মাদ্রাসা দপ্তরের পূর্ণ মন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরেও: সমস্যা ও দাবি জানাতে হল ফিরহাদ হাকিমের কাছে

মাদ্রাসা দপ্তরের পূর্ণ মন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরেও: সমস্যা ও দাবি জানাতে হল ফিরহাদ হাকিমের কাছে

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: রাজ্যের মাদ্রাসা দপ্তরের মন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরেও এই দপ্তরের সমস্যা নিয়ে এখনো পর্যন্ত কোন মাদ্রাসা শিক্ষক সংগঠন ও এই সংক্রান্ত আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কোন সাক্ষাৎ মুখ্যমন্ত্রী করেননি। অ অগত্য এরসঙ্গে দাবি নিয়ে আলোচনায় বসতে হয়েছে শিক্ষক ও আন্দোলনকারীদের। সোমবার “ওয়েষ্ট বেঙ্গল রিকগনাইজ্ড আন-এডেড মাদ্রাসা টিচার্স অসোসিয়েশন”এর পক্ষ থেকে মহাকরণে পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে রাজ্য সরকার অনুমোদিত 235 টি আন-এডেড মাদ্রাসার 2500 শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মাসিক বেতন ও ছাত্র-ছাত্রীদের মিড-ডে-মিল সহ বিভিন্ন ইনসেন্টিভের জন্য আলোচনা ছিলো।

সংগঠনের রাজ্য সভাপতি এবং সম্পাদক মহাকরণে উপস্থিত হয়েছিলেন । এই মাদ্রাসার শিক্ষক শিক্ষিকারা যে দীর্ঘ আট নয় বছর ধরে কোনো রুপ বেতন পাচ্ছেন না এবং ছাত্র ছাত্রীরা যে সমস্ত রকম সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত তা মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। এমনকি মন্ত্রী মহাশয় যে 2015 সালে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তাও মনে করিয়ে দেন।এই মাদ্রাসার 3 জন করে শিক্ষক যে কেন্দ্র সরকারের কাছ থেকে এসপিকিউএম এর টাকা পেতেন তাও আজ দীর্ঘ ছয় বছর ধরে বন্ধ হয়ে গেছে।

সংগঠনের রাজ্য সভাপতি সেখ জাভেদ মিঁয়াদাদ বলেন রাজ্য সরকারের সদিচ্ছার অভাব । মুদ্দাকথা হলো এই সরকার সংখ্যালঘুদের জন্য জন সাধারণের সামনে যে উন্নয়নের ঢাক পিটিয়ে থাকেন, তা সবকিছুই লোক দেখানো। ভেতরের খবর কিন্তু বলছে অন্য কথা।

ফিরহাদ সাহেবের কথায় তা পরিষ্কার হলো- তিনি কিছুই করতে পারবেন না। উনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির কোর্টে বল ঠেলে দিয়ে বলেন আপনারা মুখ্যমন্ত্রীকে একটা চিঠি করেন আমি তা উনার কাছে পৌঁছে দেবো এবং আপনাদের সমস্যা সমাধানের জন্য অনুরোধ করবো।

উনি আরও বলেন উনি মাইনোরিটি দপ্তরের সচিবের সঙ্গে আলোচনায় বসার একটি ব্যবস্থা করে দিবেন । উনি বলছেন উনার কোন ক্ষমতা নেই। তাহলে পরিষ্কার করে বলতে হবে সংখ্যালঘুদের কথা রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কোন ব্যক্তি শুনবেন ? মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি তিনি নিজেই তো মাদ্রাসা দফতরের পূর্ণ মন্ত্রী! উনি তো এই বিষয়ে কিছুই মুখ খুলছেন না ! তাহলে পশ্চিম বাংলার আধুনিক মাদ্রাসা শিক্ষা কি বন্ধের পথে ?

সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক পলাশ রম বলেন – রাজ্য সরকারের আসল মুখোশ টা বেরিয়ে এসেছে । এই সরকার একের পর এক প্রতারণা করেই চলেছেন । আমরা খুব শীঘ্রই নবান্ন অভিযানের ডাক দেবো। আমাদের দীর্ঘ দিনের মাসিক বেতনের দাবী পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। এই সরকারের তুঘলুকি চিন্তা ভাবনার কারণে বন্ধ হতে চলেছে রাজ্যের 235 টি আন-এডেড মাদ্রাসা, 2500 শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং 40000 ছাত্র- ছাত্রীদের ভবিষ্যত ।