পশ্চিমবঙ্গে সরকার পোষিত মাদ্রাসাগুলোর একাল-সেকাল ও বেঙ্গল মাদ্রাসা এডুকেশন ফোরাম

    পশ্চিমবঙ্গে সরকার পোষিত মাদ্রাসাগুলোর একাল-সেকাল ও বেঙ্গল মাদ্রাসা এডুকেশন ফোরাম (২)

    পাঠকের কলমে ,বঙ্গ রিপোর্ট: বাম আমলে সরকার হাই মাদ্রাসা এবং সিনিয়র মাদ্রাসাগুলোর খরচ বহন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই সংস্কারের কাজ শুরু হয়। ধীরে ধীরে তাদের পাঠক্রম মাধ্যমিক এবং উচ্চ-মাধ্যমিকের সমতুল করা হয়। মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন শিক্ষক নিয়োগে মানের দিকে নজর দেয়।

    মাদ্রাসা ব্যবস্থার এই সার্বিক উন্নতির সুফল পেয়েছে মুসলমানের সমাজের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া অংশ। মাদ্রাসা থেকে পাশ করে অনেকেই WBCS, মেডিক্যাল, ইঞ্জিনিয়ারিং বা বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ শিক্ষার অঙ্গনে পৌঁছায়। এমন একটা ব্যবস্থার উন্নতিতে সরকারের নজর দেওয়া উচিত ৷ শিক্ষকের অভাবে অচিরেই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে একটা জেনারেশনের পিছিয়ে পড়া মুসলিম ও প্রান্তিক গোষ্ঠির মাদ্রাসায় পঠন-পাঠনরত শিক্ষার্থীবৃন্দ —- এটা কখনই কাম্য নয় !

    মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগে অধিকারের ( কমিটি ) নামে অচলাবস্থার ফলে পঙ্গু হয়ে যাচ্ছে প্রায় ছয় লক্ষ শিক্ষার্থীর ভাবিষ্যত ! এককালীন পশ্চিম বঙ্গের মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা দেশ-বিদেশে উচ্চ প্রসংশা লাভ করেছিল | বাংলাদেশ , পাকিস্তান সরকার পঃ বঃ মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে অনুসরণ-অনুকরণ করে প্রয়োগ করতে চেয়েছিল | ভারতবর্ষের মধ্যে কর্ণাটক , ত্রিপুরাতেও এই মডেল অনুসৃত হয়েছিল বলে জানা যায় ৷ কিন্তু , বড় আক্ষেপের বিষয় সে সব এখন ইতিহাসে স্থান লাভ করেছে।

    কেননা , বর্তমানে পঃবঃ মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা শিক্ষকের অভাবে একেবারে মুখ থুবড়ে পরেছে !! দুই শত বছরের প্রাচীন — হুগলী মাদ্রাসা এখনও বন্ধ হয়ে পড়ে আছে ; পুনরায় হুগলী মাদ্রাসাতে পঠন-পাঠন চালু করার ব্যাপারে কারুরই কোনো হেলদোল লক্ষ্য করা যাচ্ছে না ৷

    সংবিধানের ৩০ নং ধারাকে হাতিয়ার করে মেদিনীপুরের ঐ গুটিকয়েক মাদ্রাসার ম্যানিজিং কমিটি নিজেরা মাদ্রাসা পরিচালনার ক্ষমতা হস্তগত করতে চাইছে !! তাই মাদ্রাসাতে শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ ! ফলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার অধিকার আইন লঙ্ঘিত হচ্ছে ! ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী প্রতিটি শিশুর বিনামূল্যে বাধ্যতামূলক শিক্ষা পাওয়ার অধিকার আছে। ৮৬ তম সংবিধান সংশোধনী আইন অনুযায়ী সংবিধানের ২১ ক অনুচ্ছেদে এ কথা বলা হয়েছে। এই সংশোধনীর মাধ্যমেই শিক্ষার অধিকার আইন প্রয়োগ করা হবে। সরকার পোষিত স্কুল বা মাদ্রাসা– এক কথায় সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি প্রতিটি শিশুকে বিনামূল্যে শিক্ষা দেবে ৷ পিছিয়ে পড়া প্রত্যান্ত গ্রামাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী মাদ্রাসাগুলিকে বাঁচাতে ফি-বছর শিক্ষক নিয়োগ করে শিশুদের নায্য অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। তবেই সুষ্ঠুভাবে বাঁচবে জাতি ,বাঁচবে মানবসম্পদ | শিক্ষাক্ষেত্রে এগিয়ে গেলেই ভারত আবার জগৎ সভায় শ্রেষ্ঠ আসন পাবে ৷ পরিশেষে একটি কথা —- মাদ্রাসা শিক্ষা ধ্বংস হয়ে গেলে , ইতিহাস ক্ষমা করবে কী ???? প্রশ্ন থেকেই যায় !!!

    ইতি–
    মোসাররাফ হোসেন মিলু
    সহকারী শিক্ষক ,
    বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ ৷
    আই.সি.আর.হাই মাদ্রাসা(উচ্চ মাধ্যমিক, বিজ্ঞান ও কলা বিভাগ )
    লালগোলা , মুর্শিদাবাদ