আজও আমি জানি না আমাকে কেন নির্বাসিত করা হয়েছিল: আক্ষেপ ইডেনের ঝড় আজহারউদ্দিনের

আজও আমি জানি না আমাকে কেন নির্বাসিত করা হয়েছিল: আক্ষেপ ইডেনের ঝড় আজহারউদ্দিনের

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: মাঠে কলার তোলা টি-শার্ট। ২২ গজে ব্যাট হাতে আন অর্থোডক্স স্ট্যান্স। কব্জির সৌখিন মোচড়ে অফ স্টাম্পের বলেও চোখধাঁধানো ফ্লিক। মহম্মদ আজহারউদ্দিনের নাম শুনলে আজও ক্রিকেট প্রেমীর মনে এই ছবিগুলো ভাসে। আজহার মানেই ব্যাটিংয়ে শিল্প, ফিল্ডিংয়ে ক্ষিপ্রতা, নির্ভীক অধিনায়কত্ব। আজহার ইডেনের ঝড়। একইসঙ্গে আজহার মানেই ম্যাচ ফিক্সিং, নির্বাসন, ভারতীয় ক্রিকেটের অন্ধকার অধ্যায়। মুদ্রার দু’পিঠের মতো আজহারের ক্রিকেট জীবনেরও দু’টি দিক।

দেশের হয়ে দেড় দশকেরও বেশি ক্রিকেট খেলেছেন। দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগে আজীবন নির্বাসিত হয়েছেন। আবার আইনি লড়াইয়ে জিতে নির্বাসন থেকে মুক্তও হয়েছেন। কিন্তু মহম্মদ আজহারউদ্দিনের দাবি, তিনি আজও জানেন না তাঁকে নির্বাসিত করার কারণ কী। একটি আন্তর্জাতিক স্পোর্টস ওয়েবসাইটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আজহার বলেছেন, ‘যা হয়েছে তার জন্য আমি কাউকে দায়ী করতে চাই না। কিন্তু আমি আজও জানি না আমায় নির্বাসিত করার কারণ কী।’

২০০০ সালের ডিসেম্বর মাসে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগে আজহারউদ্দিনকে ক্রিকেট থেকে আজীবন নির্বাসিত করে বিসিসিআই। এর বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হন প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক। দীর্ঘ ১২ বছর আইনি লড়াইয়ের পর ২০১২ সালে আজহারকে নির্বাসনমুক্ত করে অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্ট। এরপরেই ক্রিকেটের জগতে ফিরে আসেন আজ্জু। ২০১৯ সালে রাজীব গান্ধী ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তাঁর নামে প্যাভিলিয়নের নামকরণ করা হয়। আইনি লড়াই নিয়ে সাক্ষাৎকারে আজহার বলেছেন, ‘আমি লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আমি কৃতজ্ঞ যে ১২ বছর পর অভিযোগ থেকে মুক্ত হতে পেরেছি। হায়দরাবাদ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে, বোর্ডের বার্ষিক সাধারণ সভায় যোগ দিতে পারায় আমি খুবই সন্তুষ্ট।’

দেড় দশকের ক্রিকেট কেরিয়ারে আজহার দেশের হয়ে ৯৯টি টেস্ট খেলেছেন। ৪৫ গড় নিয়ে ৬ হাজার ১২৫ রান করেছেন। ৩৩৪টি ওয়ানডে ম্যাচে ৯ হাজার ৩৭৮ রান করেছেন। ব্যাটিং গড় ৩৬.৯২। টেস্ট জীবন ৯৯টি ম্যাচে থেমে যাওয়ার জন্য অবশ্য আহজারের কোনও আক্ষেপ নেই। সাক্ষাৎকারে তাঁর দাবি, ‘আমি ভাগ্যে বিশ্বাসী। আমি মনে করি কপালে যা লেখা আছে তাই হবে। আমি দেশের হয়ে ১৬-১৭ বছর ক্রিকেট খেলেছি। ১০ বছর দেশের অধিনায়কত্ব করেছি। এর থেকে বেশি আর কী চাই।’