দিল্লীতে অবস্থিত কুতুব মিনার আজও মধ্যযুগের স্থাপত্য শিল্পের ঐতিহ্য বহন করে চলেছে

দিল্লীতে অবস্থিত কুতুব মিনার আজও মধ্যযুগের স্থাপত্য শিল্পের ঐতিহ্য বহন করে চলেছে

বঙ্গ রিপোর্ট ডিজিটাল ডেস্ক: বর্তমান ভারতীয় সংস্কৃতির আকাশ বাতাস সরগরম হয়ে উঠছে কখনও তাজমহলকে তেজোমহালয়া, কুতুব মিনারকে বিষ্ণুস্তম্ভ বা কোন একটার সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত তখনও দিল্লিতে অবস্থিত কুতুব মিনার মধ্য যুগের মুসলিম স্থাপত্য শিল্পের ঐতিহ্য বহন করে মাথা উঁচু করে বিশ্বের সমস্ত শ্রেণীর দর্শকদের দৃষ্টি নন্দন করে চলেছে।

কুতুব মিনার হল ভারতের পুরানো দিল্লীতে অবস্থিত একটি স্তম্ভ বা মিনার, যা বিশ্বের সর্বোচ্চ ইটনির্মিত মিনার। এটি কুতুব কমপ্লেক্সের মধ্যে অবস্থিত। ১১৯৮ খ্রীষ্টাব্দে, কুতুব-উদ্দিন-আইবক, বর্তমান কুতুব মিনারের উত্তর-পূর্বে কূব্বত-ঊল-ইসলাম মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। ১২০২ খ্রীষ্টাব্দ নাগাদ, কুতুব-উদ্দিন-আইবক কুতুব মিনার নির্মাণ করেন। এই স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মাণের কারণ জানা যায় নি। কিছু ঐতিহসিক মতপ্রকাশ করেন যে, এটি একটি বিজয় স্তম্ভ হিসাবে নির্মিত হয়, এদিকে অনেকে আবার বলেন যে, এটি শুধুমাত্র মসজিদ সংলগ্ন একটি মিনার। কেউ কেউ আবার বিশ্বাস করেন যে, মুয়াজ্জিন দ্বারা নিষ্ঠাবানদের প্রার্থনার আহ্বানের জন্য এই স্তম্ভটিকে ব্যবহার করা হত।। তবে মিনারের উপরের তলাগুলোর কাজ সম্পূর্ণ করেন ফিরোজ শাহ তুঘলক ১৩৮৬ খ্রিস্টাব্দে। ভারতীয়-মুসলিম স্থাপত্যশৈলীর গুরুত্বপূর্ণ এবং অন্যতম প্রাচীন নিদর্শন বলে কুতুব মিনার বেশ উল্লেখযোগ্য।

এর আশে পাশে আরও বেশ কিছু প্রাচীন এবং মধ্যযুগীয় স্থাপনা এবং ধ্বংসাবশেষ রয়েছে, যারা একত্রে কুতুব কমপ্লেক্স হিসেবে পরিচিত। এই কমপ্লেক্সটি ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে তালিকাবদ্ধ হয়েছে এবং এটি দিল্লীর অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য এবং এটি ২০০৬ সালে সর্বোচ্চ পরিদর্শিত সৌধ, এবং পর্যটকের সংখ্যা ছিল ৩৮.৯৫ লাখ যা তাজমহলের চেয়েও বেশি, যেখানে তাজমহলের পর্যটন সংখ্যা ছিল ২৫.৪ লাখ।
কুতুব মিনার বিভিন্ন নলাকার শ্যাফট দিয়ে গঠিত যা বারান্দা দ্বারা পৃথকীকৃত। মিনার লাল বেলেপাথর দিয়ে তৈরী যার আচ্ছাদন এর উপরে পবিত্র কোরআনের আয়াত খোদাই করা। ভূমিকম্প এবং বজ্রপাত এর দরুন মিনার এর কিছু ক্ষতি হয় কিন্তু সেটি পুনরায় শাসকদের দ্বারা ঠিক করা হয়। ফিরোজ শাহ এর শাসনকালে, মিনার এর দুই শীর্ষ তলা বাজ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কিন্তু তা ফিরোজ শাহ দ্বারা সংশোধিত হয়েছিল। ১৫০৫ সালে, একটি ভূমিকম্প প্রহত এবং এটি সিকান্দার লোদী দ্বারা সংশোধিত হয়েছিল। কুতুব মিনার এর দক্ষিণ-পশ্চিম থেকে ২৫ ইঞ্চি একটি ঢাল আছে যা “নিরাপদ সীমার মধ্যে” বিবেচিত হয়।

১৯৮১ সালেরও আগে, জনসাধারণের জন্য স্মৃতিস্তম্ভটির ভিতরে প্রবেশ করার অনুমতি ছিল। তবে, এক গুরুতর আকস্মিক দুর্ঘটনা (১৯৮১ সালের ৪-ঠা ডিসেম্বর স্তম্ভটির মধ্যে আকস্মিক বিদ্যূৎ ঘাটতির আতঙ্কে ছত্রভঙ্গের সময় 45 জন ব্যক্তির মৃত্যু হয়)-র পর কর্তৃপক্ষের নেতৃত্বে অভ্যন্তরীণ বিভাগে জনসাধারণের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়।
কুতুব মিনার সারা বছর ধরে খোলা থাকে। তবে, অক্টোবর থেকে মার্চের মাসগুলিতে আবহাওয়া বেশ মনোরম থাকার দরুণ এইসময়ই হল কুতুব মিনার পরিদর্শনের সেরা সময়।

(সূত্র উইকিপিডিয়া)