আমৃত্যু দেশভাগের চরম বিরোধী ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী ভারতরত্ন সীমান্ত গান্ধী খান আব্দুল গফফার খান

আমৃত্যু দেশভাগের চরম বিরোধী ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী ভারতরত্ন সীমান্ত গান্ধী খান আব্দুল গফফার খান : তার মৃত্যুতে দেশজুড়ে পাঁচ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হয়

বঙ্গ রিপোর্ট ডিজিটাল ডেস্ক: ১৯৪৭ সালের ভারত-পাকিস্তান দেশভাগের আগে স্কুল, কলেজের পাঠ্যপুস্তকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাহিত্যক্ষেত্রে মুসলমানদের অনেক ভূমিকা ও উপস্থিতি পরিলক্ষিত হতো। ধীরে ধীরে সিলেবাস বদল হতে হতে, বিশেষত ইতিহাস বারবার পুনর্লিখিত হওয়ার ফলে, ভারতের নানা ক্ষেত্রে মুসলমানদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও অবদানের কথা একরকম ধামাচাপা পড়ে গেছে। এর ফলে নতুন প্রজন্মের কাছে তা অজানা আর চোখে না পড়ার ফলে বয়স্কদের কাছেও সেসব স্মৃতিও আর বেঁচে নেই। ভারতের স্বাধীনতাপূর্ব, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও স্বাধীনতা পরবর্তীকাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় সব ক্ষেত্রেই মুসলমানদেরও যে অনেক মূল্যবান অবদান আছে, সে সম্পর্কে পাঠকদের জানাতে এই ধারাবাহিক লেখা

জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকান্ডের সময় খান আব্দুল গফফার খান জেনারেল ও ডায়ার’কে বলেছিলেন যে “তুমি স্বাধীনতা সংগ্রামী একটাও মুসলিম লাশের পিঠে গুলি দেখিয়ে দাও, তাহলে আমি আজাদীর লড়াই থেকে দূরে সরে যাবো”। টানা দু’দিন ধরে ৭৬ টি লাশের পোস্টমর্টেম চালিয়ে, একটি লাশেরও গুলি পিঠে লাগা বের হয়নি। সব গুলি ছিল তাদের বুকে। অথ্যাৎ কোন মুসলিম সৈন্য স্বাধীনতা আন্দোলনে পিছিয়ে যেত না। জীবন থাকা পর্যন্ত প্রাণপণে লড়াই করে যেত। এরপরও দেশের প্রতি মুসলিমদের ভালোবাসা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। যা অত্যন্ত দূর্ভাগ্যের।

আবদুল গাফফার খানের অনেক ডাকনাম ছিল যেমন, ‘ফাখরে আফগান (পাখতুনদের গর্ব), বাদশা খান বা বাচা খান (নেতাদের রাজা) ইত্যাদি। পাখতুনদের এই স্বাধীনতাকর্মী ব্রিটিশ রাজকে দেশ ছাড়া করা পর্যন্ত সক্রিয় আন্দোলন চালিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি মহাত্মা গান্ধীর খুবই ঘনিষ্ঠ ছিলেন।

প্রাথমিক জীবন: বাচা খান ব্রিটিশ ভারতের পেশোয়ার উপত্যকার উৎমাঞ্জিয়া অঞ্চলে ১৮৯০ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি একটি সচ্ছল, শান্তিপূর্ণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা বাহরাম খান হস্তনাগরি অঞ্চলের একজন ভূমিপতি ছিলেন। বাবার দ্বিতীয় সন্তান বাচা খান সে সময় এলাকার মিশনারিদের দ্বারা পরিচালিত একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এডওয়ার্ডস স্কুলে পড়াশোনা করেন। মেধাবী ছাত্র বাচা খানকে উপদেষ্টা রেভারেন্ড উইগ্রাম সামাজিক কাজের জন্য শিক্ষার উপযোগিতা ও গুরুত্ব সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল করেন ও উৎসাহ দেন। স্কুলের শেষ বছর দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান আর্মির একটি রেজিমেন্ট ‘কর্পস অব গাইডস’–এ এক সম্মানীয় পদে তাঁকে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। খান যখন দেখলেন, নিজের দেশেই এমনকি গাইডস অফিসারদেরও দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তখন এই প্রস্তাব তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। রেভারেন্ড উইগ্রাম তাঁর ভাইকে অনুসরণ করে খানকে লন্ডনে পড়াশোনা করতে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। এতে তাঁর বাবা রাজি হলেও মা আরও একটি ছেলেকে লন্ডনে পাঠাতে রাজি হলেন না। অগত্যা বাধ্য হয়ে বাচা খান তাঁর বাবার জায়গা–জমি দেখাশোনা করতে লাগলেন আর জীবনে কী করা যায়, তাই ভাবতে থাকলেন।

