Categories
রাজ্য

গোর্খাল্যান্ডের দাবি তুলে বাংলা ভাগের দিকে এগোচ্ছে বিজেপি: সংসদে রাজু বিস্তার মন্তব্য ঘিরে সরব বিরোধীরা

গোর্খাল্যান্ডের দাবি তুলে বাংলা ভাগের দিকে এগোচ্ছে বিজেপি: সংসদে রাজু বিস্তার মন্তব্য ঘিরে সরব বিরোধীরা

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তাকে কেন্দ্র করে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। বিরোধীদের অভিযোগ, বাংলা ভাগ চেয়েছেন বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা। সংসদে বসে ফের গোর্খাল্যান্ডের দাবি উসকে দিয়েছেন তিনি। যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে বিজেপি। তাঁদের পালটা দাবি, বিজেপি নীতিগত সিদ্ধান্ত থেকেই বাংলা ভাগের বিপক্ষে।

দু’দিন আগেই সাংসদ রাজু বিস্তা বিজেপির নির্বাচনী ইস্তেহারে থাকা পাহাড়ের সমস্যার স্থায়ী রাজনৈতির সমাধান দাবি করেন সংসদে। সেই সময় পাহাড়ের সঙ্গে তরাই-ডুয়ার্সের বিস্তীর্ণ এলাকাও জুড়ে দেন।

সংসদে তিনি বলেন,”মোদি সরকার ইতিমধ্যে একাধিক বড় সমস্যার সমাধান করেছে। তাই পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্সের মানুষ আশা করেন গোর্খাল্যান্ড নিয়ে যে সমস্যা রয়েছে তার দ্রুত ও স্থায়ী সমাধান বের হবে।

সেখানকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে গোর্খাল্যান্ডের দাবি জানিয়ে আসছেন। এটা সাংবিধানিক দাবি। সরকার দু’বার বিভিন্নভাবে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি। তাই আমাদের দল ২০১৯ সালের নির্বাচনী ইস্তেহারে স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল”। সেই প্রতিশ্রুতি দ্রুত পালনের আরজি জানান সাংসদ। তাঁর এই বক্তব্যকে হাতিয়ার করে মাঠে নামে তৃণমূল-সহ বিরোধী দলগুলি।

রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব বলেন, “বিজেপির নেতারা পাহাড়ে এক, সমতলে আরেক এবং সংসদে অন্য বক্তব্য রাখছেন। তারা বাংলা ভাগের চক্রান্ত করছেন। যা আমরা শেষ রক্তবিন্দু থাকতে হতে দেব না। রাজনৈতিক ভাবেই বাংলা ভাগের চক্রান্ত রুখতে চরম প্রতিরোধ করা হবে”।

শিলিগুড়ির বিধায়ক তথা সিপিএম রাজ্য কমিটির সদস্য অশোক ভট্টাচার্য অবশ্য সাংসদের বক্তব্যকে এখনই গুরুত্ব দিতে চাইছেন না। তিনি বলেন, “বিজেপি নির্বাচনী ইস্তেহারে যা যা বলেছে, তার কোনওটাই পালন করেনি। পালন করবে, বলে এমন সদিচ্ছাও কোনওদিন দেখা যায়নি। সামনে নির্বাচন, তাই তারা বিভিন্ন রকম কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করে ভোট রাজনীতি করছেন। আমরা গতি প্রকৃতির দিকে নজর রাখছি।”

Categories
রাজ্য

সামসেরগঞ্জের ভাঙন কবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ জমিয়তে আহলে হাদীস ও সরল পথ একাডেমির

সামসেরগঞ্জের ভাঙন কবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ জমিয়তে আহলে হাদীস ও সরল পথ একাডেমির

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: জমিয়তে আহলে হাদীস পশ্চিমবাংলা ও সরল পথ একাডেমি (বয়েজ) ও সরল পথ গার্লস একাডেমি’র যৌথ উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। মুর্শিদাবাদ জেলার সামসেরগঞ্জ ব্লকের ধানঘরা, শিবপুর, ধুসূরিপাড়া সহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন গ্রামে নদী ভাঙ্গনের ফলে প্রায় 400 শতাধিক পরিবার সহায় সম্বলহীন ও গৃহহীন হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। নদী ভাঙন আজও অব্যাহত।

