ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড: বাংলাদেশ সংসদে বিল পাস

ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড: বাংলাদেশ সংসদে বিল পাস

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: শেখ হাসিনা সরকারের বাংলাদেশে এবার ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে পাস হলো ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিল-২০০০’। বিগত বেশ কয়েকদিন ধরেই সমাজের এই ঘৃণ্য অপরাধের জন্য ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবী উঠেছে । অবশেষে বাংলাদেশের মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা গতকাল মঙ্গলবার সংসদে বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে তা ধ্বণিভোটে পাস হয়।

উল্লেখ্য বাংলাদেশে ধর্ষণের শাস্তি জনিত বিল পাশ করার পাশাপাশি পূর্বের আইনে থাকা ‘ধর্ষিতা’ শব্দটির পরিবর্তন করা হয়েছে । সেখানে ‘ধর্ষণের শিকার’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে । এ বিষয়ে ‘ধর্ষিতা’ শব্দটি লিঙ্গ বৈষম্যের পরিচায়ক বলে ময়মতো আসার বিলের প্রেক্ষাপটে ‘ধর্ষণের শিকার’ শব্দবন্ধ দিয়ে ‘ধর্ষিতা’ শব্দটি প্রতিস্থাপনের সুপারিশ করেছিল সংসদীয় কমিটি। মূল আইনের ৯ (২) ধারাসহ কয়েক জায়গায় ‘ধর্ষিতা’ শব্দটি বাদ দিয়ে ‘ধর্ষণের শিকার’ শব্দটি যুক্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশে বেশ কিছুদিন ধরেই ধর্ষণ এবং নারী নির্যাতনের বিপক্ষে আন্দোলন চলছিল । পূর্বে সরকার উদ্যোগ নিলেও সংসদ অধিবেশন না থাকায় সংশোধিত আইন কার্যকর করতে গত ১৩ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০০০’ জারি করেন। পরে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী ৮ নভেম্বর আইনে পরিণত করতে অধ্যাদেশটি সংসদে তোলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। একইদিনে সেটি বিল আকারে সংসদে তোলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী। পরে পরীক্ষা করে সংসদে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য বিলটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

পূর্বে এই বিষয়ে যে আইন ছিল সেটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন অধ্যাদেশ-২০০০’ ।সেখানে আইনের ৯ (১) উপধারায় বলা ছিল ‘যদি কোনো পুরুষ কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন, তাহলে তিনি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন।এবার সেই পুরানো আইন সংশোধন করে বিলে মূল আইনের খসড়ার ৯ (১) উপধারায় ‘যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড’ শব্দগুলোর পরিবর্তে ‘মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড’ শব্দগুলো ব্যবহিত হয়েছে।

এছাড়াও নতুন বিলে আইনের ৯(৪)(ক) উপধারায় পরিবর্তন আনা হয়েছে । আইনের ৯ (৪) (ক) উপধারায় ছিল ‘যদি কোনো ব্যক্তি কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করে মৃত্যু ঘটানোর বা আহত করার চেষ্টা করেন, তাহলে ঐ ব্যক্তি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন।’ এই উপধারা সংশোধন করে পাশ হওয়া বিলে ‘যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড’-এর পরিবর্তে ‘মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড’ শব্দগুলো যোগ করা হয়েছে।