১৯১০ সালে ২০ বছর বয়সে বাচা খান তাঁদের উৎমাঞ্জিয়া গ্রামে একটি মসজিদ-স্কুল খোলেন। ১৯১১ সালে তিনি তুরাংজাইয়ের হাজি সাহেবের ‘পাখতুন স্বাধীনতা সংগ্রাম’-এ যোগ দেন। কিন্তু ১৯১৫ সালে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ তাঁর মসজিদ-স্কুলটি বন্ধ করে দেয়। এই কাজে বারবার ব্রিটিশদের কাছ থেকে বাধা পেয়ে তিনি অনুভব করেন, সামাজিক দিক থেকে পরিবর্তন ও উন্নতি সাধন এনে দিতে পারলে বরং পাখতুনদের বেশি উপকার হবে। এভাবেই ১৯২১ সালে ‘আঞ্জুমান-এ ইসলাহ-এ আফগানিয়া (আফগান রিফর্ম সোসাইটি)’ ও ১৯২৭ সালে ‘পাখসতুন জিরগা (পাখতুন অ্যাসেম্বলি)’ নামে একটি যুব আন্দোলন সংস্থার সৃষ্টি হয়। ১৯২৮ সালে মক্কায় হজ করে ফিরে আসার পর তিনি ‘পাকসতুন’ নামে পাখতুন ভাষায় একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করেন। ১৯২৯ সালের নভেম্বরে খান ‘খুদায়ি খিদমতগার’ (সার্ভেন্টস অব গড) নামে একটি আন্দোলন শুরু করেন। এটির সফলতা ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের টনক নড়ায়। তারা বাদশা খান ও তাঁর সহযোগীদের কঠোর হস্তে দমন করে। বস্তুত ভারতীয় স্বাধীনতাকামীদের দমন করতে ব্রিটিশ রাজ যে সব শাস্তি দিয়েছে, তাদের মধ্যে নির্মমতম শাস্তি দেওয়া হয়েছে এই বাচা বা গফফার খান ও তাঁর সঙ্গীদের।

গাফফার থেকে ‘বাদশা খান’: নিজের উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়া, ব্রিটিশদের সদা দমনমূলক নিষ্ঠুর আচরণ, গোঁড়া মোল্লাদের নির্যাতন এবং পাখতুন সমাজে নিজেদের মধ্যে তীব্র হিংসা ও প্রতিশোধের প্রাচীন সংস্কৃতি লক্ষ্য করে গাফফার খান আবার বুঝতে পারলেন, এই সমাজকে ওঠাতে হলে এখানকার ছেলেমেয়েদের মধ্যে ব্যাপক শিক্ষা বিস্তারের প্রয়োজন। তাঁর নির্মিত উৎমাঞ্জিয়া স্কুলের সাফল্য দেখে প্রগতিশীল মনোভাবাপন্ন লোকজন তাঁকে সমাজসংস্কারের ব্যাপারে আহ্বান জানায়। ১৯১৫ থেকে ১৯১৮ সালের মধ্যে তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করে পুরো খাইবার পাখতুনখাওয়ার ৫০০টি গ্রাম ঘুরে পশতুনদের মধ্যে একটি জাগরণ তোলেন।

এই কাজে তাঁর এত উত্তেজনা ও পরিশ্রম দেখে লোকে গাফফার খানকে বাদশা (বাচা) খান বলা শুরু করে, যার মানে হলো তিনি সব ট্রাইবাল বা উপজাতি প্রধানদের রাজা। খান নিজে একজন ‘সেক্যুলার মুসলিম’ ছিলেন। সাধারণভাবে ধর্ম নিয়ে এবং মুসলমানদের মধ্যে ধর্ম নিয়ে ভাগাভাগিতে তিনি বিশ্বাস করতেন না।

