Categories
বিশ্ব

গ্রীস সংবাদমাধ্যমে এরদোগানকে নিয়ে অবমাননাকর শিরোনাম: গ্রীক রাষ্ট্রদূতকে তলব তুরস্কের

গ্রীস সংবাদমাধ্যমে এরদোগানকে নিয়ে অবমাননাকর শিরোনাম: গ্রীক রাষ্ট্রদূতকে তলব তুরস্কের

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: গ্রীসের সংবাদমাধ্যমে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানকে নিয়ে অবমাননাকর শিরোনাম করায় আঙ্কারায় গ্রীসের রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে। দেমোক্রাতিয়া নামের এক গ্রীক সংবাদপত্রে এরদোগানের প্রতি সরাসরি অশালীন শব্দ ব্যবহার করে শিরোনাম করা হয়েছে।

তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রী মেভলুত চাউসউলু এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান।তিনি বলেন, অশালীন বাক্য ব্যবহার সংবাদপত্রের স্বাধীনতার অংশ হতে পারে না।

চাউসউলু বলেন, আমরা সাইপ্রাস ফেডারেশন নিয়ে কোন আলোচনায় যাব না। গ্রীক সিপ্রিওট নেতা একবার আমাকে বলেছিলেন যে তারা তুর্কীদের সাথে এমনকি হাসপাতালেও একসাথে থাকতে ইচ্ছুক নয়। তারা আবর্তনমূলক প্রেসিডেন্ট সিস্টেম প্রথমে মেনে নিয়েও পরবর্তীতে অস্বীকার করেছে।

১৯৭৪ সালে গ্রীস সামরিক অভ্যুত্থান চালিয়ে সাইপ্রাস দখল করার চেষ্টা করলে আঙ্কারাকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল। উত্তর সাইপ্রাস তুর্কী প্রজাতন্ত্র ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৪ সালে জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব কোফি আনানের সমঝোতা প্রস্তাব তুর্কী সাইপ্রাস মেনে নিলেও গ্রীকরা সেটি প্রত্যাখ্যান করে।

সাম্প্রতিক সময়ে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তুরস্কের তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রমকেও গ্রীস বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করে চলেছে।

Categories
বিশ্ব

খোঁজ নেয়নি দেশের সরকার: সৌদি আরবে করোনাকালে কাজ হারিয়ে ভিক্ষা করতে গিয়ে ধৃত ৪৫০ ভারতীয়

খোঁজ নেয়নি দেশের সরকার: সৌদি আরবে করোনাকালে কাজ হারিয়ে ভিক্ষা করতে গিয়ে ধৃত ৪৫০ ভারতীয়

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: মহামারীর দৈন্যতায় খোঁজ নেয়নি সরকার। কোভিড-১৯ মহামারির জেরে কাজ হারিয়ে সৌদি আরবের রাস্তায় ভিক্ষা করতে নেমেছিলেন প্রায় সাড়ে চারশো ভারতীয় কর্মী। ভিক্ষা করার অপরাধে তাঁদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আটকও করেছে বলে জানা গিয়েছে।

এই সমস্ত কর্মীদের বেশির ভাগেরই ওয়ার্ক পারমিট রয়েছে তেলঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, কাশ্মীর, বিহার, দিল্লি, রাজস্থান, কর্নাটক, হরিয়ানা, পঞ্জাব এবং মহারাষ্ট্র থেকে। তাঁদের ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর বাধ্য হয়ে কোনো রকমে জীবনধারণের জন্য ভিক্ষাবৃত্তিকেই বেছে নিয়েছিলেন তাঁরা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, তাঁদের একমাত্র অপরাধ, তাঁরা রাস্তায় ভিক্ষা করছিলেন। এই অপরাধেই তাঁদের আটক করেন সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আটকের পর তাঁদের পাঠিয়ে দেওয়া হয় জেড্ডার শুমাইসি ডিটেনশন সেন্টারে।

দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আটক হওয়া ভারতীয় কর্মীদের মধ্যে রয়েছেন উত্তরপ্রদেশের ৩৯ জন, বিহারের ১০ জন, তেলঙ্গানার পাঁচ জন, মহারাষ্ট্র, কর্নাটক, জম্মু ও কাশ্মীরের চার জন করে। অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে রয়েছেন এক জন।

