মাস্ক ছাড়া রাস্তায় বেরোলেই ২০০০ টাকা জরিমানা: কড়া পদক্ষেপ সরকারের

মাস্ক ছাড়া রাস্তায় বেরোলেই ২০০০ টাকা জরিমানা: কড়া পদক্ষেপ সরকারের

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: করোনা ভাইরাস সংক্রমণের প্রাথমিক পর্যায় থেকে মহারাষ্ট্রের পরেই সবচেয়ে খারাপ অবস্থা ছিল দিল্লির। এখন সামগ্রিকভাবে দেশের ভাইরাস পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও আতঙ্ক বয়ে আনছে রাজধানী। কারণ সেখানে ভাইরাস পরিস্থিতি একেবারেই সুখকর নয়। এই প্রেক্ষিতে সংক্রমণ আটকানোর জন্য কড়া পদক্ষেপ নিল দিল্লির অরবিন্দ কেজরিওয়াল সরকার। ঘোষণা করা হল, রাস্তায় কাউকে মাস্ক ছাড়া দেখলেই ২০০০ টাকা জরিমানা করা হবে। যদিও এর আগে জরিমানা ধার্য ছিল ৫০০ টাকা।

কিছু সপ্তাহ আগে পর্যন্ত দিল্লির অবস্থা এতটা সঙ্গীন ছিল না। কিন্তু এখন রীতিমত কোভিড হটস্পট হয়ে উঠেছে রাজধানী। সংক্রমণের নিরিখে মহারাষ্ট্রকে ছাপিয়ে গিয়ে এখন দেশের শীর্ষস্থানে রয়েছে দিল্লি। একদিকে করোনাভাইরাস, অন্যদিকে বায়ু দূষণ, সব মিলিয়ে রাজধানীর মানুষের সাধারণ জনজীবনে জেরবার হয়ে আছে। এক্ষেত্রে সংক্রমণ রোধে জরিমানার অংক বাড়িয়ে দিয়েছে কেজরিওয়াল সরকার। বিগত কিছুদিন আগে রাজধানীর অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে কেন্দ্রীয় সরকার লকডাউন করার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল জানান, এখন তারা আর লকডাউন নিয়ে ভাবছেন না কারণ সংক্রমণের হার আগের থেকে নিম্নমুখী। যদিও, দুদিন আগেও রাজধানীতে প্রতি ঘন্টায় ৪ জন করে করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। দিনপ্রতি সংক্রমণেও আশংকা বাড়িয়েছে দিল্লি।

শেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী দিল্লিতে গত ২৪ ঘন্টায় ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৭৪৮৬ জন, একই সময় মারা গেছেন ১৩১ জন! দিল্লিতে মোট ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫,০৩,০৮৪ জন। কিন্তু সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ না করতে পারার জন্য কেজরিওয়াল সরকারকে তিরস্কার করেছে দিল্লি হাইকোর্ট। যদিও মনে করা হচ্ছে, চলতি সপ্তাহ গুলিতে একের পর এক উৎসব থাকার জন্যই এই ভাবে সংক্রমণের হার বেড়েছে রাজধানীতে। যদিও দেশের অন্যান্য কয়েকটি রাজ্যের চিত্র সেই কথা বলছে না। সেখানে উৎসব মরসুমে যথেষ্ট নিষেধাজ্ঞা পালন করা হয়েছে।

কিন্তু রাজধানী এই বিষয়ে কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। সেই কারণে আগামী দিনে সংক্রমণের মাত্রা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা।এদিকে, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়েছে, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪৫,৫৭৬ জনের শরীরে মিলেছে করোনাভাইরাস। নয়া সংক্রমণে মোট আক্রান্তের সংখ্য়া হয়েছে ৮৯,৫৮,৪৮৩ জন। এখনও চিকিত্‍‌সাধীন রয়েছেন ৪,৪৩,৩০৩ জন। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৮৩,৮৩,৬০২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৪৮,৪৯৩ জন। এখনও পর্যন্ত দেশে সুস্থতার হার ৯৩.৫৮%।