খুদাই খিদমতগার: একসময় একটি ‘স্বাধীন ও ধর্মনিরপেক্ষ ভারত’ দেখার ফর্মুলা বাচা খানের মনে ঘুরপাক খেতে থাকে। এ লক্ষ্যে তিনি ‘খুদাই খিদমতগার’ (ঈশ্বরের দাস) নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন, যেটা সাধারণভাবে ‘সুখ পশ (রেড শার্ট)’ বলে অধিক পরিচিত ছিল। তিনি এই লাল শার্ট বাহিনী গান্ধীর সত্যাগ্রহের মডেলে তৈরি করেছিলেন। এই প্রতিষ্ঠানে প্রায় এক লাখ সদস্য ছিল। তিনি তাদের বলেছিলেন, ‘আমি তোমাদের এমন একটি অস্ত্র দেব যার নাম সততা ও ধৈর্য। পৃথিবীর কোনো শক্তিই তার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারবে না।’
ব্রিটিশ রাজের হাতে এই সংগঠনের সদস্যদের ওপর নিঠুর নির্যাতন চালানো ও মৃত্যু হলেও খানের এই পলিসি অনেকটাই সফল হয়েছিল। বাদশা খানের ভাই ড. খান আবদুল জাব্বার খান এই সংগঠনের রাজনৈতিক বিভাগ পরিচালনা করেন। ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত তিনি এই ফ্রন্টিয়ার প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন।

কিসসা খাওয়ানী: ১৯৩০ সালের ২৩ এপ্রিল গান্ধীজির লবণ সত্যাগ্রহ কালে বাচা খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় ‘খুদাই খিদমতগার’ থেকে একদল জনতা পেশোয়ারের কিসসা খাওয়ানী বাজারে প্রতিবাদ করতে জমায়েত হয়। ব্রিটিশ সৈন্য দল এই নিরস্ত্র জনতার ওপর বেপরোয়াভাবে মেশিনগানের গুলি চালালে ২০০ থেকে ২৫০ লাল শার্টওয়ালা কর্মী নিহত হয়। চন্দ্র সিং গাড়োয়ালের নেতৃত্বে দু প্লাটুন গাড়োয়াল রাইফেল রেজিমেন্টও সেখানে গিয়েছিল। তারা নিরীহ এই জনতার ওপর গুলি চালাতে অস্বীকার করলে তাদের কোর্ট মার্শাল করে কঠিন শাস্তি, এমনকি জেল পর্যন্ত দেওয়া হয়।

বাচা খান ও ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস: অহিংস আন্দোলন ও আইন অমান্য আন্দোলনের প্রবর্তক মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে বাচা খানের বাধাহীন, ঘনিষ্ঠ ও আধ্যাত্মিক যোগাযোগ ছিল। দুজন দুজনকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও সম্মানের চোখে দেখতেন ও তাঁরা ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত একসঙ্গে কাজ করেছিলেন। ‘খুদাই খিদমতগার’, স্বাধীনতা সংগ্রামী প্রধান দল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের (ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস) সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত হয়ে কাজ করেছে। এই দলে বাচা খান একজন শ্রদ্ধেয় ও সিনিয়র সদস্য ছিলেন। বেশ কয়েকবার পলিসির ব্যাপারে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেসের সঙ্গে গান্ধীজির মতভেদ হয়েছিল। কিন্তু বাচা খান বরাবর কংগ্রেসের একজন একনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন। ১৯৩১ সালে তাঁকে জাতীয় কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট পদ গ্রহণের আহ্বান জানানো হলে তিনি তা বিনয়ের সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘আমি একজন সাধারণ সৈনিক মাত্র এবং আমি ও ‘খুদাই খিদমতগার’ কেবল আপনাদের সেবায় নিযুক্ত থাকব। তিনি কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য ছিলেন বহুদিন। একবার পার্টির যুদ্ধনীতির (ওয়ার পলিসি) সঙ্গে একমত না হয়ে তিনি পদত্যাগ করেন। পরে পার্টি ওয়ার পলিসি সংশোধন করে নিলে তিনি আবার পার্টিতে ফিরে আসেন। তিনি নারী অধিকারেরও একজন একনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন। গান্ধীর অহিংস নীতির একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে তাঁকে ভারতে ‘ফ্রন্টিয়ার গান্ধী’ বলা হয়।