সরজমিনে পরিদর্শনের পর উপরোক্ত সংগঠনের দায়িত্বশীলগণ সবচেয়ে অসহায় গরীব দুস্থ মানুষের মাঝে কিছু আর্থিক সাহায্য করেন। ত্রাণ বিতরণের সময় আমরা অসহায়দের সাথে আছি এ বার্তা দিতে কিছু আলোচনা রাখেন জমিয়তে আহলে হাদীস পশ্চিমবাংলার রাজ্য সভাপতি শায়খ আবদুল্লাহ সালাফী।

তিনি বলেন, হিন্দু-মুসলিম আমরা সব একই আদমের সন্তান। আমাদের সবার রক্তের রং লাল। জাতি-ভেদাভেদ ভুলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের ঈমানী দায়িত্ব, আর সে দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি সবার প্রতি আবেদন রাখেন।

আলোচনা রাখেন রাজ্য সম্পাদক আলমগীর সরদার। তিনি বলেন, জীবনে বহু জায়গায় ত্রাণের কাজ করেছি কিন্তু এতো অসহায় অবস্থা অন্য কোথাও দেখিনি। ঘরবাড়ি-জমি জায়গা সব হারিয়ে বিষণ্ন বদনে উদাস মনে অপলক নয়নে গঙ্গা তীরে বসে একদল মায়ের কান্না বিজড়িত কন্ঠ বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, ঘর বাড়ি ভাঙার সাথে সাথে তাদের হৃদয়ও ভেঙ্গে চৌচির, আমাদের ঘরবাড়ি না ভাঙলেও আমাদের হৃদয় আপনাদের জন্য ক্ষতবিক্ষত। আমরা যতটুক পেরেছি আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছি, সম্ভব হলে আমরা আগামীতে আবারও পাশে এসে দাঁড়াবো। তিনি সরকারের কাছে ঘরহারা মানুষদের জন্য আবেদন রাখেন, অনতিবিলম্বে তাঁদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক। তিনি সর্বসাধারণের কাছেও অসহায় মানুষদের পাশে এসে দাঁড়ানোর জন্য উদাত্ত আহবান রাখেন।

বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহ সম্পাদক আইনুল হক। উপস্থিত ছিলেন সরল পথ একাডেমির চেয়ারম্যান তাজাম্মুল হক সালাফী, সরল পথ গার্লস একাডেমির সম্পাদক শেখ মুহাম্মদ মাসুদ, রাজ্য কোষাধ্যক্ষ মাস্টার আব্দুল অদুদ, জেলা সম্পাদক কুতুবউদ্দিন, জেলা সহ সভাপতি নাজমে আলম সানাবিলি, উঃ 24 পরগনা জেলা সভাপতি হানিফ আল হাদী, ব্লক সভাপতি রফিকুল ইসলাম, আলী হোসেন প্রমূখ। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন সামসেরগঞ্জ ব্লকের সংগঠনের ব্লক কমিটি।

 

Categories
দেশ

দেশে NSA ও UPA আইনের অপব্যবহার হচ্ছে: জেলের অমানবিক নির্যাতন নিয়ে জাতিসংঘে চিঠি কাফিল খানের

দেশে NSA ও UPA আইনের অপব্যবহার হচ্ছে: জেলের অমানবিক নির্যাতন নিয়ে জাতিসংঘে চিঠি কাফিল খানের

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুর বিআরডি হাসপাতালে প্রায় ৭০টি শিশুকে অক্সিজেন সরবরাহ করে হিরো হয়ে উঠেছিলেন ডা. কাফিল খান। কিন্তু সেটা ভালো চোখে দেখেনি উত্তরপ্রেদেশ সরকার। তাঁকে বিভিন্ন সময় নানা অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সর্বশেষ জাতীয় সুরক্ষা আইনে তাকে গ্রেফতার করে মথুরার জেলে দীর্ঘদিন বন্দি করা হয়। যোগী সরকারের ইচ্ছা না থাকলেও এলাহাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশে কয়েকদিন আগে তিনি ছাড়া পেয়েছেন।

