গাড়িতে গুলিবর্ষণের পরের দিনই ‘জেড’ স্তরের নিরাপত্তা পাচ্ছেন আসাদউদ্দিন ওয়েইসি

গাড়িতে গুলিবর্ষণের পরের দিনই ‘জেড’ স্তরের নিরাপত্তা পাচ্ছেন আসাদউদ্দিন ওয়েইসি

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: উত্তরপ্রদেশে তাঁর গাড়ি লক্ষ করে গুলিবর্ষণের পরের দিনই ‘জেড’ স্তরের নিরাপত্তা পাচ্ছেন ‘অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন’ (মিম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। যদিও সরকারি নিরপত্তা পাওয়া নিয়ে আগেই আপত্তি জানিয়েছিলেন ওয়েইসি।

বলেছিলেন, ‘‘আমি কখনওই সরকারি নিরাপত্তা চাইনি। ভবিষ্যতেও চাইব না। মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়া সরকারেরই কাজ।’’ প্রসঙ্গত গতকাল ওয়েইসির উপর হামলার পর সন্ধ্যায় সংসদে বক্তব্য রাখার সময় ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলে ওয়েইসি সাহেবের জেড প্লাস নিরাপত্তার দাবি জানান দলেরই সাংসদ ইমতিয়াজ জলিল।

বৃহস্পতিবার উত্তরপ্রদেশে প্রচার সেরে দিল্লি ফিরছিলেন ওয়েইসি। সেই সময় হাপুরে একটি টোল প্লাজায় তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটে। ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও গুলিতে গাড়ির টায়ার ফেঁসে যায় বলে ওয়েইসি জানিয়েছিলেন। এর পর গাড়ি বদল করে দিল্লি ফেরেন মিম প্রধান। ঘটনায় যুক্ত থাকায় প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান অনুযায়ী দু জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

লোকসভার সাংসদ তথা মিম প্রধানের মতো ব্যক্তির গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় ভোটমুখী উত্তরপ্রদেশে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে যায়। প্রসঙ্গত, এ বার ওয়েইসির দল উত্তরপ্রদেশের ছোট কয়েকটি দলের সঙ্গে জোট করে ভোটে লড়তে নামছে।

‘জেড’ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সাধারণত ২২ জনের একটি বলয় নিরাপত্তাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ঘিরে রাখে। তার মধ্যে চার থেকে ছ’জন এনএসজি কমান্ডো থাকেন। একটি এসকর্ট গাড়িও নিরাপত্তা বলয়ের অঙ্গ হিসেবে থাকে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভোটের মুখে সরগরম উত্তরপ্রদেশ। ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে দুই অভিযুক্তকে। ওয়েইসির বক্তৃতা শুনে মাথাগরম হওয়ার পরেই তাঁকে হত্যার চক্রান্ত করে তারা, এমনটাই জানিয়েছে অন্যতম অভিযুক্ত শচীন। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, বেশ কয়েক দিন ধরেই হামলার পরিকল্পনা করছিল শচীন ও শুভম। তারা জানিয়েছে, এই ক’দিনে তারা ওয়েইসির সব জনসভা ও নির্বাচনী প্রচারের সাক্ষী থেকেছে। কিন্তু হামলার সুযোগ পায়নি। যেটা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মিলে যাওয়ায় তখনই গুলি চালাতে থাকে তারা। যদিও শেষ পর্যন্ত তাদের সব পরিকল্পনাই ভেস্তে গিয়েছে। পুলিশ তাদের জেরা করে বের করার চেষ্টা করছে আর কেউ এই হামলার সঙ্গে যুক্ত কিনা এবং তারা কোথা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র পেয়েছিল। অভিযুক্তরা জানিয়েছে, তাদের প্রথম থেকেই পরিকল্পনা ছিল ওয়েইসির উপরে গুলি চালিয়ে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করার।