দলিত-বহুজনকে হত্যার উল্লাস ধ্বনিতে পরিনত হয়েছে “জয় শ্রীরাম”

দলিত-বহুজনকে হত্যার উল্লাস ধ্বনিতে পরিনত হয়েছে “জয় শ্রীরাম”

শরদিন্দু উদ্দীপন, বঙ্গ রিপোর্ট: “হায় রাম” !!! জীবনে সব থেকে বড় বিপদে পড়ে আপনি বলতেই পারেন “রাম ধাক্কা খেলাম”। আবার প্রচন্ড রাগ হলে আপনি কাউকে “রাম ক্যালানি”ও দিতে পারেন। অবশ্য এতে যদি মানুষ খেপে যায় তবে উল্টে আপনারও “রাম ধোলাই” খাওয়ার আশংকা থেকে যায়! ফলে এই রাম থেকে দূরে থাকা এবং সাবধান হওয়াটা আমাদের খুব প্রয়োজন, তা নাহলে কবে নিজের জীবনেও “রামনাম সত্য হ্যায়” ঘটে যাবে। আপনার জায়গা হবে লাশকাটা ঘরে।

ভুলেও কোন মহিলা যদি আপনার আচার ব্যবহারে অসন্তুষ্ট হয়ে “রামপাঠা” বলে ফেলেন তবে অবশ্যই বুঝতে হবে আপনার চরিত্রে ভয়ানক কোন ত্রুটি আছে! বন্ধুদের বা সহকর্মীদের মুখে নিশ্চয়ই আপনি “রামছাগল” গালাগালটি শুনতে চাইবেন না। তবুও যদি এই গালি কোন কারণে আপনার উপরে বর্ষিত হয় তবে বিলম্ব না করে আপনার আচরণকে সংশোধন করে নিন, নতুবা এই রামছাগুলেপনা আপনাকে সারা জীবন তাড়া করে বেড়াবে! “রাম ধাক্কা”, “রাম ক্যালানি”, “রাম ধোলাই” “রাম পাঁঠা” বা রামছাগল যে কতবড় অমর্যাদার প্রতীক তা আপনি হাড়ে হাড়ে টের পাবেন যদি এর একটির দ্বারাও আপনি কখনো আক্রান্ত হন !

কথায় আছে বাল্মিকী নাকি “মরা-মরা” জপতে জপতে রাম-রাম শিখেছিলেন। আজ বিজেপির দৌলতে সেই রাম নাম সত্য হয়ে নরহত্যার উল্লাসে পরিণত হয়েছে মরা-মরা দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এই মৃত্যুর উল্লাস এমন বীভৎস উচ্চতায় পৌঁছে গেছে যে “জয় শ্রীরাম” ধ্বনি শুনলেই মানুষ মৃত্যু ভয়ে আঁতকে উঠছে। খবরের কাগজ, সোশ্যাল মিডিয়া বা বৈদ্যুতিন মাধ্যমে মিলিয়ে নিচ্ছে রাম নামে আজ কত জনের বাড়ি পোড়ানো হল, কতজনকে বেঁধে পেটানো হয়েছে, কতজনকে জোর করে জয় শ্রীরাম বলানো হয়েছে এবং কত জনকে নৃশংস ভাবে হত্যা করা হয়েছে।

শম্বূককে হত্যা, বালিকে হত্যা, মেঘনাদকে হত্যা এবং সূর্পণখাকে বলাৎকার এবং গর্ভবতী সীতাকে বনে বিসর্জন সত্ত্বেও রাম কাহিনীর একটি মাইথলজিক্যাল গুরুত্ব আছে। কিন্তু সব ছাপিয়ে “জয় শ্রীরাম” হয়ে পড়েছে দলিত-বহুজনকে হত্যার এক বীভৎস শ্লোগান।

যারা এই হত্যা লীলার উন্মত্তায় জড়িয়ে পড়ছে, তাঁরা আমার আপনার ঘরের সন্তান। আপনি সচেতন হলে আপনার সন্তানরা শয়তানী ফান্দা থেকে মুক্ত থাকতে পারবে।