বাবুল সুপ্রিয় বাংলাবিরোধী বাংলাবিদ্বেষী মুসলমানবিদ্বেষী কথা বলতেন সগর্বে: সোস্যাল মিডিয়ায় আবারও সরব কবীর সুমন

বাবুল সুপ্রিয় বাংলাবিরোধী বাংলাবিদ্বেষী মুসলমানবিদ্বেষী কথা বলতেন সগর্বে: সোস্যাল মিডিয়ায় আবারও সরব কবীর সুমন

মাননীয় কবীর সুমন তার ফেসবুকে লেখেন
সকলের অবগতির জন্য –

আমি চাইছি না পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান সরকার সরে যান। আমি এই সরকারের সমর্থক। কিন্তু একই দৃঢ়তার সঙ্গে আমি বি জে পি, আর এস এসের বিরোধী। বি জে পির যে সাংসদ কিছুকাল আগেই এন আর সি’র সমর্থক ছিলেন, বাংলাবিরোধী বাংলাবিদ্বেষী মুসলমানবিদ্বেষী কথা বলতেন সগর্বে, বাংলার মুসলমানদের সম্পর্কে তাচ্ছিল্যের সঙ্গে বলতেন তাঁদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেবেন – যেটা কিনা বি জে পির তত্ত্ব (অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানরা আসলে বাংলাদেশের লোক, বে আইনিভাবে এ-দেশে ঢুকে পড়েছেন), যিনি ফেসবুকে গায়ে পড়ে আমাকে (আমি তাঁকে কিছুই বলিনি) এবং আমাদের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে ব্যঙ্গ করেছিলেন সেই বিশিষ্ট বি জে পি-নেতা মাননীয় বাবুল সুপ্রিয় আজ তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। তাঁকে স্বাগত জানানোর ছবিতে তৃণমূলের দুই বিশিষ্ট নেতাকে দেখা গেছে। তৃণমূল দল কাকে দলে টেনে নেবেন সে ব্যাপারে কথা বলার অধিকার আমার নেই। কিন্তু এই বি জে পি নেতা বাংলাকে, বাঙালিদের, বাংলার মুসলমানদের খোলাখুলি অপমান করেছেন। বি জে পি ফাশিবাদ-প্রসূত “নাগরিক পঞ্জি” সমর্থন করেছেন। আসানসোলে, মহামান্য বি জে পি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়র আমলে মৌলানা ইমদাদুল রশিদির কিশোর পুত্র যে মুসলিমবিদ্বেষী ফাশিস্টদের হাতে খুন হয়েছিলেন সেই ঘটনা আজও এ-রাজ্যের অনেকের মনে শোক জাগায়, জাগিয়ে তোলে হিন্দুত্ববাদ সম্পর্কে বিতৃষ্ণা ও ভয়।

মাননীয় বাবুল সুপ্রিয় তৃণমূল কংগ্রেসে কেমন সমাদর পাবেন, কোন পদ বা মর্যাদা পাবেন তাতে আমার কোনও আগ্রহ নেই, বক্তব্য নেই। তৃণমূল কংগ্রেসের আমি সমর্থক, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমি সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ী। গত নির্বাচনে আমি তৃণমূলের হয়ে প্রচার করেছি, মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধে আমি নির্বাচনী গান লিখে সুর করে, নবীন শিল্পীদের শিখিয়ে, যন্ত্রাণুষঙ্গ রচনা পরিচালনা করে এবং নিজে গেয়ে (সেটাও মাননীয়ার নির্দেশ ছিল) রেকর্ড করেছি। সেই গান প্রচার হয়েছে।

বাংলা খেয়ালকে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী স্বীকৃতি দিয়েছেন ( ইতিহাসে এবং সারা দুনিয়ায় একমাত্র তিনিই), তাঁর উৎসাহে রাজ্য সঙ্গীত একাডেমিতে বাংলা খেয়াল বিষয়ে কর্মশালা হয়েছে, এখন চলছে দীর্ঘমেয়াদী শিক্ষাক্রম। এ জন্য মাননীয়াকে বারবার ধন্যবাদ ও অভিবাদন জানিয়েছি, সারা জীবন কৃতজ্ঞ থাকব আমি তাঁর কাছে। বাংলা খেয়াল আমার,জীবনের আসল কাজ, সেরা কাজ, শেষ কাজ।

