খুইয়েছেন কত— সরকারের ঘরে এ সবের কোনও তথ্য নেই বলে জানাল কেন্দ্র। এই ধরনের তথ্য রাখার রেওয়াজ নেই বলে, ঘরমুখো পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর জন্য কোনও ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও প্রশ্ন নেই বলে সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিনেই জানিয়ে দিল সরকার।

সিপিএম নেতা সীতারাম ইয়েচুরির টুইট, “লজ্জাজনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন। প্রধানমন্ত্রীর হঠকারী, অপরিকল্পিত এবং প্রস্তুতিহীন লকডাউনের ঘোষণা লক্ষ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিককে হাজার-হাজার মাইল হাঁটতে বাধ্য করেছিল। সরকার এখন বলছে, বাড়ি ফেরার পথে তাঁদের কত জন প্রাণ হারিয়েছেন, লকডাউনে কত জন কাজ খুইয়েছেন, তার তথ্যই নেই তাদের কাছে।” বিরোধী শিবিরের কটাক্ষ, উমর খালিদের মতো সিএএ-এনআরসির বিরোধী প্রতিবাদীদের ‘প্ররোচনাতেই’ যে দিল্লিতে সংঘর্ষ
ছড়িয়েছিল, তা নিয়ে নাকি লক্ষ লক্ষ পাতার প্রমাণ রয়েছে দিল্লি পুলিশের সিন্দুকে। অথচ লকডাউনে রাতারাতি কাজ খোয়ালেন যাঁরা, হেঁটে, বিপদের ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি ফেরার পথ ধরে যে সমস্ত পরিযায়ী শ্রমিক প্রাণ খোয়ালেন, তাঁদের কোনও তথ্য নেই মোদী সরকারের কাছে!

প্রায় ছ’মাস পরে সংসদে অধিবেশনের প্রথম দিনেই লোকসভায় পরিযায়ী শ্রমিকদের বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের মুখে পড়েন শ্রমমন্ত্রী সন্তোষ গঙ্গোয়ার। জবাবে, কাজ খোয়ানো ও ঘরের পথে মৃত শ্রমিকদের তথ্য না-থাকার কথা জানান তিনি। খারিজ করেন ঘরের পথে মৃত শ্রমিকদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সম্ভাবনাও।

প্রশ্ন রাখা হয়, লকডাউনে কোন রাজ্যে কত শ্রমিক ফিরেছেন? উত্তরে রাজ্যওয়াড়ি একটি হিসেব দেওয়া হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে ফিরেছেন ১৩.৮৪ লক্ষ। বিহারে ১৫ লক্ষেরও বেশি। সারা দেশে ১.০৪ কোটিরও বেশি। এঁদের মধ্যে কত জন প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ রোজগার অভিযানে কাজ পেয়েছেন? একশো দিনের কাজেই বা কত জনের রোজগারের বন্দোবস্ত করা গিয়েছে? গোড়া থেকে কেন্দ্রের অবশ্য অভিযোগ, পরিযায়ী শ্রমিক সম্পর্কিত তথ্য না-দেওয়াতেই প্রথম প্রকল্পটির সুবিধে থেকে বঞ্চিত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ।

সরকার সময় মতো ব্যবস্থা না-করাতেই কি লক্ষ লক্ষ শ্রমিক দীর্ঘ পথ হেঁটে রওনা দিতে বাধ্য হয়েছেন? জবাবে মন্ত্রী গাঙ্গোয়ার বোঝানোর চেষ্টা করেন, সরকার নিষ্ক্রিয় ছিল না। শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন চলেছে ৪৬১১টি। নিখরচায় জল ও খাবার জুগিয়ে ফেরানো হয়েছে ৬৩.০৭ লক্ষেরও বেশি শ্রমিককে।

শ্রমিক সংগঠনগুলির ক্ষোভ, গোড়াতেই মোদী সরকারের উচিত ছিল, পরিযায়ী শ্রমিকদের ফিরতে দিয়ে, তবে লকডাউনের পথে হাঁটা। তারা তা করেনি। সাংসদদের ফেরার ব্যবস্থা হলেও, বাড়ি ফেরার সময় পাননি পরিযায়ী শ্রমিকেরা। কাজ ও আশ্রয় খুইয়ে ঘরের পথ ধরা ওই পরিযায়ী শ্রমিকদের অন্তত দু’শো জন রাস্তাতেই মারা গিয়েছেন। কেউ গাড়ি দুর্ঘটনায়, কেউ ক্লান্তিতে বা অসুস্থ হয়ে। মৃত্যু হয়েছে গভীর ঘুমের মধ্যে রেলে কাটা পড়ে। রেললাইনে পড়ে থাকা তাঁদের রক্ত-মাখা রুটিগুলির ছবি রীতিমতো প্রতীকী হয়ে আজও গেঁথে রয়েছে দেশবাসীর মনে। শুধু সরকারই তাঁদের হিসেবে রাখেনি!

