Categories
দেশ

করোনা আক্রান্ত বিজেপি নেতা সৈয়দ শাহনেওয়াজ হুসেন

করোনা আক্রান্ত বিজেপি নেতা সৈয়দ শাহনেওয়াজ হুসেন

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলেন বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সৈয়দ শাহনেওয়াজ হুসেন। বুধবার রাতে টুইট করে নিজেই একথা জানিয়েছেন তিনি ।

টুইটারে ওই বিজেপি নেতা লিখেছেন, ” আমি কয়েকজনের সংস্পর্শে এসেছিলাম । তাঁদের রিপোর্ট পজিটিভ আসার পর আমিও টেস্ট করার সিদ্ধান্ত নিই । আমার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে । আমার সংস্পর্শে যাঁরা এসেছিলেন , তাঁরা সরকারি নির্দেশিকা মেনে টেস্ট করিয়ে নেবেন । আমি এখন এইমসের ট্রমা সেন্টারে ভরতি রয়েছি । ভালো আছি । চিন্তা করার কোনও কারণ নেই । “

Categories
দেশ

৮ টি রাজ্যে হিন্দুদের সংখ্যালঘু মর্যাদা দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে কেন্দ্রীয় সরকার

৮ টি রাজ্যে হিন্দুদের সংখ্যালঘু মর্যাদা দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে কেন্দ্রীয় সরকার

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: ভারতের ৮ টি রাজ্যে হিন্দুদের সংখ্যালঘু মর্যাদা দেওয়ার বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। কেন্দ্রীয় সরকার এব্যাপারে চিন্তাভাবনা করছে। লাক্ষাদ্বীপ, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, মেঘালয়, জম্মু ও কাশ্মীর, অরুণাচল প্রদেশ, মণিপুর এবং পাঞ্জাবে হিন্দুরা সংখ্যালঘু মর্যাদা পেতে পারেন।

১৯৯২ সালে অযোধ্যা কাণ্ডের পরে মুসলিম সম্প্রদায়কে খুশি করার উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন করা হয়েছিল। ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত সরকারি গেজেটে পাঁচটি ধর্মীয় সম্প্রদায়- মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখ, বৌদ্ধ এবং পার্সীদের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় হিসেবে বিজ্ঞাপিত করা হয়েছিল। এ সংক্রান্ত ২(গ) ধারায় বলা হয় যে, কেন্দ্রীয় সরকার যাদেরকে সংখ্যালঘু হিসাবে বিবেচিত করবে তারাই সংখ্যালঘু হবে।

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে আটটি রাজ্যে হিন্দুরা সংখ্যালঘু। এগুলো হল- লাক্ষাদ্বীপ ২.৫ শতাংশ, মিজোরাম ২.৭৫ শতাংশ, নাগাল্যান্ড ৮.৭৫ শতাংশ, মেঘালয় ১১.৫৩ শতাংশ, জম্মু ও কাশ্মীর ২৮.৪৪ শতাংশ, অরুণাচল প্রদেশ ২৯ শতাংশ, মণিপুর ৩১.৩৯ শতাংশ এবং পাঞ্জাবে ৩৮.৪০ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় সরকার এবার এই লক্ষ্যে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে যে, সংখ্যালঘু বিবেচনার প্রক্রিয়াটি আদমশুমারি অনুযায়ী করা উচিত। এরফলে ওই আটটি রাজ্যে হিন্দুরা ‘সংখ্যালঘু’ মর্যাদা পেতে পারেন। এমনটি হলে জম্মু ও কাশ্মীরের মুসলিমরা এবং পাঞ্জাবের শিখরা সংখ্যালঘু হওয়ার মর্যাদা হারাতে পারেন।

