Categories
দেশ

৫ বছরে ৫৮ দেশে ভ্রমণ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর: ৫১৭ কোটি ৮২ লক্ষ টাকা খরচ সরকারের

৫ বছরে ৫৮ দেশে ভ্রমণ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর: ৫১৭ কোটি ৮২ লক্ষ টাকা খরচ সরকারের

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: ঘনঘন বিদেশ সফরের কারণে বিভিন্ন সময়ে বিরোধীদের কটাক্ষ শুনতে হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। মঙ্গলবার রাজ্যসভায় এই সংক্রান্ত একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে বিদেশ মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী ভি মুরলীধরণ জানালেন, ২০১৫ সাল থেকে গত পাঁচ বছরে ৫৮টি দেশে সফর করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর পিছনে ৫১৭ কোটি ৮২ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে কেন্দ্রের। এরপরই এই বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এই তথ্য বিরোধীদের হাতে নরেন্দ্র মোদিকে আক্রমণের নতুন অস্ত্র তুলে দিল বলে মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

মঙ্গলবার রাজ্যসভায় একটি লিখিত প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে বিদেশ মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী ভি মুরলীধরণ বলেন, ‘২০১৫ সাল মার্চ থেকে ২০১৯ নভেম্বর পর্যন্ত মোট ৫৮টি দেশে ভ্রমণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি । এর ফলে মোট খরচ হয়েছে ৫১৭ কোটি ৮২ লক্ষ টাকা।’

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত মার্চে লোকসভায় দাঁড়িয়ে এই বিষয়ে একটি পরিসংখ্যান দিয়েছিলেন বিদেশ মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী ভি মুরলীধরণ। তাতে উল্লেখ করা হয়েছিল যে মোদির বিদেশ সফরের জন্য ২০১৫-১৬ সালে ১২১ কোটি ৮৫ লক্ষ, ২০১৬-১৭ সালে ৭৮ কোটি ৫২ লক্ষ, ২০১৭-১৮ সালে ৯৯ কোটি ৯০ লক্ষ, ২০১৮-১৯ সালে ১০০ কোটি ২ লক্ষ এবং ২০১৯-২০ সালে ৪৬ কোটি ২৩ টাকা খরচ হয়েছে।

Categories
দেশ

যোগী সরকারের রোষানলে প্রাক্তন সাংসদ আতিক আহমেদ: বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করে ভেঙে দেওয়া হচ্ছে একের পর এক প্রতিষ্ঠান

যোগী সরকারের রোষানলে প্রাক্তন সাংসদ আতিক আহমেদ: বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করে ভেঙে দেওয়া হচ্ছে একের পর এক প্রতিষ্ঠান

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: ক্ষমতায় আসার পর থেকেই যোগী আদিত্যনাথের সরকার মুসলিমদের প্রতি যে হিংসাত্মক মনোভাব পোষণ করে চলেছে তার সারা দেশে নজিরবিহীন। ক্ষমতায় আসার পর থেকে যোগী আদিত্যনাথের সরকার একের পর মুসলিম ব্যাক্তিত্ব ও সংগঠনকে সরকার বিরোধী আখ্যা দিতে উঠে পড়ে লেগেছে। সে ডা কাফিল খান হোক বা সিএএ বিরোধী আন্দোলনকারী হোক। সম্প্রতি যোগী প্রশাসন প্রাক্তন সাংসদ আতিক আহমেদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে নেমেছে। আতিক আহমেদকে যোগী প্রশাসন মাফিয়া ঘোষণা করে দিয়েছে এবং তদন্তে নেমে বহু সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে।

বাজেয়াপ্ত করার পর আতিক আহমেদের বিল্ডিংগুলিকে এতদিন পর্যন্ত বুলডজার লাগিয়ে ভাঙা হচ্ছিল। তবে ডিনামাইট লাগিয়ে আতিক আহমেদের অবৈধ বিল্ডিংগুলি উড়িয়ে দেওয়া হবে বলে জানা যাচ্ছে। বিগত ২ সপ্তাহে আতিক আহমেদের প্রায় ১১ টি বিল্ডিংকে ভেঙে ফেলা হয়েছে।

একই সাথে আতিক আহমেদের ১১ টি সম্পত্তিকে সিজ করে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এখন ডায়নামাইট লাগিয়ে বেশকিছু বিল্ডিংকে ধ্বংস করা হবে বলে জানা যাচ্ছে। এর জন্য প্রশাসন প্রস্তুতি নিচ্ছে। ডায়নামাইট বিস্ফোরণের দরুন আশেপাশের কারোর সম্পত্তির ক্ষতি হতে পারে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এর জন্য একটা বিশেষজ্ঞ টিম তৈরি করা হয়েছে। যাদের পর্যবেক্ষনে পুরো পক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে খবর আসছে। প্রয়াগরাজ থেকে ২০ কিমি দূরে আতিক আহমেদের ৪” বিঘা জমির খোঁজ পাওয়া গেছে। যেখানে আতিক আহমেদ ৫ তলা কোল্ড স্টোরেজ বানিয়ে রেখেছে। আশেপাশের জেলার মধ্যে এটাই সবথেকে বড়ো কোল্ড স্টোরেজ। সেই কোল্ড স্টোরেজকে ডায়নামাইট লাগিয়ে উড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তুতিতে নেমেছে যোগী প্রশাসন।

