Categories
বিশ্ব

১০০ বর্ষসেরা ব্যাক্তির তালিকায় আছেন রোহিঙ্গাদের পক্ষে লড়া গাম্বিয়ার আইনমন্ত্রী আবু বকর

১০০ বর্ষসেরা ব্যাক্তির তালিকায় আছেন রোহিঙ্গাদের পক্ষে লড়া গাম্বিয়ার আইনমন্ত্রী আবু বকর

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: গত চার বছর আগে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনী মানবতাবিরোধী যে হত্যাযজ্ঞ চালায়, তাতে জোরপূর্বক উচ্ছেদ, নির্বিচার গণহত্যা আর যৌন সন্ত্রাসের শিকার হন অগণিত মানুষ। প্রতিক্রিয়ায় চীন তাদের প্রতিবেশী মিয়ানমার সরকারের পক্ষে অবস্থান নেয়। অন্যদিকে, পশ্চিমা দেশগুলোও এ ব্যাপারে খুব বেশি এগিয়ে ছিল না। তাদের প্রতিবাদ ও নিন্দার ভাষায় আন্তরিকতার স্পষ্ট অভাব ছিল।

তবে তাদের মতো সাহসহীন ছিলেন না ৪৭ বছরের আবুবকর তাম্বাদু। রুয়ান্ডা গণহত্যায় গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক কৌঁসুলি ছিলেন। এ ট্রাইব্যুনালে তিনি প্রসিকিউটরের বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনিই এখন গাম্বিয়ার আইনমন্ত্রী ও দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল।

২০১৮ সালে তিনি বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শনে আসেন। সেখানে গণহত্যা থেকে বেঁচে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের কাছে শোনেন; রক্তহীম করা দুঃস্বপ্নের মতো অত্যাচার-নির্যাতনের বিবরণ। প্রভাবশালী দেশগুলো যখন মিয়ানমারের গণহত্যায় তথাকথিত নিন্দা-জ্ঞাপন করছে, তখন তাম্বাদু এবং তার গাম্বিয়া সরকার আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যা সংগঠনের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছিলেন।

সেই মামলায় আংশিক জয় হয়েছে গাম্বিয়ার। চলতি ২০২০ সালের জানুয়ারিতেই মিয়ানমার এবং দেশটির নেত্রী অং সান সূ চি’র বিরুদ্ধে রায় দেন আইসিজে বিচারকদের প্যানেল। সূ চি’কে মিথ্যাচারী অভিহিত করে আদালত রোহিঙ্গাদের দমন-পীড়ন বন্ধে মিয়ানমারকে তার সব ক্ষমতা ব্যবহারের আদেশ দেন। একইসঙ্গে, অতীতের গণহত্যার ঘটনা আইসিজে’র অনুসন্ধানকারীরা তদন্ত করে দেখবে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়।

সেই মামলায় আংশিক জয় হয়েছে গাম্বিয়ার। চলতি ২০২০ সালের জানুয়ারিতেই মিয়ানমার এবং দেশটির নেত্রী অং সান সূ চি’র বিরুদ্ধে রায় দেন আইসিজে বিচারকদের প্যানেল। সূ চি’কে মিথ্যাচারী অভিহিত করে আদালত রোহিঙ্গাদের দমন-পীড়ন বন্ধে মিয়ানমারকে তার সব ক্ষমতা ব্যবহারের আদেশ দেন। একইসঙ্গে, অতীতের গণহত্যার ঘটনা আইসিজে’র অনুসন্ধানকারীরা তদন্ত করে দেখবে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়।

কিন্তু, এমনটা না হওয়ার কারণ, গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রীর জন্য রোহিঙ্গা গণহত্যা অনেকটা তার ব্যক্তিগত অনুভূতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তাম্বাদু জানান, প্রধান কারণ; বিচারের উদ্যোগ নেওয়াটা সঠিক পদক্ষেপ ছিল, তাই কোনো দ্বিধা কাজ করেনি।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন শুধু ধনী এবং শক্তিশালী দেশের স্বার্থরক্ষার জন্য সংরক্ষিত কোনো বিষয় নয়। ন্যায়বিচারের পক্ষে দাঁড়াতে আপনার দেশটিকে সামরিক বা অর্থনৈতিক শক্তিতে বলীয়ান হতে হবে, এমন ধারণা ভ্রান্ত। আমরা যা করেছি তা মানবতার স্বার্থে, মানবতার নামেই করেছি।

Categories
পাঠকের কলমে রাজ্য

পশ্চিমবঙ্গে মাদ্রাসার হাল হকীকত: মাদ্রাসা মূলত তিন ধরনের- খারিজি মাদ্রাসা, সিনিয়র মাদ্রাসা ও হাই মাদ্রাসা

পশ্চিমবঙ্গে মাদ্রাসার হাল হকীকত: মাদ্রাসা মূলত তিন ধরনের- খারিজি মাদ্রাসা, সিনিয়র মাদ্রাসা ও হাই মাদ্রাসা

পাঠকের কলমে বঙ্গ রিপোর্ট: কোন ইসলামীয় পন্ডিত বা রাজনৈতিক ইসলামের হাত ধরে এই বঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষা আসে নি। বরং এসেছে ব্রিটিশের হাত ধরে। ক্যালকাটা মাদ্রাসা বা মাদ্রাসা-ই-আলিয়া প্রতিষ্ঠা করে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। সালটা ১৭৮০। তখনও ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। মূলত আশরফ ঘরের মুসলমানরাই এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ত। প্রথমে আরবী ইসলামীয় শাস্ত্র এবং কিছু বছরের মধ্যেই পাটিগনিত, জ্যামিতি, প্রকৃতিবিজ্ঞান, দর্শন, রেটোরিক, গ্রামারের মতো বিষয় গুলি অন্তর্ভুক্ত হয়। আরও কিছু বছর পরে ১৮২৬ এ চিকিৎসাশাস্ত্র চালু হয়। এই বিভাগটিই কলকাতা মেডিকেল কলেজ স্থাপিত হওয়ার পর সেখানে স্থানান্তরিত হয়। কলকাতা মাদ্রাসার অনুরূপ হুগলী মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন দানবীর হাজি মহসিন। শিক্ষাবিদ, বিচারপতি ও সুপন্ডিত সৈয়দ আমীর আলী এই মাদ্রাসা থেকেই পড়াশোনা করেছেন। দেশভাগের সময় ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কলকাতা মাদ্রাসার উপর কোপ পড়ে। গ্রন্থাগারের হাজার হাজার দূর্লভ সব বই ওপার বাংলায় চলে যায়। ধীরে ধীরে রক্ষনশীলদের হাতে পড়ে পুরো ব্যবস্থাটাই অচলায়তনে পরিনত হল।