একে হাত কাজ নেই, তার উপর আটক হয়ে চরম ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন ওই কর্মীরা। এক কর্মী অভিযোগ করেন, “আমরা কোনো অপরাধ করিনি। কাজ হারিয়ে চরম দুর্দশায় পড়ে শুধু মাত্র ভিক্ষা করছিলাম। এখন ডিটেনশন সেন্টারে আটকে পড়ে চরম হতাশায় ভুগছি”।

আরেক জন বলেন, “গত চার মাস ধরে আমরা অসহনীয় পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। আমরা চোখের সামনে দেখেছি, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া এবং শ্রীলঙ্কার কর্মীরা তাঁদের নিজের নিজের দেশের কাছ থেকে সহযোগিতা পেয়েছেন। তাঁরা নিজের দেশে ফিরেও গিয়েছেন। কিন্তু আমরা এখানে এ ভাবে আটকে রয়েছি”।

গত বুধবার আটকে এক ভারতীয়র পরিবারের তরফে টুইটারের মাধ্যমে প্রবাসী ভারতীয় সহায়তা কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সর্বশেষ খবর, সহায়তা করার জন্য আটকে পড়া ভারতীয় এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগ নম্বর জানতে চাওয়া হয়েছে।

অন্য দিকে, ভারতে ফিরে আসার জন্য ২.৪ লক্ষ ভারতীয় নাগরিক নথিভুক্ত করলেও, শুধুমাত্র ৪০ হাজারই ফিরে আসতে পেরেছেন বলে জানা গিয়েছে।

Categories
বিশ্ব

নিশ্চিত থাকুন আমরা জেনারেল সোলাইমানি হত্যার প্রতিশোধ নেবই: ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি ইরানের

নিশ্চিত থাকুন আমরা জেনারেল সোলাইমানি হত্যার প্রতিশোধ নেবই: ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি ইরানের

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট:ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি’র প্রধান মেজর জেনারেল হোসেইন সালামি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্দেশে বলেছেন, জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার বদলা নেওয়া হবেই। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরণের দ্বিধা-সন্দেহের অবকাশ নেই।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক দাবি ও হুমকির প্রতিক্রিয়ায় তিনি আজ (শনিবার) এ কথা বলেন। সম্প্রতি মার্কিন ওয়েবসাইট পলিটিকো এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, জেনারেল সোলাইমানিকে হত্যার পর প্রতিশোধ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে হত্যা করতে চেয়েছিল ইরান।

ইরানের আইআরজিসি’র প্রধান জেনারেল সালামি আরও বলেছেন, আইআরজিসি’র কুদস ফোর্সের সাবেক প্রধান কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সাইকে টার্গেট করা হবে। এটা ইরানের সিরিয়াস বার্তা।

ইরান আঘাত করলে আমেরিকার জবাব এক হাজার গুণ বেশি হবে বলে ট্রাম্প যে মন্তব্য করেছেন তার প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ইরানের শত্রুদেরকে সর্বত্রই পুরোপুরি নজরদারিতে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে শত্রুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ব আমরা। আইআরজিসি’র কমান্ডার বলেন, একজন ইরানিরও যদি চুল পরিমাণ ক্ষতি হয় তাহলে এর দাঁতভাঙা জবাবে দেবে তেহরান। এটা শুধু মুখের কথা নয়, আমরা সরাসরি হুমকি দিচ্ছি। আমরা সব সময় কাজে প্রমাণ দিয়ে থাকি। ইরানের ইসলামি বিপ্লব না হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গোটা বিশ্বকে গ্রাস করতো বলে তিনি মন্তব্য করেন।

চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি ইরাক সরকারের আমন্ত্রণে দেশটি সফরে গেলে বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন হামলা চালিয়ে ইরানের কুদস ফোর্সের তৎকালীন কমান্ডার জেনারেল সোলাইমানিকে হত্যা করে সন্ত্রাসী মার্কিন সেনারা। হামলায় ইরাকের জনপ্রিয় হাশদ আশ-শা’বি বাহিনীর উপপ্রধান আবু মাহদি আল-মুহান্দিসসহ দু’দেশের আরও কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা নিহত হন।

