কোলকাতার প্রাক্তন মেয়র স্বাধীনতা সংগ্রামী বাঙালি কৃতি সন্তান সৈয়দ বদরুদ্দোজা

কোলকাতার প্রাক্তন মেয়র স্বাধীনতা সংগ্রামী বাঙালি কৃতি সন্তান সৈয়দ বদরুদ্দোজা

বঙ্গ রিপোর্ট ডিজিটাল ডেস্ক:  সৈয়দ বদরুদ্দোজা। জন্ম-৪ জানুয়ারী ১৯০০। মৃত্যু- ১৮ নভেম্বর ১৯৭৪। একজন ভারতীয়-বাঙালি রাজনীতিবিদ, সংসদ সদস্য এবং স্বাধীনতা সংগ্রামী ছিলেন। তিনি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সদস্য, ভারতীয় লোকসভার সংসদ সদস্য এবং কলকাতার মেয়র ছিলেন।তিনি খিলাফত আন্দোলন এবং আইন অমান্য আন্দোলনের মতো ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের সাথে জড়িত ছিলেন।

সৈয়দ বদরুদ্দোজা জন্মগ্রহণ করেন মুর্শিদাবাদ জেলার তালিবপুর গ্রামে সৈয়দ আবদুল গফুরের বাড়িতে। তিনি প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন তালিবপুর খারেজি মাদ্রাসা থেকে তারপর সালার এইচ.ই. স্কুল এবং কেগ্রাম এইচ.ই. স্কুল মুর্শিদাবাদ থেকে এবং পরে কলকাতা মাদ্রাসায় অধ্যয়ন করেন এবং কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক পাশ করেন।

সৈয়দ বদরুদ্দোজা প্রগ্রেসিভ মুসলিম লীগের সভাপতি হিসাবে যোগদান করেছিলেন। তিনি চিত্তরঞ্জন দাস, সুভাষচন্দ্র বসু এবং হুসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মতো বাঙালি নেতাদের সাথে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের কাজ করেছিলেন। তিনি কৃষক প্রজা পার্টির সাথেও যুক্ত ছিলেন। পরে তিনি ইনডিপেন্ডেন্ট ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সভাপতি হন। তিনি বাংলার প্রগ্রেসিভ অ্যাসেম্বলি পার্টির সভাপতি এবং বাংলার প্রগ্রেসিভ কোলিশন পার্টির সভাপতি হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি ১৯৪৩ – ১৯৪৪ সাল পর্যন্ত কলকাতার মেয়র ছিলেন। দেশভাগের পরে তিনি ভারতে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি ১৯৪০ – ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত বেঙ্গল বিধানসভার সদস্য, ১৯৪৬-৪৭ সাল পর্যন্ত বেঙ্গল বিধানসভার পরিষদ ছিলেন। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সদস্য ১৯৪৮-৫২ এবং ১৯৫৭—৬২ সাল পর্যন্ত দুইবার সদস্য ছিলেন। তিনি তৃতীয় লোকসভা (১৯৬২—৬৭) এবং চতুর্থ লোকসভা (১৯৬৭-৭০) দুইবার সংসদ সদস্য ছিলেন।

সৈয়দ বদরুদ্দোজা সাথে রাকিয়া বদরুদ্দোজা বিয়ে করেছিলেন এবং তাঁদের ১০টি সন্তান ছিল – সৈয়দা সাকিনা ইসলাম, সৈয়দ মোহাম্মদ আলী (মৃত্যু ২০১০), সৈয়দা সালমা রহমান, সৈয়দা রাজিয়া ফয়েজ (১৯৩৬-২০১৩), সৈয়দ হায়দার আলী, সৈয়দা আইসা কাদের, সৈয়দ আশরাফ আলী (১৯৩৯-২০১৬), সৈয়দা ফাতেমা ইসলাম, সৈয়দ রেজা আলী এবং সৈয়দা জাকিয়া। তিনি ১৮ নভেম্বর ১৯৭৪ সালে মারা যান।

এ ছাড়া তিনি জনজীবনে সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে ছিলেন। কলকাতা মুসলিম ছাত্র সমিতির সভাপতি, আঞ্জুমান-ই-ট্রাক্কি উর্দু, পশ্চিমবঙ্গ ত্রাণ ও পুনর্বাসন সমিতি, কলকাতা মুসলিম ইনস্টিটিউট এবং অল বেঙ্গল মুসলিম ইয়ংম্যান অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।