বর্তমানে মাদ্রাসা মূলত তিন ধরনের – খারিজি মাদ্রাসা, সিনিয়র মাদ্রাসা ও হাই মাদ্রাসা। খারিজি মাদ্রাসার সঙ্গে বাকি দুটির আকাশ-জমিন তফাৎ। তবুও হিন্দুত্ববাদী সরকার, সংগঠন ও তাদের পোষ্য মিডিয়া তিনটেকে গুলিয়ে দিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। মাদ্রাসায় অস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, মাদ্রাসা মানেই জঙ্গি তৈরির কারখান ইত্যাদি প্রভৃতি। এটা সম্ভব হচ্ছে অমুসলিমদের সিংহভাগের মাদ্রাসা নিয়ে অজ্ঞতা। এই অজ্ঞতার দেশই বিজেপির মত হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক দলের ইউটোপিয়া। অমুসলিমদের একাংশ সরল মনে এসব অপপ্রচার বিশ্বাস করে ফেলছেন হোয়াটস্যাপ ইউনিভার্সিটির দৌলতে। একটা রাজনৈতিক দলের প্রোপাগান্ডাকে নিউজ হিসাবে ধরে নেওয়ার আগে একটু বাস্তবটা জেনে নেওয়া ভাল। রমরমিয়ে যে বিদ্বেষের চাষ চলছে সেটা কিছুটা হলেও রোধ করা যাবে।

খারিজি মাদ্রাসা সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত নয়। এই ধরনের মাদ্রাসা নিয়ে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করছি। তার আগে সিনিয়র ও হাই মাদ্রাসার কথা বলি। সিনিয়র মাদ্রাসা সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত। প্রথাগত ও সাম্প্রতিক শিক্ষার পাশাপাশি সিলেবাসে ধর্মীয় শিক্ষার বিষয় গুলি গুরুত্ব সহকারে অন্তর্ভুক্ত। এই ধরনের মাদ্রাসার সংখ্যা খুবই কম। হাই মাদ্রাসাও সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত। এর সিলেবাস ও পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষা বোর্ডের সিলেবাস একই। হাই মাদ্রাসায় কেবল বাড়তি বিষয় হিসাবে আরবি ভাষা পড়ানো হয়। এ ধরণের মাদ্রাসায় শিক্ষক ও ছাত্রদের একটা বড় অংশই হিন্দু কমিউনিটি থেকে আসা। হাই মাদ্রাসা সবার জন্য উন্মুক্ত, কোন বিশেষ ধর্মের মানুষের জন্য নয়। সিনিয়র মাদ্রাসার তুলনায় হাই মাদ্রাসার সংখ্যা অনেক বেশি। শিক্ষক নিয়োগ সরকারিভাবেই হয়। এখান থেকে পাস করে বেরোনো আর পশ্চিমবঙ্গ বোর্ড থেকে পাস করে বেরোনো একই মূল্য।

এবার আসি খারিজি মাদ্রাসার কথায়। একসময়ের উন্নততর শিক্ষা ব্যবস্থা এখন খারিজি মাদ্রাসার নামে ধর্মীয় কুপমন্ডুকতার নজির হিসাবে টিকে রয়েছে। এটা বাস্তবতা। খারিজি মাদ্রাসাকে বাকি দুই মাদ্রাসার সঙ্গে গুলিয়ে দিয়ে অপপ্রচার চলে।এখন খারিজি মাদ্রাসা বলতে আমরা যা বুঝি সেটাও হরেক কিসিমের। ছয় খানা সিলসিলা (ধারা) রয়েছে। দেওবন্দ সিলসিলা, ফুরফুরা সিলসিলা, আহলে হাদিস সিলসিলা, বেরেলি সিলসিলা, জমিয়ত ইসলামি ইত্যাদি। এই মাদ্রাসা গুলোতে যেসব ছেলেমেয়েরা পড়ে তারা নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে আসা। পড়ুয়ার সংখ্যাটা যে বিশাল তাও নয়। স্ন্যাপ ও গাইডেন্স গিল্ডের সমীক্ষায় উঠে এসেছে বাংলার মুসলমান সমাজের মাত্র 4% ছেলেমেয়ে খারিজীতে পড়ে। অথচ অপপ্রচার চালানো হয় যে মুসলিমরা ব্যাপক হারে ছেলেমেয়েকে মাদ্রাসায় পাঠাচ্ছে। এই প্রচার, এই ষ্টিরিওটাইপ সর্বৈব মিথ্যা।

যেসব পরিবার থেকে ওরা আসে তাদের পারিবারিক আয় মাসে আড়াই হাজার টাকার নীচে। বাংলায় এমন আয়ের পরিবার রয়েছে 38%. সিংহভাগই এতিম মিসকিন (অনাথ)। সেই অর্থে এই মাদ্রাসা গুলোকে অনাথ আশ্রম বলা যায়। অবস্থাসম্পন্ন মুসলিমদের জাকাত ফিতরার পয়সায় এদের খাওয়া পরার ব্যবস্থাটা হয়ে যায়। মাদ্রাসার বাচ্চাদের খাওয়াদাওয়া ভরনপোষনের জন্য কিছু আলেম কালেক্টর থাকে। মাদ্রাসার রসিদ বই নিয়ে তারা মুসলিমদের দরজায় দরজায় ঘোরে। যে যার সামর্থ্য মত সাহায্য করে। তাই মাদ্রাসার বাচ্চাদের ভরণপোষণের জন্য টাকা তুলে দেওয়া আলেমদের কাছে রসিদ বই থাকা অস্বাভাবিক কিছুই নয়। রসিদ কেটে টাকা নিয়ে গেছে এমন রসিদ আমার বাড়িতেও আছে। দূর্গাপূজো-কালিপূজোর চাঁদা দেওয়ার রসিদের সঙ্গেই আছে। অথচ অপপ্রচার চালানো হচ্ছে যে ধৃতদের কাছে “জেহাদি রসিদ” পাওয়া গেছে। শুধু অজ্ঞতা নয়, অজ্ঞতার উদযাপন চলছে এখন।