এরপর ইরান ইরাকে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, এতে বহু মার্কিন সেনা আহত হয়েছে বলে ওয়াশিংটন স্বীকার করেছে। তবে ইরান বলছে, জেনারেল সোলাইমানি হত্যার মূল প্রতিশোধ নেওয়া এখনও বাকি রয়েছে এবং এর কঠোর প্রতিশোধ নেওয়া হবে।

Categories
বিশ্ব

মুসলমানেরা কেন ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিতে পারে না! ৭২ বছর ধরে নিরীহ ফিলিস্তিনিদের প্রতি অমানবিক নির্যাতন

মুসলমানেরা কেন ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিতে পারে না! ৭২ বছর ধরে নিরীহ ফিলিস্তিনিদের প্রতি অমানবিক নির্যাতন

কলমে: আবু মুহাম্মদ

বঙ্গ রিপোর্ট ডিজিটাল ডেস্ক: ফিলিস্তিনিরা যে সর্বব্যাপী জুলুম-নির্যাতনের শিকার তা জানতে ইতিহাস ঘাটতে হয় না। প্রতিদিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন খবরের দিকে একটু নজর দিলেই এর প্রমাণ পাওয়া যায়। ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলি বর্বরতা অতীতে যেমন ছিল এখনও আছে।

এই চিত্র অন্তত ৭২ বছরের। এমন অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার শক্তি, সাহস ও সুযোগ হয়তো সবার নেই কিন্তু মানবিক বোধসম্পন্ন যেকোনো মানুষের কাছে অন্তত এটুকু প্রত্যাশা করা যায় যে, এই অপরাধে সে সমর্থন যোগাবে না। সম্প্রতি দখলদার ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন নিজেদেরকে অপরাধীদের সহযোগী হিসেবে প্রমাণ করেছে। ফিলিস্তিনিরা অন্তত তাদের আরব মুসলিম ভাইদের কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশা করে না। ফিলিস্তিনিদের জন্য আরও দুঃসংবাদ অপেক্ষা করছে। সৌদি আরবও যেকোনো সময় ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিয়ে পূর্ণাঙ্গ সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন।

আমিরাত ও বাহরাইন হচ্ছে সৌদি আরবের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ দুই মিত্র। সৌদি সামরিক সমর্থন না থাকলে অনেক আগেই বাহরাইনে রাজতন্ত্রের পতন হতো। আরব আমিরাতের রাজপরিবারেও রয়েছে সৌদি প্রভাব। দরিদ্র মুসলিম প্রতিবেশী দেশ ইয়েমেনে চলমান আগ্রাসনে সৌদি নেতৃত্বে অংশ নিচ্ছে এই দুই দেশ। মূলত সৌদি আরবের নির্দেশেই তারা ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক করেছে। ইসরাইলি বিমান চলাচলের জন্য সৌদি আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার পর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে। বিশ্বের মুসলমানদের আবেগ-অনুভূতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সৌদি আরব এ ক্ষেত্রে কিছুটা ধীরে এগোচ্ছে। সৌদি রাজপরিবার নিজেদেরকে পবিত্র মক্কা ও মদিনার সেবক হিসেবে দাবি করার কারণে বিশ্বের অনেক সরলমনা মুসলমান তাদের শ্রদ্ধা করেন। এ অবস্থায় মিত্র দেশগুলোর সহযোগিতায় ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের অপরাধকে ক্রমেই সহনীয় করে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে রিয়াদ।

আশঙ্কা হচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগেই সৌদি আরবের পক্ষ থেকে সম্পর্ক স্থাপনের প্রকাশ্য ঘোষণা আসতে পারে। মার্কিন রাজনীতিতে প্রবল শক্তির অধিকারী ইহুদিবাদী (জায়নিস্ট) লবিকে হাতে রাখতে সৌদি ঘোষণাকে ‘ট্রাম্প কার্ড’ হিসেবে ব্যবহার করতে চান ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ কারণে অনিচ্ছা সত্ত্বেও সৌদি আরব দ্রুতই ইসরাইলকে স্বীকৃতির ঘোষণা দিয়ে বসতে পারে। ট্রাম্পের চাপ খুব বেশি দিন সহ্য করার শক্তি ও সাহস সৌদি আরবের নেই। এই তিক্ত বাস্তবতা সৌদি রাজপরিবারকে বারবারই গোপনে ও প্রকাশ্যে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন ট্রাম্প। ২০১৮ সালের অক্টোবরে ট্রাম্প প্রকাশ্যেই জানান, মার্কিন সেনাবাহিনীর সমর্থন ছাড়া সৌদি রাজপরিবার দুই সপ্তাহও টিকতে পারবে না। ট্রাম্পের ঘোষণার পর প্রায় দুই বছর পার হলেও সৌদি রাজপরিবারের ক্ষমতার প্রাণভোমরা এখনও মার্কিন মুল্লুকেই রয়ে গেছে।

