স্পেনের গ্রানাডার মসজিদে প্রতি জুময়া’র দিনে কম করে হলেও একজন ইসলাম গ্রহণ করেন

স্পেনের গ্রানাডার মসজিদে প্রতি জুময়া’র দিনে কম করে হলেও একজন ইসলাম গ্রহণ করেন

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: মনে আছে স্পেনের সেই গ্রানাডার কথা, যেখানে মুসলমানদের ওপর বর্বর নৃশংসতা চালানো হয়েছে। মসজিদের ভেতর ঢুকিয়ে নিরাপরাধ মুসলমানদের পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। সেই গ্রানাডার মসজিদে এখন প্রতি শুক্রবার মানুষ ইসলাম গ্রহণ করে।

দেশটির সংখ্যালঘু মুসলিমরা বলছেন, অনুমান করা হয় যে, ইসলাম শুধু অভিবাসীদের ধর্ম, কিন্তু বিষয়টি তা নয়।

স্প্যানিশ ইসলামিক সোসাইটি অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান উমর ডেল পোজো তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদুলুকে বলেন, গ্রানাডার সবচেয়ে বড় মসজিদে প্রতি শুক্রবার কম করে হলেও একজন ইসলাম গ্রহণ করেন। এমনকি গ্রানাডায় প্রায় ৩ হাজার মুসলমান বাস করেন, যারা স্প্যানিশ।

ডে পোজো জানান, তিনি নিজেও একটি স্প্যানিশ পরিবারের সন্তান যারা ইসলাম গ্রহণ করেছেন।

মুহাম্মাদ জুইরুদ্দিন একজন স্প্যানিশ, যিনি ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আল্লাহ ৪০ বছর আগে তার দরজায় কড়া নেড়েছেন (সতর্ক করেছেন)।’

জুইরুদ্দিন বলেন, ‘আজকাল ইসলাম সম্পর্কে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। আপনাকে সব সময় পত্রিকা, টেলিভিশন তথা সকল মিডিয়ায় ইসলাম-বিদ্বেষী প্রচারের মুখোমুখি হতে হবে।’

আরেক স্প্যানিশ নাগরিক রোসারিও, যিনি গ্রানাডাতেই জন্মগ্রহণ করেছেন ও বেড়ে উঠেছেন। তিনি ৩৯ বছর আগে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। এর পর তিনি তার নাম রেখেছেন সালিহা।

তিনি জানান, ১৯৭৫ সালে (ফ্রান্সিস্কে) ফ্রাংকোর একনায়কতন্ত্রের অবসান হলে তরুণ সমাজের মধ্যে ব্যাপক উৎকণ্ঠা ছিল।

সালিহা বলেন, ‘আমি ওই সময় ইসলাম খুঁজে পাই। গড বা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসই আমাকে ইসলামের কাছে নিয়ে আসে। এতে আমার বন্ধু-বান্ধবরা, যারা আমাকে বুঝতে পারেনি, খুব আশ্চার্য হয়।’

প্রসঙ্গত, স্পেনে প্রায় ২১ লাখ মুসলিম বাস করেন। এর মধ্যে ৮ লাখ ৮০ হাজার স্প্যানিশ নাগরিক। এর মধ্যে একটা বড় অংশ অভিবাসী যারা দেশটির নাগরিকত্ব লাভ করেছেন।