বিধানসভা নির্বাচন ২০২১: বুদ্ধিবৃত্তির সঠিক প্রয়োগ আমাদের পরিত্রাণের একমাত্র পথ

বিধানসভা নির্বাচন ২০২১: বুদ্ধিবৃত্তির সঠিক প্রয়োগ আমাদের পরিত্রাণের একমাত্র পথ

অধ্যাপক ডঃ নুরুল ইসলাম

গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থায় নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সরকার গঠন, পুনর্গঠন ও পরিবর্তন হয়। বিভিন্ন দলের ইশতেহার তথা ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা দেখে মানুষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে, সে কোন ব্যক্তি বা দলকে ভোট দিবে। এই সিদ্ধান্ত কখনো কোনো ব্যক্তি আবার কখনো সম্প্রদায় গ্রহণ করে থাকে। এভাবে রাজনৈতিক পালাবদল হয়।

পশ্চিমবঙ্গে অনুষ্ঠিতব্য আগামী নির্বাচন নিয়ে রাজ্যের মুসলিমদের মধ্যে ব্যাপক বিতর্ক ও বিভ্রান্তি রয়েছে। এক শ্রেণির মানুষ তৃণমূলের পক্ষে সরাসরি কাজ করছে। দ্বিতীয় শ্রেণির মানুষ স্বতন্ত্র রাজনীতির পক্ষে সাওয়াল করছে। আর তৃতীয় শ্রেণির মানুষ কৌশলী রাজনীতির কথা বলছে। অর্থাৎ বিজেপির উত্থান প্রতিহত করতে কোথাও তৃণমূল কংগ্রেসেকে সমর্থন আবার কোথাও স্বতন্ত্র রাজনীতির কথা বলছে। আমরা তৃতীয় শ্রেণির পক্ষে।
বস্তুত আমাদের অভিন্ন লক্ষ্য বিজেপির উত্থান প্রতিহত করা। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস আমাদের বন্ধু নয়। আবার বিজেপির মতো প্রকাশ্য শত্রু নয়। এরকম এক জটিল সন্ধিক্ষণে আমাদের কৌশল হওয়া উচিৎ কম ক্ষতিকারক রাজনৈতিক দলের পক্ষে থাকা।

এরকম এক সন্ধিক্ষণে সিদ্ধান্তহীনতা মিল্লাতের জন্য সর্বনাশা। মিল্লাতকে সঠিক দিশা দেখানো মিল্লাতের প্রাগ্রসর মানুষদের জন্য ফরজ। বুদ্ধিবৃত্তির বিলাসিতা নয়। বুদ্ধিবৃত্তির সঠিক প্রয়োগ আমাদের নিজেদের এবং মিল্লাতের পরিত্রাণের একমাত্র পথ।

গত কয়েক মাস ধরে ধারাবাহিক ও নিবিড় একটি অভিযান চলছে। মিল্লাতকে ঐক্যবদ্ধ ও সুসংহত করার প্রয়াস। সাধুবাদ জানাই সেই সব কওমদরদী ভাইদের যারা নিঃস্বার্থভাবে মিল্লাতের পরিত্রাণের জন্য দিনরাত এক করে কাজ করে চলেছেন।

এতদিন এই কাজ কোলকাতা কেন্দ্রীক ছিল। এতদিন ভার্চুয়াল মিটিং এ সীমাবদ্ধ ছিল। এখন তারা গ্রাম বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছোট ছোট সভা করে জন আন্দোলনের সূচনা করেছেন। আমাদের সাধারণ মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন। প্রবাহমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বোঝাতে খুব বেশি সমস্যা হচ্ছে না।

এরকম এক সন্ধিক্ষণে মিল্লাতকে ঐক্যবদ্ধ ও সুসংহত করে সর্বজন গ্রাহ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা খুব সহজ। সর্বজন গ্রাহ্য নেতৃত্ব ছাড়া স্থায়ী ঐক্য অসম্ভব। এজন্য নেতৃত্ব শৃংখল গড়ে তুলতে হবে। রাজনৈতিক দলের মতো মাফিয়াদের নেতৃত্বে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করলে তা বিপজ্জনক হবে। তাই কওমদরদী বুদ্ধিজীবী ভাইদের এগিয়ে আসতে হবে। বুদ্ধিজীবী বলতে মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়া শিক্ষিতদের বলা হচ্ছে না। আলেম উলামারাও এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। কওমের প্রতি দরদ আছে এরকম সব মানুষ এই কাফেলার অন্তর্ভুক্ত।

আমাদের লক্ষ্য: ক. বাঙালি মুসলিম সম্প্রদায়কে রাজনৈতিকভাবে ঐক্যবদ্ধ ও সুসংহত করা। খ. হিন্দুদের মধ্যে দলিত শ্রেণির মানুষকে এই কাফেলার অন্তর্ভুক্ত করা। গ. প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দলগুলোকে শক্তিশালী করা। ইসলামী আন্দোলনের মাধ্যমে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এই মুহূর্তে আমাদের লক্ষ্য নয়। আর তা বাস্তব সম্মত নয়। যেহেতু সংখ্যা গরিষ্ঠ মানুষ এখানে ইসলামকে একটি প্রচলিত ধর্ম মনে করে। ইসলামের রাজনৈতিক দর্শন বোঝানো এই মুহূর্তের সম্ভব নয়। মহান আল্লাহর ইচ্ছায় সব সম্ভব।