১৯৪৯ সালেও অন্ধকারে তালা ভেঙে বাবরি মসজিদে মূর্তি রেখে আসা অভিরাম দাসের শাস্তি হয়নি

১৯৪৯ সালেও অন্ধকারে তালা ভেঙে বাবরি মসজিদে মূর্তি রেখে আসা অভিরাম দাসের শাস্তি হয়নি

বঙ্গ রিপোর্ট ডিজিটাল ডেস্ক: ‌সাল ১৯৪৯। ডিসেম্বর মাস। কনকনে ঠান্ডা। একটি রাতের অন্ধকারে তালা ভেঙে বাবরি মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন একদল সাধু। সরযূ নদী থেকে জল নিয়ে গিয়ে মসজিদ প্রাঙ্গণ পরিষ্কার করা হয়। তারপর সেখানে স্থাপন করা হয় রামলালার মূর্তি। পরদিন সকাল থেকে তুমুল হইচই। পুলিশ আসে। সেই সময় অযোধ্যার অফিসার ইন–চার্জ ছিলেন পণ্ডিত রামদেও দুবে।

কনস্টেবলের থেকে জানতে পারেন, গতকাল রাতে মসজিদের তালা ভেঙে ৫০–৬০ জন লোক ভেতরে ঢুকে সীতা–রামের মূর্তি বসিয়ে দিয়ে যায় মসজিদে। এফআইআর দায়ের করা হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দাঙ্গা, অবৈধ প্রবেশ এবং ধর্মীয় স্থান অবমাননার মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশের খাতায় নাম ওঠে অভিরাম দাস, রামসকল দাস, সুদর্শন দাসের সহ আরও অনেকের। উত্তরপ্রদেশের ফৈজাবাদ পুলিশের একটা বড় অংশ মনে করতেন, ২৩ ডিসেম্বরের ওই রাতের ঘটনায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন অভিরাম দাস। কিন্তু কে এই অভিরাম দাস? অযোধ্যায় পৌঁছলেনই বা কী করে তিনি? তদন্তে জানা যায়, বিহারের দ্বারভাঙা জেলায় বাড়ি তাঁর। গরিব ব্রাহ্মণ পরিবারের ছেলে। বাবা বাড়ি বাড়ি পুজো করতেন। শোনা গেছে, ছোট থেকেই বড্ড মারকুটে স্বভাবের ছিলেন অভিরাম। অল্পতেই মাথা গরম হত তাঁর।

স্বভাব–দোষেই গ্রামের মানুষের তাড়া খেয়ে উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় উঠেছিলেন তিনি। ধীরে ধীরে সেখানকার সাধু সমাজে তাঁর নামডাক হয়। ফৈজাবাদ জেলা প্রশাসনের বহু আধিকারিকের সঙ্গে তাঁর উঠাবসা শুরু হয়। তিনিই স্বপ্ন দেখেছিলেন, বাবরি মসজিদের মূল ভিত্তি (‌সেন্ট্রাল ডোম)‌ ঠিক যে জায়গায়, সেখানেই নাকি ভগবান রামের জন্ম! সেই গল্প শোনান ফাইজাবাদ শহরের ম্যাজিস্ট্রেট গুরুদত্ত সিং–কে। অদ্ভুতভাবে গুরুদত্ত সিং–ও নাকি একই স্বপ্ন দেখেছিলেন!‌ অভিরাম দাস এবং ফৈজাবাদ শহরের ম্যাজিস্ট্রেটের স্বপ্নের কথা আরও এক রামভক্তের কানে যায়। তিনি হলেন কে কে নায়ার। ফৈজাবাদের তৎকালীন জেলাশাসক। ‘‌অযোধ্যা, দ্য ডার্ক নাইট’‌ বইতে লেখক কৃষ্ণা ঝা এবং ধীরেন্দ্র কে ঝা বলছেন, বাবরি মসজিদ প্রাঙ্গণে রামের মূর্তি বসানোর চক্রান্ত করেছিলেন অভিরাম এবং জেলা প্রশাসনের ওই দুই উচ্চপদস্থ আধিকারিক। সেদিন রাতের ঘটনায় আরএসএসের বড় হাত ছিল, স্বীকার করে নিয়েছেন সঙ্ঘের ভেতরের লোক এবং সাংবাদিক রাম বাহাদুর রাই।

বাবরি মসজিদের মূল প্রাঙ্গণই ভগবান রামের জন্মস্থান বলে প্রচার হতে থাকে। তখন থেকেই সাধুরা রামজন্মভূমি পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়ে আসতেন। উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে স্থানীয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সাধু–সন্তরা। শোনা যায়, রামজন্মভূমি সংক্রান্ত এই বিশ্বাসকে সামনে রেখেই বাবরি মসজিদ প্রাঙ্গণে রামের মূর্তি বসানোর চক্রান্ত করেছিলেন অভিরাম দাস।