উল্লেখিত ওই ৮ রাজ্যে হিন্দুদের সংখ্যালঘু মর্যাদা দেওয়ার দাবি অবশ্য অনেকদিন ধরেই জানানো হচ্ছে হিন্দুত্ববাদী মহল থেকে। ২০১৭ সালের অক্টোবরে সুপ্রিম কোর্টে এ সংক্রান্ত এক আবেদন জানিয়েছিলেন বিজেপি নেতা অশ্বিনী উপাধ্যায়। তাঁর দাবি, ওই সকল রাজ্যে হিন্দুদের সংখ্যালঘুদের মর্যাদা দেওয়া উচিত এবং সংখ্যালঘুদের দেওয়া অধিকারও তাদের পাওয়া উচিত। তিনি ১৯৯৩ সালে জারি করা কেন্দ্রীয় সরকারের প্রজ্ঞাপনকেও সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক ঘোষণা করার দাবি জানান। একইসঙ্গে, সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন তিনি ওই রাজ্যগুলোতে হিন্দুদের সংখ্যালঘু হিসেবে ঘোষণার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন।

২০১৭ সালের নভেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট অবশ্য হিন্দুদের সংখ্যালঘু মর্যাদা চেয়ে আবেদনের শুনানি করতে অস্বীকার করেছিল। আদালত আবেদনকারীকে ওই বিষয়ে সংখ্যালঘুদের জন্য জাতীয় কমিশনের কাছে যেতে বলেন। এরপরে আবেদনকারী তাঁর আবেদন প্রত্যাহার করে নেন।

Categories
রাজ্য

দল পাল্টালেই সাতখুন মাফ! রাজ্য পুলিশের মোস্ট ওয়ান্টেড বিমল গুরুঙ্গ তিন বছর পর প্রকাশ্যে কোলকাতায়

দল পাল্টালেই সাতখুন মাফ! রাজ্য পুলিশের মোস্ট ওয়ান্টেড বিমল গুরুঙ্গ তিন বছর পর প্রকাশ্যে কোলকাতায়

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: গুরুঙ্গের বিরুদ্ধে রয়েছে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা। রাজ্য পুলিশের কাছে তিনি বহুদিন ধরে মোস্ট ওয়ান্টেড। তিনি ফেরার তিন বছর ধরে। বহুদিন ধরে দার্জিলিং পাহাড়ে ফেরা হয়নি তাঁর। সেই বিমল গুরুঙ্গই এবার কলকাতায় প্রকাশ্যে এসে বড় ঘোষণা করলেন। তবে, ইউএপিএ ধারায় যার বিরুদ্ধে মামলা, তিনি এভাবে প্রকাশ্যে কেন? তাঁর দাবি, ‘আমি দেশদ্রোহী নন। এটা পলিটিক্যাল ব্যাপার। তাই পলিটিক্যালি মেটাতে চাইছি।’

তিন বছর পর প্রকাশ্যে এসেই বোমা ফাটালেন বিমল গুরুঙ্গ। জানিয়ে দিলেন বিজেপির সঙ্গ আর নয়, আগামী বিধানসভা ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থন করবেন রাষ্ট্রদ্রোহীতার মামলায় ফেরার গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতা বিমল গুরুঙ্গ। জানিয়ে দিলেন, ‘নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহেদের সঙ্গে ছিলাম। কিন্তু কোনও প্রতিশ্রুতি রাখেননি তাঁরা। ৬ বছর হয়ে গেল। তাই এবার তৃণমূলের সঙ্গে মিলে ওনাদের জবাব দেব। ২০২১-এ তৃণমূলকে সমর্থন করব আমরা।’

সেইসঙ্গেই তিনি বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা কথা দিয়েছিলেন, তাই রেখেছেন। কিন্তু মোদীরা তা করেননি।’ তবে, গোর্খাল্যান্ড দাবি তিনি ছাড়বেন না বলে আবারও দাবি করেছেন। সেই সূত্রেই ২০২৪-এর লোকসভা ভোটে যাঁরা গোর্খাল্যান্ড ইস্যু সমর্থন করবে, তাঁদের আবার সমর্থন করবেন বলে দাবি তাঁর।

Categories
দেশ

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের সরকারি শেয়ার পুরোটাই বেঁচে দেওয়ার পরিকল্পনা নিচ্ছে কেন্দ্রের মোদি সরকার

