৮০ শতাংশ মুসলিম পরিবারের মাসিক আয় পাঁচ হাজারের নিচে: মমতা সরকারের মুসলিম প্রীতি নিয়ে কটাক্ষ ওয়েইসির

৮০ শতাংশ মুসলিম পরিবারের মাসিক আয় পাঁচ হাজারের নিচে: মমতা সরকারের মুসলিম প্রীতি নিয়ে কটাক্ষ ওয়েইসির

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: রাজ্যে ৭ টি আসনে লড়াই করছে আসাদ উদ্দিন ওয়াইসির দল এআইএমআইএম। উত্তর দিনাজপুরে একটি মুর্শিদাবাদের তিনটি, মালদহের দু’টি ও পশ্চিম বর্ধমানের একটি আসনে লড়াই করছে তারা।

এদিন মালদা জেলার চাঁচলে মালতিপুরের প্রার্থী শিক্ষক মতিউর রহমান ও উত্তর দিনাজপুর জেলার ইটাহারে আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলামের সমর্থনে দুটি জনসভা করেন মিম প্রধান আসাদ উদ্দিন ওয়াইসি। দুটি সভা থেকেই তিনি আক্রমণ শানিয়েছেন সাম্প্রদায়িক বিজেপি ও রাজ্যের মমতা সরকারকে। মুর্শিদাবাদেও সভা করার কথা থাকলেও হেলিপ্যাডের অনুমতি না পাওয়ায় শেষ মুহূর্তে তার বাতিল হয়।

এদিন ইটাহারের বিধিবাড়ি এলাকায় মিম প্রার্থী আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলামের সমর্থনে জনসভায় ওয়েসি বলেন, ‘তৃণমূল মিমকে বিজেপির ‘বি’ টিম বলছে। অথচ বাংলায় ৮০ শতাংশ মুসলিম পরিবার মাসে পাঁচ হাজারের নিচে,  এমনকি ৩৮ শতাংশ মুসলিম পরিবার মাসে আড়াই হাজার টাকা রোজগার করে। মাত্র ২০ শতাংশ মুসলিম পরিবারের আয় ৫ হাজারের উপরে। এছাড়া ১৩ শতাংশ মুসলিম বাসিন্দার একশো দিনের কাজের জবকার্ড রয়েছে। তাহলে বলুন, কে বিজেপির ‘বি’ টিম। বিজেপির ‘বি’ টিম তৃণমূলই। মমতা দিদি বলছেন, আমরা নাকি বিজেপির কাছ থেকে টাকা নিয়েছি। কতটাকা নিয়েছি বলুন। যদি বলতে পারেন, তাহলে ৯০ শতাংশ টাকা ভাইপোকে পাঠিয়ে দেব। মমতাদি নিজেকে ব্রাক্ষ্মণ ও বাঘিনী বলে দাবি করে মুসলিমদের নীচে রাখার চেষ্টা করছেন। মমতা যদি বাঘিনী হন, তবে আমিও বাঘ। আমরাও খেলতে প্রস্তুত।’

তিনি আরোও, ‘বিজেপি বলছে, বাংলায় বাংলাদেশী ভরে গিয়েছে। তৃণমূলই তো এরাজ্যে বিজেপিকে ঢুকিয়েছে। মমতাদি তো একসময়ে বিজেপির কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। ওঁরা একসঙ্গে চলে। এরাজ্য সংখ্যালঘুদের পিছিয়ে রাখা হয়েছে। নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় শুভেন্দু অধিকারী আমায় নিয়ে গিয়েছিল, আর মমতা আমায় থ্যাঙ্কিউ বলেছিল। তাহলে নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় মমতা ব্যানার্জি আপনিই বলুন আমায় কত টাকা দিয়েছিলেন? মুখ্যমন্ত্রী সংখ্যালঘুদের পায়ের ফুটবল বানিয়ে ফেলেছে, যার জবাব মানুষ ভোটে দেবে।’

মালতিপুরের প্রার্থী শিক্ষক মতিউর রহমানের সমর্থনে জনসভায় ওয়েইসি বলেন, ‘গত লোকসভা নির্বাচনে এআইএমআইএম বাংলায় লড়াই করেনি। তবে কেন উত্তর মালদায় মৌসম নূর হেরেছেন? কীভাবে বিজেপি রাজ্যে ১৮টি আসন পেল? কারণ তৃণমূল বিজেপিকে জায়গা করে দিয়েছে। এখন তৃণমূল বলছে আমি নাকি বিজেপিকে সাহায্য করতে লড়াইয়ে নেমেছি। এই নির্বাচনে আপনারা আমার ভাইকে ভোট দিন।’