স্ট্র্যান্ড রোডের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৭ : পরিবারপিছু ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা সরকারের

    স্ট্র্যান্ড রোডের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৭ : পরিবারপিছু ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা সরকারের

    নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: শহরে বিভিন্ন সময়ে বড় বড় অনেক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাই ঘটেছে। কিন্তু কোনও অগ্নিকাণ্ড সামাল দিতে গিয়ে চার-চার জন দমকলকর্মীর প্রাণহানি হয়েছে, এমনটা স্মরণ করতে পারছেন না প্রবীণ দমকল আধিকারিকরাও। সোমবার নিউ কয়লাঘাট বিল্ডিংয়ের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে রাত পর্যন্ত ৭ জনের মৃতদের উদ্ধার হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৪ জন দমকলকর্মী, ২ জন রেল কর্মী এবং হেয়ার স্ট্রিট থানার এএসআই রয়েছেন। সোমবার রাতে ঘটনাস্থলে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিনের অগ্নিকাণ্ডকে ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক’ বলে জানান তিনি। মৃতদের পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা ও ১ জনকে চাকরির দেওয়ার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    নিখোঁজ ৪ দমকলকর্মী-সহ আরও ৭ জন। এতজন দমকলকর্মীর মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তাঁদের কি পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ছিল? কেনই বা তাঁরা এত বড় অগ্নিকাণ্ডের মধ্যে লিফটে বহুতলের ১৩ তলায় ওঠার চেষ্টা করছিলেন। অগ্নিকাণ্ডে রেলের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এত বড় ঘটনায় দমকলকর্মীরা যখন প্রাণপণে বহুতলের ভিতরে ঢুকে আগুনের উৎসের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করছেন, তখন বিল্ডিংয়ের ম্যাপ বা নকশা কেন তাঁদের দেওয়া হয়নি- এ প্রশ্ন উঠেছে। তা হলে তাঁরা আরও সহজে আগুনের উৎসস্থলে পৌঁছতে পারতেন। এ ক্ষেত্রে রেলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী।

    দমকলের অবসরপ্রাপ্ত ডেপুটি ডিরেক্টর উদয় অধিকারী বলেন, ‘একসঙ্গে এতজন দমকলকর্মী বেঘোরে মারা গিয়েছেন, এমনটা আমারও স্মরণে আসছে না।’ যে কোনও অগ্নিকাণ্ডের সময় দমকলের তরফ থেকেই বার বার সতর্ক করা হয়, যাতে কেউ লিফট ব্যবহার না-করেন। আগুনে যাতে আরও বড় কোনও ক্ষতি না-হয়, সে জন্য বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার কথা। তা হলে এ দিন ওই দমকলকর্মী ও পুলিশকর্মীরা কেন লিফট ব্যবহার করে তড়িঘড়ি পৌঁছতে গেলেন?

    প্রাক্তন দমকলকর্তার বক্তব্য, ‘যাঁদের ভিতরে পাঠানো হয়েছিল, তাঁদের ঠিক প্রশিক্ষণ দিয়ে পাঠানো হয়েছে কি না, সে প্রশ্ন থেকেই যায়। তা ছাড়া যে অফিসার সেখানে দায়িত্বে ছিলেন, তাঁরও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন থাকে। যিনি দায়িত্ব নিয়ে ওই কর্মীদের ভিতরে পাঠালেন, তিনি যদি এমনটা না-করতেন, তা হলে হয়তো এ ভাবে প্রাণহানি হত না।’ দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু অবশ্য বলেন, ‘এমনিতে লিফট ব্যবহার করার কথা নয় এমন ঘটনায়। আমাদের কর্মীরা প্রাণ হাতে নিয়েই কাজ করেছেন। তাঁদের প্রশিক্ষণও রয়েছে। তবে তাঁরা কেন লিফটে উঠে গিয়েছিলেন, সেটা নিশ্চয়ই দেখা হবে।’

    আগুন লাগার সময় অফিস ছুটি হয়ে গিয়েছিল বলে ওই বহুতলে লোকসংখ্যা অনেকটাই কম ছিল। না-হলে বিপদ ও প্রাণহানি নিঃসন্দেহেই আরও বাড়ত। ঠিক কী ভাবে আগুন লাগল, তা নিয়ে ধন্দে দমকলকর্মীরা। শুধু গঙ্গার হাওয়াতেই আগুন ছড়িয়েছে নাকি দাহ্য বস্তু ও বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট বিপদ বাড়িয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।