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের সরকারি শেয়ার পুরোটাই বেঁচে দেওয়ার পরিকল্পনা নিচ্ছে কেন্দ্রের মোদি সরকার

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের সহকারী অংশিদারিত্বের পুরোটাই বিক্রি করতে যাচ্ছে কেন্দ্রের মোদি সরকার। অর্থমন্ত্রক প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর আলোচনা চালাচ্ছে এই লক্ষ্যে। ইতিমধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সংখ্যা কমিয়ে এনে সংযুক্ত করা হয়েছে। এবার সংযুক্ত ব্যাঙ্কগুলির পুরো সরকারি শেয়ার বিক্রি করে সামগ্রিক বেসরকারিকরণের পথে নেওয়া হতে পারে।

প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়েছিল সরকারের কিছু অংশ বিক্রি করা হবে কিন্তু এখন সরকারি মহলে আলোচনায় বলা হচ্ছে যে ব্যাঙ্কের বেসরকারিকরণ করা হবে সেখানে পুরো সরকারি শেয়ার বিক্রি করে দিক সরকার। সরকারের যুক্তি ব্যাঙ্কের বোর্ড পরিচালনায় সরকারি হস্তক্ষেপ থাকবেনা এই মর্মে নিশ্চিত হলেই বেসরকারি সংস্থা ব্যাঙ্কিং বিনিয়োগকারীরা আকৃষ্ট হবে।

এই কাজ করতে হলে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ও ভারতীয় ব্যাঙ্কিং আইন এর ধারা পরিবর্তন করতে হবে। সরকার দ্রুত পরিবর্তন করতে চাইছে একবারে না ধাপে ধাপে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক বিক্রি পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে কেন্দ্রের মোদি সরকার। আগেই কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে সরকার স্ট্র্যাটেজিক ক্ষেত্রে রাষ্ট্র সংখ্যা কমিয়ে আনবে একটিবার সর্বোচ্চ সংস্থা থাকবে এই সমস্ত ক্ষেত্রে।

অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ঘোষণা করে দিয়েছেন কিন্তু স্ট্র্যাটেজিক ক্ষেত্রে হিসেবে কোন কোন ক্ষেত্র চিহ্নিত হবে তা এখনো স্থির হয়নি। জানা গেছে আর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তা স্থির করা হবে এই মর্মে কেবিনেট নোট তৈরি হয়ে গেছে। তা মকন্ত্র এবং দপ্তর গুলোতে পাঠানো হয়েছে। আলোচনার পর্ব শেষ পর্যায়ে দ্রুত তা চিহ্নিত করা হবে। ব্যাঙ্কিং ও বীমা ক্ষেত্রে কেউ স্ট্র্যাটেজিক চিহ্নিত করা হতে চলেছে। সে ক্ষেত্রে মাত্র চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক ও বীমা সংস্থা থাকবে। এখন সংযুক্তির পরে ভারপ্রাপ্ত ব্যাঙ্ক রয়েছে তার অন্তত আটটি বিক্রি করে দেয়া হবে এক্ষেত্রে এমনকি একটি মাত্র বিমা সংস্থা রাখার পরিকল্পনা হচ্ছে।

Categories
সম্পাদকীয়

শ্রেষ্ঠত্ব ও শূদ্রত্ব : একটি ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের বিজয়ী ও বিজিত হওয়ার প্রত্যক্ষ সম্পর্ক

শ্রেষ্ঠত্ব ও শূদ্রত্ব : একটি ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের বিজয়ী ও বিজিত হওয়ার প্রত্যক্ষ সম্পর্ক

