ফ্রন্টপেজ অ্যাকাডেমি: রাজ্যের শিক্ষা আন্দোলনের এক উজ্জ্বল নাম

ফ্রন্টপেজ অ্যাকাডেমি: রাজ্যের শিক্ষা আন্দোলনের এক উজ্জ্বল নাম

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: ফ্রন্টপেজ অ্যাকাডেমি রাজ্যের বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে। নানা ঘাত প্রতিঘাত পেরিয়ে শিক্ষা বিস্তারে এগিয়ে চলেছে ফ্রন্টপেজ অ্যাকাডেমি। টিনের ছাউনি ও ইটের দেওয়াল দিয়ে শুরু করে ফ্রন্টপেজ অ্যাকাডেমি ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে আজ মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে বহু ভবন। সবুজে ঘেরা মনোরম পরিবেশে ফ্রন্টপেজ অ্যাকাডেমির শিক্ষা দানে আজ বহু পড়ুয়া নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান তাঁর সংগঠনের দায়িত্বশীল ও ঘনিষ্ঠ বেশ কিছু শিক্ষানুরাগীর আন্তরিকতাকে সম্বল করে গড়ে তোলেন ফ্রন্টপেজ অ্যাকাডেমি। ২০০৯ সালের ডিসেম্বর মাসে উত্তর ২৪ পরগনার জেলা সদর বারাসতের এম্বুলেন্স এসোসিয়েশনের সভা ঘরে সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের তৎকালীন কর্মকর্তা ও কয়েকজন শিক্ষানুরাগীদের নিয়ে মুহাম্মদ কামরুজ্জামানের আহ্বানে শিক্ষা বিষয়ক এক মনোজ্ঞ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় হাজির ছিলেন সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের তৎকালীন রাজ্য সভাপতি সালাউদ্দিন আহমেদ, রাজ্য সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান, আলমগীর সরদার, মুর্শিদাবাদের হাজী মোজাম্মেল হক ও শেখ হায়দার আলি, সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের তৎকালীন রাজ্য সহ সভাপতি জাহিদুল সরকার, বর্ধমান জেলার শামসুদ্দিন সাহেব, নিজামুদ্দিন মোস্তফা, হাফেজ মহিউদ্দিন সহ আরও বিশিষ্টরা। এই সভায় সংখ্যালঘু ঘরের ছেলে মেয়েদের শিক্ষাক্ষেত্রে এগিয়ে নিয়ে যেতে একটি আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ার পরিকল্পনা সবার সামনে উপস্থাপন করেন সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান। সেই সভায় উপস্থিত সভ্যগণেরা কামরুজ্জামানের প্রস্তাবকে একবাক্যে মেনে নিয়ে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ার পক্ষে মত প্রকাশ করেন। পাশাপাশি সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিয়ে যেতে মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের সাথে সবরকম সাঙ্গ দেওয়ার অঙ্গীকার করেন তৎকালীন সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সহ সভাপতি জাহিদুল সরকার। সেই সভা থেকেই ফ্রন্টপেজ অ্যাকাডেমির নাম ঘোষণা দেন মুহাম্মদ কামরুজ্জামান।

উল্লেখ্য, ইতিমধ্যে কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কায়েম করে যোগ্য মানুষদের হাতে দায়িত্ব অর্পণ করতঃ নিজ এলাকায় পশ্চাদপদ সংখ্যালঘু ছেলেদের জন্য একটি বহুমুখী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কায়েম করবার প্রয়োজন বোধ করেন মুহাম্মদ কামরুজ্জামান। তারপর থেকেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ছেলেদের সু শিক্ষায় শিক্ষিত করার বাসনা ভিতরে ভিতরে তাঁকে কুরে কুরে খেতে থাকে। শুধু তাই নয়, সেইসময় বহু অভিভাবকের বক্তব্য, কামরুজ্জামান সাহেব আপনি গাছ তলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুললে আমাদের ছেলেদের আপনার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই পড়াশুনা করাবো। অভিভাবকদের সেই আবেগ কামরুজ্জামানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ার ইচ্ছা শক্তিকে বহুগুণে বাড়িয়ে দেন। একদিকে সংখ্যালঘু ঘরের ছেলে মেয়েদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করা অপরদিকে অভিভাবকদের আন্তরিকতা এই দুইয়ের উপর ভর করে ২০১০ সালের ১৫ মার্চ পথচলা শুরু করে ফ্রন্টপেজ অ্যাকাডেমি।

উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গা থানার অন্তর্গত হাড়োয়া রোড রেল স্টেশনের সন্নিকট দেওয়ানআটিতে মুহাম্মদ কামরুজ্জামান ও তাঁর ভাই, চাচাদের পৈত্রিক জমিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ার নিঃশর্ত অনুমতি দেন। কিন্তু শুধু জমি হলেই তো আর হবে না। চাই অর্থের জোগান। সে সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ার জন্য দু লক্ষ টাকা ঋণ দিয়েছিলেন সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের তৎকালীন রাজ্য সভাপতি সালাউদ্দিন আহমেদ। ইতিমধ্যে তাঁকে ১ লক্ষ টাকা পরিশোধ করলেও এখনও ১ লক্ষ টাকা ঋণ সালাউদ্দিন সাহেবকে পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি বলে জানান মুহাম্মদ কামরুজ্জামান। কামরুজ্জামানের দাবি, তাঁর এক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু আবদুল আহাদের কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকা ও আহাদ সাহেব তাঁর বন্ধুর কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা ধার করে এনে দেন। কামরুজ্জামানের ভাই বজলুর রহমানের দোকান, রহমান বিল্ডার্স থেকে ধারে নির্মাণ সামগ্রী নেওয়া হয়। শুধু তাই নয় কামরুজ্জামানের মামা শ্বশুর, হাদিপুর সিনিয়র মাদ্রাসার প্রাক্তন সুপারিনটেনডেন্ট মাওলানা শেখ আবদুর রহিম সাহেবের কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন বলে জানান কামরুজ্জামান। তিনি আরো জানান, সে সময় ফ্রন্টপেজ অ্যাকাডেমির যে প্রসপেক্টাস প্রকাশ করা হয়েছিল তা ছেপে দেন জাইদুল সরকার। এর পাশাপাশি জাইদুল সরকার যে মিশন থেকে চলে এসেছিলেন সেই মিশনের সম্পাদকের নিকট থেকে কয়েক হাজার ইট এনে দিয়েছিলেন। সেই সময় বিভিন্ন ব্যাক্তির নিকট থেকে ঋণ করে পাওয়া কয়েক লক্ষ টাকা ও কয়েক হাজার ইটকে সম্বল করে টিনের ছাউনি ও ইটের দেওয়াল দিয়ে ৯ টি ক্লাস রুম কাম বেডরুম নিয়ে ফ্রন্টপেজ অ্যাকাডেমির পঠন পাঠন শুরু হয়। প্রথম বছরে ফ্রন্টপেজ নার্সারি থেকে নবম শ্রেণি ও একাদশ শ্রেণীর (বিজ্ঞান ও কলা বিভাগ) পঠন পাঠন শুরু হয়। সে সময় একাদশ শ্রেণীতে যে সমস্ত পড়ুয়া ভর্তি হয়েছিল তারা প্রায় সবাই কামরুজ্জামানের হাতে গড়া ছাত্র বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গতঃ মিশন পরিচালনার জন্য ট্রাস্ট গঠন করে ট্রাস্টের সকল সদস্যের সম্মতিক্রমে চেয়ারম্যান হন মুহাম্মদ কামরুজ্জামান। কামরুজ্জামান, ডিরেক্টর হিসাবে জাইদুল সরকারকে নিয়োগ করেন। আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ২০১২ সালে ফ্রন্টপেজ বিএড কলেজ ও ২০১৪ সালে ফ্রন্টপেজ ডি এল এড কলেজ হিসাবে স্বীকৃতি পায়। ইতিমধ্যে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে অ্যাকাডেমির বিদ্যালয় ভবন সহ হোস্টেল বিল্ডিং। প্রথম বছর থেকেই মাধ্যমিক পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করে ফ্রন্টপেজ অ্যাকাডেমির পড়ুয়ারা। অ্যাকাডেমির কৃতি সন্তান ইরফান হাবিব যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভালো ফল করে প্রাক্তন রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন। মিশনের বহু কৃতি পড়ুয়া আজ দেশে বিদেশে স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। ২০১০ সালে ফ্রন্টপেজ অ্যাকাডেমির সেই শিক্ষার বীজ আজ মহিরুয়ে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে যে ডোনেশন এবং ফীজ পাওয়া যায়, ওই টাকাকে পুঁজি করে এবং আরো বহু টাকা ঋণ করে ফ্রন্টপেজ একাডেমীর একাধিক শিক্ষা বিভাগ খোলা হয় ,যেগুলি মিশন ক্যাম্পাসে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে। এই সমস্ত ভবন নির্মাণের জন্য বর্তমানে প্রায় ২.৫ কোটি টাকার ঋণ রয়েছে বলে জানান কামরুজ্জামান। তার উপর আবার লকডাউন শুরু হওয়ায় এক বছর বন্ধ রয়েছে পঠন- পাঠন এবং অর্থ আগমন । মিশনে তাগাদা দিচ্ছেন বিল্ডিং নির্মাতা সহিদুল ইসলাম সাহেব থেকে শুরু করে আরো অনেকে। শুধু তাই নয়, এই লক ডাউনের সময়কালে অ্যাকাডেমির অনেক শিক্ষক-শিক্ষিকা, স্টাফদের আংশিক বেতন বহন করে চলেছে অ্যাকাডেমি কর্তৃপক্ষ। এর ফলে দিনের পর দিন অ্যাকাডেমির ঋণের বোঝা বাড়তে চলেছে। এখন সেই দায় নিজের ঘাড়ের থেকে নামিয়ে দিতে এবং ঋণ পরিশোধ করবার দায়িত্ব হতে পলায়ন করে ট্রাস্টের এক বিশেষ সদস্য সংবাদ মাধ্যমে বানোয়াট সংবাদ পরিবেশন করছেন। প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান বলেন আমাদের আর্থিক লেনদেনের প্রতি বছর সরকারি চাটার্ড অ্যাকাউন্টেন্টকে দিয়ে অডিট করা হয়। আর আমাদের ক্রয় করা সমস্ত জমি প্রতিষ্ঠানের নামের পক্ষেই রেকর্ড করা হয়।