Categories
পাঠকের কলমে

তথ্য সন্ত্রাস ও হলুদ সাংবাদিকতার কবলে ভারতীয় মুসলিম সমাজ

তথ্য সন্ত্রাস ও হলুদ সাংবাদিকতার কবলে ভারতীয় মুসলিম সমাজ

পাঠকের কলমে বঙ্গ রিপোর্ট: গণমাধ্যমের মাথায় বহুল প্রচলিত একটি বিষয় জেঁকে বসেছে যার নাম ‘তথ্য সন্ত্রাস’। তথ্য সন্ত্রাস মানে মিথ্যা তথ্যের দ্বারা জনগণকে বিভ্রান্ত করা। কোনো কায়েমী গোষ্ঠীর দ্বারা সাম্প্রদায়িক বা অন্য যে কোন হীনস্বার্থে মিথ্যা, বানোয়াট, অতিরঞ্জিত ও উদ্দেশ্যমূলক তথ্য বা মিডিয়া প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে হিংসা, বিদ্বেষ, দ্বন্দ্ব-সংঘাত ছড়িয়ে, শ্রেণী সম্প্রদায় বা জাতিগত হানাহানি সৃষ্টির মাধ্যমে ধর্মীয় প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার মাধ্যমে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করাকে তথ্য সন্ত্রাসের পর্যায়ভুক্ত করা যায় । তথ্য সন্ত্রাস ও হলুদ সাংবাদিকতা প্রায় একে অপরের সমার্থক।

 

আধুনিক বিশ্বে তথ্য সন্ত্রাসের আরেক নতুন রূপ হলুদ সাংবাদিকতা। তথ্য পরিবেশনের চেয়ে উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে মিথ্যা তথ্য প্রচারের দুরভিসন্ধি চরিতার্থ করাই হল হলুদ সাংবাদিকতার মূল লক্ষ্য। বর্তমানে হলুদ সাংবাদিকতার উপর ভর করে রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের প্রধান টার্গেটই হল ‘ইসলাম-বিদ্বেষ।’ বর্তমান বিশ্বে তা আজ ব্যবহৃত হচ্ছে মুলমানদের দমনের হাতিয়ার হিসেবে। বলতে গেলে তথ্য সন্ত্রাস ও হলুদ সাংবাদিকতা বিশ্বব্যাপী মিডিয়া জগতে একটি কালো ছোবল। ভারতীয় মিডিয়াও তথ্য সন্ত্রাস ও হলুদ সাংবাদিকতার দ্বারা ব্যাপক ভাবে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে।

 

প্রকৃতপক্ষে সাংবাদিকতা করতে হলে যোগ্যতা নিরূপণের মাপকাঠিই বা কি এর উত্তর চাওয়ার ও পাওয়ার কোন সুযোগ আপাতত আমাদের দেশে নেই। ভারতীয় মিডিয়াকে গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলে মনে করা হয়, কিন্তু সেই মিডিয়া বিশেষ বিশেষ অশুভ শক্তির দ্বারা এমন ভাবে নিয়ন্ত্রিত যে মিডিয়ার কার্যকলাপে ভারতীয় গণতন্ত্র আজ ধুকে ধুকে মরছে। জনগণের অধিকার নিয়ে সরকারকে প্রশ্ন না করে সরকারের চাটুকদারি করা। সরকারের ভুল গুলিকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য গুরুত্বহীন বিষয়গুলি দিয়ে ইলেক্ট্রনিক এবং প্রিন্ট মিডিয়া গুলিকে ব্যস্ত করে রাখা। কায়েমী গোষ্ঠীর স্বার্থকে চরিতার্থ করার জন্য বিগত কয়েক দশক ধরে হাজার হাজার সৃজনশীল মুসলিম যুবকদের নামে ভূল তথ্য প্রচার করে তাদের জীবনকে অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

 

উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালে মহারাষ্ট্র পুলিশ ১১ জনকে গ্রেফতার করে। জামিল আহমেদ খান, মোহাম্মদ ইউনুস, ইউসুফ খান, ওয়াসিম আরিফ, আয়ুব ইসমাইল খান, সেখ সাফি, ফারুক আহমেদ খান, আব্দুল কাদের হাবিবি, সৈয়দ আসফাক মির, মুমতাজ মোর্তাজা মির ও হারুন আনসারি। এদের মধ্যে কয়েক জন ডাক্তার, কয়েক জন ইঞ্জিনিয়ার, ১ জন গবেষণারত ছাত্র। দেশজুড়ে সংবাদপত্রে হেডলাইন হল এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে ব্যাপক ভাবে প্রচার করা হল যে ‘শিক্ষিত মুসলিমরা বাবরি মসজিদ ধ্বংসের প্রতিশোধ নিতে জঙ্গি সংগঠনে যোগ দিচ্ছে’। ২৫ বছর পর ২০১৯ সালে এরা সকলেই নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন।