অধ্যাপক ডঃ নুরুল ইসলাম

শ্রেষ্ঠত্ব ও শূদ্রত্ব মানুষের মানসিক অনুভূতি ও অবস্থা । একটি ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও সম্প্রদায় কখন শ্রেষ্ঠত্ব ও শূদ্রত্ব অনুভব করে? এবিষয়ে সার্বজনীন উত্তর আছে কিনা জানিনা। তবে আমার মনে হয়, এই অনুভূতির সঙ্গে একটি ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের বিজয়ী ও বিজিত হওয়ার প্রত্যক্ষ সম্পর্ক আছে। সামরিক ও সাংস্কৃতিক বিজয়ী জনগোষ্ঠী সব সময় শ্রেষ্ঠত্ব অনুভব করে। অনুরূপ, বিজিত ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও সম্প্রদায় এক সময় নিজেদের শূদ্রত্ব মেনে নিতে বাধ্য হয়। এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মূলনিবাসীরা যেমন তথাকথিত অভিজাত হিন্দুদের শ্রেষ্ঠত্বে অবলিলায় বিশ্বাস করে। তাদের শূদ্র অবস্থানকে স্বাভাবিক মনে করে। এই বিশ্বাস তাদের ঈমানের অঙ্গ। ধর্মীয় বিশ্বাসের অবিচ্ছিন্ন অংশ।

এই মূলনীতির মানদন্ডে আপনি বিচার করুন আপনার ব্যক্তি সম্পর্ক থেকে গোষ্ঠী ও সম্প্রদায় সম্পর্ক। যদি কপট না হোন। যদি যুক্তিবাদী হোন। যদি সমাজ দর্শন বিষয়ে আপনার কৌতুহল থাকে। তাহলে আপনি নির্দ্বিধায় স্বীকার করবেন, শ্রেষ্ঠত্ব ও শূদ্রত্ব নির্ণীত হয় বিজয়ী ও বিজিত সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে।

ইউরোপীয়দের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের অনুভব সৃষ্টি হয় , তাদের সামরিক ও সাংস্কৃতিক বিজয়ের জন্য। এদেশে ব্রিটিশরা চরম সংখ্যালঘু হওয়া সত্ত্বেও বিজয়ী রূপে তারা শ্রেষ্ঠত্বের ও আভিজাত্যের দাবি করতো। এদেশের বিজিত জনগণ তাদের শ্রেষ্ঠত্বে বিশ্বাস করতো।

এদেশে মুসলিম শাসন কালে বিজয়ী মুসলিমরা শ্রেষ্ঠত্বের ও আভিজাত্যের দাবি করতো। এদেশের নেটিভ বিজিতরা তাদের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করতো। তাদের ভাষা ও ধর্মকে শ্রেষ্ঠতর জ্ঞান করতো। এমনকি আরবি ও ফারসি না জানলে কোনো ব্যক্তিকে তারা শিক্ষিত হওয়ার স্বীকৃতি দিত না।

আবার লক্ষ্য করুন। এদেশে যখন মুসলিম সম্প্রদায় ব্রিটিশদের কাছে পরাজিত হল। অভিজাত হিন্দুরা ব্রিটিশদের পৃষ্ঠপোষকতায় বলিয়ান হল। আর মুসলিম সম্প্রদায় হীনবল হল। তখন তাদের এক সময়ের অনুগত দাসানুদাস অভিজাত হিন্দুরা শ্রেষ্ঠত্ব দাবি করল। বিজিত ও হীনবল মুসলিমরা তাদের শ্রেষ্ঠত্ব ও নিজেদের শূদ্রত্ব স্বীকার করতে বাধ্য হল। এমনকি এখন এদেশের হাজার হাজার বছর ধরে তথাকথিত অস্পৃশ্য ও শূদ্র রূপে স্বীকৃতরাও মুসলিমদের নিকৃষ্টতম শূদ্র জ্ঞান করে।

এই আলোচনার আরো একটি ডাইমেনশন আছে। এই মানসিক অনুভূতি ও অবস্থায় বৃহত্তর হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠা কিভাবে সম্ভব হবে? যেখানে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মর্যাদা বোধ নেই, সেখানে কোন মূলনীতির উপর ভিত্তি করে বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা হবে! ঘৃণা ও বৈষম্যকে স্বাভাবিক রূপে মেনে নিয়ে ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠা সম্ভব!