বলাবাহুল্য, অ্যাকাডেমি গড়ে তোলার জন্য ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে থাকা কামরুজ্জামানের চাচাদের জমি অন্য জায়গায় বুঝিয়ে দেন কামরুজ্জামান। এরজন্য তাঁর পৈত্রিক জমি অন্যত্র দিয়ে ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে চাচাদের জমির সঙ্গে এওয়াজ বা বিনিময় করেন। পরে কামরুজ্জামানের ওই সব ব্যক্তিগত জমিগুলি, ট্রাস্টের নামে প্রদান করেন মুহাম্মদ কামরুজ্জামান , যার মূল্য বাবদ মুহাম্মদ কামরুজ্জামানের বহু টাকা প্রাপ্য বাকি আছে। । এই ভাবেই ত্যাগ ও এক সংগ্রামের মাধ্যমে গড়ে ওঠে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফ্রন্টপেজ অ্যাকাডেমি। অ্যাকাডেমির জমি সহ ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে থাকা ফ্রন্টপেজ জামে মসজিদের জমি নিজের নামে করে নেওয়ার তত্ত্ব যে পেটুয়া সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে তা বানোয়াট। জামে মসজিদের জমি মসজিদের নামের পক্ষেই রেকর্ড করা হয়েছে ।এর জন্য সমস্ত দলিল পত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় পেশও করেছেন, এমনটাই জানালেন ফ্রন্টপেজ অ্যাকাডেমির চেয়ারম্যান মুহাম্মদ কামরুজ্জামান।

কামরুজ্জামান জানান, ফ্রন্টপেজ অ্যাকাডেমির সদস্য, জাহিদুল সরকার বিগত দিনে অ্যাকাডেমির কোনো কাজে তাঁর নাম, মোবাইল নম্বর, ছবি ব্যাবহার করতে নিষেধ করেন। শুধু তাই নয়, অ্যাকাডেমির ব্যাংক চেকে তিনি স্বাক্ষরও করবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন। ব্যাংকের লেনদেনের কাগজে তাঁর স্বাক্ষর করতে অস্বীকার করবার কারণে এবং অ্যাকাডেমির কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকার পেক্ষাপটে ,অন্যান্য সদস্যদের পরামর্শে অ্যাকাডেমির নামে একটি স্বতন্ত্র ব্যাংক একাউন্ট খোলা ছাড়া গতান্তর নাই । ফলে স্বতন্ত্র একটি ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট খোলা আশু প্রয়োজন হয়ে পড়ে। কামরুজ্জামান আরো বলেন,সঠিক তথ্য না জেনে এবং সত্য- অনুসন্ধান না করে, যারা আমাদের প্রতিষ্ঠানের নামে অপপ্রচার চালাচ্ছে তাদের জন্য আল্লাহর সন্নিকট সুমতি দানের প্রার্থনা করি।