দানের পয়সাতেই মুখে ভাত ওঠে মাদ্রাসার অনাথ বাচ্চা গুলোর। খাওয়াপরার পাশাপাশি বাড়তি পাওনা হিসাবে রয়েছে দ্বীনি শিক্ষা। দেখা যাবে এরা মূলস্রোতের ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্কুলছুট বাচ্চা। পরিচারিকার কাজ করা বিধবা বা স্বামী পরিতক্ত্যা মাকে পাড়ার লোকে উপদেশ দেয় “ডানপিটে ছেলেকে মাদ্রাসাই ভর্তি করে দাও। ছেলে সোজা হয়ে যাবে। ঝামেলা পইতে হবে না।” অভাবের তাড়নায় হোক বা সেই সুবাদে কিছুটা সোয়াব পাওয়ার ক্ষিদেই হোক, বা পিতৃহীন ছেলে ডানপিটে নেশাখোর হয়ে যাবে সেই ভয়েই হোক, মা ছেলেমেয়েকে খারিজি মাদ্রাসায় ভর্তি করে দেন। এভাবেই নিম্নবিত্ত পিতৃহীন বা অনাথ বাচ্চারা মাদ্রাসায় আসে। অর্থাৎ মাদ্রাসায় পড়ানোর বিষয়টা যতটা না ধর্মীয় তার থেকে অনেক বেশি আর্থসামাজিক। আর্থিক অবস্থা ভাল কিন্তু ছেলেকে মাদ্রাসায় পড়াচ্ছেন, এমন পরিবার পাবেন না বললেই চলে। বহু মৌলনা মৌলবি আমার পরিচিত, কেউই তাদের ছেলেমেয়েদেরকে খারিজিতে পড়ান না। সবাই সরাকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই পড়ান। ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে, কিন্তু সেটা ব্যতিক্রমই। এক শিল্পপতি গোছের তাবলিগী আমিরকে চিনি, যিনি নিজে একটা মাদ্রাসা চালান, কিন্তু নিজের ছেলেকে বিদেশ থেকে ডাক্তারি পড়িয়ে এনে নার্সিংহোম খুলে দিয়েছেন। আজ সকালবেলাতেই এক ধর্মপ্রান টুপি দাড়ি ওয়ালা আলেমের সঙ্গে কথা হল। তাঁর দুই ছেলে দূর্গাপূরে ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ে। এমন উদাহরণ ভুরিভুরি।

তবুও খারিজি মাদ্রাসা প্রচুর গড়ে উঠছে। এমন কিছু ছাত্র হয় না সেখানে। কোনক্রমে টিকে আছে। আর্থিকভাবে স্বচ্ছল পিতামাতারা তাদের ছেলেমেয়েদের খারিজি মাদ্রাসায় পাঠায় না। কোয়ালিটি এডুকেশন নেই। মৌলানা, কারি, হাফেজ বানানোর যে কোর্স গুলো চালু রয়েছে সেগুলোর কোন সাম্প্রতিকরণ হয় নি। বোধ ও বিকাশের বদলে মুখস্থনির্ভর ব্যবস্থা চালু রয়েছে। চার বছরের কোরান-ই-হাফিজ কোর্সটা অযৌক্তিকভাবে মুখস্থ নির্ভর। এই কোর্সে কোরানশরীফ না বুঝেই কয়েক বছরে মুখস্থ করিয়ে দেওয়ার রেওয়াজ চালু রয়েছে। শিক্ষক যারা রয়েছে তারা না জানে ভাল বাংলা না জানে ভাল আরবী। কোরান শরীফকে সহজ সরলভাবে শিশুদের কাছে ব্যাখ্যা করবে সেই দক্ষতাও নেই। কয়েকটি সালপঞ্জীসম্বলিত ইসলামী ইতিহাস ছাড়া ইতিহাস ব্যাখ্যা বিশ্লেষণে তারা অপারগ।

দেওবন্দ নিয়ন্ত্রিত যে ৯৫০+ খারিজী এই বঙ্গে রয়েছে তার সিলেবাস তৈরি করে “রাবেয়াতে মাদারিস”। অষ্টম শ্রেনি পর্যন্ত্য ইংরাজী শিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। বাংলাও পড়ানো হয়। বাংলা বইটির নাম “হেরার আলো”। তবে সিলেবাসের গুনগত মান অত্যন্ত নিম্নমানের। শিক্ষাদানের পদ্ধতিও সেকেলে। যারা পড়ান তাদের যোগ্যতামান তেমন নেই। কিন্তু আমরা চাই মৌলানা ওয়াহিদুদ্দিন খানের মতো সমাজতাত্ত্বিক ধর্মবিসারদ কলামনিষ্ট। তেমন উৎকৃষ্ট প্রোডাক্ট এমন খারিজি মাদ্রাসা থেকে সম্ভব নয়। এখান থেকে পড়ে মসজিদের দুই তিন হাজার বেতনের ধর্মশ্রমিক ইমাম হচ্ছে কেবল। এটা ছাড়া তাদের সামনে আর কোন রুজির পথ খোলা থাকছে না।