শহরের ও শিক্ষিত মুসলিমদের আচরণে আপনি লক্ষ্য করে দেখুন কিভাবে তারা তথাকথিত বিজয়ী জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি দ্বারা প্রভাবিত! কিভাবে তারা কৃত্রিম ভাষা ও আচরণ করতে বাধ্য হয়। তাদের নিজস্ব বিশ্বাসের সঙ্গে সংখ্যাগুরুর সংস্কৃতি ও সংস্কারের প্রায়শ সংঘর্ষ হয়। শেষ পর্যন্ত তাদের আপস করতে হয়। গত সাত দশকে এদেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের স্বতন্ত্র ভাষা ও সংস্কৃতি কিভাবে ও কতটা প্রভাবিত হয়েছে, তা গবেষণার বিষয়। তাদের উৎসব জাতীয় ও সার্বজনীন উৎসব। সংখ্যালঘু ও দলিতদের উৎসব ও সংস্কৃতি উপেক্ষিত হয়।

এই সংঘর্ষের বলি এদেশের লিঙ্গুয়া ফ্রাঙ্কা হিন্দুস্তানী ভাষা তথা উর্দু ভাষা আজ প্রায় মৃত্যু শয্যায়। হিন্দী ও আঞ্চলিক ভাষাগুলোতে পরিকল্পিতভাবে সংস্কৃত শব্দ অনুপ্রবেশের ধারাবাহিক প্রচেষ্টা অব্যাহত। বৈদিক পরিভাষা ও উপাখ্যান প্রচলনের প্রয়াস অব্যাহত। ইতিমধ্যে এই অব্যাহত প্রচেষ্টার সুফল তারা দেখতে পাচ্ছে। তারা এখন এক দেশ এবং এক ভাষা ও সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে বদ্ধপরিকর। আমাদের সংবিধান প্রদত্ত সকলের স্বতন্ত্র বিশ্বাস ও সংস্কৃতি রক্ষার প্রতিশ্রুতি কিভাবে সুরক্ষিত হবে!

Categories
রাজ্য

রাজনৈতিক হিংসায় জড়িয়ে না পড়ে শিক্ষিত হোন, সমাজ নিয়ে ভাবুন: আহ্বান অধ্যাপক সাইফুল্লাহর

রাজনৈতিক হিংসায় জড়িয়ে না পড়ে শিক্ষিত হোন, সমাজ নিয়ে ভাবুন: আহ্বান অধ্যাপক সাইফুল্লাহর

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: রাজনৈতিক হিংসায় জড়িয়ে না পড়ে ছেলেমেয়েদের শিক্ষিত করুন এবং সমাজ নিয়ে ভাবুন। এমনটাই আহ্বান জানালেন মুসলিম বুদ্ধিজীবীরা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল মুসলিমদের লেঠেল বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করেছে। নিজেদের মধ্যে মারামারি করেছে। কিন্তু মেলেনি সাংবিধানিক অধিকার। বঞ্চনার পর বঞ্চনা সহ্য করে রাজনৈতিকগুলিকে ভোট দিয়েছে। শাসন করেছে যারা তাদের কাউকে মরতে হয়নি,জীবন দিতে হয়েছে, মামলা বইতে হয়েছে শোষিত মুসলিম সমাজকে। সচেতন মুসলিম নেতারা বারবার রাজনৈতিক হিংসা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু সিপিএম, কংগ্রেস, তৃণমূল সহ বিভিন্ন দল এমন রাজনৈতিক খেলা শুরু করেছে যেখানে একবার ঢুকলে আর বেরুনো যাচ্ছে না। একের বিরুদ্ধে অন্যজনকে লেলিয়ে দেওয়া হয়। মুসলিম সমাজের লাভ কিছু হয়না। আরও আশ্চর্যের, মুসলিম সমাজের রাজনৈতিক নেতারা বিষয়টি বুঝতেই চাইনা বা বঞ্চনার ইতিহাস জেনেও ‘কিছু করার নেই’ ভেবে প্রচলিত রাজনৈতিক দলের দশকের পর দাসত্ব করছে।

 

