ইসলামফোবিয়ায় বিরুদ্ধে লড়াই করে আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ শহরের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন ফারাহ খান

ইসলামফোবিয়ায় বিরুদ্ধে লড়াই করে আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ শহরের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন ফারাহ খান

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে তবেই শহরের শীর্ষ রাজনৈতিক অফিসের শ্রেষ্ঠ সম্মানজনক আসনটি নিশ্চিত করতে হয়েছে তাঁকে। শহরের প্রতিটি গলির মোড়ে জন্ম নেওয়া ইসলাম-বিদ্বেষের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে হয়েছে। অনেক কসরত ও ঘাম ঝরানোর পরই গতবছরের নভেম্বরের ৩ তারিখে নির্বাচনে জিতে ডিসেম্বরের ৮ তারিখে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ৩ লক্ষ জনসংখ্যার ইরভিন শহরের মেয়র হতে পেরেছেন ফারাহ খান।

কীভাবে একজন মহিলা হয়েও ক্যালিফোর্নিয়ার মতো অঙ্গরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এক শহরের মেয়র পদ পেলেন ফারাহ খান? সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানান, ‘আমি আসলে শুধু ইরভিন শহরের প্রথম মুসলিম মেয়র নই– আমি আমেরিকার কোনও প্রধান শহরের প্রথম মুসলিম মহিলা মেয়র।’

সময় ও পরিস্থিতির কারণে অবশ্য ২০১৪ সালে মেয়র নির্বাচন লড়তে পারেননি ফারাহ। ফারাহকে সেসময় বলা হয়, ‘ইরভিন শহর পরিচালক পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত নয়, বিশেষ করে আমার মতো নামের একজনের জন্য তো নয়ই। তাই আমি নির্বাচনের জন্য যোগ্য ছিলাম না।’ একজন স্ত্রী ও দুই সন্তানের মা ফারাহ পরবর্তীকালে ধর্মীয় বিদ্বেষ ও হেনস্থার শিকার হন। তবে নিজের সম্প্রদায়ের জন্য কাজ করা বন্ধ করেননি।

২০১৮ সালে মেয়র নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট জিতে পরিষদের সদস্য নিয়োজিত হন। ফারাহর কথায়– ‘এরপর ২০২০ সালে আমি মেয়র পদে দাঁড়াই এবং সর্বাধিক ভোটে জেতার পাশাপাশি ইরভিনের কোনও মেয়র প্রার্থী হিসাবে রেকর্ড ভোট পাই।’ তবে প্রতিবারই নির্বাচনের আগে ও পরে ইসলামোফোবিক হুমকি পেতে হয়েছে ফারাহ ও তাঁর পরিবারকে।

ফারাহ বলেন, ‘আমাকে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। বলা হত, আমি নাকি সন্ত্রাসবাদীদের থেকে অর্থ নিই।’ সবচেয়ে অবাক করার মতো বিষয় হল– ২০২০ সালে নির্বাচনের আগে ফারাহর প্রতিদ্বন্দ্বী নেতা একটি রাষ্ট্রীয় মামলা করেন এই বলে যে– ফারাহ মুসলিম দেশ আজারবাইজান সফর করেছেন।