জেল থেকে ছাড়া পেয়ে কাফিল খান অবশ্য আর উত্তরপ্রদেশে থাকাটা নিরাপদ মনে করেননি। কারণ, তিনি আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালংয়ে সিএএ বিরোধী সভায় বক্তৃতায় দেওয়ায় যেভাবে এনএসএ আইনে গারদে পোরা হয়েছে তাতে আর যোগী সরকারের উপর আস্থা রাখতে পারেননি। তাই তিনি আশ্রয় নিয়েছেন রাজস্থানের জয়পুর শহরে। এই শহরে বসেই তিনি রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার সংস্থা ইউনাইটেড নেশন স হিউমান রাইটস কমিশনে চিঠি লিখে এনএসএ ও ইউএপিএ আইনের অপব্যবহার নিয়ে অভিযোগ করেছেন।

ডা. কাফিল খান রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার সংস্থা ইউএনএইচআরসি-কে লেখা চিঠিতে লিখেছেন, ভারতে যেভাবে দানবের আইন এনএসএ ও ইউএপিএ অপব্যবহার করে মানুষের কণ্ঠরোধ করছে তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লংঘিত করছে। মথুরার জেলে থাকাকালীন তার উপর অত্যাচারের কথাও তুলে ধরেন ইউএনএইচআরসি-কে লেখা তাঁর চিঠিতে।

ডা. কাফিল খান ইউএনএইচআরসি-কে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, তাদেরকে ধন্যবাদ তারা সিএএ বিরোধী শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের গ্রেফতারের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।

Link

http://www.coastaldigest.com/india-top-story/dr-kafeel-khan-writes-un-against-violation-rights-misuse-draconian-laws-yogi-govt

Categories
দেশ

আবারও করোনা সংক্রমণের জন্য তবলিগি জমায়েতকে দায়ী করল কেন্দ্র সরকার

আবারও করোনা সংক্রমণের জন্য তবলিগি জমায়েতকে দায়ী করল কেন্দ্র সরকার

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: ভারতে করোনা সংক্রমণ দিনদিন বেড়েই চলেছে। ব্রাজিলকেও টপকে সংক্রমণের হারের দিক দিয়ে বিশ্বের দরবারে ভারতের স্থান দ্বিতীয় নম্বরে। এমন অবস্থায় ফের একবার করোনার ছড়ানোর জন্য তবলিগি জমায়েতকেই দুষল কেন্দ্র। আজ সংসদে জানানো হয় যে মার্চ মাসে দিল্লিতে তবলিগি জামাতের জমায়েত হয়েছিল এবং সেখান থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়েছে করোনাভাইরাস।

 

এদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জি কিষান রেড্ডি রাজ্যসভায় একটি লিখিত বক্তব্য পেশ করেন যাতে বলা হয় গত মার্চ মাসে দিল্লি পুলিশের গাইডলাইন ও নির্দেশিকা অমান্য করে এক বন্ধ জায়গায় বহু মানুষ জমায়েত হন। কোনওরকম সামাজিক দূরত্ব রাখা তো দূর তারা কেউই মাস্ক বা স্যানিটাইজারও ব্যবহার করেননি। যার জেরে বহু মানুষের মধ্যে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে।

Categories
দেশ

কৃষি বিলের বিরোধীরা জঙ্গি-সন্ত্রাসী: নরেন্দ্র মোদীর পাশে দাঁড়াতে গিয়ে কৃষকদের কদর্য ভাষায় আক্রমণ কঙ্গনার

কৃষি বিলের বিরোধীরা জঙ্গি-সন্ত্রাসী: নরেন্দ্র মোদীর পাশে দাঁড়াতে গিয়ে কৃষকদের কদর্য ভাষায় আক্রমণ কঙ্গনার

 

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: লোকসভার পর রাজ্যসভাতেও পাস হয়েছে কৃষি বিল। তবে এই বিল নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধীরা। তবে এবার এই কৃষি বিল নিয়ে মুখ খুললেন বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত। কৃষি বিলের প্রতিবাদে পাঞ্জাবে বিক্ষোভ দেখানো কৃষক আন্দোলনের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের তুলনা করেছেন অভিনেত্রী।

