যুগ প্রবর্তক আবুবকর সিদ্দিকী (রহ) দাদা হুজুরের ২১,২২,২৩ ফাল্গুন ঐতিহাসিক ইসালে সওয়াব

বঙ্গ রিপোর্ট ডিজিটাল ডেস্ক: তদানন্তীন অবিভক্ত ভারতবর্ষের বঙ্গ ও আসাম সহ ভারতের বিভিন্ন স্থানে পীরের মাজারকে কেন্দ্র করে, পীরের জন্ম বা মৃত্যু দিবস উপলক্ষ্যে মেলা বা ঊরশ অনুষ্ঠানের প্রচলন ছিল ব্যাপক যা আজও স্বাধীন ভারতের কোন কোন স্থানে দেখা যায়। এই সব অনুষ্ঠানগুলিতে  স্ত্রী-পুরুষ নির্বিশেষে চি়ৎকার  সহকারে জিকর, সিজদা, কাওয়ালী সহ নানা রকমের ইসলাম বহির্ভূত ক্রিয়া কলাপ চলত।

তৎকালীন সময়ে “আল ইসলাম”(১৯১৫) পত্রিকার অভিমত আজকাল কেবল পুরুষ নহে বরং পীরের দরগাহে সিন্নী ও নেয়াজ চড়াইবার জন্য, পীরের কবরে বর প্রার্থনা করিবার জন্য হাজার হাজার স্ত্রীলোক গিয়ে থাকে। কবরে যে ঊরশের নামে বার্ষিক মেলা বসে তাহাতে মুসলমান স্ত্রীলোকের ঠেলা ঠেলিতে পুরুষের জান প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়। এরূপ মেলায় বড় বড় পীর মোর্শেদ গন (ভন্ড)  স্ব-স্ব দলবল সহ হাজির হয়ে (কবর) তাওয়াফ, বেশ্যার নাচ -গান দর্শন ও শ্রবনে মহাপূন্য সঞ্চয় করে আসেন। এই বেদাতী (অনৈসলামিক) দলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ফরজ হযে গিয়েছে।

উক্ত ইসলাম ধর্মের বহির্ভূত ঊরশ অনুষ্ঠানের পরিবর্তে ১৯০১ সালে শাহ আবুবকর সিদ্দীকি (র:) ইসলাম সম্মত যে অনুষ্ঠান প্রবর্তন করেন তার নাম করন হয় “মহফিলে ওয়াজ দারজিমানে আঁ ঈসালে সাওয়াব”। অর্থাৎ যে অনুষ্ঠানে ধর্মোপদেশ গ্রহন করে সর্বসাধারণ যেমন উপকৃত হবেন, অনুরুপ মৃত ব্যক্তিদের জন্য দোওয়া চাওয়াতে তাদের আত্মাসমূহ উপকৃত হবে।

বর্তমানে বাংলা অসম সহ ওপার বাংলার বিভিন্ন স্থানে যে শরিয়ত সম্মত ধর্মালোচনার অনুষ্ঠানগুলির প্রচলন দেখা যায়, তা দাদা হুজুর পীর কেবলা(র:) এঁর প্রচেষ্টার প্রতিফলন। তিনি স্বয়ং নিজের বাড়িতে বাংলা মাসের ২১,২২,২৩শে ফাল্গুন ধর্মালোচনার মহফিল প্রতিষ্ঠিত করেছেন প্রতি বছর।