জাতি,সমাজের চেয়ে দলের উপরতলার নেতাদের নির্দেশ মানছে। আগামী ২০২১ সালের নির্বাচন নিয়ে এখন থেকে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। এই অবস্থায়, মুসলিম সমাজের বুদ্ধিজীবীরা বলছেন, যেই ক্ষমতায় আসুক রাজনৈতিক হিংসার প্ররচনায় যেন মুসলিমরা পা না দেন। এখন প্রয়োজন, নিজেদের ছেলেমেয়েদের শিক্ষিত করা,সমাজ সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখা এবং রাজনৈতিক সচেতন হওয়া।

এ প্রসঙ্গে আলিয়া ইউনিভার্সিটির বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সাইফুল্লাহ জানান,”পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি মুসলমান সমাজের সামনে এখন যে সমস্ত সমস্যা রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম প্রধান সমস্যা হল রাজনৈতিক খুনোখুনি-তে জড়িয়ে পড়া। আমাদের দেশের রাজনীতির সাথে যাদের সামান্যতম পরিচয় আছে, তারা ভালোভাবে’ই জানি এই ধরণের হানাহানি’র ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কেউ পিছন থেকে কলকাঠি নাড়ে। এই সুবিধাভোগী সম্প্রদায়ের যুপকাষ্ঠে বলি হতে হয় এই মানুষগুলিকে এবং যেকোনো পরিসংখ্যান থেকে সুস্পষ্ট হবে যে এক্ষেত্রে মুসলিম সমাজের মানুষই বেশি প্রাণ হারাচ্ছে বা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে আর বিনিময়ে তারা কিছুই পাচ্ছে না।”

 

সাইফুল্লাহ আরও বলেন,”যারা ফল ভোগ করার তারা নিরাপদ আশ্রয়ে বসে ফল ভোগ করছে। এটা আর কোনোভাবেই চলতে দেওয়া যায় না। সীমাহীন সমস্যায় নিমজ্জিত সমাজকে রক্ষা করতে হলে এখান থেকে তাদেরকে বের করে আনতেই হবে এবং সে পথে অবশ্য’ই অনেক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো নিরক্ষরতা,বোধের অভাব। এই সমস্ত প্রতিবন্ধকতার মাঝে আমাদের নিরলসভাবে কাজ করতে হবে। আমরা মানুষগুলো’র পাশে দাড়িয়ে দিনের পর দিন বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করবো, যে তারা যে খুনোখুনি করছে তার পরিণতিতে কার কতটা লাভ হচ্ছে। যাদের তোমরা খুন করছো পরবর্তীতে তার ছেলেরাও বদলা নিতে মরিয়া হয়ে উঠবে।

এভাবে রক্তাক্ত হওয়াটাই আমাদের ভবিতব্য হয়ে উঠবে। এর কোনো লাভ আমাদের হবে না। কাজেই আমরা এই জায়গা থেকে বেরিয়ে এসে নিজেদের রাজনৈতিক অধিকার বা সচেতনতা থেকে ভোট দেবো। কিন্তু এর অতিরিক্ত আমরা কিছু করবো না। যারা রাজনীতি নিয়ে করে খায় তারা খুনোখুনি, হানাহানি যা করে করুক। আমরা যারা রাজনীতির কোনো রস আস্বাদ করি না, যারা শুধুই ভোট দিই, তারা কেন এভাবে হানাহানি করবো! এগুলো আজ মানুষে’র কাছে গিয়ে বলতে হবে। যতদিন না তারা বুঝবে, ততদিন আমাদের অক্লান্তভাবে বলতে হবে। যদি আমরা একাজ সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করতে পারি, তাহলে একদিন আমরা নিশ্চয় সফল হবো। সেদিন আমাদের সমাজের মানুষ বুঝতে পারবে যে এই ভুল থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন। যতদিন তারা সেই ধারণায় না পৌঁছায়, ততদিন যারা একটু বোধসম্পন্ন মানুষ, তাদেরকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। আমাদের প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব যেন রাজনৈতিক হানাহানির স্বীকার না হয়, এই অঙ্গীকার আমরা করবো নিজেদের কাছে, সমাজের কাছে। একদিন আমরা অন্ধকারের জাল ছিড়ে আলোর ভূবনে প্রত্যাবর্তন করবোই।”