রাজা-বাদশারা যাই করুক, কোনো ঈমানদার মুসলমান ইসরাইলকে মেনে নিতে পারে না। যারা নিরপরাধ ও নিরস্ত্র মানুষকে নিজের ঘরবাড়ি থেকে বের করে সেখানে বসতি স্থাপন করে এবং নারী ও শিশুসহ অসহায়দের হত্যা করে, তাদেরকে স্বীকৃতি দেওয়ার অনুমতি ইসলাম ধর্মে নেই। যারা ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিচ্ছে তারা আসলে ইসলাম ধর্মের ধার ধারেন না।

ঈমানদার মুসলমান কখনোই আমেরিকা বা ইউরোপকে নিজের ক্ষমতায় টিকে থাকার অবলম্বন মনে করতে পারে না। ১৯৪৮ সালে ইউরোপ ও আমেরিকা মিলে ফিলিস্তিনি মুসলমানদেরকে তাদের ভিটেমাটি থেকে তাড়িয়ে অবৈধ ও কৃত্রিম রাষ্ট্র ইসরাইল প্রতিষ্ঠা করেছে। অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ইহুদিবাদীরা ফিলিস্তিনের আদি অধিবাসীদের সব কিছু কেড়ে নিয়েছে। পাশ্চাত্য এটা করতেই পারে, এটা তাদের চিরায়ত বৈশিষ্ট্য। তারা উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ায় আদি অধিবাসীদের হত্যা করে সেখানে বসতি স্থাপন করেছে। তারা রেড ইন্ডিয়ান, মায়া ও ইনকা সভ্যতা পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে। আফ্রিকা মহাদেশের অনেককে দাস বানিয়েছে সাদা চামড়ার ইউরোপীয়রা। আজকের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও আফ্রিকান বংশোদ্ভূত কৃষ্ণাঙ্গদের সঙ্গে একই ধরণের আচরণ করা হচ্ছে। মুসলমানেরা এ ধরণের কাজ করতে পারে না, এ ধরনের কাজকে স্বীকৃতিও দিতে পারে না।

১৯৪৮ সালে দখলে নেওয়া ভূখণ্ডেই সীমাবদ্ধ থাকেনি ইহুদিবাদীরা। পুরো ফিলিস্তিনকেই প্রায় গ্রাস করে ফেলেছে তারা। ফিলিস্তিনের ১৯৪৭ সালের আগের মানচিত্রের সঙ্গে বর্তমান মানচিত্র মিলিয়ে দেখলেই ইসরাইলি দখলদারির চিত্র যে কেউ অনুধাবন করতে পারে। প্রতিরোধ সংগ্রামের কারণে ইসরাইলের দখলদারি এখন পর্যন্ত একটা সীমানার মধ্যে আটকে আছে, কিন্তু ফিলিস্তিনিদের এই প্রতিরোধ ব্যূহ ভেঙে গেলে এর ব্যাপ্তি বাড়তেই থাকবে। কোনো আরব রাষ্ট্র দখলদারদের হাত থেকে রেহাই পাবে না। নীল থেকে ফোরাত পর্যন্ত সাম্রাজ্য গড়ে তোলার ইহুদিবাদী পরিকল্পনার কথা হয়তো কোনো কোনো আরব দেশ ভুলে গেছে।

