অভিযান: রাজ্যের অধিকাংশ মুসলিম সংগঠনের সর্বোচ্চ নেতৃত্বদের নিয়ে একতা গড়ে তুলতে হবে

অভিযান: রাজ্যের অধিকাংশ মুসলিম সংগঠনের সর্বোচ্চ নেতৃত্বদের নিয়ে একতা গড়ে তুলতে হবে

(দ্বিতীয় কিস্তি)
অধ্যাপক ডঃ নুরুল ইসলাম

পূর্বের পোষ্টে একটি স্বল্প মেয়াদী পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছি। সেখানে উল্লেখ করেছি, এই অভিযানে প্রথম পদক্ষেপ হবে:
খুব সম্মানিত ও গ্রহণযোগ্য কয়েক জন ব্যক্তির সমন্বয়ে একটি কো-অর্ডিনেশন কমিটি গঠন করতে হবে। এই কমিটি পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে এক মহা ঐক্য গঠনের উদ্দেশ্যে একটি নিবিড় অভিযান চালাবেন। সুনির্দিষ্ট ও সংক্ষিপ্ত সময়ে অধিকাংশ মুসলিম সংগঠনের সর্বোচ্চ নেতৃত্বদের সঙ্গে তারা সংলাপ করবেন। একটি নির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে তারা তাদেরকে ঐক্যমত করবেন।

দ্বিতীয় পদক্ষেপ
ঐ সহমতের ভিত্তিতে বিএমসিসি (Bengali Muslim Consultative Council) গঠিত হবে। এটা হবে পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমদের সর্বোচ্চ প্রতিনিধিত্বমূলক অরাজনৈতিক সংগঠন। এই সংসদ বা পরিষদ পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সম্প্রদায়ের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিটি বিষয়ে দিক নির্দেশনা দিবে।

তৃতীয় পদক্ষেপ

বিএমসিসি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একাধিক সাব-কমিটি গঠন করে তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে দ্রুত পদক্ষেপ করবে।

চতুর্থ পদক্ষেপ

দলিত ও অন্যান্য পিছড়ে বর্গের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলতে হবে। একটি নির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি জোটের নীতিমালা ও রূপরেখা প্রণয়ন করবেন। বিএমসিসি এই পরিকল্পনার চুড়ান্ত রূপ দিবে।

পঞ্চম পদক্ষেপ

এই শক্তিশালী মহাজোট তথাকথিত মূলস্রোতের ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করতে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করবে। এই কমিটি একটি নির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে এ দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করবেন। যদি তাঁরা ইতিবাচক সাড়া পান, তাহলে এই সাব-কমিটি বিষয়টি বিএমসিসির কাছে সবিস্তারে প্রতিবেদন পেশ করবেন। বিএমসিসি চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
আমি মনে করি, এই সুনির্দিষ্ট অভিযান নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যদি সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারি, তাহলে সাফল্য আমাদের পদচুম্বন করবে। ইনশাআল্লাহ।

এই পরিকল্পনা প্রকাশ হওয়ার পর মুসলিম এমনকি অমুসলিম সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। এখন এই পরিকল্পনা রূপায়নের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ করতে হবে। নিবেদিত প্রাণ মিল্লাতদরদী ভাইদের প্রতি আমার সানুনয় নিবেদন, আল্লাহর ওয়াস্তে দ্রুত পদক্ষেপ করুন। বেলা বয়ে যাচ্ছে। পরে আফসোস হবে। হায়! যদি যথাসময়ে পদক্ষেপ করতাম!

আমি মনে করি, এই মুহূর্তে এটাই রাজনৈতিক পরিত্রাণের পথ। আপনার শত্রুরা এই পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য হাজার হাজার পন্ডিত ও বিশেষজ্ঞদের সার্বক্ষণিক গবেষক রূপে নিয়োগ করেছে। হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে তাদের ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে চলেছে। শত্রুদের এই অভিযান প্রতিরোধ করতে সক্ষম না হলে কি হতে পারে তা উপলব্ধি করার জন্য গুজরাট, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা ও আসামের মুসলিমদের পরিস্থিতি অবলোকন করুন। সমগ্র দেশে বিশ ত্রিশ কোটি মানুষ আজ সন্ত্রস্ত।

অলৌকিকতায় বিশ্বাস করে অলস স্বপ্ন দেখলে পরিণতি কি হতে পারে, সে বিষয়ে মাওলানা আবুল কালাম আজাদ তাঁর অনন্য সৃষ্টি ‘তাযকেরা’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। ফরাসি সেনাদের দ্বারা ১৭৯৯ সালে মিসর বিজয় এবং অষ্টাদশ শতাব্দীতে রুশদের দ্বারা মধ্য এশিয়া বিজয়ের কাহিনী প্রসঙ্গে বলেন, ফরাসি আগ্রাসী সেনাদের প্রতিরোধে সামরিক কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে মিসরের কুলাঙ্গার সরকার আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে কোরআন খানির ব্যাপক আয়োজন করে। পরিণতি কি হয়েছিল! কোরআন খানি শেষ হওয়ার আগেই মিসর বিজিত হয়েছিল। অনুরূপ, মধ্য এশিয়ার মুসলিম প্রধান তাজাকিস্তান, উজবেকিস্তান সহ বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করতে আক্রমণকারী আগ্রাসী রুশ বাহিনীর অগ্রসর প্রতিরোধ না করে মাদ্রাসায় মাদ্রাসায় বুখারী শরীফ খতমের ব্যবস্থা করা হয়। পরিণতি কি হয়েছিল? বুখারী শরীফ খতমের আগেই শুধু ঐতিহ্যশালী বুখারা বিজিত হয়নি, সমগ্র মধ্য এশিয়া দখল করে সম্প্রসারণবাদী রুশ বাহিনী। ফলে দুই শতাধিক কাল সমগ্র মধ্য এশিয়া জুড়ে উগ্র খৃষ্টান ও পরে নাস্তিক কমিউনিস্টদের দ্বারা ভয়ানক পার্সিকিউশনের শিকার হয়।
স্বয়ং রাসুলুল্লাহ স. এই রকম পরিস্থিতিতে কি করে ছিলেন? বদরের ও উহুদের যুদ্ধের পরিস্থিতি অবলোকন করুন। বিশেষ করে পরিখার যুদ্ধ বা আহযাবের যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করুন। সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। এদেশে যারা লক্ষ লক্ষ রামসেনা গঠন করেছে তারা কি চিনের সঙ্গে লড়াই করার জন্য প্রস্তুত করেছে? বন্ধু, সুদৃঢ় ঈমানের অধিকারী হোন। সেই সঙ্গে কঠোর বাস্তববাদী হোন। উভয়ের মধ্যে কোনো স্ববিরোধ নেই।

অভিযান: এই মুহূর্তে মিল্লি ইত্তেহাদ হল জাতির একমাত্র মুক্তির পথ