পুরোপুরিভাবে একটা গয়ংগচ্ছ গতিতে চলছে এসব। অথচ কেন্দ্রীয় সরকার মাদ্রাসা এডুকেশন প্রকল্প থেকে বেশ কিছু মাদ্রাসাকে শিক্ষকপিছু ১২০০০ টাকা করে তিন জন শিক্ষককে বেতন দেয়। মাদ্রাসা গুলো সেই টাকায় আরও কিছু শিক্ষক নিয়োগ করে। তাদের বেতন দাঁড়ায় দুই থেকে তিন হাজার। আর আসে অবস্থাপন্ন মুসলিমদের থেকে জাকাত ফিতরার সাহায্য। গনহারে এত মাদ্রাসা তৈরি হচ্ছে। ছাত্র নেই। এর বদলে অল্প সংখ্যক মাদ্রাসায় কোয়ালিটি এডুকেশনের ব্যবস্থা করা যেতেই পারে। কারন পাবলিক ফান্ড রয়েছে। কোয়ান্টিটি নয়, কোয়ালিটি এডুকেশন দরকার। এটা বুঝতে হবে। পুঁজিবাদী বিশ্বের হেজেমনি মেনে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, প্রফেশনাল কোর্সের ব্যবস্থা করতে হবে, নচেৎ গতি নেই। দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি দুনিয়াবি শিক্ষার জন্য স্পেস দিতে হবে, না দিলে ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের জন্য যোগ্যতামান তারা অর্জন করতে পারবে না।

যুগের হাওয়া বুঝে বেশ কিছু মাদ্রাসায় কম্পিউটার শিক্ষার ব্যবস্থা চালু হয়েছে। তারা বুঝেছে পুঁজিতান্ত্রিক সমাজবিশ্বের সঙ্গে বেমানান যেকোন কিছুই মধ্যযুগীয় বলে দেগে দেওয়া হবে। তাই “সময়ের দাবি” মেনে অন্ধ ছাত্রছাত্রীদের ব্রেইলি পদ্ধতিতে শিক্ষাদানের ব্যবস্থা রয়েছে মেমারির মাদ্রাসায়। কিন্তু সেই কোয়ালিটি এডুকেশন খুবই সীমিত জায়গায়। এদের সিলেবাস বানিয়েছে “বাফেকুল মাদারিস”। বাফেকুলের সিলেবাস রাবেতুল মাদারিসের থেকে অনেক উন্নত। তবে আর্থিক সঙ্গতিহীন মাদ্রাসার পক্ষে বাফেকুলের সিলেবাস রূপায়ন করা অসম্ভব। একটি বিশেষ সমীক্ষার সুত্র অনুযায়ী বছরে গোটা বাংলায় অবস্থাপন্ন মুসলিমদের দানের পরিমান মোটামুটি ৪০০ কোটি। এই ছন্নছাড়া দান যদি একজায়গা করে একটি ফান্ড তৈরি করা যায় এবং সেটা আধুনিক শিক্ষা মিশন গুলোর পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি মাদ্রাসা গুলিতে বৃত্তিমূলক শিক্ষার ব্যবস্থা করে শিক্ষামান বাড়ানো যায়, তাহলে সেটা ভাল উদ্যোগ হবে।

আমরা জানি, মধ্যবিত্ত স্বচ্ছল শিক্ষিত মুসলিমরা প্রচেষ্টায় আল আমীন মিশন গড়ে উঠেছে। বাংলা জুড়ে তার ৭০ টি প্রতিষ্ঠান। এখান থেকে পড়ে প্রতিবছর শয়ে শয়ে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার বেরুচ্ছে। এখানে কোচিং এর সুযোগ নিয়ে প্রশাসনিক আধিকারিকও তৈরি হচ্ছে। এছাড়াও মামুন মিশন, তৌহিদ মিশন, আজাদ মিশন ইত্যাদি একাধিক মিশন তৈরি হয়েছে আল আমীনের আদলে। স্বচ্ছল মুসলিমদের অর্থসাহায্যে এই প্রতিষ্ঠান গুলো দিন দিন উন্নতি করছে। কিন্তু খারিজি গুলোর হাল ফিরছে না। খারিজির সংখ্যা অনাবশ্যকভাবে না বাড়িয়ে সেই অর্থে সাম্প্রতিক ও কারিগরি শিক্ষার প্রতি জোর দিলে ভবিষ্যত জীবনে থিতু হওয়ার উপযুক্ত হিসাবে এতিম বাচ্চা গুলোকে গড়ে তোলা যাবে। হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ও মিডিয়ার অহেতুক অপপ্রচার থেকেও রেহাই মিলবে।

কলমে:
আশরাফুল আমিন সম্রাট
শিউড়ি, বীরভূম

Categories
দেশ

বিশ্বের ১০০ জন প্রভাবশালীর তালিকায় তাঁর নাম, যদি দাবি পূরণ হত তাহলে বেশি খুশি হতাম: বলছে দাদী

বিশ্বের ১০০ জন প্রভাবশালীর তালিকায় তাঁর নাম, যদি দাবি পূরণ হত তাহলে বেশি খুশি হতাম: বলছে দাদী

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: দিল্লির শাহিনবাগে নাগরিকত্ব আইন বিরোধী ধরনায় অংশ নিয়ে শিরোনামে উঠে এসেছিলেন ৮২ বছরের ‘দাদি’ বিলকিস। সবাইকে রীতিমতো চমকে দিয়ে প্রথম সারির ‘টাইম’ ম্যাগাজিনে বিশ্বের ১০০ জন প্রভাবশালীর তালিকায় নিজের নাম তুলে নিয়েছেন তিনি। এই অবিশ্বাস্য কীর্তির পর স্বাভাবিকভাবেই তিনি খুশি। তবে তাঁর কোনও উচ্ছ্বাস নেই বললেই চলে। বিলকিস ‘দাদি’ বলছেন, যদি দাবি পূরণ হত তাহলে বেশি খুশি হতেন তিনি।

নিজের দুই বান্ধবী আসমা খাতুন (৯০) এবং শর্বরী (৭৫)-র সঙ্গে এসে প্রত্যেকদিন শাহিনবাগের বিক্ষোভ স্থলে যোগ দিতেন বিলকিস। ডিসেম্বর মাসে দিল্লির হাড় কাঁপানো ঠান্ডাও দমিয়ে দিতে পারেনি তাঁকে। রোজ শাহিনবাগে গেলেই দেখা মিলত এই ‘দিদা’দের। খুব শীঘ্রই সোশ্যাল মিডিয়াতেও জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন বিলকিস।