মুসলমানদের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান ও প্রথম কিবলা মসজিদুল আকসা দখল করে রেখেছে ইসরাইল। এই পবিত্র মসজিদুল আকসা হয়েই মেরাজে গিয়েছিলেন মহানবী হজরত মুহাম্মাদ (স.)। ফিলিস্তিনিদের একটা অংশ ইউরোপ, আমেরিকা ও দখলদারদের নানা প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করে চুক্তির মাধ্যমে তাদের সঙ্গে সহাবস্থানের চেষ্টা করেছে কিন্তু কোনো প্রতিশ্রুতিই রক্ষা করা হয় নি। এখনও ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে দেওয়া হয়নি। শরণার্থীদের স্বদেশে ফেরার অধিকার মেনে নেওয়া হয়নি। গত ৭২ বছরে ফিলিস্তিনিরা জবরদখল, হত্যা-নির্যাতন ও নিপীড়ন ছাড়া আর কিছুই পায় নি। গাজার ফিলিস্তিনিদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। আক্ষরিক অর্থে গাজা এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় কারাগার।

তবু ফিলিস্তিনিরা থেমে নেই। জুলুম ও অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করার ইসলামি শিক্ষাকে হৃদয়ে ধারণ করে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে তারা। কয়েক দশক আগেও অস্ত্র হিসেবে পাথরই তাদের একমাত্র অবলম্বন ছিল আজ তারা ক্ষেপণাস্ত্র বানাতে জানে। এই অর্জন ফিলিস্তিনে ইসরাইলের বড় ধ্বংসযজ্ঞ ঠেকিয়ে রেখেছে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে। ইসরাইলের সঙ্গে আঁতাত, আপোষ বা সম্পর্ক গত ৭২ বছরে ফিলিস্তিনিদের কিছুই দিতে পারেনি, যতটুকু অর্জন তা সংগ্রামের মাধ্যমেই। এরপরও কেউ যদি বলে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক ফিলিস্তিনিদের স্বার্থে তাহলে তা ধাপ্পাবাজি ছাড়া আর কিছু নয়। ফিলিস্তিনিরাও কয়েকটি আরব দেশের এই ধাপ্পা বুঝতে পেরেছে। তারা আঁতাত বা সম্পর্ককারী দেশগুলোকে সমস্বরে ধিক্কার জানাচ্ছে। এ কারণে এখন তারা আগের চেয়ে অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ। হয়তো এই ঐক্যই ফিলিস্তিনিদের মুক্তির পথকে প্রশস্ত করে তুলবে।

দখলবাজি, হত্যা-নির্যাতন ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের এক উজ্জ্বল উপমা আজকের ফিলিস্তিনি সংগ্রামীরা। তারা এ যুগের ইমাম হোসেন। তারা নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও জালিমের বিরুদ্ধে বুক ফুলিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সাহস রাখে। বুক পেতে দিতে পারে ঘাতকের গুলির সামনে। দুই পা হারানোর পর অন্য অঙ্গগুলোও সমর্পণ করতে পারে অবলীলায়। ঘাতক প্রাণ কেড়ে নেওয়ার পরও মুখে লেগে থাকে অকৃত্রিম হাসি। বিশাল অংকের অর্থসহ নানা লোভনীয় প্রস্তাব ছুড়ে ফেলে জালিমের চেহারা উন্মোচনে এক মুহূর্তের জন্যও পিছপা হয় না তারা। বর্তমান যুগের জালিমের চেহারা উন্মোচনে সদাসোচ্চার ফিলিস্তিনিরা। তারা হাতের কাছে যা পাচ্ছে তা দিয়েই আঘাত করে বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিচ্ছে, ‘ওরা দখলদার, ওরা জালিম, ওরা রক্তপিপাসু, ওরা অমানুষ। ওদেরকে মেনে নেয়ার চেয়ে মৃত্যু শ্রেয়’।

কলমে: আবু মুহাম্মদ
পার্সটুডে

Categories
বিশ্ব

কফিনে করে মার্কিন সেনাদের লাশ পাঠানো হবে : আমেরিকার উদ্দেশ্যে হুমকি ইরানের

কফিনে করে মার্কিন সেনাদের লাশ পাঠানো হবে : আমেরিকার উদ্দেশ্যে হুমকি ইরানের

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি’র নৌ শাখার কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী রেজা তাংসিরি সতর্ক করে বলেছেন, শত্রুরা যদি ইরানের স্বার্থকে হুমকির মুখে ফেলে তাহলে তাদের দাঁত ভেঙে দেয়া হবে এবং ইরানি কফিনে ভরে তাদের লাশ হরমুজ প্রণালীর বাইরে পাঠানো হবে। ইরানের ইসনা বার্তা সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই মন্তব্য করেছেন কমান্ডার আলী রেজা তাংসিরি। তার ওই সাক্ষাৎকার শনিবার প্রকাশিত হয়েছে।