বলিউড আর শিবসেনা ছেড়ে এবার মোদী সরকারের কৃষিবিল নিয়ে পড়েছেন অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াত। কৃষিবিলের সমর্থনে কৃষকদের জঙ্গি বলে আক্রমণ করে বসেছেন অভিনেত্রী। তিনি বলেছেন যে কৃষকরা মোদী সরকারের কৃষিবিলের বিরোধিতা করছেন তাঁরা আসলে জঙ্গি।

রবিবার ‘কৃষিপণ্য লেনদেন ও বাণিজ্য উন্নয়ন বিল’ এবং ‘কৃষিপণ্যের দামে সুরক্ষা ও কৃষক ক্ষমতায়ন এবং চুক্তি সংক্রান্ত বিল’ পাশ হওয়ার পর হিন্দি, ইংরেজি এবং পঞ্জাবিতে টুইট করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সেখানে দুই বিলেই কৃষক স্বার্থ-রক্ষার আশ্বাস দেওয়া হয়। আর তাঁর টুইট শেয়ার করেন কঙ্গনা।

তিনি হিন্দিতে পাল্টা লেখেন, ‘প্রধানমন্ত্রীজি কেউ ঘুমিয়ে থাকলে জাগানো যায়। কারোর বুঝতে সমস্যা হলে বোঝানোর চেষ্টা করা যায়। কিন্তু, ঘুমানোর অভিনয় বা অবুঝ হওয়ার অভিনয় করলে, তাদের কীভাবে বোঝাবেন? এরা ওই সন্ত্রাসী, যারা CAA-র কারণে একজনের নাগরিকত্ব না যাওয়া সত্ত্বেও ওই ইস্যুতে রক্তের নদী সৃষ্টি করেছিল।’

Categories
রাজ্য

মাদ্রাসার শিক্ষক: তাই ভাড়া দিয়েও তাঁদের গেস্ট হাউসে থাকতে দেওয়া হল না সল্টলেকে

মাদ্রাসার শিক্ষক: তাই ভাড়া দিয়েও তাঁদের গেস্ট হাউসে থাকতে দেওয়া হল না সল্টলেকে

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: মাদ্রাসার শিক্ষক। তাই তাঁদের গেস্ট হাউসে থাকতে দেওয়া হল না। গেস্ট হাউস কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, মুসলিম শিক্ষক বলে আশেপাশের লোকজন আপত্তি জানিয়েছে। অসহিষ্ণুতার এই ঘটনায় মাদ্রাসা শিক্ষকরা অবাক ও একইসঙ্গে অপমানিত। পেশাগত কাজে মালদা থেকে ১০ জন মাদ্রাসার শিক্ষক আসেন বিকাশ ভবনে। ভোরবেলা কলকাতায় চলে আসেন তাঁরা। বিশ্রাম নেওয়ার জন্য সল্টলেকের ডি এল থার্টি নাইন বাড়ির গেস্ট হাউসের তিনটি ঘর আগে থেকে বুকিং করেছিলেন তাঁরা। তা সত্ত্বেও সেই গেস্ট হাউসের ঘর থেকে তাঁদের বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

https://youtu.be/B42VhzNgIUw

শিক্ষকদের অভিযোগ, মাদ্রাসার শিক্ষক এবং মুসলিম বলেই তাঁদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই পূর্ব বিধান নগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন শিক্ষকরা। শিক্ষকরা জানিয়েছেন, ১২০০ টাকা করে তিনটি রুম বুক করা ছিল সল্টলেকের ডি এল থার্টি নাইন বাড়িটির গেস্ট হাউসে। সেখানে সকালে ১০ জন স্কুল শিক্ষক এসে পৌঁছন মালদহ থেকে। রেজিস্টরের সই হওয়ার পর ঘর দেখাতে যাবার আগে তাঁদের বলা হয় এখানে জায়গা নেই। তাঁদের পাঠিয়ে দেয়া হয় সি এল 164 বাড়ির গেস্ট হাউস-এ। সেখানে ঘন্টা তিনেক বসিয়ে রাখার পর তাঁদেরকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ডি এল থার্টি নাইন এর এক কর্মী দেবু পইড়া বলেছেন, “আমাদের এখানে কোনো ঘটনা ঘটেনি। যা ঘটেছে সব সিএল 164 গেস্ট হাউসে।” সি এল 164 গেস্ট হাউসের কর্মকর্তা তন্ময় মুখার্জি বলেন, “আমার এখানে কোনো ঘটনা ঘটেনি। অন্য গেষ্ট হাউস পাঠিয়েছিল তিন ঘন্টা রাখার জন্য। তাঁদেরকে আমরা যে ঘরে সাময়িক ভাবে রাখি সেই ঘর আগে থেকে বুকিং করা ছিল। তাই দশটার সময় তাঁদেরকে চলে যেতে বলি। এর মধ্যে কোন ধর্মীয় বিষয় বা অন্য কিছুই নেই।”