 

নিসার উদ্দিন আহমেদ, ১৯ বছর বয়সী কর্ণাটকের এক স্টুডেন্ট, ১৯৯৪ সালে একদিন কলেজে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়ে যায়, কিছুদিন পরে জানা যায় যে তাকে হায়দ্রাবাদ পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে সিরিয়াল ব্লাস্টে যুক্ত থাকার অভিযোগে। এরপর তার দাদা জাহির ও প্রতিবেশী মোহাম্মদ ইউসুফ কেউ একই অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। অবশেষে ২৩ বছর জেলে থাকার পর আদালতে তারা নির্দোষ প্রমানিত হলেন।

১৯৯৮ সালে ১৮ বছর বয়সী মোহাম্মদ আমির খান মায়ের জন্য ওষুধ কিনতে যাচ্ছিল। পথে দিল্লি পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে ৪ দিন টানা টর্চার করে ৫০০টি সাদা কাগজে সই করিয়ে নেয় ও তাকে টেররিস্ট প্ল্যানিং এ অভিযুক্ত করে। ১৪ বছর জেল খাটার পর তিনি নির্দোষ প্রমানিত হয়েছেন। দিল্লি সরকার তাকে মাত্র ৫ লক্ষ টাকা দিয়ে দায় সেরেছে।

 

শ্রীনগরের ১৭ বছর বয়সী মকবুল শাহ, লাজপথ নগর ব্লাস্টে অভিযুক্ত হয়ে ১৪ বছর জেলে থাকার পরে নির্দোষ প্রমাণিত হয়। দিল্লির ট্যাক্সি ড্রাইভার ইরশাদ আলি, টেররিস্ট সংগঠন আল-বদরের সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগে ২০০৫ সালে গ্রেফতার হয়। ১০ বছর পরে জানা যায় যে তাকে পুলিশ ইনফর্মার হওয়ার জন্য জবরদস্তি করে, কিন্তু তিনি পুলিশের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তার প্রতি মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করা হয়।

 

২০০৬ মালেগাঁও বিস্ফোরণে মুম্বই পুলিশ ৯ জনকে গ্রেফতার করে। নুরুল হুদা, সাব্বির আহমেদ, রইস আহমেদ, সালমান ফারসি, ইকবাল আহমেদ, মোহাম্মদ আলী, আসিফ খান, মোহাম্মদ জাহিদ ও আবরার আহমেদ। ১০ বছর পর এরা নির্দোষ প্রমানিত হয়েছেন। কর্ণাটকের সাব্বির গঙ্গাওয়ালি ২০০৮ সালে মুম্বই হামলায় অভিযুক্ত হয়ে ৮ বছর জেল খাটার পর নির্দোষ প্রমাণ হয়েছেন। ব্যাঙ্গালোরের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ইয়াহিয়া ২০০৮ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সন্ত্রাসবাদী হিসেবে জেলবন্দি থাকার পর আদালতে নির্দোষ প্রমাণ হন।

 

২০১২ সালের ১৭ জুলাই বাড়ি থেকে এক দল লোক সিভিল ড্রেসে এসে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় গার্ডেনরিচ মেটিআব্রুজের লিদিপাড়ার বাসিন্দা মুহাম্মদ হারুন রশিদ কে। তার সামনেই নেট থেকে কাগজ প্রিন্ট করে অনেক সাদা কাগজে সই করিয়ে নেয় পুলিশ। মুহাম্মদ হারুন রশিদের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। রাষ্ট্রদ্রোহী মামলাও ছিল। বিভিন্ন জেহাদী কাজে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু কোর্টে সব অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়ে ২০১৮ সালের ১৮ই মার্চ তাকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। মিডিয়ায় তাঁকে ‘জঙ্গি’ বলে প্রচার করা হয়েছে। সেই সময় কোন অঘটন ঘটলেই গোয়েন্দা সূত্র বা ওই ধরণের সূত্র দিয়ে মেটিআব্রুজের হারুন রশিদের নাম জুড়ে খবর হত। কিন্তু তিনি মুক্ত হবার পর সেই সব মিডিয়া আর কোন খবর করে নি।

 