পারস্য উপসাগরে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সামরিক সংঘাত শুরু হলে কে এগিয়ে থাকবে-এমন এক প্রশ্নের জবাবে অ্যাডমিরাল আলী রেজা তাংসিরি বলেন, ‘নিশ্চয় এই এলাকায় আমাদের মাতৃভূমি এবং এখানে ভুল জায়গায় মার্কিন সন্ত্রাসীরা উপস্থিত রয়েছে। আমরা কখনো যুদ্ধ শুরু করিনি এবং করবও না। তবে যদি তারা আমাদের জাতীয় স্বার্থে আঘাত হানে তাহলে আমরা চূড়ান্তভাবে রুখে দাঁড়াব।’

অ্যাডমিরাল আলী রেজা তাংসিরি আরও বলেন, ‘যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনেই মার্কিন সেনাদের লাশ ইরানি কফিনে ভরে হরমুজ প্রণালীর বাইরে পাঠানো হবে।’

আলী রেজা তাংসিরি বলেন, ‘ইরানের স্বার্থ হুমকির মুখে পড়লে শত্রুর দাঁত ও হাত ভেঙে দেয়া হবে এবং এটি কোনো স্লোগান নয়, অতীতে আমরা বাস্তবে প্রমাণ করে দেখিয়েছি।’ এ সময় তিনি ইরানি একটি প্রবাদ উল্লেখ করে বলেন, “পরীক্ষা করা জিনিস আবার পরীক্ষা করা ভুল।” তিনি শত্রুদেরকে পরামর্শ দেন, যেন তারা ইরানের জাতীয় স্বার্থকে হুমকির মুখে না ফেলে।

Categories
রাজ্য

উনি মুখ খুললেই ৫০ হাজার ভোট ভোগে যায়, তাই পিকের নির্দেশে মুখ বন্ধ মমতার: কটাক্ষ তথাগত রায়ের

উনি মুখ খুললেই ৫০ হাজার ভোট ভোগে যায়, তাই পিকের নির্দেশে মুখ বন্ধ মমতার: কটাক্ষ তথাগত রায়ের

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: বিভিন্ন ভাবে সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টা করছেন একদা রাজ্যের বিজেপি সভাপতি ও মেঘালয়ের প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায় । কিন্তু দিলীপ ঘোষদের অবহেলায় খানিকটা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে রয়েছেন রাজ্য বিজেপিতে। এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধতে গিয়ে তিনি তৃণমূলের ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের মুখে কথা বসিয়ে দিলেন! টুইট করে একেবার ভিন্নমাত্রা এবং অবশ্যই নজিরবিহীন আক্রমণের পথে হাঁটলেন তথাগত রায়।

নিজের টুইটে তথাগত রায় লিখেছেন যে প্রশান্ত কিশোর নাকি একেবারেই চান না, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও কথা বলুন। কারণ, মুখ খুললেই তিনি ‘ডহরবাবু’, ‘বিষ্ণুমাতা’র মতো অর্থহীন, হাস্যকর কিছু শব্দ প্রয়োগ করবেন আর তাতেই নাকি ৫০ হাজার ভোট কমে যায়। তাই পিকে চান, মমতা চুপ থাকুন। এরপর কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্তর একটি লাইন উদ্ধৃত করে কটাক্ষ বর্ষণ সমাপ্ত করেছেন এই বিজেপি নেতা।

Categories
বিশ্ব

অবাক কান্ড: নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন নরেন্দ্র মোদি!

নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন নরেন্দ্র মোদি!

