জ্যোতিবা ফুলে ও সাবিত্রীবাই এর সহকর্মী ফাতিমা শেখও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষাবিস্তারে অগ্রণী ছিলেন

ফাতিমা শেখ ও সাবিত্রিবাই ফুলে ভারতের প্রথম দিকের অন্যতম নারী শিক্ষাবিদদ্বয়

বঙ্গ রিপোর্ট ডিজিটাল ডেস্ক: ফাতিমা শেখ একজন ভারতীয় নারী শিক্ষক, যিনি জ্যোতিরাও ফুলে এবং সাবিত্রীবাই ফুলের সাথে একযোগে সামাজিক উন্নয়নের জন্য কাজ করেছেন। ফাতিমা শেখ আধুনিক ভারতের প্রথম দিকের মুসলমান নারী শিক্ষাবিদদের মধ্যে অন্যতম। তিনি ফুলেদের বিদ্যালয়ে দলিতদের শিক্ষাপ্রদান করার মাধ্যমে তৎকালীন সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে শিক্ষাবিস্তারে ভূমিকা রেখেছেন।

ফাতিমা শেখ ও তাঁর সহকর্মী সাবিত্রীবাই ফুলে সমাজের পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের নারীদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়ানোর কাজে নিয়োজিত ছিলেন। এই কাজে তাঁরা সেই সময়ের সামাজিক প্রেক্ষাপটে বাধাগ্রস্থ হন। পরিবার থেকে সাবিত্রীবাই ও জ্যোতিরাও ফুলের উপরে চাপ প্রয়োগ করা হলে তাঁরা সমাজ সংস্কারে নিজ পরিবার ত্যাগ করেন। ১৮৮৪ সালে ফাতিমা শেখ ও তাঁর ভাই উসমান শেখ নিজ বাড়ির দরজা ফুলে বোনদ্বয়ের জন্য খুলে দেন। তাদের বাড়ির আঙ্গিনায়ই বিদ্যালয় ও পাঠদান শুরু করা হয়।

২০১৪ সালে ভারতের মহারাষ্ট্রের বিদ্যালয় সমূহের উর্দূ পাঠ্য বইয়ে ফাতিমা শেখের সংক্ষিপ্ত জীবনী সংযোজন করা হয়েছিল। এটি সেসময়ে আলোচনার ঝড় তোলে।

সাবিত্রী বাই জ্যোতিরাও ফুলে (৩রা জানুয়ারি ১৮৩১- ১০ই মার্চ ১৮৯৭) একজন ভারতীয় সমাজ স্ংস্কারক, শিক্ষক ও কবি। তিনি ও তাঁর সহধর্মী একত্রে ব্রিটিশ শাসনামলে নারী অধিকার নিয়ে কাজ করেছেন। ১৮৪৮ সালে তিনি পুনে শহরে প্রথম বারের মতো মেয়েদের জন্য বিদ্যালয় ভিদে ওয়াদা স্থাপন করেন। তিনি তৎকালীন সমাজে প্রচলিত গোত্র ও লিঙ্গভেদে প্রচলিত বৈষম্য দূরীকরণে নিয়োজিত ছিলেন এবং মহারাষ্ট্রের সমাজ সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

সাবিত্রীবাই ফুলে ১৮৩১ সালে বোম্বে প্রেসিডেন্সির নাইগাঁওতে এক কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৮৪০ বয়সে ৯ বছর বয়সে ১২ বছর বয়েসী জ্যোতিরাও ফুলের সাথে তার বিবাহ হয়। সাবিত্রীবাই ও জ্যোতিরাও দম্পতির সন্তানসন্তদি ছিলো না, তবে তাঁরা এক ব্রাহ্মণ বিধবার পুত্র যশভান্ত রাওকে দত্তক নেন।

জ্যোতিরাও ফুলে ১৮৪৮ সালে মেয়েদের জন্য বিদ্যালয় স্থাপন করলে সাবিত্রীবাই সেই বিদ্যালয়ের প্রথম শিক্ষিকা ছিলেন। এই দম্পতি এক সাথে বিভিন্ন গোত্রের শিশুদের বিদ্যাদানে নিয়োজিত হন এবং সর্বমোট ১৮টি বিদ্যালয় স্থাপন করেন। পাশাপাশি এই দম্পতি একটি কেয়ার সেন্টার খুলেন। এখানে ধষিতা নারীদের ও তাদের সন্তানদের সাহায্য করা হত।

সাবিত্রীবাই ও তার পুত্র যশভান্ত ১৮৯৭ সালে নালাসোপারাতে মহামারী রূপ নেয়া বিউবনিক প্লেগে আক্রান্ত রোগীদের সেবার জন্য একটি চিকিৎসালয় খুলেন। এখানেই রোগীদের সেবা করার সময় তিনি প্লেগে আক্রান্ত হন এবং ১৮৯৭ সালের ১০-ই মার্চ মৃত্যুবরণ করেন।

সমাজের বৈষম্যের বিরুদ্ধে সাবিত্রীবাই একাধিক কবিতা রচনা করেছেন। তার দুটি কাব্যগ্রন্থ কাব্য ফুলে (১৯৩৪) এবং বভন কাশি সুবোধ রনকার (১৯৮২) সালে প্রকাশিত হয়।

পুনে সিটি কর্পোরেশন সাবিত্রীবাই ফুলের সম্মানে ১৯৮৩ সালে একটী স্মারক স্থাপন করেন। ২০১৫ সালে পুনে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম তাঁর সম্মানে সাবিত্রীবাই ফুলে পুনে বিশ্ববিদ্যালয় নামকরণ করা হয়। ১৯৯৮ সালে ভারতীয় ডাক বিভাগ ফুলের সম্মানে একটি ডাকটিকিট প্রকাশ করে। ২০১৭ সালের ৩রা জানুয়ারি সার্চ ইঞ্জিন গুগল সাবিত্রীবাই ফুলে ১৮৬-তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে গুগল ডুডল প্রকাশ করে।

কৃতজ্ঞতা: উইকিপিডিয়া ও একরামুল হক শেখ