নির্দোষ প্রমাণ হওয়ার এই রকম কয়েকশো উদাহরণ রয়েছে। এখনও হাজার হাজার এমন অভিযুক্ত ব্যক্তি বিচারের আওতায় জেলে পচে মরছে। এরা যখন গ্রেফতার হয়েছে তখন গোটা দেশেজুড়ে সব সংবাদমাধ্যমে এদের ব্যাপারে উদ্দেশ্যমূলক ভুল তথ্য এত বেশি প্রচার করা হয়েছে বা জঙ্গি বলে দেখানো হয়েছে যে নির্দোষ প্রমাণ হওয়ার পরেও তারা বাকি জীবনটা স্বাভাবিক ভাবে পরিচালনা করতে অক্ষম হয়েছে। কিছুদিন পূর্বে ঘটে যাওয়া দিল্লী দাঙ্গার পর বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদেরকে সরকার যে ভাবে আইনের আওতায় নিয়ে এসে হয়রানি করছে সেখানে মিডিয়াও সমানতালে সরকারের সঙ্গে তথ্য সন্ত্রাস করে চলেছে।

 

ঠিক তেমনি এই মুহুর্তে মিডিয়া মেতেছে এনআইএ কর্তৃক সন্ত্রাস সন্দেহে ধৃত মুর্শিদাবাদের ৯ জন মুসলিম যুবকের ব্যাপারে বানোয়াট ও হাস্যকর খবর ছড়াতে। কোন ব্যক্তি দেশদ্রোহিতার কাজে যুক্ত থাকলে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি অবশ্যই হতে হবে এবং তার জন্য আইন আছে, আদালত আছে। তাকে সন্ত্রাসী প্রমান করার দায়িত্ব কি মিডিয়ার? এবং সেটা প্রমান করার জন্য কি মিডিয়া যা ইচ্ছে তাই বলতে পারে? যে মিডিয়া ধৃত ব্যক্তির বাড়ির বাথরুমের চেম্বারকে সন্ত্রাসী কার্যের সুড়ঙ্গ বলে চালানোর চেষ্টা করে তাদের নিকট আমরা কি আশা করতে পারি? এদের দ্বারা গণতন্ত্র বাঁচবে? গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভকে এদের হাত থেকে বাঁচানো যাবে তো?

কলমে:
মাফিকুল ইসলাম
হরিহরপাড়া, মুর্শিদাবাদ

Categories
রাজ্য

আন্তর্জাতিকস্তরে এক রকম শেষ হয়ে যাওয়া আল কায়দার সাথে মুর্শিদাবাদ যোগ কিভাবে? প্রশ্ন নানা মহলে

আন্তর্জাতিকস্তরে এক রকম শেষ হয়ে যাওয়া আল কায়দার সাথে মুর্শিদাবাদ যোগ কিভাবে? প্রশ্ন নানা মহলে

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার ভোরে মুর্শিদাবাদ জেলার সীমান্তবর্তী ডোমকল মহকুমা এলাকার প্রান্তিক গ্রাম এবং কেরলের এর্নাকুলামে সন্ত্রাসবাদ দমনে দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন সংস্থা এনআইএ-র বিশেষ অভিযানে মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা তাদের প্রেস বিবৃতিতে দাবি করেছে, ধৃতরা আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল কায়দার সাথে যুক্ত এবং রাজধানী দিল্লি-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ধৃতরা নাশকতার পরিকল্পনা করেছিল। এনআইএ জানিয়েছে, ধৃতদের কাছ থেকে প্রচুর জিহাদি পুস্তক, দেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ডিজিটাল ডিভাইস, বিস্ফোরক বানানোর মশলা, দেশীয় পদ্ধতিতে তৈরি বর্ম উদ্ধার করা হয়েছে।

জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার এই দাবিকে পাল্টা প্রশ্ন করেছে মানবাধিকার কর্মীরা। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা বিবিসি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মানবাধিকার কর্মীদের পাল্টা প্রশ্ন, যেখানে আন্তর্জাতিক ভাবেই আল কায়দার অস্তিত্ব বিপন্ন সেখানে কীভাবে ধৃত এই ভারতীয় নাগরিকদের সঙ্গে তাদের যোগ সাজস খুঁজে পাওয়া গেল?

 

কিন্তু মানবাধিকার কর্মী ও অ্যাক্টিভিস্টরা পাল্টা প্রশ্ন তুলছেন, যেখানে আন্তর্জাতিকভাবেই আল কায়দার অস্তিত্ত্ব বিপন্ন সেখানে কীভাবে এই ভারতীয় নাগরিকদের সঙ্গে তাদের যোগসাজস খুঁজে পাওয়া গেল?

পার্লামেন্টে বিরোধী দলীয় নেতা অধীর চৌধুরীও মনে করছেন, ধৃতরা যদি আল কায়দার সদস্য হয়েও থাকে, সেটা সরকারের সাম্প্রদায়িক রাজনীতিরই পরিণাম।

 

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দক্ষিণ এশিয়া শাখার প্রধান মীনাক্ষি গাঙ্গুলি বিবিসিকে বলেছেন, এরা আল কায়দার সদস্য এ কথা বিশ্বাস করতেই তার কষ্ট হচ্ছে।

তার কথায়, “এখন তো আল কায়দা অপারেটই করছে না। আফগানিস্তানে শান্তি আলোচনা চলছে, আমরা তো আল-কায়দার কোনও কাজকর্মই দেখছি না। তাহলে এনআইএ হঠাৎ করে কেন আল কায়দার কথা বলল?”