বিকাশ ভবনের সামনেই রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে প্রায় ১০ জন স্কুল শিক্ষক। যার মধ্যে আটজনই প্রধান শিক্ষক। মালদহের কৃষ্ণপুর মাদ্রাসা শিক্ষা কেন্দ্রের প্রধান শিক্ষক সাদেক আলির অবসরের আর মাত্র এক বছর বাকি। চোখের জল মুছে তিনি বললেন, “শিক্ষক জীবনে এমন ঘটনার সম্মুখীন হইনি। কল্পনাতেও আসেনি যে এই দিন দেখতে হবে। আমার স্কুলের ৬০ শতাংশের বেশি শিক্ষক এবং কর্মী হিন্দু সম্প্রদায়ের।”

মালদহের শ্রীরামপুর মাদ্রাসা শিক্ষা নিকেতনের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলি বললেন, “আজকে যেভাবে অপমানিত হয়েছি তাতে অন্তরে আঘাত লেগেছে। একজন শিক্ষক হিসেবে এভাবে এই ঘটনা রাজ্যে ঘটতে পারে বলে ভাবনায় ছিল না।”
ইতিমধ্যে পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষক ঐক্য মুক্ত মঞ্চ থেকে পুলিসে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ দুটি গেষ্ট হাউসে পৌঁছে তথ্য সংগ্রহ করে।

Categories
রাজ্য

পশ্চিমবঙ্গকে জঙ্গিদের স্বর্গোদ্যান বলায় রাজ্যপালকে গ্রেফতারীর দাবি তৃণম‍ূল সাংসদ কল্যাণের

পশ্চিমবঙ্গকে জঙ্গিদের স্বর্গোদ্যান বলায় রাজ্যপালকে গ্রেফতারীর দাবি তৃণম‍ূল সাংসদ কল্যাণের

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: কিছু দিন আগে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে মুসলিম তোষণকারী বলে কটাক্ষ করেছিলেন রাজ্যপাল। মুর্শিদাবাদ থেকে ৬ জনকে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতারের পর ফের মুখ খুলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। তাঁর অভিযোগ, রাজ্য পুলিশের ডিজি উটপাখির মতো বালিতে মাথা গুঁজে আছেন। রাজ্য পুলিশের ডিজি সম্পর্কে তিনি ট্যুইটে আরও লিখেছেন, রাজ্যের শোচনীয় আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে তাঁর ডোন্ট কেয়ার ভাব দেখে আমি হতবাক। উনি রাজভবনের প্রশ্নের জবাবে লিখেছেন,’ পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ আইনে বর্ণিত পথই কঠোরভাবে অনুসরণ করে।’ রাজ্য তো জঙ্গি, অপরাধী, বেআইনি বোমা তৈরির স্বর্গোদ্যান।

রাজ্যপাল মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশ মানবাধিকারের সবচেয়ে বড় বিপদঘন্টা। শাসক দলের হার্মাদদের দিয়ে বিরোধীদের উপর জুলুমবাজি এদের প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকী সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার সময়েও এক চোখো হয়ে বিশেষ শ্রেণির উপর ব্যবস্থা নেওয়া, অন্য অংশকে রক্ষা করার ঘটনা অনভিপ্রেত এবং গ্রহনযোগ্য হতে পারে না।

রাজ্যপালের মন্তব্য নিয়ে কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, রাজ্যপালের মাথা ঠিক নেই, তাঁকে মেন্টাল হাসপাতালে ভর্তি হওয়া দরকার। এর পরেই তিনি বলেন, রাজপাল নিজেই চক্রান্তকারীদের আশ্রয় দিচ্ছেন, তাই ওনাকেই আগে গ্রেফতার করা দরকার।

