নন্দীগ্রামে জমিয়ত আন্দোলন না করলে রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় আসত না: তিতুমীরের স্বরণ সভায় বললেন সিদ্দিকুল্লাহ

নন্দীগ্রামে জমিয়ত আন্দোলন না করলে রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় আসত না: তিতুমীরের স্বরণ সভায় বললেন সিদ্দিকুল্লাহ

জয় ইসলাম, বঙ্গ রিপোর্ট, বাদুড়িয়া: আমরা যদি নন্দীগ্রামে আন্দোলন না করতাম তাহলে রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসতে পারতো না। নন্দীগ্রামে প্রথম আমরা আন্দোলন শুরু করেছিলাম পরে তৃণমূল কংগ্রেস সেই আন্দোলনে সাড়া ফেলে দেয়। একথা শুধু আমরা বলি না, রাজ্যের অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিও আমাদের সেই আন্দোলনের কথা স্বীকার করেন। এমনি বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী তথা জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের রাজ্য সভাপতি মাওলানা সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী সাহেব।

বৃহস্পতিবার উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার নারকেলবেড়িয়া গ্রামে শহীদ তীতুমিরের শাহাদাত দিবস পালন উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। জমিয়তের এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাওলানা সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। তিনি তার ভাষণে বলেন, শহীদ তিতুমীরের আসল নাম মীর নিসার আলী। তিনি কুরআনে হাফেজ ছিলেন।

ছোটবেলায় খুব তেতো খেতেন বলে সেখান থেকে তিতুমীর নাম হয়। বীর শহীদ তিতুমীরকে বাদ দিয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস অপরিপূর্ণ থাকে বলে মন্তব্য করেন সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন স্বাধীনতার এত বছর পরেও তিতুমীরকে নিয়ে আজ কেউ ভাবেন নি। তিতুমীরের নামে নেই কোন কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা সংগ্রহশালা। তাই তিনি এদিনের অনুষ্ঠান থেকে দাবি জানান, তিতুমীরের ইতিবৃত্তান্ত পাঠ্য বইতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তিতুমীরের নামে যে লাইব্রেরী আছে তার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব যতদিন আমি গ্রন্থাগার মন্ত্রী থাকবো করে যাব বলে তিনি আশ্বাস দেন। পাশাপাশি তিতুমীরের নামে একটি সংগ্রহশালা ও কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবি জানান মন্ত্রী চৌধুরী সাহেব। তিনি নতুন প্রজন্মের কাছে আহবান করেন অনেকে অনেক বিষয় নিয়ে পিএইচডি করেন। আপনারা তিতুমীরকে নিয়ে গবেষণা করুন। তাকে নিয়ে বই রচনা করুন।
পাশাপাশি এদিন তিনি রাজ্যে সাম্প্রদায়িক শক্তির বাড়বাড়ন্ত নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেন।

তার কথায় এ বাংলা ওলী-আউলিয়া, স্বামীজীদের বাংলা। এখানে সাম্প্রদায়িক শক্তির কোন জায়গা নেই বলে তিনি হুশিয়ারি দেন। পাশাপাশি তিনি তৃণমূল সরকারকেও পুরানো ইতিহাসের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি অকপটে বলেন, নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলন প্রথম জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ শুরু করেছিল। পরবর্তীতে তৃণমূল কংগ্রেস সেই আন্দোলনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। নন্দীগ্রামের সেদিনের আন্দোলন যদি আমরা না শুরু করতাম তাহলে এ রাজ্যে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসতো না। তিনি স্পষ্ট ভাষায় মন্তব্য করেন আমি রাজ্যের এক মন্ত্রীও বটে কিন্তু সত্য কথাটাকে সত্য করেই বলতে জানি। এদিনের শহীদ তীতুমিরের শাহাদাত দিবসের সভায় বক্তব্য রাখেন শহীদ তীতুমিরের অষ্টম বংশধর সৈয়দ গোফরান আলী। তিনি মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীকে মঞ্চে বসিয়ে রাজ্য সরকারের উন্নয়নের সমালোচনা করেন। আর মঞ্চে বসেই ঢোক গিলতে গিলতে সেই সমালোচনা হজম করেন মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী।

এদিন তিতুমীরের বংশধর স্পষ্ট ভাষায় বক্তব্য রাখেন, আসলে মুসলিম বলে তিতুমীরকে নিয়ে কোন চর্চা হয় না। নারকেলবেড়িয়া গ্রামে রাস্তাঘাটসহ শহীদ তীতুমিরের বংশধরদের কেউ কোনো খোঁজ রাখেন না। এক কথায় ওই এলাকার অনুন্নয়ন এর ছাপসহ তিতুমীরকে নিয়ে অবহেলার কথা তুলে ধরেন শহীদ তীতুমিরের অষ্টম বংশধর সৈয়দ গোফরন আলী। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আজ শহীদ পরিবারের অনেক বংশধর মাঠে কৃষি কাজ করে কোনরকমে দিন গুজরান করছেন। এই সমস্ত শহীদ পরিবারের খোঁজ খবর কেউ নেন না বলে তিনি ক্ষোভ উগরে দেন। আর মঞ্চে বসে ঢোক গিলতে গিলতে তা হজম করেন মন্ত্রী মাওলানা সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী।
এদিনের অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ আহমেদ হাসান ইমরান, অধ্যাপক কুমারেশ চক্রবর্তী, বিশ্বকোষ পরিষদের পার্থ সেনগুপ্ত, অসিত চক্রবর্তী ও বেলুড় মঠের স্বামীজি সহ বিশিষ্টরা।