অযোধ্যা নিয়ে বই প্রকাশ: জয়শ্রীরাম ধ্বণি দিতে দিতে কংগ্রেস নেতা সলমন খুরশিদের বাড়িতে আগুন গেরুয়া বাহিনীর

অযোধ্যা নিয়ে বই প্রকাশ: জয়শ্রীরাম ধ্বণি দিতে দিতে কংগ্রেস নেতা সলমন খুরশিদের বাড়িতে আগুন গেরুয়া বাহিনীর

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: কংগ্রেস নেতা সলমান খুরশিদের নৈনিতালের বাড়িতে সোমবার ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে অযোধ্যা নিয়ে তাঁর নতুন বই। সেখানে কংগ্রেস নেতা হিন্দুত্ব ও উগ্র ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলিকে একই লাইনে দাঁড়াকরিয়েছেন। এই ঘটনার কয়েক দিন করেই তাঁর বাড়িতে ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হল। সলমম খুরশিদ সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের বাড়ির একটি ছবি শেয়ার করেছেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে বাড়ির জানলা দরজায় দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। বাড়ির ভাঙচুরের ছাপও স্পষ্ট। জল ছুঁড়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

সলমন খুরশিদ তাঁর বাড়তে তাণ্ডবের ঘটনার বেশ কিছু ছবি সোশ্য়াল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে তাঁর বাড়ির জানলা দরজা পুড়ে গেছে আগুনে। স্থানীয় এক কংগ্রেস নেতা জল ছুঁড়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে। কোনও ছবিতে আবার রয়েছে বাড়ি থেকে উঠছে আগুনের নেলিহানন শিখা। একটি ভিডিও দেখা যাচ্ছে কংগ্রেস নেতার বাড়ির সামনেই কিছু মানুষের হাতেরয়েছে গেরুয়া পতাকা। তারা জয়শ্রী রাম স্লোগানও দিচ্ছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের নৈনিতালের বাড়িতে আগুনের ছবি শেয়ার করে তিনি লিখেছেন তিনি তাঁর বন্ধুদের জন্যই দরজাগুলি খোলার আশা করেছিলেন। কিন্তু তারা এজাতীয় ঘটনা ঘটিয়ে গেছে। তিনি আবারও বলেছেন এটি কখনই হিন্দুত্ব হতে পারে না।

এই ঘটনার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে কুমাউনের ডিআইজি নীলেশ আনন্দ সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে জানিয়েছেন, ঘটনার কথা স্বীকার করে তিনি জানিয়েছে রাকেশ কপিলের সঙ্গে আরও ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। দোষীদের গ্রেফতার করা হয়েছে কিনা তা নিয়ে এখনও মুখ খোলেনি কোনও পুলিশ কর্তা।

প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা তাঁর নতুন বই ‘সানরাইজ ওভার অযোধ্যা: নেশনহুড ইন আওয়ার টাইম’ প্রকাশের পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে রয়েছে। তাঁর বই ও তাঁকে নিয়ে একাধিক বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু একটি অনুচ্ছেদ। যেখানে তিনি লিখেছেন, ঋষি ও সাধুদের কাছে পরিচিত সনাতন ধর্ম ও ধ্রুপদী হিন্দু ধর্মকে হিন্দুত্বের একটি শক্তিশালী সংস্করণ দ্বারা একপাশে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। সমস্ত মানদণ্ডে আইএসআইএস ও গোষ্ঠীর জিহাদি ইসলামের মতোই একটি রাজনৈতিক সংস্করণ।

এই বই বিতর্কে মুখ খুলেছে বিজেপিও। বলা হয়েছে কংগ্রেস নেতা খুরশিদের এই মন্তব্য হিন্দুদের অনুভূতিকে আঘাত করেছে। গেরুয়া শিবিরের আরও অভিযোগ ছিল কংগ্রেস মুসলিম ভোট পাওয়ার জন্যই সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করছে। সম্প্রতি রাহুল গান্ধীও হিন্দুইজম আর হিন্দুত্ব-র মধ্যে পার্থক্য করতে চেয়েছিলেন। বিজেপি তারও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল।