গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস বন্ধ: কাজকর্ম না হওয়ায় ক্ষোভ সাধরন মানুষের

    গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস বন্ধ: কাজকর্ম না হওয়ায় ক্ষোভ সাধরন মানুষের

    সঞ্জয় সিং, বঙ্গ রিপোর্ট, পূর্ব মেদিনীপুর: বিরোধীশূন্য গ্রাম পঞ্চায়েত এর গ্রাম প্রধান, উপ-প্রধানরা বিজেপির ভয়ে যেতে পারছেন না গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে, বিজেপির বিরুদ্ধে এমনই অভিনব অভিযোগ উঠেছে পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরে।

    যা নিয়ে রীতিমত শোরগোল পড়ে গেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা জুড়ে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার রাজনৈতিক মানচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি নাম পটাশপুর। লোকসভা ভোটে বিপুল সাফল্য পেয়েছে বিজেপি। তারপর থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটাশপুর বিধানসভা এলাকার কোন কোন জায়গার ছবি হঠাৎ করেই বদলে গেছে।

    পটাশপুর ১ ব্লকের গোপালপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এখন তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে। ২০১৮ পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিনা প্রতি দ্বন্দ্বিতায় গোপালপুর গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করে তৃণমূল কংগ্রেস। সেই গোপালপুর গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে এখন যেতে পারছেন না পঞ্চায়েত প্রধান, উপ-প্রধান ও পঞ্চায়েত সদস্যরা। ফলে রীতিমত শিকেয় উঠেছে গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসের কাজকর্ম। প্রধান ও উপ-প্রধানের অফিস ঘরে বেশীরভাগ দিন লাগানো থাকছে চাবিতালা। মানুষজন ফিরে যাচ্ছেন সরকারি পরিষেবা না পেয়ে। থমকে রয়েছে উন্নয়নের কাজ। আর এসবের দায় তৃণমূল কংগ্রেস চাপিয়েছে বিজেপির ঘাড়ে। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, তাদের দলের নেতা ও কর্মীদের উপর বিভিন্ন ধরনের অত্যাচার নামিয়ে এনেছে বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ও কর্মী দের থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করছে বিজেপি। লোকসভা ভোটের ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই এই অত্যাচার শুরু হয়েছে অভিযোগ তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যার, গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের। তৃনমূলের ব্লক সভাপতি তাপস মাঝি বলেন বিজেপির অত্যাচারে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান,উপ-প্রধান ও পঞ্চায়েত সদস্যরা যে যেতে পারছেন না গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে তা মেনে নিয়েছেন পটাশপুর ১ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি তাপস মাজি।

    তার অভিযোগ, রীতিমত সিপিএমের কায়দায় মারধর, জরিমানা আদায় শুরু করেছে বিজেপি। তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় নেতৃত্ব ও জনপ্রতিনিধিদের উপর অত্যাচার শুরু করেছে বিজেপি। গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে যখন তখন হাজির হয়ে ঝামেলা পাকাতে চাইছে। যার জন্য মোতায়েন হয়েছে পুলিশ। তবে খুব শীঘ্রই সাংগঠনিকভাবে এর মোকাবিলা করা হবে জানান তিনি।তৃণমূল কংগ্রেসের তোলা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি কাঁথি সাংগঠনিক জেলার যুব মোর্চার সম্পাদক কৃষ্ণগোপাল দাস। তিনি বলেন কাটমানি ফেরতের ভয়ে তৃণমূল নেতারা গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন। আর মিথ্যা অভিযোগ আনছে বিজেপির বিরুদ্ধে এমনটা দাবি।