ডেঙ্গিতে ২ বছর ১১ মাসের শিশুর মৃত্যু দেগঙ্গায়: আতঙ্ক ও ক্ষোভ এলাকায়

    ডেঙ্গিতে ২ বছর ১১ মাসের শিশুর মৃত্যু দেগঙ্গায়: আতঙ্ক ও ক্ষোভ এলাকায়

    নিজস্ব সংবাদদাতা, বঙ্গ রিপোর্ট, দেগঙ্গা: ডেঙ্গিতে ২ বছর ১১ মাসের শিশুর মৃত্যু হল দেগঙ্গায়। বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতার ডঃ বিধান চন্দ্র রায় হাসপাতালে জ্বরে মৃত্যু হয় মেহেদী হাসান নামে এক শিশুর। মৃত্যুর কারণ ‘ডেঙ্গি শক সেন্ডম’ বলে জানিয়ে সরকারি এই হাসপাতাল। সাতদিনে একই পঞ্চায়েতের পর পর চারজনের মৃত্যু শুধুমাত্র আতঙ্ক ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীদের মধ্যে।

    পরিবার সুত্রে জানা গিয়েছে, ৫দিন আগে জ্বরে আক্রান্ত হয় আমুলিয়া পঞ্চায়েতের মধ্য আমুলিয়ার হাসান। পরিবার সোমবার স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে সেখানে রক্ত পরীক্ষার করাতে বলেন। মঙ্গলবার রক্তের রিপোর্টে ডেঙ্গির জীবানু ধরা পড়ে। সেই রাতে বারাসত জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে পরিবার। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ওই রাতেই কলকাতার শিশু হাসপাতালে স্থানান্তরিত করে চিকিৎসক। এরপর বুধবার সেখানেই মারা যায় শিশুটি। হাসানের দাদু এসরাইল মণ্ডল জানান, মাত্র ৩দিনের জ্বর। রক্ত পরীক্ষায় ডেঙ্গি মেলায় সঙ্গে সঙ্গে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলাম তবুও বাঁচাতে পারলাম না। আমার ছেলের এক মাত্র সন্তান এভাবে ডেঙ্গি প্রান কেড়ে নেবে তা মেনে নিতে পাচ্ছি না।

    মৃত শিশুর মা মিনা বিবি অন্তঃসত্ত্বা। বাবা বেল্লাল মণ্ডল মুম্বাইয়ে ব্যবসা। ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে এদিন বাড়ি ফেরেন।একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকে পাথর হয়ে গেছেন। এদিন বেল্লাল বলেন, আমি বাইরে থাকলেও আমার পরিবার সময় মত চিকিৎসা কারাতে সরাকারি হাসপাতালে নিয়ে গেল। সঠিক চিকিৎসার অভাবে মারা গেল। রাজ্য সরকারের কাছে আমার আবেদন, আমার একমাত্র সন্তান ডেঙ্গিতে মারা গেল। আর কোন বাবা মায়ের সন্তান এভাবে ডেঙ্গির কবলে মারা না যায়। এলাকায় ডেঙ্গি প্রকোপ রুখতে উদ্যোগ নিন।

    সৌদি আরব থেকে চার বছর পর দেগঙ্গার আমুলিয়া নিজের বাড়িতে ফিরেছেন এবাদুল্লা মণ্ডল। তিনি বলেন, আমার ৩ বছরের বাচ্চা ও পরিবারকে নিয়ে দেশের বাড়িতে এসেছি। যেভাবে ডেঙ্গি থাবা বসাচ্ছে তাতে থাকতে ভয় পাচ্ছি।৭দিন হল এসেছি হয়ত ফিরে যাব।

    এদিন এলাকায় যেতেই মানুষ ক্ষোভ উপড়ে দিলেন সাধারণ মানুষ। আলিম মণ্ডল বলেন, দু বছর হয়ে গেল তৃণমূল পঞ্চায়েত গড়েছে। এদের মধ্যে এত গোষ্টিদন্দ যে উপসমিতি গঠন হল কয়েকদিন আগে।এতদিন পর যখন জ্বরে মৃত্যুর ঘটনা ঘটল তখন শুরু হল প্রতিরোধক ব্যবস্থা। আগে উদ্যোগ নিলে হয়ত ডেঙ্গি জ্বরে মৃত্যু বন্ধ করা যেত।
    স্থানীয় তৃণমূল সদস্য হাবিবুল্লা বলেন, এটা ঠিক পর্যাপ্ত পরিমান প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিতে পারেনি পঞ্চায়েত প্রশাসন।কয়েকদিন আগে তৎপরতা শুরু হলেও মাঝে ইদের ছুটি ও বৃষ্টিতে ব্যঘাত ঘটেছে।
    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আমুলিয়া পঞ্চায়েতের সামনে দেখা গেল মশা তাড়াতে ধোঁয়া দেওয়ার কাজ চলছে। রাতে একটি গাড়ি করে ৫টি মশা মারা স্প্রে যন্ত্র ও তেল আসে জেলা দফতর থেকে।

    আমুলিয়া পঞ্চায়েত প্রধান মাসকুরা বিবির স্বামী হাসান আলি জানান, জ্বরে প্রকোপ বেড়েছে বলেছে বাড়ানো হচ্ছে তেল স্প্রে, চুন ব্লিচিং যোগান মজুত। শুক্রবার থেকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নামানো হবে শ্রমিক। বসানো হবে সবাস্থ্যশিবির।থাকবেন চিকিৎসক।
    দেগঙ্গা বিডিও দফতর থেকে জানানো হয়েছে, হাবড়া সংলগ্ন দেগঙ্গার সীমান্তবর্তী জ্বরে প্রকোপ ও মৃত্যু বেড়ে যাওয়ায় চাকলা প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রকে বিশ্বনাথ পুর ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মতো পরিষেবা কার্যকর করতে নির্দেশ দিয়েছেন।