“আফগানিস্তানে আল কায়দার বিরুদ্ধে লড়তে আমেরিকা যে সেনা মোতায়েন করেছিল সেটাও তারা প্রত্যাহার করে নিচ্ছে।”

“প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পর্যন্ত যেখানে আল কায়দার বিরুদ্ধে ‘ওয়ার অন টেরর’ শেষ করে দিচ্ছেন, সেখানে আমরা এখনও ভারতে আল কায়দা খুঁজে বেড়াচ্ছি এটা একটা অদ্ভুত ব্যাপার নয়?”, প্রশ্ন মিস গাঙ্গুলির।

এনআইএ অবশ্য বলছে, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে পাকিস্তানভিত্তিক আল কায়দা সদস্যরাই নাকি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে মুর্শিদাবাদের এই বাসিন্দাদের র‍্যাডিকালাইজ করেছে।

পশ্চিমবঙ্গের সুপরিচিত সিভিল রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিশা বিশ্বাস বলেছেন, এর আগেও ভারতের পুলিশ বা বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থা নানা জঙ্গী হামলার ঘটনায় শত শত মুসলিম যুবককে আটক করেছে এবং তাদের ইসলামিক স্টেট বা আল কায়দার সদস্য হিসেবে চার্জ এনেছে।

কিন্তু প্রায় নব্বই শতাংশ ক্ষেত্রেই তাদের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত কিছুই প্রমাণ হয়নি।

নিশা বিশ্বাস বলেছেন, “আসলে এই সরকারের প্যাটার্নই হল আসল ইস্যু থেকে মানুষের নজর ঘুরিয়ে দেওয়া: মহামারির দায় চাপিয়ে দাও তাবলীগ জামাতের ওপর, শ্রম আইনে সংস্কার নিয়ে সমালোচনা হলে রামমন্দির দেখিয়ে দাও।”

“এই মুহুর্তে সরকার অনেকগুলো বিল পার্লামেন্টে পাস করানোর জন্য মরিয়া। সেগুলো নিয়ে যাতে বেশি কথাবার্তা না হয়, তার জন্য চালাকি করে কিছু লোককে ধরে অ্যান্টি-ন্যাশনাল বলে দাও – মুর্শিদাবাদে ঠিক সেটাই হয়েছে।”

আর এই কাজে গত কয়েক বছরে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সিকে অবিশ্বাস্য পরিমাণে ক্ষমতা দিয়ে তাদের কাজে লাগানো হচ্ছে বলেও ড: বিশ্বাসের পর্যবেক্ষণ।

“এনআইএ-কে ক্ষমতা দিয়ে তার অসম্ভব অপব্যবহার করা হচ্ছে।”

“আপনি হিন্দু হলে ভীমা-কোরেগাঁওয়ের মতো কেস, আর মুসলিম হলে কাশ্মীর কিংবা নাগরিকত্ব আইনবিরোধী বিক্ষোভের জন্য মামলা – অজুহাতের কোনও অভাব নেই। বিরোধী কন্ঠস্বরকে স্তব্ধ করানো হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “এনআইএ সরকারের হয়ে এখন ঠিক এই কাজটাই করছে – বিরোধী রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে তল্লাসি চালানো বা তাদের ভয় দেখানোর জন্য যেভাবে এতদিন সিআইএকে ব্যবহার করা হয়েছে।”

বহরমপুরের সাংসদ ও লোকসভায় কংগ্রেসের বিরোধী দলনেতা অধীর চৌধুরী সরাসরি বলছেন না ধৃতরা কেউ আল কায়দার সঙ্গে জড়িত নন – তবে তার বিবৃতিতেও এনআইএ-র প্রতি কটাক্ষের সুর ছিল।

তার কথায়, “ভারতে বিভিন্ন জঙ্গী হামলার ঘটনায় এর আগেও মুর্শিদাবাদের নাম এসেছে। বাংলাদেশের জামায়েতুল মুজাহিদিন বা জেএমবিরও এই জেলায় ঘাঁটি ছিল।”

“কিন্তু আল কায়দার মতো সংগঠন, ওসামা বিন লাদেন যার নেতা ছিলেন বা যারা আমেরিকার টুইন টাওয়ার ধ্বংস করেছে – এরকম একটা ভয়ঙ্কর, ভয়ানক সংগঠনের সঙ্গে মুর্শিদাবাদের যোগসূত্র? আমার কাছে এটা কিন্তু অত্যন্ত দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে”, মন্তব্য করেছেন তিনি।

অধীর চৌধুরীর দাবি, বর্তমান ভারত সরকার যেভাবে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করছে তাতে দেশের একটা বিরাট সংখ্যক মানুষের কাছে সঠিক বার্তা যাচ্ছে না।

আর বিভিন্ন জঙ্গী সংগঠন হয়তো সেটারই সুযোগ নিয়ে লোকজনকে দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করছে।