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: ২০২০ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন নরেন্দ্র মোদি। তাও আবার চিকিৎসা ব্যবস্থার গবেষণায় তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য। কি ভাবছেন? গাঁজাখুরি খবর? একেবারেই নয়। ভারত’এর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেই এই পুরস্কার পেয়েছেন বন্ধু ডোনাল্ড ট্রাম্প’ও। নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন ব্রাজিল, মেক্সিকো, বেলারুশ, টার্কি, তুর্কমেনিস্তান’এর প্রশাসনিক প্রধানরাও।

অ্যানালস অফ ইমপ্রবাবেল রিসার্চ (Annals of Improbable Research) ম্যাগাজিনের তরফে প্রতিবছর আই.জি নোবেল শান্তি পুরস্কার বিতরণ করে। কিন্তু পুরোটাই ব্যঙ্গ করে। নাম দেওয়া হয়েছে আই.জি নোবেল (Ig Nobel Prizes)। কোনও বিষয়ে একজন দেশের প্রধান যখন সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন, তখন তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয় এই নোবেল শান্তি পুরস্কার।

আর ভারত’এর স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর চিত্র গোটা বিশ্বের কাছে যেভাবে প্রকাশ্যে এসেছে, তারপর এই পুরস্কারের যোগ্য ব্যক্তি অবশ্যই নরেন্দ্র মোদি। এমনটাই মনে করছে জনপ্রিয় এই ম্যাগাজিন। কোভিড-১৯’এর মোকাবিলায় অসাধারণ সাফল্য পেয়ে ভারত’কে গ্রাফের প্রথম তিনে নিয়ে আসা, তথ্য চেপে দেওয়া এবং সর্বোপরি বাস্তব থেকে মুখ ফিরিয়ে কোভিড-১৯ নিয়ে আজগুবি তথ্য পেশ করার মতো বিষয়গুলোর ওপর ভিত্তি করেই মোদি জিতে নিয়েছেন এই নোবেল প্রাইজ।

তবে মোদি একা নন, ২০০১ সালে এই আই.জি নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন আরেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী। নিউক্লিয়ার বোমা যাচাই করে দেখার মতো ‛শান্তিপূর্ণ’ কাজের জন্য তাঁকে দেওয়া হয় এই নোবেল।

সূত্র the bengal herald

Categories
রাজ্য

সেক্স করলেই পাবে পদ – দলের মহিলা কর্মীকে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ বিজেপি সভাপতির

সেক্স করলেই পাবে পদ – দলের মহিলা কর্মীকে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ বিজেপি সভাপতির

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: হ্যাঁ, ঠিকই শুনছেন। কামে আসক্ত বিজেপির যুব মোর্চার নদীয়া দক্ষিণ সভাপতি ভাস্কর ঘোষ। আপনারাই দেখুন মহিলা কর্মীদের রাতে কি কি মেসেজ করে বিজেপি সভাপতি।

খবরের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফেসবুকে পোস্ট থেকে সংগৃহীত Screenshot

 

মহিলাকে যৌনতার প্রস্তাব দিয়ে হোটেলে নিয়ে যেতে চাইলেন রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ

 

মিছিলের পর ১ঘন্টা বিছানায় কাটাতে হবে’ – বিজেপি নেত্রীকে কুপ্রস্তাব দলের সাধারণ সম্পাদকের

Categories
রাজ্য

মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্বভার পেলেন আইএএস মোহাঃ গোলাম আলি আনসারি: আশার আলো দেখছে চাকরি প্রার্থীরা

মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্বভার পেলেন আইএএস মোহাঃ গোলাম আলি আনসারি: আশার আলো দেখছে চাকরি প্রার্থীরা

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান পদের অতিরিক্ত দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন মুহাম্মদ গোলাম আলি আনসারি। শুক্রবার থেকে তাঁকে এই পদের দায়িত্ব সামলানোর জন্য রাজ্য সরকারের গেজেটে জানানো হয়েছে। গত মে মাসে রাজ্য দফতরের সচিব পদে নিযুক্ত হন মুহাম্মদ গোলাম আলি আনসারি।

এই দুই পদ সামলানো ছাড়াও তিনি একাধিক পদেও নিযুক্ত রয়েছেন। বর্ধমান বিভাগের কমিশনারের দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ন্যাশনাল হেলথ মিশনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) পদেও রয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁকে পাবলিক হেলথ ইঞ্জিনিয়ার বিভাগের সচিব পদেও নিযুক্ত করা হয়েছে। ২০০০ সালের ‘ব্যাচে’ তিনি আইএএস পদে নিযুক্ত হন। প্রথমে তিনি পূর্ব মেদিনীপুর জেলা কাঁথি মহকুমার এসডিও পদে নিযুক্ত হন। তার পর তিনি পূর্ব মেদিনীপুর– বাঁকুড়া প্রভৃতি জেলার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পদের দায়িত্ব সামলছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের জয়েন্ট সচিবের দায়িত্বেও ছিলেন তিনি।