বৃহস্পতিবার টাইম ম্যাগাজিনে বিশ্বের ১০০ জন প্রভাবশালীর তালিকায় নাম আসার পর কী প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলেন বিলকিস? তাঁর ছেলে মনজুর আহমেদ বলেন, আমরা যখন মা’কে বললাম উনি খালি বললেন, ‘আচ্ছা’। টাইম ম্যাগাজিনের তালিকায় নাম আসায় পরিবার উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়লেও বিলকিস ততটা আনন্দিত নয়। তিনি বরং দাবি পূরণ হলেই বেশি খুশি হতেন।

তবে নিজের প্রতিক্রিয়ায় বিলকিস কাঁপাকাঁপা গলায় বলেন, ‘আমি উপরওয়ালার কাছে কৃতজ্ঞ। তবে যদি আমাদের দাবি পূরণ হত তবে অনেক বেশি খুশি হতাম। ভালো হত যদি সরকার আমাদের দাবিটা মেনে নিত (সিএএ প্রত্যাহার)। কোভিডের জন্য প্রতিবাদ বন্ধ করতে হল, খারাপ লাগছে। আমি ওখানে শেষ পর্যন্ত ছিলাম।’

বিলকিসের ছেলে আহমেদ বলেন, ‘গত ডিসেম্বরে প্রবল ঠান্ডায় একবার অসুস্থও হয়ে পড়েছিলেন মা, জ্বর এসেছিল। কিন্তু প্রতিবাদ মঞ্চে অংশ নেওয়া কখনও বন্ধ করেননি।’ বিলকিস ছাড়াও তাদের পরিবারের প্রত্যেকেই সিএএ বিরোধী প্রতিবাদে অংশ নিয়েছিলেন বলে জানান আহমেদ। যেহেতু তারা যৌথ পরিবার, তাই প্রত্যেক মহিলারাই অংশ নেন আন্দোলনে।

Categories
রাজ্য

NIA কর্তৃক মুর্শিদাবাদের গ্রেপ্তারকৃত যুবকদের বিরুদ্ধে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে: দাবি বিভিন্ন সংগঠনের

NIA কর্তৃক মুর্শিদাবাদের গ্রেপ্তারকৃত যুবকদের বিরুদ্ধে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে: দাবি বিভিন্ন সংগঠনের

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট:রাজ্যের প্রভাবশালী বিভিন্ন গণ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছেন গত ১৯শে সেপ্টেম্বর শনিবার সকালে মুর্শিদাবাদের ডোমকল মহাকুমা অন্তর্গত জলঙ্গি, ডোমকল, রানীনগর থানার বিভিন্ন স্থান থেকে ৬ জন যুবককে এবং ডোমকল মহাকুমা অন্তর্গত ৩ জন যুবককে কেরালা থেকে গ্রেপ্তার করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা NIA-এর বিশেষ টিম।

NIA, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার সূত্র মারফত বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে যে, এই ৯ জন যুবক বিভিন্ন ভাবে জঙ্গি সংগঠন আল কায়দার হয়ে কাজ করছিলো বলে অভিযোগ। যদিও তাদের পরিবার ও এলাকাবাসী যুবকদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ কে মিথ্যা বলে দাবি করেছে। এই পরিস্থিতিতে আমরা লক্ষ্য করছি গোটা রাজ্যজুড়ে এই গ্রেফতারির বিষয়কে কেন্দ্র করে একটি মহল নেতিবাচক ভাবধারা গড়ে তোলার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার অপপ্রয়াস চলছে। এই অবস্থায় বিভিন্ন গণ-সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই যৌথ বিবৃতি পেশ করছি :

১) NIA-এর বিশেষ টিম রাতের অন্ধকারে কয়েকজন যুবকের বাড়ি তল্লাশি ও গ্রেপ্তার করে। কোন অভিযোগের ভিত্তিতে এই গ্রেপ্তার গ্রেপ্তারকৃতদের ও পরিবারকে জানানো হয়নি বলে পরিবার ও এলাকাবাসীর অভিযোগ। যা মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।

২) গ্রেফতারির পরে একাধিক সংবাদমাধ্যমে NIA বা কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার সূত্র উল্লেখ করে বিভিন্ন রিপোর্টে এদের ‘আল কায়দা’ জঙ্গি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন ভাবে সন্ত্রাসী তকমা এঁটে দেওয়া হচ্ছে, অথচ আদালতে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই কিভাবে গ্রেপ্তারকৃতদের সম্বন্ধে এই সিদ্ধান্তে আসা যায়? এটি সংবিধান ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। এই প্রচার জনমানসে ও বিচার প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

৩) বাড়িতে সাধারণ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রকে বিভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্র, মারণাস্ত্র বলে উল্লেখ এবং ধর্মীয় বই-পুস্তককে জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ হল, সাধারণ একটি সেপ্টিকট্যাঙ্ককে গোপন সুড়ঙ্গ বলে প্রচার করা এবং নামায শিক্ষার বইকে (আরবী শেখার বর্ণপরিচয়) আল কায়দার সঙ্গে যুক্ত করা।

৪) একজন সাংবিধানিক প্রধান হওয়ার পরেও রাজ্যপাল এই বিষয়ে আপত্তিজনক বক্তব্য প্রদান করেছেন যা নিন্দাজনক। আমরা মনে করি সাংবিধানিক প্রধানের এই ধরনের মন্তব্য রাজ্যের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য চরম ক্ষতিকর। এক্ষেত্রে রাজ্যের কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার বক্তব্যও যথেষ্ট আপত্তিজনক।

