মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ও দারং জেলার পুলিশ সুপার সুশান্ত বিশ্ব শর্মা: দুই ভাই মিলে অসমকে অশান্ত করে তুলেছে 

মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ও দারং জেলার পুলিশ সুপার সুশান্ত বিশ্ব শর্মা: দুই ভাই মিলে অসমকে অশান্ত করে তুলেছে 

 

 

নিমন্ত্রণ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: হিমন্ত বিশ্ব শর্মা আসামের মুখ্যমন্ত্রী। সুশান্ত বিশ্ব শর্মা পুলিশ সুপার, দারং জেলার। এই দুই ভাইয়ের যৌথভাবে পরিচালিত এবং রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার হচ্ছে আসামে হাজার হাজার নিরীহ বাঙালী মুসলিম ।

 

আসামে মুসলিম নিপীড়ন বেড়েই চলেছে। সেখানকার ক্ষমতাসীন বিজেপির রাজ্য সরকার মুসলিমদের বিরুদ্ধে একের পর এক পদক্ষেপ নিচ্ছে। জাতীয় নাগরিকপঞ্জি, মাদ্রাসা বন্ধ করা ও গরুর মাংস নিষিদ্ধ করার পর এবার মুসলিমদের উচ্ছেদ।

 

শুরু হয়েছে নানা প্রক্রিয়ার মুসলিম উচ্ছেদ অভিযান। নদীভাঙনের ফলে যেসব বাঙ্গালী হিন্দু এবং বাঙ্গালী মুসলমান বনবিভাগের জায়গায় আশ্রয় নিয়েছিল তাদের মধ্যে থেকে মুসলমানদেরকে টার্গেট করা হচ্ছে। কোন ধরনের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করেই উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে দিয়েছে বিজেপি সরকার।

 

উচ্ছেদ অভিযান (Eviction Drive) ঘিরে নতুন করে সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে অসমের (Assam) বিস্তীর্ণ এলাকা। দারং জেলার সিপাজাহার, ধোলপুর, গোরুখুটি এলাকায় অসম পুলিশ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে। হাজার হাজার এলাকাবাসী উচ্ছেদ অভিযানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়। পরে পুলিশ নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ করে । পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গেলে পুলিশ গুলি চালায়। দারং জেলার পুলিশ সুপার মুখ্যমন্ত্রীর ভাই সুশান্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে অসম পুলিশ বিক্ষোভকারীদের উপর গুলি চালালে এই পর্যন্ত তিনজন নিহত, আবার অনেকেই গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিতৎসাধীন ।

 

৮০০ মুসলিম বাড়িঘর ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং সিপাজাহারের ধোলপুর ১ এবং ধোলপুর ২ গ্রামে ৫০০০ জনকে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করতে বাধ্য করা হয়েছে। তিনটি মসজিদ এবং একটি মাদ্রাসাও ধ্বংস করা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এনআরসি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আসামের মুসলমানদেরকে বহিরাগত প্রমান করা যায়নি। তাই তাদেরকে হেনস্থা করার জন্য অসমের মুখ্যমন্ত্রী একের পর এক নতুন নতুন উদ্যোগ নেয়া শুরু করছে।