দেশ বিভাগ: খান ভারত ভাগের তীব্র বিরোধী ছিলেন। কিছু কিছু রাজনীতিবিদ তাঁকে মুসলিমবিরোধী বলে অভিহিত করেন। ১৯৪৬ সালে মারধর করে তাঁর শরীর এমনভাবে জখম করে দেওয়া হয় যে, তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল। ১৯৪৭ সালের ২১ জুন দেশ ভাগের মাত্র ৭ সপ্তাহ আগে বান্নুতে বাচা খান, ‘খুদাই খিদমতগার’–এর সদস্যরা, প্রাদেশিক সভার সদস্যগণ , মিরজালি খান ও উপজাতি প্রধানদের নিয়ে একটি লয়া জিরগা (জনসমাবেশ) বসে। বান্নু রেজুলিউশনে স্থির হয়, ব্রিটিশ টেরিটোরির সব পাখতুন এলাকা নিয়ে ‘পাখতুনিস্তান’ নামে সম্পূর্ণ স্বাধীন একটি এলাকা তাদের দেওয়া হোক। তারা ইন্ডিয়া বা পাকিস্তান—কারও সঙ্গে যেতে চায় না। কিন্তু ব্রিটিশ রাজ এই দাবি মানতে অস্বীকার করে। কংগ্রেস পার্টিও ক্যাবিনেট মিশন প্ল্যান ও জিন্নাকে প্রধানমন্ত্রীর পদ দেওয়ার গান্ধীর প্রস্তাবটি মানতে রাজি হয় না। এভাবে দেশভাগ ঠেকাবার শেষ চেষ্টাও ব্যর্থ হয়ে যায়। সে জন্য বাচা খান মনে করেন, ভারত ও পাকিস্তান উভয় মিলেই তাঁর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তিনি মর্মাহত হয়ে তাঁর পূর্বের কংগ্রেস পার্টির সদস্যদের ও গান্ধীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘তোমরা আমাদের নেকড়ের সামনে ছুড়ে দিলে।’
পরবর্তী জীবন ও মৃত্যু: যেহেতু দেশভাগ রদ করা গেল না, অতএব ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ পাকিস্তানের মধ্যে চলে যায়। সেখানে তিনি সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করলেও তাঁকে নানাভাবে সন্দেহ করা হয়। ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত তিনি গৃহবন্দীসহ নানা শাস্তির মধ্যে ছিলেন। এরপর বহুবার তাঁকে কারাগার ও গৃহে অন্তরীণ করে রাখা হয়। ১৯৮৮ সালে বাচা খান গৃহবন্দী অবস্থাতেই পেশোয়ারে মারা যান। তাঁকে তাঁর বাড়ি আফগানিস্তানের জালালাবাদে সমাধিস্থ করা হয়। প্রায় ২ লাখ জনতার মধ্যে আফগানিস্থানের প্রেসিডেন্ট নজিবুল্লাহও জানাজায় উপস্থিত ছিলেন। পেশোয়ারের বদলে আফগানিস্তানে কবর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে তাঁর মনে হয়েছিল, তাঁর মৃত্যুর পরে এভাবেই পশতুনরা একদিন এক হয়ে যাবে। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা দেখাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী পেশোয়ারে গিয়েছিলেন ও ভারত সরকার ৫ দিনের শোক দিবস পালন করেছিল।

সম্মাননা: রাজনৈতিক দিক থেকে ক্রমশ সরে আসলে ১৯৮৪ সালে তাঁকে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়। ১৯৬৭ সালে আন্তর্জাতিক সমঝোতার জন্য তাঁকে ‘নেহরু অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়। ১৯৮৭ সালে তাঁকে ভারতের সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘ভারতরত্ন’ দেওয়া হয়।

ছায়াছবি: ২০০৮ সালে নিউইয়র্কে খানের ওপর নির্মিত লেখক-চিত্রকার টি সি ম্যাকলুহ্যানের ‘দি ফ্রন্টিয়ার গান্ধী: বাদশাহ খান, এ টর্চ ফর পিস’ শীর্ষক ডকুমেন্টারি বা প্রামাচিত্রের প্রিমিয়ার শো হয়। ২০০৯ সালে এটি বেষ্ট ডকুমেন্টারির মর্যাদা পায়। ১৯৮২ সালে রিচার্ড অ্যাটেনবরোর ‘গান্ধী’ ছবিতেও তার চরিত্র দেখানো হয়। ১৯৯০ সালে দিল্লির দূরদর্শনেও ‘বাদশাহ খান, দি ম্যাজেস্টিক ম্যান’ ইংরেজিতে সম্প্রচার করা হয়।