অভিযান: এই মুহূর্তে মিল্লি ইত্তেহাদ হল জাতির একমাত্র মুক্তির পথ

অভিযান: এই মুহূর্তে মিল্লি ইত্তেহাদ হল জাতির একমাত্র মুক্তির পথ

অধ্যাপক ডঃ নুরুল ইসলাম

আজ ভারতবর্ষে এক ভয়ানক দূর্যোগ চলছে। ইতিহাসের এক বিপজ্জনক মোড়। ক্রান্তিকাল। রূপকথার রামরাজত্ব তথা হিন্দু ধর্মের গরিমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে! হিন্দু রাজ! হিন্দু স্বর্ণ যুগ! ব্রাহ্মণ-ক্ষত্রিয়-বৈশ আধিপত্য ও প্রতাপ সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
স্বাভাবিকভাবে, শুদ্রদের আবার দাসত্বের সূচনা হয়েছে। শুদ্র শুধু দলিতরা নয়। মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন এবং পার্সীরা সকলেই শুদ্র। অতএব ক্রমান্বয়ে তারা দলিত হবে। দাস হবে। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ তাদের শাসন-শোষনের এবং নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হবে। এখন মুসলিম সম্প্রদায়ের উপর শুরু হয়েছে। অন্যরা অপেক্ষমান। শুধু সময়ের অপেক্ষা। উপযুক্ত সময়ের।

এই মুহূর্তে রামপন্থীরা মুসলিম সম্প্রদায়ের উপর পরিকল্পিত যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মুসলিমদের জীবিকার উপর তারা অঘোষিত যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। এখন তাদের জীবন ও জীবিকা উভয়ের উপর তাদের স্বঘোষিত যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে। মুসলিম সম্প্রদায় এখন অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর ব্রিটিশ শাসন থেকেও ভয়াবহ দুঃশাসনের শিকার। ব্রিটিশরা মুসলিমদের জীবিকার উপর আক্রমণ করেছিল। রামপন্থী আর্য ঔপনিবেশিকরা তাদের জীবন ও জীবিকার উপর তীব্র আক্রমণ শুরু করেছে। এই মুহূর্তে দেশের মুসলিম সম্প্রদায় আতঙ্কিত। দিশেহারা।

ইসলাম আন্তর্জাতিক ও সার্বজনীন ধর্ম। শাশ্বত জীবন দর্শন। বহু ঘাত প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে তার পরিণতি। কিছু রামপন্থী আর্য ঔপনিবেশিকরা মুসলিম সম্প্রদায়ের অস্তিত্ব নিশ্চিহ্ন করতে পারবেনা। ইনশাআল্লাহ। কখনই তারা পারবেনা। মুসলিমরা বিজয়ী রূপে কোনো জাতিকে নিশ্চিহ্ন করেনি। তাই বিজিত রূপে তারা কখনই নিশ্চিহ্ন হবে না। ইসলামে রূপকথার স্থান নেই। ইসলাম ঐতিহাসিক ধর্ম। বিশুদ্ধ তত্ত্ব ও তথ্যের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। ইসলাম তার অনুসারীদের শিখিয়েছে কিভাবে প্রতিকুলতাকে জয় করতে হয়। রণের জন্য রণকৌশল প্রয়োজন। ইসলামের প্রকৃত অনুসারী রূপে আমাদেরকে মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার কৌশল উদ্ভাবন করতে হবে।

রণকৌশল

অভিযান-১

এই মুহূর্তে মিল্লি ইত্তেহাদ একমাত্র মুক্তির পথ। যে কোনো মূল্যে সার্বিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সব ধর্মে ও মতাদর্শে একাধিক উপদল আছে। এটা স্বাভাবিক। কিন্তু তা যেন প্রাণঘাতী ও আত্মঘাতী না হয়। পশ্চিমবঙ্গে এই মুহূর্তে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সার্বিক ঐক্য তার অস্তিত্ব রক্ষার জন্য প্রয়োজন। ‘সাংগঠনিক সম্ভাবনা’ শিরোনামে পূর্বের পোষ্টে বিভিন্ন মযহাব, দল ও উপদলের সাংগঠনিক সংখ্যা ও সক্ষমতা বিষয়ে অতি সংক্ষিপ্ত একটি চিত্র উপস্থাপন করেছি। পাঠককে অনুরোধ করব। দেখে নিন।