Categories
রাজ্য

গণতন্ত্রকে হত্যা করছে বিজেপি: রাজ্যসভায় ৮ সাংসদের সাসপেনশন নিয়ে সরব মমতা ব্যানার্জি

গণতন্ত্রকে হত্যা করছে বিজেপি: রাজ্যসভায় ৮ সাংসদের সাসপেনশন নিয়ে সরব মমতা ব্যানার্জি

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: গণতন্ত্রকে হত্যা করছে বিজেপি, রাজ্যসভা থেকে ৮ সাংসদের সাসপেনশন নিয়ে এবার সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকাল কৃষি বিলের বিরোধিতায় রাজ্যসভায় সরব হয় বিরোধীরা৷ ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশ নারায়ণ সিং-এর উপস্থিতিতে ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখান কয়েকজন সাংসদ। এর জেরে ডেরেক ও’ব্রায়েন সহ আট সাংসদকে সাতদিনের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে। এরপরই এদিন বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দাগেন মমতা।

এদিন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান ভেঙ্কাইয়া নাইডু বলেন, ‘গতকাল রাজ্যসভার জন্য খারাপ দিন ছিল৷ সভার কয়েকজন সদস্য ওয়েলে নেমে আসে৷ রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যানকে শারীরিক হেনস্থার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়৷ তাঁকে কাজে বাধা দেওয়া হয়। এই ঘটনা খুবই দুর্ভাগ্যজনক ও একই সঙ্গে নিন্দনীয়৷’

এদিন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান ভেঙ্কাইয়া নাইডু বলেন, ‘গতকাল রাজ্যসভার জন্য খারাপ দিন ছিল৷ সভার কয়েকজন সদস্য ওয়েলে নেমে আসে৷ রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যানকে শারীরিক হেনস্থার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়৷ তাঁকে কাজে বাধা দেওয়া হয়। এই ঘটনা খুবই দুর্ভাগ্যজনক ও একই সঙ্গে নিন্দনীয়৷’

এরপর তিনি কেন্দ্রকে তোপ দেগে টুইট করেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে সাংসদদের এভাবে সাসপেন্ড করা এই স্বৈরাচারী সরকারের মানসিকতার প্রতিফলন যা গণতান্ত্রিক নিয়মাবলী এবং নীতিকে সম্মান করে না। আমরা মাথা নত করব না এবং আমরা সংসদে এবং রাস্তায় এই ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করব।’

সাতদিনের জন্য যেসব সাংসদকে সাসপেন্ড করা হয়েছে তাঁরা হলেন- তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, দোলা সেন, সিপিআইএম-এর কে কে রাগেশ ও এলামারান করিম, আম আদমি পার্টির সঞ্জয় সিং, কংগ্রেসের রাজু সাতাব, সইদ নাজির হুসেন ও রিপুন বোরা৷ এদিকে ডেপুটি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিরোধীরা যে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছিলেন তাও খারিজ করে দেওয়া হয়।

Categories
বিশ্ব

ইসরাইলকে স্বীকৃতির পুরস্কার হিসেবে মার্কিন ড্রোন পাচ্ছে আরব আমিরাত

ইসরাইলকে স্বীকৃতির পুরস্কার হিসেবে মার্কিন ড্রোন পাচ্ছে আরব আমিরাত

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট;সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণে ইহুদীবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের সঙ্গে বহুল বিতর্কিত এক চুক্তির পর মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদেশটির ব্যাপারে নিজেদের নীতির বড় পরিবর্তন আনছে ওয়াশিংটন।

আমিরাতের অস্ত্রাগারে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বড় ড্রোন রয়েছে। তবে এর বেশির ভাগই চীনের তৈরি। চীনা ড্রোনের পাশাপাশি এখন মার্কিন ড্রোনগুলো ক্রয়ের চেষ্টা করে আসছে দেশটি।

তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পরও এ ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছে ইহুদীবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল। গত সপ্তাহেই ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, নিরাপত্তার বিষয়ে তারা কোনোভাবেই আমিরাতকে বিশ্বাস করতে পারছে না।

ইহুদীবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে আমেরিকার উন্নত মানের অস্ত্র বিক্রির বিরোধিতা করলেও গোপনে দেশটির কাছে মার্কিন নির্মিত এফ-৩৫ জঙ্গিবিমান বিক্রির ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছে ইসরাইল।

শুধু তাই নয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে ইসরাইলের অস্ত্র বিক্রির জন্য গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদকে দায়িত্ব দিয়েছেন।

নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে আরব আমিরাতের কাছে মার্কিন এফ-৩৫ জঙ্গিবিমান বিক্রির বিরোধিতা করে আসছিলেন। কিন্তু গত ১৩ আগস্ট আমিরাতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তি সইয়ের পর তিনি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পাম্পেও’র সঙ্গে বৈঠক করেন এবং তখন থেকে আমিরাতের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির বিরোধিতা বন্ধ করেছেন।

দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, মার্কিন প্রশাসন আরব আমিরাতের কাছে আধুনিক মানের উন্নত অস্ত্র বিক্রি করতে চায় এবং নেতানিয়াহু ব্যক্তিগতভাবে এই পরিকল্পনার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছেন।

Categories
রাজ্য

লকডাউনে কাজ হারিয়েছে, নেই রোজগার: সপরিবারে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন

লকডাউনে কাজ হারিয়েছে, নেই রোজগার: সপরিবারে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: লকডাউন অনেকের কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে রুজি রোজগার। করোনা আবহে অনেকেই চাকরি হারিয়েছেন। যার ফলে নিত্যদিনের সংসার টানা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবার সেই কারণে মানবাধিকার কমিশন, মুখ্যমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি কাছে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানালেন এক মহিলা।

ঘটনাটি ঘটেছে মালদার ইংরেজবাজার থানার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের নেতাজি পার্কে। খবর জানাজানি হতেই রাজনৈতিক দলগুলো নড়েচড়ে বসেছে। তৃণমূল কংগ্রেস, কংগ্রেস, সিপিআইএম ও বিজেপি সহ একাধিক রাজনৈতিক দল নেমে পড়েছে আসরে। শাসক দলের বক্তব্য এই রাজ্যে অনাহারে কেউ মরবেন না। তারা কাউকেই অনাহারে মরতে দেবে না। অন্যদিকে কংগ্রেসের মতে এই ঘটনার শাসক দলের ও সভ্য সমাজের জন্য অত্যন্ত লজ্জার বিষয়। সিপিআইএমের মতে ওই সংসারের একজনের রোজগারের ব্যবস্থা নাকি তারাই করে দিয়েছিলেন। এই নিয়ে আপাতত চলছে টানাপোড়েন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে ওই মহিলার নাম চুমকি সিংহ। তাঁর স্বামী ও তিনি দুজনেই মুখ ও বধির ছিলেন। গত জুলাই মাসে চুমকির স্বামী মারা যান। দীর্ঘদিন ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন। চুমকি তাঁর স্বামী ও একমাত্র ছেলেকে নিয়ে বাপের বাড়িতেই থাকতেন। সেলাই করে সংসার চালাতেন চুমকি। তাঁর বাবা বিদ্যুৎ পর্ষদের প্রাক্তন কর্মী। কিন্তু তিনি পেনশন পান না। অবসরের পরে যে টাকা পেয়েছিলেন তাতেই তিনি মেয়ের বিয়ে দেন এবং বাড়ি করেন। যার ফলে প্রায় সমস্ত টাকা খরচ হয়ে যায়। এরপর যা টাকা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন তা চিটফান্ডে রাখেন।

কিন্তু সেই টাকাও হাতছাড়া হয়ে যায়। এরপর থেকেই চুমকি সংসার চালাতে শুরু করেন। কিন্তু এই লকডাউন পরিস্থিতিতে তিনি কাজ পাচ্ছিলেন না। অভাব চরমে উঠেছিল। কিন্তু লজ্জার কারণে কাউকে সে কথা বলতে পারছিলেন না। কার্যত বাধ্য হয়েছে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ও রাষ্ট্রপতির কাছে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানিয়েছেন তিনি।