Categories
রাজ্য

ডিসেম্বর মাসেই পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন: বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে বিস্ফোরক সাংসদ সৌমিত্র খাঁ

ডিসেম্বর মাসেই পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন: বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে বিস্ফোরক সাংসদ সৌমিত্র খাঁ

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: বিধানসভা ভোটের আর বেশি দেরি নেই। বছর ঘুরলেই রাজ্যে মহারণ। তাঁতে ঘুটি সাজাচ্ছে সমস্ত রাজনৈতিক দল। এর মধ্যেই বড় দাবি করলেন বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। বললেন, ডিসেম্বরেই রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন।

বাংলায় আইন শৃংখলা ভেঙে পড়েছে বলে দাবি করছে গেরুয়া শিবির। বিধানসভা ভোটের আগে, বারবার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগ তুলে পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার দাবি জানিয়েছেন বিজেপি নেতারা।

এবার একধাপ এগিয়ে কার্যত রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা দিনক্ষণও জানিয়ে দিলেন বিজেপি সাংসদ তথা বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতি সৌমিত্র খাঁ। মঙ্গলবার দলীয় কর্মসূচি থেকে বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ দাবি করেন, এই সরকার আর বেশি দিন থাকবে না। ডিসেম্বর মাসেই পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হবে। যদিও তৃণমূল বিজেপি সাংসদের এই মন্তব্যের তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না।

Categories
দেশ

কেন্দ্রের নতুন কৃষি আইন বিরোধী প্রস্তাব বিধানসভায় পাশ করাল কংগ্রেস সরকার

কেন্দ্রের নতুন কৃষি আইন বিরোধী প্রস্তাব বিধানসভায় পাশ করাল কংগ্রেস সরকার

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: হাজার বিরোধিতা সত্বেও শক্তির অভাবে সংসদে বিতর্কিত কৃষি বিলগুলির পাশ হওয়া আটকাতে পারেনি কংগ্রেস। রাষ্ট্রপতির কাছে আরজি জানিয়েও লাভ হয়নি। তিনিও বিতর্কিত এই বিলগুলিতে সই করে সেগুলিকে আইনে পরিণত করেছেন। তারপর একেবারে মাঠে নেমে শুরু হয়েছে আন্দোলন। কিন্তু কিছুতেই যখন কিছু হল না, তখন ঘুরপথে এই আইন কার্যকর হওয়া আটকাতে সচেষ্ট হল পাঞ্জাবের কংগ্রেস সরকার।

কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর নির্দেশে এই আইনের পালটা বিধানসভায় তিনটি বিল পাশ করালেন মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং। সেই সঙ্গে সর্বসম্মতিক্রমে কেন্দ্রের নতুন কৃষি আইন বিরোধী প্রস্তাব পাশ করা হল পাঞ্জাব বিধানসভায়।

কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী আগেই সংবিধানের ২৫৪(২) ধারা ব্যবহার করে অন্তত কংগ্রেস শাসিত রাজ্যগুলিতে এই আইন কার্যকর না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। সেই পরামর্শ মেনেই কৃষক বিদ্রোহের এপিসেন্টার পাঞ্জাব রাজ্যে নয়া বিল পাশ করাল।

এই তিনটি বিকল্প কৃষি বল সরাসরি কেন্দ্রের কৃষি বিলকে চ্যালেঞ্জ করছে। এই বিলগুলিতে বলা হয়েছে, সরকার কৃষকদের ফসল ন্যূনতম সমর্থন মূল্যে কিনতে বাধ্য। কেউ ন্যূনতম সমর্থন মূল্যের কম ধান কিনলে তাঁর তিন বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। বস্তুত, কৃষকরা যাতে সরকারি মান্ডির বাইরে ফসল বিক্রি করতে না পারেন তার সব বন্দোবস্তই করা হয়েছে নতুন আইনে।