সৌজন্যে: বিবিসি বাংলা, পিটিআই

Categories
বিশ্ব

ইসরাইলের সঙ্গে নমনীয় সম্পর্কের প্রতিবাদে আরব লীগের সভাপতির পদ প্রত্যাখান করেছে ফিলিস্তিন

ইসরাইলের সঙ্গে নমনীয় সম্পর্কের প্রতিবাদে আরব লীগের সভাপতির পদ প্রত্যাখান করেছে ফিলিস্তিন

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: ইহুদীবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের সাথে কয়েকটি আরব দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রতিবাদে আরব লীগের সভাপতি পদের দায়িত্ব প্রত্যাখান করেছে ফিলিস্তিন।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দখলকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ শহরে এক সংবাদ সম্মেলনে ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র ও অভিবাসীবিষয়ক মন্ত্রী রিয়াদ আল-মালিকি ই ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, সর্বশেষ ঘটনাবলীর প্রেক্ষাপটে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র আরব লীগের পর্যায়ক্রমিক সভাপতির পদ প্রত্যাখ্যান করছে।

ফিলিস্তিনের এই নেতা বলেন, ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পরও আরব লীগ সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহারাইনের পক্ষ অবলম্বন করায় আমরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

রিয়াদ আল-মালিকি বলেন, আরব লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে আরব দেশগুলো ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়টি উদযাপন করবে যাতে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র সম্মানিত বোধ করবে না।

তবে তিনি জানান, আরব লীগ থেকে সদস্যপদ ছেড়ে দেবে না ফিলিস্তিন। এতে বাজে ধরনের দৃশ্যপট তৈরি হবে বলেও মন্তব্য করেন রিয়াদ আল-মালিকি।

ফিলিস্তিনের শীর্ষ এ কূটনীতিক বলেন, আরব পিস ইনিশিয়েটিভের আওতায় যে সম্মেলন অনুষ্ঠানের কথা ছিল ইসরাইলের সাথে আরব আমিরাত ও বাহরাইন সম্পর্ক তৈরি করে তা মারাত্মকভাবে লংঘন করেছে।

এর আগে ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহারাইনের নিন্দা করতে আরব লীগের বৈঠকে একটি প্রস্তাব তোলে ফিলিস্তিন কিন্তু সে প্রস্তাব গ্রহণ করেনি আরব লীগ। সেসময় উল্টো ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষকে ক্ষমা চাইতে বলে এই জোট।

Categories
রাজ্য

এবার ২ কোটি টাকার জাল নোট ও ১৭ টি সোনার বিস্কুট সহ গ্রেপ্তার ৯

এবার ২ কোটি টাকার জাল নোট ও ১৭ টি সোনার বিস্কুট সহ গ্রেপ্তার ৯

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: এসএসবি গোয়েন্দা বিভাগের খবর অনুযায়ী কোচবিহার জেলার কোতোয়ালি থানার পুলিশ এবং এসএসবির ১৭ নম্বর ব্যাটালিয়নের যৌথ অভিযানে প্রায় এক কোটি টাকার জাল নোট এবং ১৭ টি সোনার বিস্কুট সহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করল কোচবিহার কোতোয়ালি থানার পুলিশ। এবং তৎসহ ধৃত ওই ৯ ব্যক্তির কাছ থেকে বেশ কয়েকটি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে সূত্র মারফত খবর পেয়ে কোচবিহার থেকে আসাম যাওয়ার পথে ডাওয়াগুড়ি এলাকার ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক এলাকা থেকে ওই ৯ জন দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের জেলা আদালতে তোলা হবে।

জানা গিয়েছে, অসমের নম্বর প্লেট লাগানো সুইফ্ট গাড়িটিকে দুটি হাইস্পিড বাইক পাহারা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। গাড়ি ও বাইকের দুটিকে আটক করে তল্লাশি চালালে উদ্ধার হয় ২ কোটিরও বেশি জাল ২০০০ ও ৫০০ টাকার নোট। একইসঙ্গে উদ্ধার হয়েছে ১৭টি সোনার বিস্কুট। ধৃত ওই ৯ জন পাচারকারীর কাছ থেকে অসমের নম্বর প্লেট লাগানো সুইফ্ট গাড়ি ও দুটি হাইস্পিড বাইক সিজ করা হয়। ধৃতদের বাড়ি কোচবিহার, আসাম সহ বিভিন্ন জায়গায়। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। ধৃতদের জেরা করে এই চক্রের সঙ্গে আরও অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না খোঁজ পাওয়ার চেষ্টা করছে কোতোয়ালি থানার পুলিশ।

Categories
রাজ্য

ভাঙড়ে শিস-এর আয়োজনে সাহিত্য সভা

ভাঙড়ে শিস-এর আয়োজনে সাহিত্য সভা

 
নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট:করোনার একঘেয়েমি থেকে মন ভালো রাখতে ভাঙড়ের সাদার্ণ হেলথ্ ইমপ্রুভমেন্ট সমিতি (শিস)-এর উদ্যোগে ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ মঙ্গলবার সকাল ১০ টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত সাহিত্য-আড্ডা ও কবিতা পাঠের আসর ছিল বেশ জমজমাট। এই সংস্থার নিজস্ব ক্যাম্পাসে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় বেশ কয়েকজন কবি ও সাহিত্যিক অংশগ্রহণ করেন।

