মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনে অযোগ্য সদস্য নিয়োগ করে চাকরি প্রার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অভিযোগ

    মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনে অযোগ্য সদস্য নিয়োগ করে চাকরি প্রার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অভিযোগ

    নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: দীর্ঘ টালবাহানার পর গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাজ্য সরকার মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের সদস্যদের যে মনোনয়ন দিয়েছেন তার নাম সামনে আসতেই কমিশন গঠনের নিয়ম কানুন অনুসরণ না করার অভিযোগ উঠেছে। রাজ্য সরকার যে ৪ জন সদস্যের নাম মনোনীত করেছে তার মধ্যে শেষের দুজনের পদমর্যাদা উল্লেখ রয়েছে, তার একজন হলেন ডঃ জাকির হোসেন লস্কর, অধ্যাপক আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও আর একজন হলেন ডঃ সেখ আব্দুল কালাম, অধ্যাপক হুগলির বিজয় নারায়ন মহাবিদ্যালয়।

     

    সদস্যদের মধ্যে প্রথম নাম আছে ডঃ নুরুস সাবাহ ইসমাইল নাদভি, কোলকাতা ও দ্বিতীয় নাম আছে আসাদুল্লাহ মন্ডল, উত্তর ২৪ পরগনা। পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা ছাত্র ইউনিয়নের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক শিক্ষক শহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের এই দুই সদস্য নিয়োগে রাজ্য সরকার কমিশনের কোন নিয়ম কানুন অনুসরণ করে নি, এই দুই সদস্য কারা নেই তার কোন পরিচয়, পদমর্যাদা। সরকার এমনিতেই মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগে বারবার নেতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে সেখানে কমিশনের সদস্যদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন চিহ্ন দেখা দিলে এই সার্ভিস কমিশন কোন নিয়োগ করলে পরবর্তীতে আদালত এই সদস্যদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে নিয়োগ হওয়া যুবক যুবতীদের ভবিষ্যত নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অপচেষ্টা করছে।

    আরো অভিযোগ করা হচ্ছে যে দ্বিতীয় যে সদস্যকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তিনি রাজ্যের এক মন্ত্রীর আত্মীয়। এবং একটি বেসরকারি মাদ্রাসার শিক্ষক। এভাবে স্বজন পোষন করে অযোগ্য ব্যাক্তিদের মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের মতো একটা নিয়োগ সংস্থার সদস্য করে সরকার রাজ্যের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শিক্ষা ব্যবস্থা ও বেকার যুবক যুবতীদের ভবিষ্যত নিয়ে ছেলেখেলা করছে।

    মাদ্রাসা ছাত্র ইউনিয়নের প্রাক্তন সভাপতি শিক্ষক ডঃ ফজলুর রহমান বলেন সার্ভিস কমিশনকে আবার কলঙ্কিত করার অপচেষ্টায় শুরু হয়েছে। রাজ্যের এক রাষ্ট্রমন্ত্রী তিনি সরিসরি সমস্ত নিয়ম কানুনকে লঙ্ঘন করে সেই কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছেন। প্রকৃত পক্ষে তিনি কখনো সরকারী অনুমোদিত মাদ্রাসাকে মাদ্রাসা বলে মনে করেন না । সরকারী অনুমোদিত মাদ্রাসায় বিশেষ প্রভাব বিস্তারের জন্য তিনি বেসরকারী মাদ্রাসা ও স্কুল থেকে সদস্য আমদানি করেছেন যা আমাদের কাছে অত্যন্ত লজ্জার। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য মাদ্রাসা দপ্তরের মন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

    মাদ্রাসা ছাত্র ইউনিয়নের প্রাক্তন সহ সম্পাদক শিক্ষক আব্দুল মোমেন বলেন মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের সদস্যগণের ডিগনিটি আছে। কমিশনের আইন অনুসারে উচ্চশিক্ষিত ও এ্যাকাডেমিক লাইনের কিম্বা প্রশাসনিক ব্যাক্তি হওয়া আবশ্যক । অথচ সরকার সাম্প্রতিক যে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের সদস্য তালিকা প্রকাশ করেছে তাদের মধ্যে দু’জন না কোন মূলস্রোতের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত না প্রশাসনিক কোনো রয়েছে। শিক্ষক নিয়োগের প্রতিষ্ঠানে এমন অযোগ্য ব্যাক্তিদের সদস্য হিসেবে নিয়োগ করা এর থেকে বড় প্রহসন আর হতে পারে না।

    পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা ছাত্র ইউনিয়নের বর্তমান সভাপতি সাজিদুর রহমান বলেন মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ, এই বিভাগ অযোগ্য ব্যক্তি দ্বারা পরিচালিত হলে বিভাগটি চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। সরকারপক্ষ নিজ স্বার্থ সিদ্ধির জন্য আজকে অযোগ্য ব্যক্তিদের কে বসিয়েছে। যেমনভাবে দেশের আইনকানুন ধ্বংসের পথে, ঠিক বাংলার আইনের অবস্থা অত্যন্ত কঠিন জায়গায় পৌঁছে আমি এর তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাচ্ছি ।