সেই সঙ্গে কেন্দ্রের কৃষি বিল বিরোধী একটা প্রস্তাবও পাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং। এই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এই আইনগুলি ভারতের সংবিধানের বিরোধী। কৃষি ক্ষেত্র যেখানে রাজ্য সরকারে এক্তিয়ারভুক্ত সেখানে রাজ্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ করে সংবিধান বিরোধী কাজ করছে। এই প্রস্তাব পেশের পর পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, কেন্দ্র তাঁর সরকার ভেঙে দিতে পারে। তবে, তাতে তিনি দমে যেতে রাজি নন। বিধানসভার অধিবেশন শেষে মুখ্যমন্ত্রী নিজে গিয়ে এই প্রস্তাব রাজ্যপালের কাছে জমা দিয়ে এসেছেন।

Categories
দেশ

প্রতিটি মাদ্রাসার জন্য ১৫-২৫ লক্ষ টাকা খরচ করবে রাজস্থানের কংগ্রেস সরকার

প্রতিটি মাদ্রাসার জন্য ১৫-২৫ লক্ষ টাকা খরচ করবে রাজস্থানের কংগ্রেস সরকার

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: অসমে যখন বিজেপি শাসিত সরকার সরকারি মাদ্রাসা তুলে দেবার নির্দেশিকা জারি করেছে ঠিক তখনই রাজস্থানের কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন অশোক গেহরট সরকার প্রতি মাদ্রাসার উন্নতির জন্য ৯০ শতাংশ ব্যয় করবে এবং মাদ্রাসা বোর্ড ব্যয় করবে ১০ শতাংশ। প্রত্যেক মাদ্রাসার জন্য প্রায় ১৫-২৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে সরকার বলে এমনটাই জানা গেছে সংবাদ মাধ্যম সূত্রে।

২০১৯ সালের বাজেটে রাজস্থান সরকার ১১৬-এ উল্লেখ করেছিল, ‘মুখ্যমন্ত্রী মাদ্রাসা উন্নয়ন প্রকল্প’-এ প্রায় ৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এমনকি পূর্বে মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতনের অর্থও বরাদ্দ করেছিল রাজস্থান সরকার।

Categories
দেশ

অসমের পর বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশে মাদ্রাসা নিয়ে রাজনীতি শুরু বিজেপি মন্ত্রীর

অসমের পর বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশে মাদ্রাসা নিয়ে রাজনীতি শুরু বিজেপি মন্ত্রীর

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: অসমে সরকারি মাদ্রাসা গুলোকে বন্ধের নির্দেশ জারি করার পর এবার মধ্যপ্রদেশেও মাদ্রাসা নিয়ে রাজনীতি শুরু হয়েছে। মধ্যপ্রদেশ সরকারের ক্যাবিনেট মন্ত্রী ঊষা ঠাকুর মাদ্রাসাকে দেওয়া সরকারি অনুদান বন্ধ করার দাবি তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘মাদ্রাসা থেকে জঙ্গি তৈরি হয়, এরজন্য এদের দেওয়া সমস্ত সরকারি সাহায্য বন্ধ করে দেওয়া উচিৎ।”

উল্লেখ্য, একটি প্রেস বার্তার সময় মধ্যপ্রদেশ সরকারের ক্যাবিনেট মন্ত্রী ঊষা ঠাকুর নিজের সরকারের কাছে রাজ্যে মাদ্রাসা গুলোতে সরকারের টাকা ঢালা বন্ধ করার আবেদন করেন। উনি এও বলেন যে, ওয়াকফ বোর্ড নিজে থেকেই একটি বড় সংস্থা, এদের কাছে অনেক টাকা আছে এই কারণে মাদ্রাসায় সরকারি অনুদান দেওয়া বন্ধ করা হোক। উনি আরও বলেন, যদি কেউ ব্যাক্তিগত ভাবে সাহাজ্য করতে চায়, তাহলে আমাদের সংবিধান তাকে অনুমতি দেবে।