বিজেপির বিরুদ্ধে গেলেই হেনস্থা! টানা ৯ ঘণ্টা ইডির জেরা থেকে বেরিয়ে মন্তব্য অভিষেকের

বিজেপির বিরুদ্ধে গেলেই হেনস্থা! টানা ৯ ঘণ্টা ইডির জেরা থেকে বেরিয়ে মন্তব্য অভিষেকের

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: ৯ ঘণ্টার ম্যারাথন জেরা শেষে ইডি দফতর থেকে বের হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কয়লা কাণ্ডে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দিল্লিতে ডায়মণ্ড হারবারের সাংসদকে ডেকে পাঠায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেট।

সেই তলবের জবাবেই সোমবার নির্ধারিত সময় সকাল ১১টা নাগাদ জমানগরের খান মার্কেট এলাকায় ED দফতরে পৌঁছে যান তিনি। বেশ কিছু নথি তিনি ED-র সামনে পেশ করেন বলে জানা গিয়েছে। এদিন সকালে প্রথম দফার জিজ্ঞাসাবাদের পর দুপুরের পর ফের তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন ED আধিকারিকরা। ED দফতর থেকে বেরিয়ে ক্ষোভ উগরে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এভাবে তৃণমূলকে ভয় দেখিয়ে ঘরে বসানো যাবে না। শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিত্রার্থ করতেই কলকাতার কেসকে দিল্লি টেনে এনেছে।’

ইডি-র ডাকে সাড়া দিতে রবিবারই দিল্লির উদ্দেশে রওনা হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিমানে ওঠার আগে বিমানবন্দরে তিনি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান, ‘কেউ বলছে ১০০ কোটির স্ক্যাম, কেউ বলছে ১০০০ কোটি। আমি বলছি যদি ১০ পয়সারও দুর্নীতি থাকে প্রমাণ করে দেখান। আমি বলছি আমার পিছনে ইডি সিবিআই লাগানোর দরকার নেই। সোজা ফাঁসির মঞ্চ গড়ে দিন। আমি মৃত্যুবরণ করব।’

অভিষেকের কথায়, তিনি নভেম্বরেও যা বলেছিলেন, আজও সেই একই কথাই বলবেন। যে কোনও তদন্তেই তাঁর কোনও সমস্যা নেই। এদিন ইডি আধিকারিকদের মুখোমুখি হওয়ার আগেও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সভাপতি বলেন, ‘যে কোনও তদন্তের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। তদন্তে সহযোগিতা করতেই এসেছি। যা ঘটছে, সব দেখছেন দেশের মানুষ।’

কলকাতা থেকে দিল্লি ডেকে পাঠানোয় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সভাপতি অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘কলকাতার কেসে দিল্লিতে ডেকে পাঠিয়েছে। এরপর প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতি ছাড়া আর কী বলা যাবে!’ কেন্দ্রীয় সংস্থার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে অভিষেক বলেন, ‘যে কোনও সর্বভারতীয় বিজেপির নেতা যদি আমার সঙ্গে মিনিট পাঁচেকের জন্যেও বসেন আমি সব তথ্য দেখিয়ে দেব, কেন্দ্রীয় সংস্থা কী ভাবে কাজ করেছে। আমি প্রমাণ করতে না পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেব। যারা টাওয়ালে মুড়ে টাকা নিয়েছেন সবই টিভিতে দেখা গিয়েছে। এদিকে চার্জশিটে তাঁদের নাম থাকে না।’ নাম না করে অভিষেক কটাক্ষ করেন শুভেন্দু অধিকারীকে।

কয়লা কাণ্ডে অভিষেকের পাশাপাশি তাঁর স্ত্রী Rujira Narula-কে দিল্লিতে তলব করেছিল ED। কিন্তু, মহামারী পর্বে ছোট সন্তানদের ছেড়ে তাঁর পক্ষে দিল্লি যাওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন রুজিরা। মেইল করে ED দফতরে তিনি জানান, কলকাতাতেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের ব্যবস্থা করুক কেন্দ্রীয় সংস্থা। তবে এখনও পর্যন্ত রুজিরার ক্ষেত্রে কী পদক্ষেপ নেবে ইডি তা এখনও জানা যায়নি।