৫) ধৃত যুবকদের বিষয়ে আমরা সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছি। আইন অনুযায়ী সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দোষী প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার আবেদন জানাচ্ছি। কিন্তু কোনো নিরপরাধ যুবককে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে তার ন্যায় পাওয়ার অধিকারকে যেন হরণ করা না হয়। ইতিপূর্বে বহু নিরপরাধ যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে কিন্তু দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকার পরে কোন অভিযোগই প্রমাণিত হয়নি। তাঁরাও একই রকমভাবে তথ্য সন্ত্রাসের শিকার হয়েছিলেন অথচ তাঁরা নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পরে তাদের বিষয়টি কোনো বিশেষ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেনি।

৬) NIA এর এই অভিযান উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কিনা সেই বিষয়ে জনমানসে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি পরিচালিত কেন্দ্রীয় সরকার কি এই রাজ্যে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করার জন্য একে তুরুপের তাস হিসেবে কি ব্যবহার করতে চাইছে? ৯ জন সংখ্যালঘু যুবকে গ্রেপ্তার করার পিছনে সাম্প্রদায়িক বিভেদমূলক রাজনৈতিক কৌশল আসল কারণ কিনা ভেবে দেখার যথেষ্ঠ কারণ রয়েছে। তাই রাজ্য প্রশাসন বা সরকারের কাছে আমরা এই তদন্তে হস্তক্ষেপ ও এর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছি। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো অক্ষুন্ন রেখে ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক ভারতবর্ষের জাতি ধর্ম নির্বিশেষে প্রত্যেকের নাগরিক ও সাংবিধানিক অধিকার যাতে বিঘ্নিত না হয় তার জন্য আবেদন জানাচ্ছি।

আবেদনকারীদের নাম:
১. প্রতুল মুখোপাধ্যায়, বিখ্যাত সংগীত শিল্পী।
২. সুজাত ভদ্র, প্রখ্যাত মানবাধিকার কর্মী।
৩. প্রসূন ভৌমিক, কবি ও সাহিত্যিক।
৪. মাওলানা আব্দুর রফিক, আমীরে হালকা – জামাআতে ইসলামি হিন্দ, পশ্চিমবঙ্গ।
৫. ত্বহা সিদ্দিকী, ফুরফুরা দরবার শরীফ ও সদস্য – অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড।
৬.ক্বারী মাওলানা শামসুদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক – জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ।
৭.অধ্যাপক অশোকেন্দু সেনগুপ্ত, প্রাক্তন চেয়ারপার্সন – চাইল্ড রাইটস্ কমিশন।
৮.অধ্যাপক দীপঙ্কর দে, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ।
৯.সৌমিত্র দস্তিদার, বিশিষ্ট ডকুমেন্টারি ফিল্ম মেকার।

১০. শরদিন্দু উদ্দীপন, জয়ভীম নেটওয়ার্ক।
১১. মুফতি আব্দুল মাতিন, সাধারণ সম্পাদক – সুন্নাত-অল-জামাআত।
১২. মাওলানা মো. কামরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক – সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশন।
১৩. মাওলানা মারুফ সালাফী, জমিয়তে আহলে হাদীস হিন্দ।
১৪. মাওলানা আলমগীর সর্দার, সাধারণ সম্পাদক – জমিয়তে আহলে হাদীস, পশ্চিমবঙ্গ।
১৫. পার্থ সেনগুপ্ত, সভাপতি – সদ্ভাবনা মঞ্চ ও সম্পাদক – বিশ্বকোষ পরিষদ।
১৬. নিয়ামত হোসেন হাবিবি, মিল্লি ইত্তেহাদ পরিষদ, কলকাতা।
১৭. মাওলানা শারাফাত আবরার, মজলিশে আহরার-এ-ইসলাম।
১৮. ছোটন দাস, সাধারণ সম্পাদক – বন্দী মুক্তি কমিটি।
১৯. মাওলানা তামিম সিদ্দিকী, সিতাপুর দরবার শরীফ।
২০. আব্দুল আজিজ, সম্পাদক – ফোরাম ফর ডেমোক্র্যাসী এন্ড কমিউনাল অ্যামিটি (FDCA), পশ্চিমবঙ্গ।
২১. শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক – আমানত ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট, কলকাতা।
২২. আবদুস সামাদ, আহ্বায়ক – এসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অফ সিভিল রাইটস্ (APCR), পশ্চিমবঙ্গ।
২৩. মুফতি মাওলানা তাহেরুল হক, দারুল কাযা, পশ্চিমবঙ্গ।
২৪. ওসমান গনি, রাজ্য সভাপতি – এস.আই.ও, পশ্চিমবঙ্গ।

Categories
দেশ

করোনার ছুতোয় অসমের দ্বাদশ শ্রেণীর রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সিলেবাস থেকে বাদ নেহরু, গুজরাট দাঙ্গা

করোনার ছুতোয় অসমের দ্বাদশ শ্রেণীর রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সিলেবাস থেকে বাদ নেহরু, গুজরাট দাঙ্গা

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: কয়েক মাস আগেই সিবিএসই-র সিলেবাস কাটছাঁট করা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক দানা বেঁধেছিল। এবার অসমের দ্বাদশ শ্রেণির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সিলেবাস থেকে বাদ পড়লেন জওহরলাল নেহেরু। পাঠ্যক্রম থেকে বাদ পড়েছে ১৯৮৪ সালের শিখ-বিরোধী দাঙ্গা, অযোধ্যার রাম মন্দির জমি সমস্যা এবং ২০০২ সালের গুজরাটে দাঙ্গাও। যদিও এর পিছনে কোনও রাজনৈতিক কারণ নেই বলেই দাবি করেছে অসম সরকার। বরং করোনা পরিস্থিতিতে পড়ুয়াদের উপর থেকে চাপ কমাতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।

