মেলায় ছাড় ! এবার রাজ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার দাবিতে শিক্ষা দপ্তরে ডেপুটেশন ও হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা

মেলায় ছাড় ! এবার রাজ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার দাবিতে শিক্ষা দপ্তরে ডেপুটেশন ও হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: দীর্ঘ সময় ধরে স্কুল কলেজ বন্ধ অথচ রাজ্যে গঙ্গাসাগর মেলার মতো জনবহুল মেলা হয়েছে, দ্বিতীয় দফায় ১৫ জানুয়ারির পর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্দেশিকায় মেলার উপর ছাড় দেওয়া হয়েছে। অথচ দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় সবচেয়ে খারাপ প্রভাব পড়ছে পড়ুয়াদের ওপর বলেই দাবি বিশেষজ্ঞদের। করোনা আবহে স্কুলে উঁচু ক্লাস এবং কলেজ কিছুদিন খুললেও তা আবার বন্ধ হয়ে গিয়েছে করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের ধাক্কায়।

রাজ্য শিক্ষা দপ্তর বিকাশ ভবনে রাজ্যের প্রধান শিক্ষক শিক্ষিকাদের সংগঠন অ্যাডভান্সড সোসাইটি ফর হেডমাস্টার্স অ্যাণ্ড হেডমিস্ট্রেসেস এর তরফ থেকে স্কুলের পঠন পাঠন স্বাভাবিক করার দাবি নিয়ে ডেপুটেশন জমা দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি রাজ্যে স্কুল-কলেজ খোলার দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হল জনস্বার্থ মামলা। মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টে মামলাটি দায়ের করেন আইনজীবী সায়ন ব্যানার্জি। মামলাকারীর আইনজীবীর প্রশ্ন, ‘এই রাজ্যে কোভিড বিধি মেনে গঙ্গাসাগর মেলা হতে পারলে, নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে থেকে স্কুল-কলেজে পঠন-পাঠন সম্ভব নয় কেন?’

 

এদিন শিক্ষামন্ত্রী ছাড়াও চিঠি দেওয়া হয়েছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি এবং উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতিদের কাছে। জানা গেছে, ডেপুটেশনের মূল বক্তব্য পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত স্কুল খুলে দেওয়া এবং স্বাভাবিক পঠন-পাঠন চালু করা।

প্রসঙ্গত, আগামী মাস থেকেই স্কুল খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সংগঠনটি। তাঁদের দাবি, ছাত্র-ছাত্রীদের মূলস্রোতে অর্থাৎ পড়াশোনার জগতে ফিরিয়ে আনার জন্য স্কুল খোলা অত্যন্ত প্রয়োজন। এই মুহূর্তে স্কুল বন্ধ থাকায় স্কুল ছুটদের সংখ্যা বেড়েছে। একই সাথে বেড়েছে বাল্যবিবাহ, নারী নির্যাতন, শিশু শ্রম।

অনলাইন ক্লাস চললেও শহরের সামান্য অংশের শিক্ষার্থী ছাড়া অধিকাংশ পড়ুয়ারা অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে পারেনা। ফলে পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে তাঁরা রোজগারের ধান্দায়। এই অবস্থায় করোনা বিধি মেনে স্কুল-কলেজ অবিলম্বে খুলে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

আইনজীবী সায়ন ব্যানার্জির দাবি, সংবিধানে সবার জন্য বিনামূল্যে শিক্ষার অধিকারের কথা বলা আছে। তা সত্ত্বেও বর্তমানে অনলাইনে পড়াশোনার ক্ষেত্রে পড়ুয়াদের মধ্যে ডিজিটাল বিভাজন করা হচ্ছে। কারণ, ল্যাপটপ, স্মার্টফোন, হাই স্পিড ইন্টারনেট সবার কাছে থাকে না। ফলে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিভাজন তৈরী হচ্ছে, যা সঙ্গত নয়। ফলে এই পদ্ধতিতে পড়াশোনা চালাতে হলে রাজ্যের সব ছাত্র-ছাত্রীদের ই-লার্নিং এর সমস্ত গ্যাজেটের খরচ রাজ্য সরকারকে বহন করতে হবে।

এছাড়াও লকডাউনের সময় বহু পড়ুয়া স্কুলছুট হয়েছে। সেই ড্রপ আউট ছাত্রদের পুনরায় স্কুলে ফেরানোর জন্য রাজ্য সরকারকে উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে মহামান্য হাইকোর্টের কাছে। প্রসঙ্গত মামলাটি ২১ জানুয়ারি হাইকোর্টে শুনানি হতে পারে।