শিস-এর ডিরেক্টর এম এ ওহাব ও সভানেত্রী সাবিত্রী পাল তাঁদের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মাধ্যমে এই অনুষ্ঠানের সুচনা করেন। এই অনুষ্ঠানে করোনাকালীন পরিস্থিতিতে লেখকদের ভূমিকা বিষয়ে আলোচনা সহ কবিতা পাঠ করেন বর্ষিয়ান কবি আবদুর রব খান, রাজু মণ্ডল, লালমিয়া মোল্লা, ফারুক আহমেদ, সহানুর ইসলাম ও হাসনুহেনা বেগম প্রমুখ।

ভাঙড়ে সাহিত্যচর্চা অব্যাহত রাখতে নিয়মিত সাহিত্যসভার পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে ভাঙড়ের সাহিত্যানুরাগীদের উজ্জীবিত করতে ‘শিস’ বদ্ধপরিকর থাকবে বলে জানালেন আন্তর্জাতিক এই সংস্থার মহাপরিচালক এম এ ওহাব। আপাতত ত্রৈমাসিক এই সাহিত্যসভা আয়োজিত হবে শিসের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে।

কখনও সুন্দরবনে ভ্রাম্যমান লঞ্চেও এই সভা আয়োজিত হবে বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন রাজনীতি ও ধর্মীয় বিষয়কে এড়িয়ে বিশুদ্ধ সাহিত্যের সাধনায় নিয়োজিত থেকে সৃষ্টিশীল থাকাই হবে আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য। বর্তমান মোবাইল ফোন বিপ্লবের যুগে হারিয়ে যাচ্ছে শিশুদের শৈশব। বইবিমুখ এই শিশুদের কথাও ভাবার কথা বলেন সভানেত্রী সাবিত্রী পাল।

উদার আকাশ পত্রিকার সম্পাদক ফারুক আহমেদ বলেন একসময় এই জাতীয় সাহিত্যসভা আয়োজিত হতো ঘটকপুকুরের নজরুল সুকান্ত পাঠাগারে। যেটি এখন বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। তাঁর প্রস্তাবে সম্মত হয়ে এই সভায় সকলে এই পাঠাগারটি নতুন করে খোলার বিষয়ে উদ্যোগী হবার কথা জানান।

Categories
রাজ্য

দরিদ্র মেধাবী ছাত্রীর পাশে ফুরফুরা শরীফ আহলে সুন্নাতুল জামাত

দরিদ্র মেধাবী ছাত্রীর পাশে ফুরফুরা শরীফ আহলে সুন্নাতুল জামাত

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট : মালদা জেলার কালিয়াচক থানার সৈয়দপুর গ্রামের মেধাবী ছাত্রী সাফিনা খাতুন। ছোটো থেকেই মেধাবী ছাত্রী কিন্তু পরিবার অসহায়। অসহায় পরিবার হওয়ার পরও ছোটো থেকে মেয়েকে ভালোভাবে পড়া শোনা করিয়েছেন। সাফিনার পিতা মুহাম্মদ জাকির হোসেন খান ৯ বছর আগেই মারা গেছেন, দাদা পড়াশুনার খরচ বহন করতেন। কয়েকবছর থেকে তারা অসহায় হয়ে পড়ে। পরিবারের আর্থিক সঙ্কট নেমে আসে।

 

উচ্চমাধ্যমিকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ভালো ফলাফল পেয়ে ডাক্তারি পড়ার ইচ্ছা থাকলেও আর্থিক সংকট এর জন্য ভর্তি হতে পারছিলেন না ওই ছাত্রী সাফিনা খাতুন। কোন দিশা খুঁজে না পেয়ে অবশেষে তারা দ্বারস্থ হয় ফুরফুরা শরীফ আহলে সুন্নাতুল জামাতের সর্বভারতীয় পরিচালক পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী ভাইজান এর কাছে। তারা একটি আবেদন পত্রে সাহায্য চেয়ে চিঠি লেখে সাফিনা খাতুন।

তারপর মালদা জেলা শাখা কমিটির তরফ থেকে তার বাড়িতে দেখা করে জেলা সম্পাদক মোঃ নাজমুস শাহাদাত এবং সম্পূর্ণ বিষয় ভাইজান কে জানানোর পর এই ওই অসহায় ছাত্রীর পাশে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী ভাইজান। চিঠিতে সাফিনা লিখেছেন- আমি ছোটো বেলা থেকেই খুব কস্টে পড়াশুনা করেছি কিন্তু আমি এখন আর ভর্তি হতে পারছি না অভাবের জন্য। হঠাৎ আমার দাদার একটা মুদিখানার দোকান বন্ধ হয়ে প্রচুর টাকা ঋণগ্রস্ত হয়ে যায় তার ফলে আমরা আর্থিক সঙ্কটে পড়ে গেছি। আমি এখন চোখের ডাক্তার হতে চাই। তাই ভাইজান আব্বাস সিদ্দিকী মহাশয়ের কাছে আমার নিবেদন যে আমাকে ভর্তি করার ব্যবস্থা করে দেন।