আমার প্রস্তাব-

প্রতিটি সংগঠনের সর্বোচ্চ নেতৃত্বদের নিয়ে বঙ্গীয় মুসলিম পরামর্শ সংসদ (Bengali Muslim Consultative Council) গঠন করা হোক। এই সংসদ বাঙালি মুসলিমদের সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে দিশা প্রদান করবে। বাঙালি মুসলিম সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ সংগঠন। এই সংসদ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তার সভাপতি তথা আমির নির্বাচিত করবে। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। সভাপতির আধিকারিক নাম হবে আমিরে মিল্লাত।

এই পরামর্শ সংসদ (বিএমসিসি)গঠনের পূর্বে একটি কোঅর্ডিনেশন কমিটি গঠন করতে হবে। এই কমিটি বিভিন্ন সংগঠনের প্রধানদের সঙ্গে কথা বলে অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন করবে। যে নীতিমালার ভিত্তিতে বিএমসিসি গঠন করা হবে। আগামী এক মাসের মধ্যে এই অভিযান সুসম্পন্ন করতে হবে। বিএমসিসি গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে কোঅর্ডিনেশন কমিটি বিলুপ্ত হবে।

অভিযান-২

পরামর্শ সংসদ বিশেষজ্ঞদের দিয়ে একটি বিস্তৃত পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে। এই পরিকল্পনার অন্যতম অংশ হবে একাধিক উপ-সংসদ তথা সাব কমিটি গঠন করে যুদ্ধ তৎপরতায় কাজ শুরু করা।

ক. সাব-কমিটি: রাজনৈতিক পরামর্শদাতা কমিটি

এই কমিটি উদ্ভুত রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করে পরামর্শ দিবে। সেই পরামর্শ -প্রতিবেদন নিয়ে বিএমসিসি আলোচনা করে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবে।

খ. সাব-কমিটি: মিডিয়া কমিটি

রাজনৈতিক মরুকরণ ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কি ধরণের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে সে বিষয়ে এই কমিটি সুপারিশমালা বিএমসিসির কাছে পেশ করবে। এই সুপারিশ পর্যালোচনা করে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবে সংসদ। বিশিষ্ট সাংবাদিক ও লেখকরা এই কমিটির সদস্য হবেন।

গ. সাব-কমিটি: গণসংযোগ কমিটি

এই মুহূর্তে গণসংযোগ যুদ্ধ তৎপরতায় শুরু করতে হবে। বিশ্বাসযোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রধান অবলম্বন প্রতিটি মানুষের কাছে নেতৃত্ব বিষয়ে ইতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করা। নেতৃত্বের প্রতি আস্থা ও আনুগত্য সৃষ্টি করা। সামাজিক গণমাধ্যমকে সুনিপুণভাবে কাজে লাগিয়ে সংগঠনের ভিতকে সুদৃঢ় করা। রাজ্যের প্রতিটি মসজিদ ও মহল্লাকে হোয়াটসঅ্যাপ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সম্পৃক্ত করা। নিজস্ব স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্য যোগাযোগের মাধ্যম সৃষ্টি করতে হবে।
প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক উপ-সংসদ বা সাব-কমিটি হবে।

অভিযান- ৩

বিএমসিসি একটি সাব-কমিটি করে দলিত, ধর্মনিরপেক্ষ ও অন্যান্য পিছড়ে বর্গের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলে অভিন্ন লক্ষ্যে আঁতাত করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখে সুপারিশ সহ একটি প্রতিবেদন পেশ করবে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে বিএমসিসি চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে এবং দ্রুত কার্যকর করবে।

অভিযান-৪

নিজেদের সংগঠিত করে এবং দলিত, ধর্মনিরপেক্ষ ও অন্যান্য পিছড়ে বর্গের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আঁতাত করার পর মূলস্রোতের তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলোর সঙ্গে কথা বলার জন্য একটি সাব-কমিটি গঠন করতে হবে। তারা নির্দিষ্ট দলের সঙ্গে কথা বলে একটি চুক্তির খসড়া সহ বিএমসিসির কাছে পেশ করবে। কমিটির সুপারিশ ও খসড়া চুক্তির ভিত্তিতে চুক্তি চুড়ান্ত রূপ দিবে বিএমসিসি।

এই কর্মপরিকল্পনা চুড়ান্ত নয়। আপনার গঠনমূলক ভাবনা দিয়ে এই পরিকল্পনাকে সমৃদ্ধ করুন।