রাজ্যের মুসলিম নেতৃত্বদের সংঘবদ্ধতায় প্রয়োজন কমিউনিটি এল্ডার্স কাউন্সিল

রাজ্যের মুসলিম নেতৃত্বদের সংঘবদ্ধতার জন্য এখুনি প্রয়োজন কমিউনিটি এল্ডার্স কাউন্সিল

অধ্যাপক ডঃ নুরুল ইসলাম

কোনো সমাজ ও রাষ্ট্র টিকে থাকতে পারে না সুনির্দিষ্ট জীবন দর্শন, সুসংহত ঐক্য ও বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ব্যতীত। বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে কোনোটাই নেই। ফলে, ভেঙে পড়েছে তাদের সমাজ কাঠামো। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে তাদের উন্নয়ন। গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে তাদের অস্তিত্ব। এমনকি তাদের অস্তিত্ব ও নিরাপত্তা এখন বিপজ্জনক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

এরকম এক সন্ধিক্ষণে জাতির পুনরুজ্জীবনের জন্য সর্বাধিক প্রয়োজন সুসংহত ঐক্য ও বলিষ্ঠ নেতৃত্ব। তবে, সংহতি ও নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা খুব সহজ কাজ নয়। একটি দলিত ও পতিত সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করা ও নেতৃত্ব দেওয়া সহজ কাজ নয়। ধারাবাহিক ও একনিষ্ঠ প্রচেষ্টার মাধ্যমে সম্ভব। কিন্তু সে দায়িত্ব কে নেবে?

কে দায়িত্ব নিয়ে একাজ শুরু করবে? যত দেরি হবে তত সমস্যা জটিল থেকে জটিলতর হবে। এই প্রক্রিয়া এখনই শুরু করতে হবে। ইতোমধ্যে বহু দেরি হয়ে গেছে। অতএব, উদ্যোগ শুরু করতে হবে। জাতির জন্য নিবেদিত প্রাণ কিছু মানুষ সম্প্রতি এই মহৎ কাজ শুরু করেছে। তাদের রাজনৈতিক কোনো উচ্চাশা নেই। নিজ সম্প্রদায়ের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা তাদের সংকল্প।

ইতোমধ্যে আলোচনা প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিশুদ্ধ সংকল্প ও নির্দিষ্ট লক্ষ্যে শুরু হয়েছে কাজ। প্রতিটি জেলা থেকে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত হতে যাচ্ছে কমিউনিটি এল্ডার্স কাউন্সিল। বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অনুসন্ধান চলছে জেলায় জেলায়। এই প্রক্রিয়া খুব সহজ নয়। বিতর্কের উর্দ্ধে নয়। কে বিশিষ্ট আর কে নয়? সে নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। সমাজে তাদের কতটা প্রভাব আছে তার মাপকাঠি নির্ণয় করা বড় কঠিন কাজ। তা সত্বেও শুরু করতে হবে একাজ। নির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে মনোনীত করতে হবে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় মনোনয়ন ও নির্বাচন করতে হবে। যোগ্যদের স্থান দিয়ে অযোগ্যদের অপসারণ প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে হবে। জানি, এই প্রক্রিয়া খুব সহজ হবে না। বিতর্কের উর্দ্ধে হবে না। জাতির স্বার্থ উর্দ্ধে রেখে এগিয়ে যেতে হবে। ব্যক্তি স্বার্থ উপেক্ষা করতে হবে।

উদ্দেশ্য: এই পরিষদ সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ অরাজনৈতিক সংগঠন রূপে নিজ সম্প্রদায়কে সঠিক দিশা দেখাবে। সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বিপর্যয় মোকাবিলা করতে উদ্যোগ গ্রহণ করবে। বর্তমান যে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে তার মোকাবিলা করতে সঠিক পরামর্শ দিবে। প্রতিটি বিধানসভা ক্ষেত্র ধরে ধরে সংশ্লিষ্ট এলাকার মুসলিমদের সঠিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে পরামর্শ প্রদান করবে। সামাজিক উন্নয়ন ও ধর্মীয় মতবিরোধ রুখতে সুপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত নিবে। এভাবে ভুঁইফোড় ও স্বঘোষিত নেতাদের অপরিণামদর্শী তৎপরতা বন্ধ করা যাবে। রাজনৈতিক হানাহানি বন্ধ করা সম্ভব হবে। সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও বৈষম্য দূর করা সম্ভব হবে।

এই মুহূর্তে মুসলিম সম্প্রদায় রাজনৈতিক সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে। রাজনৈতিকভাবে তারা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হওয়ার ফলে, তাদের রাজনৈতিক গুরুত্ব নষ্ট হচ্ছে। ফলে, বিরোধী শক্তি অধিকতর শক্তিশালী হচ্ছে। অশুভ শক্তিকে রুখতে হলে নিজেদের মধ্যে সুদৃঢ় সংহতি ও বলিষ্ঠ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা ছাড়া সর্বনাশ অনিবার্য ও অবশ্যম্ভবী।