এর আগে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের দায়িত্বে ছিলেন আব্দুর রাউফ। ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও দেওয়া হয়। এই বিষয়ে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মুহাম্মদ গোলাম আলি আনসারি বলেন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এই বিষয়ে এখন কিছু বলা সম্ভব নয়। একজন স্বচ্ছ ভাবমূর্তির আইএএস অফিসার মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের দায়িত্ব নেওয়ায় আশার আলো দেখছে মাদ্রাসার চাকরি প্রার্থীরা।

Categories
রাজ্য

মুর্শিদাবাদে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতার ৬: কেন্দ্রীয় সরকার অনেককেই অন্যায্য ভাবে গ্রেফতার করে বললেন প্রাক্তন সাংসদ

মুর্শিদাবাদে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতার ৬: কেন্দ্রীয় সরকার অনেককেই অন্যায্য ভাবে গ্রেফতার করে বললেন প্রাক্তন সাংসদ

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: শনিবার মুর্শিদাবাদ থেকে আলকায়দা জঙ্গি যোগ সন্দেহে ছ’জনকে গ্রেফতার করেছে এনআইএ। কেরলের এর্নাকুলাম থেকেও তিন জনকে পাকড়াও করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। তারাও মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা বলে খবর।

ঘটনায় যখন চূড়ান্ত উদ্বেগ প্রকাশ করলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। এব্যাপারে মুর্শিদাবাদের প্রাক্তন সাংসদ বদরুদ্দোজা খান সাংবাদিকদের বলেন “যদি সত্যিই জঙ্গি হয় আইন আইনের পথে চলবে! কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার অনেককেই অন্যায্য ভাবে গ্রেফতার করছে!” উদাহরণ হিসেবে উমর খালিদের কথাও বলেন তিনি।

বাংলাদেশের জামাত উল মুজাহিদিনের সঙ্গে যোগের কারণে গত এক বছরে একাধিক গ্রেফতারির ঘটনা ঘটেছে মুর্শিদাবাদে। খাগড়াগড় বিস্ফোরণের চাঁইদেরও মুর্শিদাবাদ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এ ব্যাপারে অধীর চৌধুরী স্পষ্টই বলেন, বারবার মুর্শিদাবাদের জঙ্গি যোগ তাঁর কাছে উদ্বেগের।

সিপিএমের প্রাক্তন সাংসদ বদরুদ্দোজা খান আরো বলেন বসিরহাটের তরুণী থেকে ধনেখালির কলেজছাত্রীর জামাত যোগের ঘটনা সামনে আসার পর অনেকেই বলেছিলেন, রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক দূর্বলতার কারণেই সন্ত্রাসবাদীদের আনাগোনা বাড়ছে বাংলায়। কিন্তু সে কথা মানতেই চাইলেন না বদরুদ্দোজা খান। বললেন, “পশ্চিমবাংলায় জঙ্গি কার্যকলাপ বাড়ছে বলে মনে করি না। পশ্চিমবাংলায় সমাজবিরোধী কার্যকলাপ বাড়ছে।” তিনি আরও বলেন, “এর আগেও অনেককে ধরেছিলকিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই তদন্ত কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে তা এখনও জানা যায়নি।”

মুর্শিদাবাদ থেকে ধৃত ৬ জন হল নাজমুস সাকিব, আবু সুফিয়ান, মইনুল মণ্ডল, লিউ ইয়ান আহমেদ, আল মামুন কামাল ও আতিউর রহমান। আর কেরলের এর্নাকুলাম থেকে ধৃত তিন জন হল মুরশিদ হাসান, ইয়াকুব বিশ্বাস ও মোশারফ হোসেন। ধৃতদের কেরল ও পশ্চিমবঙ্গের আদালতে তুলে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জেরা করার জন্য আবেদন জানানো হবে।