Categories
দেশ

সাময়িক কালে নজিরবিহীন : উমর খালিদকে নিয়ে ১১ লক্ষ পাতার নথি দিল্লি পুলিশের

সাময়িক কালে নজিরবিহীন : উমর খালিদকে নিয়ে ১১ লক্ষ পাতার নথি দিল্লি পুলিশের

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: ৫০০ নয়। হাজার নয়। ১ লক্ষও নয়। একেবারে ১১ লক্ষ পাতার নথির পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ নিয়ে তাঁকে জেরা করতে হবে! তাই ছাত্রনেতা উমর খালিদকে হেফাজতে চাইল দিল্লি পুলিশ। আজ অতিরিক্ত দায়রা বিচারক অমিতাভ রাওয়াতের সামনে ভিডিয়ো শুনানিতে উমরের ১০ দিনের পুলিশি হেফাজত মঞ্জুর হয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর ফের আদালতে তোলা হবে তাঁকে।

উমরের আইনজীবী সওয়াল করেছিলেন, দিল্লিতে ২৩-২৬ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ সংঘর্ষের সময়ে উমর সেখানে ছিলেনই না। যদিও এফআইআরে অমিত শাহের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নিয়ন্ত্রণাধীন দিল্লি পুলিশের দাবি, এই সংঘর্ষ পুর্বপরিকল্পিত, যার অন্যতম মাথা উমর। তিনি বক্তৃতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দিল্লি সফরের সময় সাধারণ মানুষকে পথ অবরোধ করতে বলেছিলেন। এবং এ-ও বলেছিলেন, ভারতে সংখ্যালঘুরা নির্যাতিত, সে কথা আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরতে হবে।

আন্দোলনের জন্য বিভিন্ন জায়গায় আগ্নেয়াস্ত্রও মজুত করা হয়েছিল বলে এফআইআরে অভিযোগ। উমরের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ, খুন, খুনের ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসঙ্গত, ৪ সেপ্টেম্বর উমর বলেছিলেন, তাঁর মিনিট পনেরোর বক্তৃতার মধ্যে একটি ৩০-৪০ সেকেন্ডের ক্লিপ ২ থেকে ৪ মার্চ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে বিজেপির আইটি সেল। ৬ মার্চ তাঁর নামে এফআইআর দায়ের করা হয় অবিকল ওই অভিযোগের ভিত্তিতে!

উমর দিন দশেক আগে এ-ও বলেছিলেন, সত্যিই কি ফেব্রুয়ারিতে রাজধানীর গোষ্ঠী সংঘর্ষের নেপথ্যের ষড়যন্ত্র খুঁজতে তদন্ত চালাচ্ছে দিল্লি পুলিশ? না কি সেই তদন্ত ষড়যন্ত্র সিএএ-এনআরসির প্রতিবাদীদের বিরুদ্ধে? ১১ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রবিবার রাতে তাঁর গ্রেফতারির পরে ক্ষুব্ধ পড়ুয়া এবং বিরোধী শিবিরের দাবি, এ বার স্পষ্ট যে, পুলিশের নিশানা সিএএ-এনআরসির প্রতিবাদীরাই।

উমরকে যে ভাবে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা আইনে (ইউএপিএ) গ্রেফতার করা হয়েছে, তার পর সিপিএমের অভিযোগ, গোষ্ঠী সংঘর্ষের আগে যে সমস্ত বিজেপি নেতা সত্যিই প্ররোচনামূলক কথা বলেছিলেন, তাদের কাউকে ছোঁয়নি দিল্লি পুলিশ। অথচ এই কড়া আইনে গ্রেফতার করা হচ্ছে একের পর এক ছাত্রনেতাকে। যে সমস্ত বিজেপি নেতার দিকে প্ররোচনার অভিযোগের আঙুল, তাঁদের অন্যতম কপিল মিশ্র উমরের গ্রেফতারির জন্য ধন্যবাদ দিয়েছেন দিল্লি পুলিশকে। দাবি করেছেন, দীর্ঘ দিন ধরে দিল্লিতে বড় মাপের গোষ্ঠী সংঘর্ষের সলতে পাকাচ্ছিলেন তাঁরা। যা নাকি মুম্বইয়ের ২৬/১১-র হামলার থেকে কম ভয়ঙ্কর হত না। সেই কারণে উমরের মতো দোষীদের ফাঁসি কিংবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মতো কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত বলে ভিডিয়ো-টুইটে তাঁর দাবি।

সমাজকর্মী হর্ষ মান্দের, যোগেন্দ্র যাদব, অপূর্বানন্দদের অভিযোগ, দিল্লির গোষ্ঠী সংঘর্ষের তদন্ত গত কয়েক মাসে যে ভাবে এগিয়েছে, তাতে স্পষ্ট, ‘উঁচু তলার’ নির্দেশ মেনে শুধু প্রমাণ ‘সাজিয়ে যাচ্ছে’ পুলিশ। যোগেন্দ্রর প্রশ্ন, তদন্ত শুরুর আগেই মার্চে সংসদে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ চক্রান্তকারীদের নাম বলেছিলেন কী ভাবে? সেই তালিকা কি তবে তদন্তের আগেই ঠিক হয়ে গিয়েছিল?

প্রতিবাদীদের মতে, আগামী দিনের সম্ভাব্য আন্দোলনের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ারও চেষ্টা হচ্ছে। না হলে অন্তত অর্থনীতির অধ্যাপক জয়তী ঘোষ, সমাজকর্মী যোগেন্দ্রদের নাম চার্জশিটে থাকত না বলে তাঁদের দাবি।