ভগবানই বেহাল করে দিয়েছেন ভারতীয় অর্থনীতি: জিএসটি কাউন্সিল বৈঠকে মন্তব্য অর্থ মন্ত্রীর

    ভগবানই বেহাল করে দিয়েছেন ভারতীয় অর্থনীতি: জিএসটি কাউন্সিল বৈঠকে মন্তব্য অর্থ মন্ত্রীর

    নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: বেহাল আর্থিক অবস্থার জন্য এবার ‘ভগবানের মার’ কে দায়ী করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। ২০২১ সালে ২ লক্ষ ৩৫ হাজার কোটি টাকা ঘাটতির কারণ ভগবানের দেওয়া কোভিড–১৯ অতিমারী বলে মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী। জিএসটি’র নীতি নির্ধারক কমিটির বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সীতারমন বলেন ভগবানের কার্যকলাপ ও অভূতপূর্ব কারণে জিএসটি আদায় কম হয়েছে। এই বছরের এই বিশেষ পরিস্থিতির জন্য অর্থনীতিও সঙ্কুচিত হয়েছে বলে তিনি জানান।

    রাজ্যগুলিকে জিএসটি অনুদান বাবদ কেন্দ্র ২০২০ সালে ১ লক্ষ ৬৫ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। তার মধ্যে মার্চেই পাঠানো হয়েছে ১৩ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা। যদিও জিএসটি অনুদান দেওয়ার জন্য সেস আদায় হয়েছে ৯৫ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা বলে জানান অর্থমন্ত্রী। রাজ্যগুলি থেকে দেওয়া প্রবল চাপের ফলে কিছুটা বাধ্য হয়েই আজ জিএসটি নীতি নির্ধারক কমিটির বৈঠক ডাকা হয়। কোনও রাজ্যই লকডাউন জারি হয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট পরিমাণে জিএসটি আদায় করে উঠতে পারেনি। যেমন উদাহরণস্বরূপ পঞ্জাবই জানিয়ে দিয়েছে তাদের জিএসটি আদায়ের ঘাটতির পরিমাণ ২৫ হাজার কোটি টাকা।

    জিএসটি ঘাটতি মেটাতে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কাছ থেকে ধার নেওয়ার কথা চিন্তা করছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘’দুটি বিকল্প রাজ্যগুলির সামনে রাখা হয়েছে। আমরা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মাধ্যমে বিষয়টাকে ত্বরান্বিত করতে পারি। রাজ্যগুলিকে আজ থেকে আগামী সাতটি কাজের দিনের মধ্যে বিষয়টি বিস্তারিত ভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে। তারপর তারা আমাদের জানাবে। দুটি দ্বিমাসিক টাকা দিতে দেরি হয়েছে। আমরা শুধু এই বছরটার জন্যই চাইছি, সামনের বছর এপ্রিল মাস থেকে আবার জিএসটি কাউন্সিল বিষয়টি দেখবে।‘’

    কংগ্রেস এবং বিজেপি বিরোধী রাজ্যগুলি থেকে কেন্দ্রীয় সরকারকে বারবার বলা হচ্ছে জিএসটি বাবদ বকেয়া টাকা তাদের মিটিয়ে দিতে কেন্দ্র বাধ্য। পঞ্জাবের অর্থমন্ত্রী মনপ্রীত সিং বাদল বলেছেন, ‘’কেন্দ্রের কাছ থেকে আমাদের মতো ছোট রাজ্যের পাওনা ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। যে রাজ্যের বেতন দিতে খরচ হয় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। এই অবস্থায় আমাদের পক্ষে রাজ্য চালানোই দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।‘’ কেন্দ্র থেকে অবশ্য বলা হয়েছে যদি কর আদায় কম হয় তাহলে কেন্দ্রের সেই ধরনের কোনও বাধ্যতা নেই।

    জিএসটি আইন অনুযায়ী জিএসটি শুরুর প্রথম পাঁচ বছর রাজ্যের কর আদায় যদি কমও হয় তাহলে কেন্দ্র সেই ঘাটতি পূরণ করে দেবে। ২০১৭ সালের ১ জুলাই জিএসটি আইন লাগু হওয়ার ফলে এখনও সেই পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হয়নি। ২০২২ সাল পর্যন্ত এই মেয়াদকাল চালু থাকবে। সূত্রের খবর, অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেনুগোপালও জানিয়েছেন লকডাউনের কারণে কর আদায়ের ঘাটতি হওয়ার ফলে রাজ্যগুলিকে অনুদান দিতে কেন্দ্রীয় সরকার বাধ্য।