অসমে হারছে বিজেপি! ক্ষমতায় ফিরতে চলেছে কংগ্রেস এআইইউডিএফ নেতৃত্বাধীন মহাজোট

    অসমে হারছে বিজেপি! ক্ষমতায় ফিরতে চলেছে কংগ্রেস এআইইউডিএফ নেতৃত্বাধীন মহাজোট

    নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: ‘সেভেন সিস্টার্স’-এর গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য অসমে ২৭ মার্চ থেকে বিধানসভা ভোট হতে চলেছে। পরে অবশ্য আরও দু’দফায় নির্বাচন হবে। তারিখ হল ১ এপ্রিল ও ৬ এপ্রিল। অসম বিধানসভায় ১২৬টি আসন রয়েছে। অর্থাৎ কোনও পক্ষ ৬৪টি আসন দখল করতে পারলেই সরকার গঠন করতে পারবে। অসম প্রদেশটি বিজেপির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, উত্তর-পূর্ব ভারত নিয়ে ও NRC, CAA নিয়ে বিজেপির যে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রয়েছে– অসমে আবার ক্ষমতায় ফিরতে না পারলে তার বাস্তবায়ন অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

    ২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনে ১২৬টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে কংগ্রেস পেয়েছিল মাত্র ২৬টি। তাদের ভোট-শেয়ার ছিল ৩০.৯ শতাংশ। বিজেপি ২৯.৫ শতাংশ মানুষের ভোট পেয়ে ৬০টি আসন হাসিল করেছিল। বিজেপির মিত্র দল অসম গণপরিষদ (এজিপি) মোটামুটি ১২ শতাংশ এবং বোড়োল্যান্ড পিপলস ফ্রন্টও (বিপিএফ) ১২ শতাংশ ভোট পেয়ে যথাক্রমে ১৪ ও ১২টি আসন হাসিল করে। ফলে শাসক বিজেপি জোটের আসন সংখ্যা দাঁড়ায় ৮৬-তে।

    এবার নির্বাচনে কংগ্রেস বেশ কয়েকটি দলকে নিয়ে একজোট গঠনে সক্ষম হয়েছে। আর এই জোটের মদদেই কংগ্রেস পুনরায় অসমের রাজধানী দিসপুর দখলের স্বপ্ন দেখতে আরম্ভ করেছে। অনেকে বলছেন– যদি কংগ্রেস ২০১৬ সালে এআইইউডিএফ-এর সঙ্গে জোট গঠন করতে পারত তাহলে হয়তো বিধানসভা নির্বাচনে তাদের ফলাফল এতটা খারাপ হত না। বর্তমানে কংগ্রেসের সঙ্গে জোটে রয়েছে বদরুদ্দিন আজমলের নেতৃত্বাধীন এআইইউডিএফ (গত বিধানসভা নির্বাচনে তারা ১৩টি আসন দখল করেছিল)। এবার কংগ্রেসের সঙ্গে জোটে আরও শামিল হয়েছে সিপিএম– সিপিআই– আঞ্চলিক গণমোর্চা এবং সিপিআইএমএল (লিবারেশন)।

    কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোটটিকে অসমে ‘মহাজোট’ বলে অভিহিত করা হচ্ছে। এই জোট নতুন করে শক্তিশালী হয়েছে বোড়োল্যান্ড টেরিটোরিয়াল এলাকায়। কারণ– বোড়োল্যান্ড পিপলস ফ্রন্ট বা বিপিএফ অসমের বিজেপি নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশন ছেড়ে কংগ্রেসের মহাজোটে যোগদান করেছে। এ ছাড়া কংগ্রেস আরও ২টি নতুন আঞ্চলিক দলের সঙ্গেও সমঝোতা করার চেষ্টা করছে। এই দল ২টি হল রাইজর দল (জনগণের দল) এবং অসম জাতীয় পরিষদ।

    অসমে এসে প্রিয়াঙ্কা গান্ধি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন– কংগ্রেস পাঁচ লক্ষ চাকরি দেবে– গৃহবধূদের মাসে ২ হাজার টাকা করে ভাতা দেবে– চা-বাগান শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৩৬৫ টাকা করা হবে– প্রত্যেককে ২০০ ইউনিট করে বিদ্যুৎ ফ্রি দেওয়া হবে। এ ছাড়া প্রিয়াঙ্কা বলেছেন– তাঁরা ক্ষমতায় এলে ৫০ শতাংশ সরকারি চাকরি দেওয়া হবে মহিলাদের।

    গৌরব গগৈ বলেছেন– বিজেপি ২৫ লাখ চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু তারা কোনও কথা রাখেনি।

    এআইইউডিএফ-এর পূর্ব বিধায়ক আমিনুল ইসলাম বলেছেন– আমাদের জোট কমপক্ষে ৭০টি আসন পাবে। আমরা একাই পাব কমকরে ১৮টি আসন। কাজেই এবার বিজেপি যাচ্ছে– মহাজোটই আসছে।