তীরে এসে তরী ডুবল: মরসুমের প্রথম ট্রফি জয়ের থেকে দুধাপ দূরেই থেমে গেল ইস্টবেঙ্গল

তীরে এসে তরী ডুবল: মরসুমের প্রথম ট্রফি জয়ের থেকে দুধাপ দূরেই থেমে গেল ইস্টবেঙ্গল

মাহাবুবুজ্জামান,বঙ্গ রিপোর্ট, কোলকাতা:

ডুরান্ডের প্রথম সেমিফাইনালে যুবভারতীতে গোকুলাম এফসি’র বিরুদ্ধে টাইব্রকারে হেরে গেল লাল হলুদ বাহিনী। খেলার শুরু থেকেই আধিপত্য বজায় রেখেছিল ইস্টবেঙ্গল। মাত্র ২ মিনিটের মাথায় গোলের সুযোগ চলে এসেছিল। মাঝমাঠ থেকে কোলাডোর থ্রু পেয়ে রাইট উইং থেকে ক্রস করেছিলেন পিন্টু।

বল বারপোস্টে লেগে বেরিয়ে যায়। পরের মিনিটেই ফের কোলাডোর শট ধরে ফেলেন গোকুলাম গোলরক্ষক। ৪ মিনিটের মাথায় ডিকার থেকে বল নিয়ে আবার গোলের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন কোলাডো। তবে এরপর বেশিক্ষণ গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হয়নি ইস্টবেঙ্গলকে। বিদ্যাসাগরের মাইনাস থেকে বল ক্লিয়ার করেছিলেন উবেদ। কিন্তু বল রিসিভ করতে পারেননি গোকুলাম মিডফিল্ডার মহম্মদ রশিদ। বল পেয়ে জোরালো শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বল জালে ঢোকান সামাদ আলি মল্লিক।

এরপর একাধিকবার গোলের চেষ্টা করে লাল হলুদ শিবির। ৩৭ মিনিটের মাথায় উবেদকে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি পিন্টু। সামাদ গোল করার পর থেকে তাকেই বারবার মার্কিং করছিল গোকুলাম ফুটবলাররা। বেশ কয়েকবার হার্ড ট্যাকলের শিকার হন তিনি। প্রথমার্ধে এগিয়ে থেকেই মাঠ ছাড়ে ইস্টবেঙ্গল।

দ্বিতীয়ার্ধে শুরুতেই ৫১ মিনিটের মাথায় সহজ সুযোগ মিস করেন হেনরি কিসেকা। ৫৫ মিনিটের মাথায় আরও একবার আক্রমণ কড়া হয় সামাদকে। এবার পায়ে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন সামাদ। এরপরই হঠাৎ করেই ডিফেন্সিভ খেলা শুরু করে লাল হলুদ শিবির। এরপর ৬৮ মিনিটের মাথায় ব্রেন্ডনকে বসিয়ে নাওরেমকে নামান অ্যালেজান্দ্রো। তার কিছুক্ষণ পরেই বিদ্যাসাগরকে বসিয়ে বোয়েথাংকে নামানো হয়। ডিফেন্স শক্ত করতে গিয়ে ফরোয়ার্ড লাইন দুর্বল করে দিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। আর গোকুলাম ঠিক সেই সুযোগটাই নেওয়ার চেষ্টা করছিল। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর ৬ মিনিট অতিরিক্ত সময় দেন রেফারি। আর তাতেই ক্ষেপে ওঠেন সমর্থকরা।

ম্যাচে না নামলেও রিজার্ভ বেঞ্চ থেকে উঠে এসে রেফারির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন বোরহা। তাকেও হলুদ কার্ড দেখানো হয়। এরই মাঝে ঘটে বিপত্তি। ৯৩ মিনিটের মাথায় মার্কোস জোসেফের জার্সি টেনে তাকে নিজেদের বক্সে ফেলে দেন মেহতাব সিং। তাকে লাল কার্ড দেখান রেফারি।

অতিরিক্ত সময়ও খেলার অমিমাংসিত থাকায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানেই ৩-২ গোলে ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে ডুরান্ডের ফাইনালে পৌঁছে গেল গোকুলাম এফসি। লাল হলুদের হয়ে গোল মিস করেন ডিকা, কোলাডো আর নাওরেম।