আতঙ্কিত নয়, সতর্ক থাকুন! ইয়াস ঘূর্ণিঝড়ে আয়লা-আমফানের মতো বাংলায় তান্ডবের সম্ভাবনা কম

    আতঙ্কিত নয়, সতর্ক থাকুন! ইয়াস ঘূর্ণিঝড়ে আয়লা-আমফানের মতো বাংলায় তান্ডবের সম্ভাবনা কম

     

    নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: আয়লা, আর আমফানের স্মৃতি এখনও টাটকা। ঝড়ের তাণ্ডবে উড়ে গিয়েছিল ঘরবাড়ি, জলের তলায় চলে গিয়েছিল চাষের জমি। সর্বস্ব খুইয়েছিলেন গোসাবা, ক্যানিং, সুন্দরবন-সহ রাজ্যের একাধিক জায়গার হাজার হাজার মানুষ। রাতারাতি জীবন হয়ে উঠেছিল দুঃস্বপ্নের মতো। তাই যেদিন থেকে ফের ঘূর্ণিঝড়ের আভাস পেয়েছিলেন তাঁরা, শিউরে উঠেছিলেন। আবারও আমফানের মতো হবে না তো! যশের ধ্বংসলীলার গ্রাসে সব চলে যাবে না তো! একই প্রশ্ন ছিল শহর, শহরতলি বা জেলার মানুষজনেরও। যে পরিমাণ গাছ কলকাতায় সেদিন পড়েছিল, যে পরিমাণ বিদ্যুতের খুঁটি উপড়েছিল, তা আজও দুস্বপ্নের মতোই। সোমবার আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস কিছুটা হলেও আশার বাণী শুনিয়েছে তাদের।

    হওয়া অফিসের বক্তব্য, আয়লা বা আমফানের সঙ্গে যশের কোনও তুলনাই হয় না। আমফান আঘাত হেনেছিল সাগরদ্বীপে। তার পর কলকাতার বুক চিরে উত্তর ২৪ পরগনা দিয়ে কিছুটা এগিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিল। আর যশ প্রবেশ করবে ওড়িশা দিয়ে। তার পর তা চলে যাবে ঝাড়খণ্ডে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই যশের ভয়াবহতা এবার পূর্ব মেদিনীপুর বাদ দিয়ে সেই অর্থে অন্য কোনও জেলা দেখবে না। প্রবল ঝড়-বৃষ্টি হবে ঠিকই, কিন্তু তা আমফান বা আয়লার মতো নয়।

    তবে সমুদ্রে জলোচ্ছ্বাসের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। হওয়া অফিস জানিয়েছে, সমুদ্র সৈকতে দুই থেকে চার ফুট পর্যন্ত উঠতে পারে ঢেউ। কারণ আগামী বুধবার পূর্ণিমা। ভরা কোটাল। সেক্ষেত্রে নদীবাঁধে ভালরকম চাপ পড়তে পারে। ভেসে যেতে পারে বহু জমি।

    হওয়া অফিস সূত্রে খবর, যে অঞ্চলে যশ ল্যান্ডফল করবে তার থেকে কলকাতার দূরত্ব প্রায় ২০০ কিলোমিটার। সাগরদ্বীপ থেকে ১২০ কিলোমিটার এবং দিঘা থেকে ১০০ কিলোমিটার। ফলে এই ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে আমফানের মতো কলকাতা তছনছ হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে।