উদীয়মান নেতৃত্ব: বলিষ্ঠ নেতৃত্ব একটি জাতির রাজনৈতিক উত্থান সুনিশ্চিত করে

উদীয়মান নেতৃত্ব: বলিষ্ঠ নেতৃত্ব একটি জাতির রাজনৈতিক উত্থান সুনিশ্চিত করে

অধ্যাপক ডঃ নুরুল ইসলাম

কোনো জাতির উত্থান ও পতনে নেতৃত্বের ভূমিকা অপরিসীম। নেতৃত্বহীন জনগোষ্ঠী ও জাতির রাজনৈতিক পতন যেমন নিশ্চিত, অনুরূপ বলিষ্ঠ নেতৃত্ব একটি জাতির রাজনৈতিক উত্থান করে সুনিশ্চিত। পৃথিবীর প্রতিটি জাতি ও রাষ্ট্রের ইতিহাস গভীরভাবে অধ্যায়ন ও পর্যবেক্ষণ করলে উত্থান ও পতনে নেতৃত্বের ভূমিকা স্পষ্ট লক্ষ্য করা যায়। একবার ভারত উপমহাদেশের আধুনিক ইতিহাস অবলোকন করুন। অষ্টাদশ শতাব্দীতে মুষ্টিমেয় কিছু সশস্ত্র ব্রিটিশ বণিক নেতৃত্বহীন বিশাল উপমহাদেশ দখল করতে সক্ষম হয়। আবার বিংশ শতাব্দীতে ভারতীয় জনগণ গান্ধীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বিদেশিদের বিতাড়িত করতে সক্ষম হয়।

এই মুহূর্তে আর এস এস-বিজেপির কৌশলী বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ভারতবর্ষে রূপকথার রামরাজত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে। মোদির প্রশ্নহীন নেতৃত্বে ফ্যাসিবাদী শক্তি অসামান্য শক্তি সঞ্চয় করেছে। দেশের প্রধান মন্ত্রী রূপে তার হাজার ব্যর্থতা সত্বেও আর এস এস-বিজেপির নেতৃত্ব শৃংখল দেশে অপরিসীম আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে। তাদের অভিষ্ট লক্ষ্য মুসলিম সম্প্রদায়কে ক্ষমতাহীন ও দাসানুদাসে পরিণত করা। আর তাদের একমাত্র রাজনৈতিক এজেন্ডা ইসলামোফোবিয়া। দেশে এখন ভয়ানক ও বিপজ্জনক অসহিষ্ণুতা ও অস্থিরতা বিরাজ করছে।

এই রকম এক প্রেক্ষাপটে দেশে মুসলিম নেতৃত্ব উত্থানের এক উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এই মুহূর্তে মুসলিম মিল্লাত সংগঠিত হতে প্রস্তুত। মিল্লী ঐক্য এখন অলীক কল্পনা নয়। বাস্তবতা। বাধা শুধুমাত্র ভূঁইফোড় ও স্বঘোষিত নেতারা। বলিষ্ঠ ও বিচক্ষণ নেতৃত্ব ছাড়া স্থায়ী ও শক্তিশালী ঐক্য কল্পনা করা যায় না।

খুব শীঘ্রই আশার কিরণ উদ্ভাসিত হবে। মুসলিম বিদ্বজ্জন তথা আধুনিক শিক্ষিত বুদ্ধিজীবী ও ইসলামী ধর্মতত্ত্ব-আধুনিক শিক্ষায় প্রশিক্ষিত উদীয়মান নেতৃত্ব উঠে আসছে। আঘাতের পর আঘাত তাদের তন্দ্রাচ্ছন্ন চেতনাকে উজ্জীবিত করতে সক্ষম হয়েছে। শিক্ষক/শিক্ষিকা, মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক/অধ্যাপিকা, লেখক, কবি, সাহিত্যিক ও শিল্পীরা মিল্লাতের নেতৃত্ব দিতে এগিয়ে আসছেন। মিল্লাতের মধ্যে শীঘ্রই একটি ব্যাপক পরিবর্তন ও পুনর্জাগরণের উদ্ভব হবে। ইনশাআল্লাহ।

পশ্চিমবঙ্গেও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্য হতে উদীয়মান নেতৃত্ব উঠে আসছে। ভূঁইফোড় ও ধান্দাবাজদের মানুষ শীঘ্রই প্রত্যাখ্যান করবে। মুনাফিকরা দীর্ঘদিন ধরে মীর জাফরের ভূমিকা পালন করে চলেছে। ব্যক্তি ও পরিবারের স্বার্থে মিল্লাতকে বেচতে তাদের কোনো দ্বিধা নেই। তাদের অপদার্থতার কঠোর মূল্য দিয়েছে মুসলিম মিল্লাত। রাসুলুল্লাহর স. যুগ থেকে আজ পর্যন্ত মুনাফিকদের বিশ্বাসঘাতকতার বহু মূল্য দিয়েছে মুসলিম উম্মাহ। জাগ্রত মিল্লাতকে সদা সতর্ক থাকতে হবে। আপনারা সকলেই জানেন, আমাদের শত্রুরা আমাদের সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে তথাকথিত পেট পূজারীদের ও মারসিনারিদের অঢেল পয়সা দিয়ে আমাদের ঐক্য ও নেতৃত্বকে ধ্বংস করতে নিয়োগ করেছে। তারা প্রভূদের পাপেট। সাবধান! সদা সতর্ক থাকুন ওদের থেকে!

এই মুহূর্তে জাতীয় স্তরে বিকল্প নেতৃত্বের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ব্যারিস্টার আসাদুদ্দিন ওয়ায়সি নাকিবে মিল্লাত রূপে দ্রুত গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছেন। তার মধ্যে মুসলিম মিল্লাতের নেতৃত্ব প্রদানের যে যোগ্যতা আছে তা এদেশে অন্যদের মধ্যে দূর্লভ। আধুনিক রাজনৈতিক দর্শন, প্রচলিত গণতান্ত্রিক-সংসদীয় সিষ্টেম, সামাজিক ডিসকোর্স ও ধর্মীয় দর্শন বিষয়ে তার অগাধ পান্ডিত্য তাকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। আমি জানি, ভ্রাতৃপ্রতিম কলহপ্রিয় স্বঘোষিত নেতারা আমার এই মন্তব্যকে হজম করতে পারবেনা। হয়তো স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাকে কাঁচা খিস্তি দেওয়া হয়ে গেছে। ঠিক আছে। কোনো অভিশাপ দিবনা। দোয়া করব, যেন আল্লাহ এই অপরিণামদর্শীদের সুমতি দেন।

দয়া করে বাস্তববাদী হোন। আবেগ আর জোশকে নিয়ন্ত্রণ করুন। নিভৃতে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে স. সাক্ষ্য রেখে ভাবুন। আপনি জানেন, নেতৃত্বহীন জীবন জাহেলিয়াতের জীবন। অভিশপ্ত জীবন। বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ছাড়া মুক্তি নেই। আপনি বিকল্প দশজন যোগ্য মুসলিম নেতৃত্বের যোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে কিছুক্ষণ ভাবুন। ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে ভাবুন। অন্যথা ঠগ বাছতে গাঁ উজাড় হয়ে যাবে।
সাবধান! শত্রুদের ট্র্যাপে পড়বেন না। তারা আপনার মনে সংশয় ও সন্দেহ সৃষ্টি করে ছেড়ে দিবে। মুসলিম বিদ্বজ্জন তথা নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা ও ঘৃণা সৃষ্টি করে দিবে। তারা কোনো বলিষ্ঠ বিকল্পের সন্ধান দেবে না। আমাদের কুপমন্ডতা আমাদের শত্রু। সমাজ, রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিচার করার ইচ্ছা ও যোগ্যতা নেই আমাদের। শুধু পাড়ার চায়ের দোকানে চায়ের কাপে ফেনা তুললে মিল্লাতের দূর্যোগ কাটবেনা। পারস্পরিক অবিশ্বাস, ঘৃণা ও অজ্ঞতা দূর করে আমাদের সকলকে উত্তরণের দিশা খুজতে হবে।