 

সাফিনার এই চিঠি পেয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে তাদের আর্থিক সহযোগিতা তুলে দিলেন পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী। আহলে সুন্নাতুল জামাতের মালদা জেলা শাখা কমিটির প্রতিনিধি দল সেই মেধাবী ছাত্রীর হাতে নগদ টাকা তুলে দিচ্ছেন, শিক্ষক আব্দুস সাত্তার, মাওলানা হারুন রশিদ, শিক্ষক মোস্তাফেজুর রাহমান, সাদ্দাম হোসেন প্রমুখ।

 

সংগঠনের মালদা জেলা শাখা কমিটির সম্পাদক মোহাম্মদ নাজমুস সাহাদাত জানান যে, ওই এলাকায় আফরাজুল কে রাজস্থানে পুড়িয়ে হত্যা করেছিল তার পাশেও আমরা যেমন আর্থিক সহযোগিতা থেকে শুরু করে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করেছিলাম অতএব পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী মহাশয়ের নির্দেশে সেই গ্রামের অসহায় দুস্থ পরিবারের মেধাবী ছাত্রীকে নগদ আর্থিক সাহায্য করা হল।

উল্লেখ্য যে, আহলে সুন্নাতুল জামাত প্রতিনিয়ত অসহায় মানুষদের পাশে দাড়ায়। যখন আফরাজুল কে জীবন্ত আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে মেরে ফেলা হয় তখনও আফরাজুলের পরিবারের কাছে সাহায্য নিয়ে পৌঁছে ছিলেন এই আহলে সুন্নাতুল জামাত। শুধুই অসহায় মানুষের সাহায্য নয় – দেশে হওয়া নিরীহ মানুষের উপর হওয়া জুলুমের বিরুদ্ধেও গর্জে ওঠে এই সংগঠন।

Categories
রাজ্য

“ভাতা নয়, চাকরি চাই”- কৃষ্ণনগরে মিছিল ও ডেপুটেশন যুবশ্রীর ছেলে মেয়েদের

“ভাতা নয়, চাকরি চাই”- কৃষ্ণনগরে মিছিল ও ডেপুটেশন যুবশ্রীর ছেলে মেয়েদের

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: নদীয়ার কৃষ্ণনগরে “ভাতা নয় চাকরি চাই” এই দাবী নিয়ে পথে নামল যুবশ্রীর ছেলে মেয়েরা। মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মেলেনি এখনো চাকরি। তাই তাদের বক্তব্য ভাতা দিতে হবেনা চাকরিটা দিন। আবার কারো দাবি ভাতা চালু হলেও এখনো পর্যন্ত মেলে নি তাদের সরকারি ভাতার অর্থ।

বঞ্চিত যুবক যুবতীদের দাবি অবিলম্বে চাকরি দিন এমনই দাবি নিয়ে সেইসব যুবক-যুবতীরা থালা হাতে ভাতা নয়, চাকরি চাই এই দাবী নিয়ে পথে নামলেন এই দিন কৃষ্ণনগর পোস্ট অফিস মোড় থেকে জেলাশাসক ভবনের নিকট একটি রেলি করে তারা এবং সেখানেই বিক্ষোভ সমাবেশের মাধ্যমে ডেপুটেশন জমা দেন নদীয়া জেলা শাসকের কাছে।

Categories
বিশ্ব

জাতিসংঘে না পেরে এবার ইরানের বিরুদ্ধে নিজেরা রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষেধাজ্ঞা দিল আমেরিকা

জাতিসংঘে না পেরে এবার ইরানের বিরুদ্ধে নিজেরা রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষেধাজ্ঞা দিল আমেরিকা

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: ইরানের বিরুদ্ধে আবার নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টার জন্য অভিযুক্ত করে সোমবার এ নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা ঘোষণা করেন।

তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২৭ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এবারের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু কর্মসূচির লাগাম টেনে ধরতে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে ওই বিশ্ব সংস্থার সবগুলো নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করতে ব্যর্থ হওয়ার পর এ পদক্ষেপ নিল ওয়াশিংটন; যদিও ট্রাম্প মুখে একথার স্বীকারোক্তি দেননি।

এদিকে ইরানবিরোধী নাটককে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেয়ার জন্য সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও, অর্থমন্ত্রী স্টিফেন মানুচিন ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপার এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের ঘোষিত নয়া নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করে বক্তব্য দিয়েছেন। অথচ ট্রাম্পের মতো তারা এ কাজটি একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশের মাধ্যমে করতে পারতেন।