কোন কোন অধ্যায় বাদ পড়েছে? ‘স্বাধীনতা পরবর্তী ভারতীয় রাজনীতি’র পাঠ্যক্রম থেকে বাদ পড়েছে প্রথম তিনটি সাধারণ নির্বাচন, রাষ্ট্র গঠন নিয়ে নেহরুর চিন্তাধারা, তাঁর বিদেশ নীতি এবং তাঁর পরবর্তী সময়ের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের ‘গরিবি হটাও’ নীতি। সিলেবাস থেকে ছাঁটাই হয়েছে মণ্ডল কমিশন রিপোর্টের প্রয়োগ, ১৯৮৪ সালের পাঞ্জাব সমস্যা ও শিখ-বিরোধী দাঙ্গা, ইউনাইটেড ফ্রন্ট ও এনডিএ সরকার, ২০০৪ সালের লোক সভা নির্বাচন ও ইউপিএ সরকার এবং অযোধ্যা জমি বিবাদ ও গুজরাট দাঙ্গা। এমনকী, ইতিহাস ও ভূগোল থেকে অসমের বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ও বাতিল হয়েছে।

Categories
রাজ্য

মাসিক বেতন সহ একাধিক দাবিতে আন এডেড মাদ্রাসা শিক্ষকদের ২৯ সেপ্টেম্বর ধর্ণা অবস্থান

মাসিক বেতন সহ একাধিক দাবিতে আন এডেড মাদ্রাসা শিক্ষকদের ২৯ সেপ্টেম্বর ধর্ণা অবস্থান

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: ওয়েস্ট বেঙ্গল রেকগনাইজড আন এডেড মাদ্রাসা টিচার্স এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) সকাল ১১ টা থেকে মাসিক বেতনের দাবীতে “বেঙ্গল আর্মির” পারমিশন নিয়ে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে ধর্ণায় বসতে চলেছে ।

অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে বলা হয় সংখ্যালঘু দরদী হিসেবে পরিচিত এই রাজ্য সরকার সংখ্যালঘুদের সুদীর্ঘ ৯ বছর ধরে ব্যাকফুটে নিয়ে যাওয়ার চক্রান্ত করছে। কোনো উন্নয়ন করেনি শুধু করেছে প্রবঞ্চনা। আর সেই প্রবঞ্চনার ছাপ বারংবার প্রকাশ্যে এসেছে। যদি এই রাজ্য সরকার সংখ্যালঘুদের আধুনিক শিক্ষার উন্নয়নই করে থাকে, তবে এই রাজ্য সরকার অনুমোদিত আন-এডেড্ মাদ্রাসার শিক্ষক- শিক্ষিকারা কি কারণে বারংবার আন্দোলনে নামছেন? কি কারণে তারা দীর্ঘ ৯ বছর ধরে বেতন থেকে বঞ্চিত?কেন্দ্র সরকারের দ্বারা প্রদেয় SPQUEM এর টাকা কি কারনে রাজ্য সরকার বন্ধ করে দিল ?এই প্রশ্নের উত্তর রাজ্য সরকার কি কখনো ভেবে দেখেছেন, না সংখ্যালঘু উন্নয়ন এর নামে সংখ্যালঘুদের উপর দ্বিচারিতা করছেন। সংখ্যালঘু সমাজ বর্তমান সরকারের কাছে এই প্রশ্ন রাখছে।

সংগঠনের রাজ্য সভাপতি জাভেদ মিয়াঁদাদ বলেন “এই অবস্থান-বিক্ষোভ এর মধ্যে দিয়ে আমরা সরকারকে আর একটা সুযোগ দিতে চাই আমাদের সঙ্গে বসার জন্য, নাহলে আমরা বৃহত্তর নবান্ন অভিযানে নামতে বাধ্য হব,সে অভিযান হবে রক্তক্ষয়ী অভিযান।”

সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক শ্রী পলাশ রম আরও বলেন “সরকারের এই দ্বিচারিতার মুখোশ আমরা সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সামনে তুলে ধরব আর এর ফলে ২০২১ সরকারের কাছে খুব সুখকর হবে না।”

Categories
দেশ

২২ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেফাজত উমর খালিদের

২২ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেফাজত উমর খালিদের

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেপাজতে পাঠানো হ’ল উমর খালিদকে। দিল্লি হিংসার ঘটনায় গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধেয় জে.এন.নিউ’এর এই প্রাক্তন ছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছিল দিল্লি পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে ইউ.এ.পি.এ ধারায় মামলা রুজু করে দিল্লি পুলিশের স্পেশ্যাল সেল। বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে তোলা হয়। সেখানে বিচারক উমরকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেপাজতের নির্দেশ দেন।

দিল্লি পুলিশকে আরএসএসের তোতা পাখি হিসেবেই দেখছেন বিরোধীরা। তাঁদের বক্তব্য, খালি চোখেই দেখা গিয়েছিল মনোজ তিওয়ারি, কপিল মিশ্র, অনুরাগ ঠাকুরদের মতো বি.জে.পি’র নেতা মন্ত্রীরা কী ধরনের হিংসা ছড়িয়েছিলেন। ‘গোলি মারো শালো কো’ স্লোগান দেওয়ার পরও তাদের নাম চার্জশিটে নেই। এর থেকেই দিল্লি পুলিশের মনোভাব স্পষ্ট।

অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক পরিচালিত দিল্লি পুলিশের চার্জশিটে নাম এল কংগ্রেস নেতা সলমন খুরসিদ এবং সি.পি.আই(এম) পলিটব্যুরো সদস্যা বৃন্দা কারাট এবং আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণের । ১৭ হাজার পাতার চার্জশিটে বলা হয়েছে, উমর খালিদ, সলমন খুরশিদ এবং নাদিম খান– সিএএ বিরোধী আন্দোলনে উপস্থিত হয়ে প্ররোচনামূলক বক্তৃতা দিয়েছিলেন। যা রাজধানীর বুকে হিংসাকে তরান্বিত করেছিল। যদিও সলমন খুরসিদ এবং বৃন্দা কারাটের কোন বক্তব্যে প্ররোচনা ছিল তা স্পষ্ট করে উল্লেখ নেই।

Categories
রাজ্য

উলাট পুরাণ: রাজ্য অশান্ত করার চেষ্টা করছেন রাজ্যপাল, বিধাননগর থানায় অভিযোগ দায়ের শিব সেনার

উলাট পুরাণ: রাজ্য অশান্ত করার চেষ্টা করছেন রাজ্যপাল, বিধাননগর থানায় অভিযোগ দায়ের শিব সেনার