তারই পাশাপাশি এই রাজ্যের এক আয়করদাতা নাগরিক এবং শ্রীমতী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থক হিসেবেই আজ চাইছি – মাননীয় বাবুল সুপ্রিয় বাংলার কাছে বাঙালিদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চান তাঁর এন আর সি ওকালতি ও মুসলিমবাঙালিদের সম্পর্কে বিদ্বেষের জন্য। আমাকে গায়ে পড়ে, বিনা প্ররোচনায় ফেসবুকে অপমান করেছিলেন তিনি। ক্ষমা চাইতে হবে না। এক সময়ে আমায় বলেছিলেন “আপনার মমতাময়ী”। যা দেখছি “মমতাময়ী” এখন তাঁরও। শ্রীযুক্ত বাবুল সুপ্রিয় সুখী হোন। কিন্তু যদি ক্ষমতায় কুলোয় এবং গায়ে শিষ্টবংশের রক্ত থাকে তাহলে এই তিয়াত্তুরের সঙ্গে প্রকাশ্য মঞ্চে গান করতে আসুন। যদি ক্ষমতা থাকে একটি তানপুরায় খালি গলায়।

আর বাংলার কাছে, বাঙালিদের কাছে করজোড়ে ক্ষমা চান।

সেই সঙ্গে আসানসোলের মৌলানা ইমদাদুল রশিদির কাছে শিক্ষা নিন সভ্যতার, শান্তির, সহনশীলতার, উদারতার। যদি পারেন তাঁর খুন হওয়া কিশোর পুত্রের নামে একটি প্রদীপ জ্বলান আপনার পরিচিত প্রিয় কোনও দেবালয়ে।

বাংলার মাটিকে প্রণাম করুন, চুম্বন করুন। মনে রাখবেন বি জে পি মান্যবর আপনি আমি যে ভাষায় কথা বলি সেই বাংলাকে রাজভাষার মর্যাদা দিয়েছিলেন এক মুস্লিম নৃপতি। এক মু স ল মা ন নৃপতি মান্যবর বাবুল সুপ্রিয়।

আপনি ক্ষমা চাইবেন।

আর

এই তিয়াত্তুরের সঙ্গে প্রকাশ্যে গান গেয়ে দেখবেন কেমন লাগে। তারপর না হয় আমাকেও বাংলাদেশে রেখে আসবেন মান্যবার – আমিও মুসলমান যে! কী করবেন বলুন আমিও অনুপ্রবেশকারী। আমাকেও ফেরত পাঠাতে হবে বাংলাদেশে। যশোরে আমার নানার দেশ ছিল। সেখানেই নাহয়?

আমি অপেক্ষা করছি মাননীয় সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়! কতদিনে আপনি প্রকাশ্যে ক্ষমা চান আর আমার সঙ্গে প্রকাশ্যমঞ্চে গানের সুরেলা লড়াইয়ে আসেন। দেখি গায়ে পড়ে মানুষকে গালমন্দ করা, অপমান করা আর সাম্প্রদায়িক কথা বলার বাইরে আপনার ক্ষমতা কত।

আর…. মৌলানা ইমদাদুল রশিদির অন্তরটা একবার কল্পনা করার চেষ্টা করে দেখবেন হে মান্যবর।

চলুন দল বেঁধে তাঁকে প্রণাম করে আসি। যাবেন নাকি, হে মাননীয় সাংসদ, হে মধুভাষী মান্যবর।

কবীর সুমন
২০,৯, ২১

ইমাম রশিদির কিশোর ছেলেকে খুনের সময় বাবুল কি করছিলেন? তৃণমূল যোগের পর প্রশ্ন কবির সুমনের