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: বিধাননগর পূর্ব থানায় রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর এর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করলেন শিবসেনার সাধারণ সম্পাদক অশোক সরকার। এদিন বিধাননগর পূর্ব থানায় রাজ্যপালের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।

সাংবাদিকদের সামনে অশোক সরকার বলেন যে, গত ছয় থেকে সাত মাস ধরে রাজ্যপাল কাজ না করে শুধুমাত্র ট্যুইট করে যাচ্ছেন। এই টুইটে তিনি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক আপত্তিকর মন্তব্য করছেন। পশ্চিমবঙ্গে অশান্ত করার চেষ্টা করছেন তিনি। বাংলা এবং বাংলার সংস্কৃতির অপমান করছেন তিনি।

পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করে বলেন যে, রাজভবনকে বিজেপির অফিস বানিয়ে ফেলেছেন রাজ্যপাল। বিজেপি ছাড়া অন্য দলগুলিকে সময় দিচ্ছেন না রাজ্যপাল বলে অভিযোগ করেন তিনি। এইসব অভিযোগ নিয়ে থানায় অভিযোগ জানান তিনি।

Categories
বিশ্ব

উইঘুর মুসলিমদের বন্দি রাখতে আরো ডিটেনশন ক্যাম্প বানাচ্ছে চীন

উইঘুর মুসলিমদের বন্দি রাখতে আরো ডিটেনশন ক্যাম্প বানাচ্ছে চীন

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: উইঘুর মুসলিমদের বন্দি রাখতে জিনজিয়াং প্রদেশে আরো ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরি করছে চীন। অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠান দ্য অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইন্সটিটিউটের এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। বৃহস্পতিবার গবেষণাটি প্রকাশ করা হয়।

দ্য অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইন্সটিটিউটের পক্ষ থেকে বলা হয়, আগের অনুমানের চেয়ে ৪০ শতাংশ ডিটেনশন ক্যাম্প বেড়েছে জিনজিয়াংয়ে। সেখানে ৩৮০টির বেশি ডিটেনশন ক্যাম্প রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। জাতিসংঘের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চীন প্রায় দশ লাখ উইঘুর মুসলিম এই সব ডিটেনশন ক্যাম্পে বন্দি করে রেখেছে। তবে চীন বলছে জঙ্গিবাদ ঠেকাতে ‘নতুন করে শিক্ষা’ দেয়ার উদ্দেশ্যে ক্যাম্পে বন্দি করে রাখা হয়েছে উইঘুরদের।

দ্য অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইন্সটিটিউটের পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়েছে যে ২০২০ সালের জুলাই পর্যন্ত জিনজিয়াংয়ে নতুন করে আরো ৬১টি ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরি করা হয়েছে।

গবেষনা দলের প্রধান নাথান রুসার বলেন, তথ্য প্রমাণ বিশ্লেষণ করা দেখা যায় যে অনেক নির্দোষ ব্যক্তিকে মামলা দিয়ে সেখানে আটকে রাখা হয়েছে। রুসার গবেষণায় আরো বলেন যে আটক অনেক উইঘুর মুসলিমকে কড়া নিরাপত্তায় রাখা হয়েছে। আবার কিছু কিছু উইঘুর বন্দিদের শিল্পকারখানার নিকটবর্তী ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এ সব শিল্পকারখানায় জোর করে উইঘুর মুসলিমদের কাজ করানো হয়।

গবেষণাটি স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত ছবি, প্রত্যক্ষদর্শী এবং গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দ্য অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইন্সটিটিউট।

Categories
রাজ্য

কোভিড পরিস্থিতিতেই সরকারের ভাঁড়ে মা ভবানী অবস্থায় পুজো কমিটিকে ৫০ হাজার করে দেওয়ার ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

পিছনের সব রেকর্ড ছাপিয়ে কোভিড পরিস্থিতিতেই সরকারের ভাঁড়ে মা ভবানী অবস্থায় পুজো কমিটিকে ৫০ হাজার করে দেওয়ার ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: কোভিড পরিস্থিতিতে সরকারের ভাঁড়ে মা ভবানী। কিন্তু ‘মা দুর্গার আশীর্ব্বাদে’ এই প্রবল কঠিন সময়েও আজ বিষ্যুদবার তথা লক্ষ্ণীবারে দুর্গা পুজো কমিটিগুলোর যেন লটারি লেগে গেল। এদিন পুজো কমিটিগুলোকে নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে মিটিংয়ে ডেকেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই তিনি বাম্পার ঘোষণা করেন। বলেন, দুর্গাপুজো কমিটিগুলোকে এ বার ৫০ হাজার টাকা করে দেবে সরকার।

২০১৮ সাল পর্যন্ত দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকে ১০ হাজার টাকা করে দিত নবান্ন। কিন্তু গত বছর অর্থাৎ উনিশ সালে তা এক লাফে দেড়শ শতাংশ বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করা হয়। সেই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিলে ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু এ বারের ঘোষণা অতীতের সব রেকর্ডকেই ছাপিয়ে গিয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “আমাদের টাকা নেই পয়সা নেই সেটা ঠিক। … তবে পুজো কমিটিগুলো আমি জানি খুব প্রবলেমে রয়েছে। আমাদের একটা স্বল্প দান তো আমরা দিই। দান নয় ভালবাসা। এবার যেহেতু আপনাদের সমস্যা একটু বেশি রয়েছে। এ বার রাজ্য সরকার আপনাদের ৫০ হাজার টাকা করে দেবে প্রত্যেকটা পুজো কমিটিকে”।

শুধু কি তাই! এ বার পুজোয় উপরি বোনাসও পাবে পুজো কমিটিগুলো। মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানিয়েছেন, যে হেতু পুজো কমিটিগুলো খুব সংকটে রয়েছে, তাই এ বছর দমকলকে কোনও ফি দিতে হবে না। পুরসভাও কোনও ফি নেবে না। আর সিইএসসি ও রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদও বিদ্যুৎ মাশুলে ৫০ শতাংশ ছাড় দেবে!